এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
মঙ্গলবার, 19 এপ্রিল 2016 16:36

‘ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমেরিকা যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়’: জারিফ

‘ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমেরিকা যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়’: জারিফ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ আবহাওয়া পরিবর্তন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং এ সংক্রান্ত চুক্তি সইয়ের জন্য বর্তমানে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। বৈঠকের অবকাশে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।

 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ আবহাওয়া পরিবর্তন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং এ সংক্রান্ত চুক্তি সইয়ের জন্য বর্তমানে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। বৈঠকের অবকাশে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।

 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে আমেরিকাকে তার প্রতিশ্রুতির ওপর অটল থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমরা কখনই আমেরিকার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করিনি আবার দেশটির সঙ্গে সুস্থ ও স্বাভাবিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের পথেও আমরা বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং আমেরিকার নিজের মধ্যেই সংকট বিরাজ করেছ। জাওয়াদ জারিফ বলেন, পরমাণু সমঝোতার উদ্দেশ্যই হচ্ছে, মার্কিন আইন পরিবর্তন করা নয় বরং অন্য দেশের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। তিনি আরো বলেছেন, আমরা চাই ইউরোপের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমেরিকা যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

 

ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতার পর ইরানের কর্মকর্তারা এটি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে আসছেন। তাই প্রতিপক্ষও তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করবে বলে তেহরানের প্রত্যাশা। তাদের মতে, দু’পক্ষই যদি প্রতিশ্রুতি পালনে গড়িমসি করে তাহলে পরমাণু সমঝোতার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

 

ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ওয়ালিউল্লাহ সাইফ ওয়াশিংটনে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে গড়িমসির সমালোচনা করে এটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ভিয়েনায় পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে গঠিত যৌথ কমিশন এ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে কথা রয়েছে। পরমাণু সমঝোতার আগে ইরানের সঙ্গে এশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর বাণিজ্য সম্পর্ক ও ব্যাংকিং সহযোগিতা বন্ধ করার জন্য আমেরিকা তার নিজস্ব নীতি বা আইন মেনে চলতে অন্য দেশগুলোকেও বাধ্য করে। বর্তমানে এসব বাধার আইনগত কোনো ভিত্তি নেই এবং যেসব প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা এ নিশ্চয়তা পেতে চায় যে ভবিষ্যতে আর ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি সম্প্রতি তেহরান সফরকালে এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

 

ওয়াশিংটনে আবহাওয়া পরিবর্তন বিষয়ক বৈঠকের অবকাশে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাতকারে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, আমেরিকাকে অবশ্যই এটা স্পষ্ট করতে হবে যে, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের পথে তারা কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না এবং কোনো শর্তও তারা বেধে দিতে পারবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনিও তেহরান সফরকালে একই বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে গেছেন।

 

ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী তেহরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে এবং সব পক্ষের বিজয়ের মধ্য দিয়ে ও সবার স্বার্থ রক্ষা করে ওই সমঝোতা হয়। পরমাণু সমঝোতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইরানের জ্বালানি চক্র ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারকেও মেনে নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইরান পরমাণু ক্ষেত্রে কিছু কিছু সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েছে। এ অবস্থায় পরমাণু সমঝোতার বিরুদ্ধে মার্কিন ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। #

 

মোঃ রেজওয়ান হোসেন/১৯

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন