এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
রবিবার, 24 এপ্রিল 2016 15:07

সিআইএ’র সবুজ সংকেতে উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী সৃষ্টি করেছে সৌদি আরব

সিআইএ’র সবুজ সংকেতে উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী সৃষ্টি করেছে সৌদি আরব

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সবুজ সংকেতে সৌদি আরবের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশ আবারো আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমগুলোর প্রধান খবর হয়ে এসেছে। ব্রিটেনের দৈনিক ফিনান্সিয়াল টাইমস মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছে, সৌদি আরব স্বীকার করেছে তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএল গড়ে উঠেছে এবং এর পেছনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সমর্থন ছিল। এ খবর প্রকাশের পর মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।

 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে সাক্ষাতে সৌদি কর্মকর্তারা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন হস্তক্ষেপের কারণে রিয়াদ প্রথমে আল-কায়দা এবং এরপর দায়েশকে গড়ে তুলেছে। তারা এও স্বীকার করেছেন, ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন হামলার ফলে আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি পুরোপুরি ইরানের অনুকূলে চলে গেছে এবং এ ধারা ঠেকানোর জন্য পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন ছিল।

 

মার্কিন রাজনীতিবিদ ও লেখক ডোনাল্ড আর্নেস্ট পল সাবেক কংগ্রেস সদস্য রন পলের সহকারী দানিয়েল ম্যাক অ্যাডামসের সঙ্গে সাক্ষাতে বলেছেন, দায়েশ সৃষ্টিতে সৌদি আরবের হাত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তিনি আরো বলেছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া দায়েশ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। তিনি বলেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের লক্ষ্যে সেদেশে সংকট সৃষ্টি করার জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সিআইএ’র সহযোগী হিসেবে দায়েশ সৃষ্টি করা জরুরি ছিল।

এ সাক্ষাতে সাবেক কংগ্রেস সদস্য রন পলের সহকারী দানিয়েল ম্যাক অ্যাডামসও বলেছেন, সৌদি আরব আল-কায়দা ও দায়েশকে অর্থ যোগালেও মূলত এ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্টিতে আমেরিকারই হাত ছিল। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন হস্তক্ষেপ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথকে আরো সুগম করার জন্যই আমেরিকা তাদের গড়ে তুলেছে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকার ভূমিকার বিষয়টি বাদ দিলেও উগ্র ওহাবি তাকফিরি মতবাদের প্রধান কেন্দ্র ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আবির্ভাবে সরাসরি সৌদি আরবেরও বিরাট ভূমিকা রয়েছে। জঙ্গিবাদীরা ধর্মের নামে বিভ্রান্ত ওহাবি মতবাদকে ব্যবহার করে সারা বিশ্বে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে যার মূল মদদদাতা হচ্ছে সৌদি আরব। উদাহরণ স্বরূপ, জঙ্গিগোষ্ঠী তালেবান সৃষ্টিতে সৌদি আরবের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। সৌদি আরবের অর্থ ব্যবহার করে তালেবানরা প্রথমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্মের নামে বিভ্রান্ত ওহাবি মতাদর্শের বিস্তার ঘটায় এবং এরপর এক পর্যায়ে তারা মানুষকে উগ্রতা বা জঙ্গিবাদের দিকে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে মার্কিন লেখক আর্নেস্ট পল বলেছেন, ধর্মের নামে ওহাবি মতাদর্শের ধারক বাহকরাই আজ উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের লেবাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত।

 

২০০৩ সালে ইরাক ভূখণ্ডের বিশাল একটা অংশ দখল করে দায়েশ প্রথম আত্মপ্রকাশ করে। দায়েশ প্রধান আবু বকর আল বাগদাদি ছিল আল-কায়দার অত্যন্ত বিপদজনক সদস্য এবং বেশ কিছুদিন কারাগারে ছিল। কিন্তু পরে আমেরিকা জেলখানা থেকে তাকে বের করে আনে। ইরাকে সাদ্দামের বাথ পার্টি নিষিদ্ধ হওয়ার পর দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারকে উৎখাত করার জন্য এ গোষ্ঠীর নেতাদেরকে নিয়ে দায়েশ গঠিত হয়। বিশেষ করে আমেরিকা ও সৌদি সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় এ গোষ্ঠী লালিত পালিত হতে থাকে।

 

এ ছাড়া, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে তৈরি ২৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ না করা থেকে বোঝা যায়, সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থনে সৌদি আরবের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। কিন্তু রিয়াদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে ওয়াশিংটন ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকে। বলা হয় ওই প্রতিবেদনে সিআইএ’র নাম ছিল। #

মোঃ রেজওয়ান হোসেন/২৪

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন