এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শনিবার, 13 ফেব্রুয়ারী 2016 11:50

‘ইসলামি বিপ্লব বিশ্বের মুসলমানের জন্য মুক্তির প্রেরণা ’

‘ইসলামি বিপ্লব বিশ্বের মুসলমানের জন্য মুক্তির প্রেরণা ’

১৩ ফেব্রুয়ারি(রেডিও তেহরান): কোটি জনতার অংশগ্রহণে ১১ ফেব্রুয়ারি উদযাপিত হয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৩৭ তম বার্ষিকী।এ বিপ্লবকে বিশ্বের মুসলমানের জন্য অপশাসনের বিরুদ্ধে পরিত্রাণের প্রেরণা বলে মন্তব্য করলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. অধ্যাপক ড. এফ এম এ এইচ তাক্বী।রেডিও তেহরানের সাথে দেয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

অধ্যাপক তাক্বী বলেন, ইসলামি বিপ্লব ইরানের মুসলমানদের জন্য খুবই সময়োপযোগী ছিল। কারণ শাহ সরকার পশ্চিমাদের সহযোগিতায় ইরানের জনগণের ওপর জগদ্দল পাথর হিসেবে চেপে বসেছিল। সাম্রাজ্যবাদি শক্তি ইরানের শাহ প্রশাসন এবং তাদের দোসরদের নিয়ে ইসলামি ঐতিহ্যকে ধ্বংস করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদ আত্মসাৎ করার চক্রান্ত করেছিল। ইমাম খোমেনী (র.)র নেতৃত্বে সর্বাত্মক আন্দোলনের ফলে তারা সেই চক্রান্তে ব্যর্থ হয়।

 

পুরো সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো। আর সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ ও উপস্থাপনা করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।

 

রেডিও তেহরান: জনাব অধ্যাপক ড. এফ এম এ এইচ তাক্বী- ইরানে আয়াতুল্লাহ খোমেনীর নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লব সফল হওয়ার ৩৭ তম বার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। ১১ ফেব্রুয়ারি এ দিবস উদযাপিত হয়েছে। ৩৭ বছর পর এসে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে আপনি এ বিপ্লবকে কীভাবে দেখছেন? কতটা সময়োপযোগী ছিল সে বিপ্লব?

 

অধ্যাপক ড. এফ এম এ এইচ তাক্বী: ধন্যবাদ রেডিও তেহরানকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লব সফল হওয়ার ৩৭ তম বার্ষিকী উপলক্ষে আমাকে কিছু বলার সুযোগ দেয়ার জন্য।

 

ইসলামি বিপ্লবের ৩৭ তম বার্ষিকী উদযাপিত হয়েছ জেনে খুবই খুশি হলাম। আর এ খুশি শুধু আমার একার নয়; সারা বিশ্বের সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমান ইরানের এই ইসলামি বিপ্লবকে স্বাগত জানাই।

 

ইরানের শাহ প্রশাসন দেশটির জনগণ এবং ইসলামের ভয়াবহ ক্ষতিসাধন করেছিল। শাহ সরকারের দুঃশাসন থেকে পরিত্রাণের জন্য দেশটির জনগণ পথ খুঁজে ফিরছিল। ইমাম খোমেনী (র.)’ র নেতৃত্বে ইরানের জনগণ সেই কাঙ্খিত পথ খুঁজে পেয়েছিল। ইমাম খোমেনীর নেতৃত্বে তৎকালীন শাহ প্রশাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনের মাধ্যমে ইসলামি বিপ্লব সফল হয়েছিল। সেই বিপ্লব সারা বিশ্বের মুসলমানের জন্য অপশাসনের বিরুদ্ধে পরিত্রাণের প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।

 

ইসলামি বিপ্লব ইরানের মুসলমানদের জন্য সময়োপযোগী ছিল। কারণ শাহ সরকার পশ্চিমাদের সহযোগিতায় ইরানের জনগণের ওপর জগদ্দল পাথর হিসেবে চেপে বসেছিল। তারা ইসলামের ঐহিত্যকে বিলুপ্ত করার চক্রান্তে জড়িয়ে পড়েছিল। ওই সময় আয়াতুল্লাহ খোমেনী(র.)’র বলিষ্ট নেতৃত্বে জনগণ ঐক্যবদ্ধ না হলে মুক্তি সম্ভব হতো না।

 

রেডিও তেহরান: ইরানের ইসলামি বিপ্লবের অন্যতম প্রধান দিক ছিল- সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক অবস্থান গড়ে তোলা। ইরান কতটা সফলতার সঙ্গে সে অবস্থান গড়ে তুলতে পেরেছে বলে আপনার মনে হয়?

 

অধ্যাপক ড. এফ এম এ এইচ তাক্বী: একথা নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে যে, ইরানের ইসলামি বিপ্লব সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক অবস্থান। সাম্রাজ্যবাদি শক্তি ইরানের শাহ প্রশাসন এবং তাদের দোসরদের নিয়ে ইসলামি ঐতিহ্যকে ধ্বংস করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদ আত্মসাৎ করার চক্রান্ত করেছিল। ইমাম খোমেনী (র.)র নেতৃত্বে সর্বাত্মক আন্দোলনের ফলে তারা সেই চক্রান্তে ব্যর্থ হয়।

 

ইরানের বিপ্লবোত্তরকালে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে যেমন- আফগানিস্তান,ইরাক ও লিবিয়িায় পশ্চিমা শক্তিরা সফল হলেও ইরানের দৃঢ় অবস্থানের কারণে তারা এখানে ব্যর্থ হয়েছিল। ইরানেকে অর্থনৈতিক অবরোধের মধ্যে ফেলেও তার মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে পারিনি। মরহুম ইমাম খোমেনীর নেতৃত্বের ধারা আজও বলিষ্টভাবে একইরকমে ইরানে কার্যকর রয়েছে। ইরান এখন প্রযুক্তি, শিক্ষা অর্থনীতিসহ বিভিন্ন অঙ্গনে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যা সারা বিশ্বের জন্য ঈর্ষণীয়।

 

রেডিও তেহরান: আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ইরানি বিপ্লবের প্রভাব কতটা পড়েছে বলে মনে হয়?

 

অধ্যাপক ড. এফ এম এ এইচ তাক্বী: আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছে। শাহ প্রশাসনের সময় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যতটা ছিল বর্তমানে সে সহযোগিতা আরো বেড়েছে। ইরান বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে।

 

ইরানি বিপ্লব সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে। ইরানে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে রাজতন্ত্রের ভীত নড়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসলামকে জানার আগ্রহ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন করে বিশ্বে ইসলামি রাষ্ট্রের মডেল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামি রাষ্ট্র হওয়ার ফলে নারীদের শঙ্কা কেটে গেছে। ইরানি নারীরা পুরুষের চেয়ে দ্রুতগতিতে কর্মক্ষেত্রে ইসলামি গণ্ডির মধ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বিজ্ঞান-প্রযুক্তি-শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে ইরানের অগ্রযাত্রা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে প্রভাব ফেলেছে। এটা শুধু আমার কথা নয়, অমুসলিরাও এ বিষয়টি স্বীকার করেন।

 

আমেরিকার জন হফকিংস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এরিক হগলিন মন্তব্য করেছেন- ‘ইমাম খোমেনী কনফ্রন্টেড দ্যা ইউএসএ অ্যান্ড দ্যা ওয়েস্ট অ্যান্ড এনজয়েড গ্রেট ইনফ্লুয়েন্স ইন দ্যা থার্ড ওয়ার্ল্ড স্পেশালি ইন আফ্রিকা এশিয়া অ্যান্ড ল্যাটিন আমেরিকা।’

 

রেডিও তেহরান: মুসলিম বিশ্বের জন্য ইরান আরো কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে বলে আপনার মনে হয়? এ বিষয়ে আপনার বিশেষ কোনো পরামর্শ আছে?

 

অধ্যাপক ড. এফ এম এ এইচ তাক্বী: ইরান অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

প্রথমত- সারাবিশ্বের মুসলমানরা তাদের মধ্যে থাকা দ্বিধাগ্রস্ততা, হতাশা ও অনৈক্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সকল স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে ইসলামি ভ্রাতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

 

দ্বিতীয়ত- প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্ব পরাশক্তি আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে। এক্ষেত্রে ইরানের সবচেয়ে বড় ভূমিকা হচ্ছে- প্রযুক্তিগত ভূমিকা। ইরান তার প্রযুক্তিগত সাফল্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বকে এগিয়ে নিতে পারে। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ইরান এখন খুবই শক্তিশালী দেশ। বর্তমানে যারা বিশ্ব পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত তারা প্রযুক্তি ক্ষেত্রে খুবই সমৃদ্ধ। ইরান সেই পরাশক্তির সাথে চ্যালেঞ্জ করে নিজের প্রযুক্তিগত সাফল্য এনেছে এটি নিঃসন্দেহে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

 

ইরান তার প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশেষ করে শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়নি। বরং বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে বা ছয় জাতীর সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে সমঝোতায় আসতে সামর্থ্য হয়েছে। আমি মনে করি ইরান কূটনৈতিকভাবে খুবই সফল একটি দেশ। আর ইরানের এই কূটনৈতিক সফলতা সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য একটা অনুকরণীয় বিষয়।

 

আমার বিশ্বাস ইরান প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যে অবদান রেখেছে বা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে ইরান যদি মুসলিম বিশ্বকে তাদের অর্ন্তভুক্ত করে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, তাদেরকে নেতৃত্ব দিতে পারে তাহলে আবার মুসলিম বিশ্ব তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে। মুসলমানরা সমৃদ্ধ হবে এবং ইরান তার নেতৃত্ব দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

 

তৃতীয়ত- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইরান এখন শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশ। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মুসলিম দেশগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।

 

চতুর্থত- ধর্মীয় ভেদাভেদ ও মাজহাবি দ্বন্দ্বের কারণে মুসলিমদের যে অধঃপতন তা থেকে উত্তরণের জন্য শিয়া-সু্ন্নি ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে গ্রুপ ইন্টারেস্টের উর্ধ্বে উঠে একমাত্র ইসলাম প্রতিষ্ঠা কল্পে কাজ করতে হবে। আমার বিশ্বাস সে দিন দূরে নয় যেদিন সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সব মুসলমান ঐক্যবদ্ধ হবে এবং পৃথিবীতে শান্তির আবাস প্রতিষ্ঠা করবে।#

 

রেডিও তেহরান/জিএআর/১৩

 

 

মাধ্যম

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন