এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সোমবার, 29 ফেব্রুয়ারী 2016 12:27

‘ইসলামি বিপ্লব মুসলিম বিশ্বে দিক নির্দেশনা হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে’

‘ইসলামি বিপ্লব মুসলিম বিশ্বে দিক নির্দেশনা হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে’

২৬ ফেব্রুয়ারি(রেডিও তেহরান): ইরানের ইসলামি বিপ্লব সারা পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি সফল বিপ্লব- এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ ইমাম খোমেনী (র.)’র নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লব সাধিত হয়েছিল এবং সেই বিপ্লব ছিল খুবই কার্যকরী একটি বিপ্লব। রেডিও তেহরানের সাথে সাক্ষাৎকারে একথা বললেন,বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাওলানা মো: আতাউর রহমান মিয়াজী।

 

তিনি বলেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লব একটি দিক নির্দেশনা হিসেবে মুসলিম বিশ্বে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়।

 

পুরো সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ ও উপস্থাপনা করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।

 

রেডিও তেহরান: ইরানে আয়াতুল্লাহ খোমেনীর নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লব সফল হওয়ার ৩৭ তম বার্ষিকী উদযাপন হয়েছে ১১ ফেব্রুয়ারি। ৩৭ বছর পর এসে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে আপনি এ বিপ্লবকে কীভাবে দেখছেন? কতটা সময়োপযোগী ছিল সে বিপ্লব?

 

অধ্যাপক আতাউর রহমান মিয়াজী: সত্যিকারার্থে ইরানের ইসলামি বিপ্লব সারা পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি সফল বিপ্লব- এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ ইমাম খোমেনী (র.)’র নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লব সাধিত হয়েছিল এবং সেই বিপ্লব ছিল খুবই কার্যকরী একটি বিপ্লব।

 

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৩৭ বছর পর এর যে সফলতা আমরা লক্ষ্য করছি সেটা হচ্ছে বিপ্লবের যে মূলমন্ত্র ছিল সেটাতে উজ্জীবিত হয়ে বর্তমানে সারা পৃথিবীতে ইরানের অবস্থান খুবই উচ্চকিত। আর ইরানের ইসলামি বিপ্লব থেকে মুসলিম বিশ্ব শিক্ষা নিতে পারে। মুসলিম বিশ্ব যদি ইরানের মতো ইসলামি মূল্যবোধকে সামনে রেখে বিপ্লবের চিন্তা করে তাহলে ইমাম খোমেনী (র.)’র নেতৃত্বে যে বিপ্লব সাধিত হয়েছিল সেটিকে আদর্শ বিপ্লব হিসেবে অনুসরণ করতে পারে। ইরানের ইসলামি বিপ্লব একটি দিক নির্দেশনা হিসেবে মুসলিম বিশ্বে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়।

 

রেডিও তেহরান: ইরানের ইসলামি বিপ্লবের অন্যতম প্রধান দিক ছিল- সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক অবস্থান গড়ে তোলা। ইরান কতটা সফলতার সঙ্গে সে অবস্থান গড়ে তুলতে পেরেছে বলে আপনার মনে হয়?

 

অধ্যাপক আতাউর রহমান মিয়াজী: দেখুন সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তি বা পরাশক্তিগুলো বিশ্বজুড়ে তাদের সাম্রাজ্যবাদের থাবা বিস্তার করে আছে। এ বিষয়টি বিশ্বের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের জন্য এবং বিশ্ব মানবতার জন্য বড় রকমের হুমকি। সেই হুমকি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ছিল ইরানের ইসলামি বিপ্লব। ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটি বিশ্বের অপশক্তিগুলোর বিরুদ্ধে যে আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি পরিচালনা করে আসছে সেটি অত্যন্ত সময়পোযোগী। আর এক্ষেত্রে বিশ্বে শুধুমাত্র ইরানকে বলা হয় সফল একটি রাষ্ট্র। তবে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু কারণে বা পারিপার্শ্বিকতার কারণে কিছু প্রতিবন্ধকতা এবং সীমাবদ্ধতা আছে।যদি মুসলিম বিশ্ব এ বিষয়টিকে অনুধাবন করতে পারে তাহলে সাম্রাজ্যবাদীদের থাবা বা ষড়যন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।

 

ইরান এ ব্যাপারে পথ প্রদর্শন করছে। ইরানের প্রদর্শিত পথে মুসলিম বিশ্ব যদি এগিয়ে যায় তাহলে সত্যিকারার্থে একটি সুন্দর সফল এবং শান্তিপূর্ণ বিশ্ব সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

 

রেডিও তেহরান: ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান শক্তভাবে কূটনীতির পথ অনুসরণ করেছে এর বিপরীতে আমেরিকা ও তার মিত্ররা শক্তি ও ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইরান কতটা সফল বলে আপনার মনে হয়?

 

অধ্যাপক আতাউর রহমান মিয়াজী: ইরান কূটনীতির ক্ষেত্রে পুরোপুরি সফল। আমেরিকা ও তার মিত্রদের ষড়যন্তের পথের বিরুদ্ধে ইরানের কূটনীতি এককথায় সফল তাতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রতিটি কার্যক্রমের দুটো দিক থাকে। এক্ষেত্রে ইসলামি বিপ্লব বা বিপ্লবের পরের অর্জিত বিষয়গুলো ব্যর্থ হয় না। অবশ্যই সফল হয় তবে সফলতার শতকরা হিসাব নিয়ে কিছুটা ভিন্নমত থাকতে পারে। আর সেটা হতে পারে বিভন্ন রকম সীমাবদ্ধতার কারণে। তবে ইরানের কূটনীতি এককথায় সফল তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

 

আমি আরো দেখলাম ইসলামি ইরানকে ঘিরে আমেরিকা এবং অন্যান্য পরাশক্তি যে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছিল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তা থেকে ইরান তার কূটনীতি দিয়ে বিজয়ী হয়েছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখলাম ইরানের বিরুদ্ধে যে অবরোধ আরোপ করেছিল পশ্চিমাবিশ্ব- ইরান সম্মানের সাথে সেই অবরোধ মুক্ত করলো। পশ্চিমা বিশ্ব শেষ পর্যন্ত ইরানের সাথে সমঝোতায় পৌঁছেছে। এক্ষেত্রে ইরানের চূড়ান্ত বিজয় হয়েছে।

 

রেডিও তেহরান: আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ইরানি বিপ্লবের প্রভাব কতটা পড়েছে বলে মনে হয়?

 

অধ্যাপক আতাউর রহমান মিয়াজী: আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। খুব সাধারণভাবে বলা যায় এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী।

 

আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলের দিক দিয়ে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে- আসলে যখন কোনো ভালো জিনিষ শুরু হয়ে যায় তার প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেই সেটা গ্রহণ করতে চায় না এবং সেটা ঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। যে কারণে সে বিষয়ে নানারকম কথাবার্তাও হয়ে থাকে। ফলে ইরানের ইসলামি বিপ্লব নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বহু বছর ধরে নানা আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। তারপরও খুব স্পষ্টভাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রভাব আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পড়েছে তা খুবই স্পষ্ট। আর সেই আলোকে অনেকে মুসলিম বিশ্বসহ মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষুদ্ররাষ্ট্রগুলো পরাশক্তির বলয় থেকে বেরিয়ে আসার চিন্তাভাবনা করছে। এক্ষেত্রে তারা ইরানকে মডেল হিসেবে দেখছে। তারাও যদি ইরানের মতো এগিয়ে যায় তাহলে সফল হতে পারবে। আর এ বিষয়টি কিন্তু এখন খুবই স্পষ্ট।

 

রেডিও তেহরান: মুসলিম বিশ্বের জন্য ইরান আরো কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে বলে আপনার মনে হয়? এ বিষয়ে আপনার বিশেষ কোনো পরামর্শ আছে?

 

অধ্যাপক আতাউর রহমান মিয়াজী: মুসলিম বিশ্বের জন্য ইরান যেসব ভূমিকা রাখতে পারে তার প্রথম যে বিষয়টি নিয়ে কথা আমি বলব সেটি হচ্ছে- বিজ্ঞান প্রযুক্তির দিক। ইরান যেভাবে বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে বিশ্বের মধ্যে একটা শক্তিশালী অবস্থানে চলে গেছে। তারা যদি মুসলিম বিশ্বে বিজ্ঞান প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহায়তা করে তাহলে তারাও এগিয়ে যেতে পারবে।

 

অর্থনৈতিক বিষয়ে সহায়তা করতে পারে ইরান। মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নতি অগ্রগতির ক্ষেত্রে ইরান যদি সহায়তা করে তাহলে দেখা যাবে অনেক দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে। শুধু তাই নয়- ইরান ইতিহাস ঐতিহ্যে, সভ্যতা ও সংস্কৃতির দিক থেকে অনেক সমৃদ্ধ। অনেক আগে থেকেই ইরান ছিল সভ্যতার লীলাভূমি। আর বর্তমানে তার সাথে যোগ হয়েছে ইসলামি সংস্কৃতি। এসব বিষয়কে সামনে রেখে ইরান যদি মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে কূটনৈতিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংযোগ স্থাপন করে তাহলে দেখা যাবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরান বিশেষ অবদান রাখতে পারে।#

 

রেডিও তেহরান/জিএআর/২৬

 

মাধ্যম

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন