এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শনিবার, 23 এপ্রিল 2016 16:04

সৌদি সরকারের সহিংস আচরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে জাতিসংঘের উদ্বেগ

সৌদি সরকারের সহিংস আচরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে জাতিসংঘের উদ্বেগ

সৌদি আরবে সরকার-বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর জুলুম নির্যাতনের ব্যাপারে জাতিসংঘের নির্যাতন-বিরোধী বিশেষ কমিটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শুধু সৌদি আরবের অভ্যন্তরেই নয় একই সঙ্গে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও আলে-সৌদ সরকারের আগ্রাসন ও সহিংস কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।

 

জাতিসংঘের নির্যাতন-বিরোধী কমিটির প্রতিবেদনে ২০০২ সাল থেকে এ পর্যন্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা দিক উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে সৌদি আরবে ব্লগার ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর জুলুম নির্যাতন এবং জেলখানায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কারাবন্দীদের নির্দয়ভাবে চাবুক মেরে কিংবা তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে নির্যাতন চালানো বন্ধেরও আহবান জানানো হয়েছে।

 

জাতিসংঘের নির্যাতন-বিরোধী এ কমিটি সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পর পর বিভিন্ন দেশে বিরোধী পক্ষের ওপর জুলুম নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। কিন্তু জাতিসংঘের এ কমিটির ঘোষিত নীতি অনুযায়ী সৌদি সরকার এ ক্ষেত্রে কোনো সহযোগিতা না করায় ২০০২ সাল থেকে দেশটির ব্যাপারে প্রতিবেদন প্রকাশ করা থেকে বিরত ছিল এ কমিটি। সৌদি আরবে সরকার বিরোধীদের ওপর শাসকশ্রেণির সীমাহীন জুলুম নির্যাতন ও নাগরিকদের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা এত ব্যাপক মাত্রায় বেড়েছে যে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। ব্লগার ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানোর জন্য সৌদি সরকার মধ্যযুগীয় যে বর্বর আইন চালু করেছে তাতে জাতিসংঘ অনেকটা নড়েচড়ে বসেছে।

 

বিরোধীদের ওপর নির্যাতন চালানোর ক্ষেত্রে সৌদি সরকার কোনো সীমারেখা মানছে না এবং এ দেশটি নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সৌদি আরবের সরকার-বিরোধীরা জানিয়েছেন, আলে সৌদ সরকার ৩০ হাজারের বেশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কারাগারে নিক্ষেপ করেছে এবং বর্তমানে গোটা সৌদি আরব কার্যত বিরাট কারাগারে পরিণত হয়েছে। এ থেকেই সৌদি জনগণের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের চিত্র ফুটে ওঠে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো যখন সৌদি সরকারের মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড তদন্ত করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছে তখন জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে পাশ্চাত্যের সমর্থনপুষ্ট সৌদি আরবকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিশ্ববাসীকে হতবাক করেছে। ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন ও নিজ দেশে বিরোধীদের ব্যাপকহারে হত্যার ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ থেকে সৌদি আরবকে বহিষ্কারের দাবি উঠেছে আন্তর্জাতিক সমাজের পক্ষ থেকে। এই পরিষদের অষ্টম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিটির কোনো দেশ যদি মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তাহলে তার সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু সৌদি আরবের প্রতি পাশ্চাত্যের কয়েকটি দেশের সমর্থনের কারণে ওই আইন বাস্তবায়ন করা যায়নি এবং এ কারণে এখনো কমিটিতে সৌদি আরবের সদস্য পদ বহাল রয়েছে।

 

বাহরাইন ও ইয়েমেনে সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে এবং ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননে সাম্প্রদায়িক সংঘাত বাধিয়ে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে নিজেকে কলঙ্কিত করেছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ থেকে সৌদি আরবকে বহিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এমন ব্যবস্থা নেয়া হলে হয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘন করা থেকে সৌদি আরবকে বিরত রাখা যেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। #

 

মোঃ রেজওয়ান হোসেন/সিরাজুল ইসলাম/২৩

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন