এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শুক্রবার, 22 এপ্রিল 2016 18:43

সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে ইরাকে মার্কিন সরকারের দ্বিমুখী আচরণের রহস্য

সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে ইরাকে মার্কিন সরকারের দ্বিমুখী আচরণের রহস্য

মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ জোসেফ ড্যানফোর্ড আজ (শুক্রবার) ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল এবাদির সঙ্গে বাগদাদে সাক্ষাৎ করেছেন।  

 

তিনি ইরাকি সেনাদের প্রশিক্ষণ দেয়াসহ ইরাকের সঙ্গে মার্কিন সামরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে কথা বলেছেন। 

 

ইরাকে মার্কিন সরকারের ভূমিকা এখনও নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দেশটির নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য মূলত মার্কিন রাজনৈতিক ও সামরিক আচরণকেই দায়ী করছেন তারা। 

 

২০১১ সালে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেয়া হয়। এরপর থেকে তেলসমৃদ্ধ আরব এই দেশটিতে নিরাপত্তাহীনতা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছিলেন, মার্কিন সরকার কখনও ইরাক থেকে তার সেনা সরিয়ে নিতে চায়নি। তাই ওয়াশিংটন সব সময়ই ইরাকে রাজনৈতিক অশান্তি ও সহিংসতা জিইয়ে রাখতে চেয়েছে এবং সন্ত্রাসী ও নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দিয়ে এসেছে। 

 

তারা দৃষ্টান্ত হিসেবে ইরাক সরকারের বিরোধী সাদ্দামপন্থী বাথিস্ট, সৌদি-সরকার ও তার মিত্রদের সমর্থক এবং উগ্র ওয়াহাবি ও স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান সরকারের নানা হঠকারী পদক্ষেপের প্রতি মার্কিন সমর্থনের কথা তুলে ধরেছেন। ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকারকে দুর্বল করাই এসব তৎপরতার লক্ষ্য। 

 

২০১৪ সাল থেকে ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রদেশ মসুল দখল-করে-রাখা তাকফিরি ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রতি মার্কিন সরকারের গোপন সহায়তার খবরও প্রায়ই ফাঁস হচ্ছে। 

 

মার্কিন সরকার প্রকাশ্যে দায়েশ বা আইএসআইএল-এর বিরুদ্ধে কথিত আন্তর্জাতিক জোট গঠন করলেও বাস্তবে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তেমন কোনো জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কারণ, মার্কিন সরকার তার স্বার্থেই দায়েশকে টিকিয়ে রাখতে চায়। 

 

ইরাকের সশস্ত্র বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবী গণবাহিনী যখন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছে তখন মার্কিন সরকার এইসব প্রতিরোধকামী শক্তিকে দুর্বল করার জন্য নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। যেমন, মার্কিন সরকার এই অপবাদ রটাচ্ছে যে ইরাকের সরকারি সেনা ও গণবাহিনী জনগণের সম্পদ লুট করছে এবং অনৈতিক আচরণ করছে। 

 

মোটকথা মার্কিন সরকার ইরাকে তার দ্বিমুখী আচরণ অব্যাহত রেখে একদিকে ইরাকি শহরগুলোকে দায়েশের হাত থেকে মুক্ত করার কথা বলছে এবং অন্যদিকে গোপনে দায়েশকে অস্ত্রসহ নানা সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও ইরাক সফর করে দায়েশ-বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। আসলে মার্কিন সরকার ইরাকে দায়েশ-বিরোধী বিজয়-অভিযানগুলোর সাফল্যের পেছনে নিজের কৃতিত্ব রয়েছে বলেও জাহির করতে চায়। # 

 

মু. আমির হোসেন/২২

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন