এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শুক্রবার, 15 এপ্রিল 2016 18:35

মুসলিম জাহানের প্রতিটি সংঘাত ওআইসির ওপর আঘাত হানছে: মহাসচিব

মুসলিম জাহানের প্রতিটি সংঘাত ওআইসির ওপর আঘাত হানছে: মহাসচিব

ইস্তাম্বুলে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসির ১৩ তম শীর্ষ সম্মেলনে মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দ ফিলিস্তিনের প্রতি সহায়তা, মুসলিম দেশগুলোর মতবিরোধের অবসান এবং সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। 


গতকাল বৃহস্পতিবার সম্মেলনের প্রথম দিনে বক্তব্য রেখেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর হাসান রুহানি। 


তিনি বলেছেন, মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় নীতিমালার অন্যতম প্রধান দিক। রুহানি ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার মধ্যে বিভেদকামী যে কোনো তৎপরতাকে মূল্যহীন ও অবৈধ বলে মন্তব্য করেন।  


তিনি বলেছেন, মুসলিম দেশগুলোর উচিত ইসলামের ব্যানারে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সহিংসতা মোকাবেলার জন্য বৈশ্বিক জোট গঠনে অগ্রগামীর ভূমিকা রাখা এবং মানুষের জন্য সব অঞ্চলেই স্থায়ী শান্তি ও সার্বিক অধিকার ফিরিয়ে আনা। 


ইরানের প্রেসিডেন্ট বিশ্বের ও ইসলামী দুনিয়ার নানা সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, ইরান সব সময়ই সন্ত্রাসবাদ ও ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মুসলিম দেশগুলোকে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে এসেছে।


তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান এই সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় একটি ইসলামী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানান। 


তিনি বলেছেন, বর্তমানে ইসলামের শত্রুদের উস্কানিতে মাজহাবি দাঙ্গা বাধানো ও বিভেদ তৈরি করা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সমস্যা। আর তাই মুসলিম দেশগুলোর উচিত ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর মোকাবিলা করা। এরদোগান মুসলিম বিশ্বে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, পাশ্চাত্য যুদ্ধ-কবলিত দেশগুলোতে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে চায় না, বরং এইসব দেশের ঘরোয়া বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে তাদের তেল ও জাতীয় সম্পদ হাতিয়ে নিতে চায়।  


ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসির মহাসচিব আইয়াদ মাদানিও মতবিরোধগুলো এড়িয়ে যেতে এই সংস্থার সদস্যদের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, প্রতিটি মতভেদ ও দ্বিপাক্ষিক সংঘাত ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার ওপর আঘাত হানছে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন সংকট হচ্ছে এ সংস্থার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি ফিলিস্তিনিদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের সংকটের ওপর জয়ী হওয়ার পরামর্শ দেন। এ ছাড়াও তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, সিরিয়া সংকটের সমাধান, ইরাকে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, সুদানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেয়া এবং ইয়েমেনে যুদ্ধের অবসান ঘটানোকে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসির গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যু বলে উল্লেখ করেছেন। 


ওআইসির এই সম্মেলন আজ শুক্রবার শেষ হবে। ন্যায়বিচার ও শান্তির জন্য ঐক্য আর সংহতি ছিল এবারের এই শীর্ষ সম্মেলনের শ্লোগান।


মুসলিম বিশ্বে জনগণের স্বার্থ রক্ষা ও নিরাপত্তা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি। এ সংস্থাভুক্ত দেশগুলোর মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৬০ কোটি। প্রতি তিন বছর পর এই সংস্থার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শীর্ষ পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।


এদিকে ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি’র সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পক্ষপাতহীনতার অভাব এবং কার্যকর সংস্থায় পরিণত না হওয়ায় কঠোর সমালোচনা করেছেন। #

 

 মু. আমির হোসেন/১৫

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন