এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বুধবার, 20 এপ্রিল 2016 17:52

সৌদি আরবের ইরান বিরোধী তৎপরতা কারো জন্যই কল্যাণকর নয়

সৌদি আরবের ইরান বিরোধী তৎপরতা কারো জন্যই কল্যাণকর নয়

সৌদি আরবের উপ যুবরাজ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মাদ বিন সালমান রিয়াদে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যশ্টোন কার্টারকে দেয়া সাক্ষাতে ইরানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এ অঞ্চলের আরব দেশগুলোতে মার্কিন কর্মকর্তাদের ঘন ঘন সফর বিভিন্ন ধরণের বার্তা বহন করছে।

 

কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষক পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসিভুক্ত আরব দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ওবামার বৈঠককে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। রিয়াদে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আরব দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

 

এক বছর পর বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে আমেরিকার সঙ্গে সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছুটা মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। যেমন ইরানের সঙ্গে পাশ্চাত্যের পরমাণু চুক্তির বিরোধী কোনো কোনো আরব দেশ একে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর ও খারাপ চুক্তি বলে অভিহিত করেছে। সৌদি আরব ইরানের পরমাণু চুক্তির বিরোধী এবং এ ইস্যুতে গত দুই বছর ধরে আমেরিকার সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছে। তবে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্রদেরকে এ নিশ্চয়তা দিয়েছে যে, আমেরিকা এমন কোনো কাজ করবে না যা মিত্রদের জন্য ক্ষতিকর। ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতার আগেই আরব দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণ এবং ক্যাম্পডেভিডে বৈঠকের জন্য প্রেসিডেন্ট ওবামার আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি এরই আলোকে মূল্যায়ন করা যায়। কিন্তু তারপরও আরব দেশগুলোর যেন উদ্বেগ দূর হয়নি। সৌদি আরব যে ইরান বিরোধী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে তা আরো স্পষ্ট হয়েছে সম্প্রতি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ওআইসি’র শীর্ষ সম্মেলনে।

 

সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সিরিয়া, ইয়েমেন ও ইরাকে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। অন্যদিকে খোদ সৌদি সরকারের ষড়যন্ত্রের কারণে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো বিপদে পড়েছে। এ অবস্থায় আমেরিকা চায় না এসব সমস্যা তাদের জন্যও হুমকি হয়ে উঠুক। কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে সৌদি সরকারের জড়িত থাকার বিষয়টি তদন্তের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রস্তাব ওয়াশিংটন-রিয়াদ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যে ১৯ ব্যক্তি বিমান ছিনতাই করে টুইন টাওয়ারে হামলা চালায় তাদের মধ্যে ১৫ জনই ছিল সৌদি নাগরিক। কিন্তু ওই ঘটনার ১৫ বছর পর বর্তমানে পরিস্থিতির অনেক কিছু পরিবর্তন ঘটেছে।

 

সৌদি আরব আমেরিকার সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রেতা। তাই আমেরিকা চায় না এতো বড় অস্ত্রের বাজার হাত ছাড়া করতে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার সমালোচকরা মনে করেন, সৌদি আরবকে আমেরিকার সমর্থন দেয়ার কোনো মানে হয় না। এ কারণে সৌদি আরব এ অঞ্চলে নিজের নিরাপত্তার জন্য ইরানকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে মার্কিন সমর্থন অব্যাহত থাকে। এ অবস্থায় অন্য দেশকে ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর জন্য সৌদি আরব ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনেও চেষ্টা চালিয়েছে।

 

কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবের এ ধরণের কর্মকাণ্ড এ অঞ্চলের কোনো দেশ এমনকি আমেরিকার জন্যও মঙ্গলজনক নয়। #

 

মোঃ রেজওয়ান হোসেন/২০

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন