এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বৃহস্পতিবার, 21 এপ্রিল 2016 16:35

নেতানিয়াহুকে ওআইসি’র নিন্দা: এতদিনের নির্লিপ্ততায় বেপরোয়া ইসরাইল

নেতানিয়াহুকে ওআইসি’র নিন্দা: এতদিনের নির্লিপ্ততায় বেপরোয়া ইসরাইল

ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি সিরিয়ার গোলান মালভূমির ব্যাপারে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর হুমকি ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ওআইসি'র এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে অভিহিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, “গোলান মালভূমি চিরদিন তেল আবিবের হাতে থাকবে”। ওআইসি’র মহাসচিব আয়াদ মাদানি বলেছেন, মুসলিম দেশগুলোর এ সংস্থা মনে করে, গোলান হচ্ছে সিরিয়া ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

সিরিয়ার গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ওআইসি এমন সময় 'বিলম্ব প্রতিক্রিয়া' দেখালো যখন ইসরাইল অত্যন্ত নির্দয়ভাবে ফিলিস্তিনের প্রতিবাদ আন্দোলনকারীদের দমন করছে। ইসরাইল এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, তাদের অন্ধ সমর্থক আমেরিকাসহ রাজতান্ত্রিক আরব দেশগুলোও ইসরাইলের নিন্দা জানাতে বাধ্য হয়েছে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, দখলদার ইসরাইলের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে ওআইসি’র নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে মুসলিম দেশগুলো আজ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে ইসরাইল আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং একের পর এক মুসলিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে আগ্রাসন ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ ওআইসি প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল ইসরাইলের আগ্রাসন থেকে ইসলামের পবিত্র স্থাপনা ও আল-আকসা মসজিদসহ ফিলিস্তিনিদের রক্ষা করা।

 

ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বিরুদ্ধে হুমকি, ষড়যন্ত্র, আগ্রাসন ও জবরদখল অব্যাহত রাখায় নিজেদের ইসলামী ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার জন্য মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। ১৯৬৯ সালে ইসরাইল আল-আকসা মসজিদে অগ্নিসংযোগের পর মুসলিম বিশ্বের পক্ষ থেকে প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে পড়ে এবং ওআইসি গঠন করা জরুরি হয়ে পড়েছিল। বর্তমানেও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলি আগ্রাসন ঠেকাতে ওআইসি কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে সবার প্রত্যাশা।

 

৫০টির বেশি মুসলিম দেশ নিয়ে গঠিত ওআইসি’র রয়েছে বিশাল ভৌগোলিক অবস্থান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখা কিংবা বিভিন্ন সংকট নিরসনে এ জোট গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। কিন্তু মুসলিম দেশগুলোর এ জোট সে প্রত্যাশা পূরণে আশানুরূপ কোনো ভূমিকা রাখতে পারে নি। অথচ এ জোট ফিলিস্তিনসহ মুসলিম বিশ্বের যে কোনো সমস্যা সমাধানে বিরাট অবদান রাখতে পারতো।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশের বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের কারণে ওআইসি’র যে দুর্বল অবস্থান তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বায়তুল মোকাদ্দাসহ মুসলমানদের পবিত্র স্থাপনা রক্ষায় ওআইসি তার দায়িত্ব পালনে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। গত কয়েক বছরে ওআইসি’র সদস্য কোনো কোনো দেশের কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে, তারা ইসরাইল-বিরোধী প্রতিরোধ সংগঠনগুলোকে দুর্বল করার পাশাপাশি লেবানন ও সিরিয়ায় সংকট সৃষ্টি এবং এসব দেশে হস্তক্ষেপের জন্য আরব লীগের মতো ওআইসিকেও ব্যবহারের চেষ্টা চালিয়েছে।#

 

মোঃ রেজওয়ান হোসেন/সিরাজুল ইসলাম/২১

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন