এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
মঙ্গলবার, 26 এপ্রিল 2016 17:20

মার্কিন আদালতের ইরান বিরোধী রায়: তেহরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া

মার্কিন আদালতের ইরান বিরোধী রায়: তেহরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া

আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট আটকে থাকা ইরানের অর্থ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০০ কোটি ডলার জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, ১৯৮৩ সালে বৈরুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত মার্কিনীদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হল। তবে ইরান মার্কিন আদালতের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে আন্তর্জাতিক আদালতে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করবে বলে জানিয়েছে।

 

ইরানের প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে আমেরিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের জন্য এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ জাওয়াদ জারিফও বলেছেন, আমরা মনে করি আমেরিকায় আটক আমাদের সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব মার্কিন সরকারের। তিনি বলেন, আমাদের সম্পদে যদি হাত দেয়া হয় তাহলে মার্কিন সরকারকেই এর জন্য দায়ী করা হবে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতেও ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতের বেআইনি পদক্ষেপের অনেক নজির রয়েছে। ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি দেশটির আদালতও ইরানের বিরুদ্ধে একেক সময় একেক রকম রায় দিয়েছে যা খুবই অন্যায্য ও বেআইনি। ১৯৯৬ সালে মার্কিন কংগ্রেস একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী আমেরিকার দৃষ্টিতে সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থনকারী দেশগুলোর ব্যাপারে তদন্ত করার এখতিয়ার সেদেশের আদালতকে দেয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব বা আইন অনুযায়ী বিশ্বের যে কোনো স্থানে সন্ত্রাসী হামলায় যদি আমেরিকার কোনো নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা নিহত হয় তাহলে তাদের পরিবার সন্ত্রাসী হামলার সমর্থক সরকারের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে অভিযোগ দায়ের করতে পারবে।

 

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ইচ্ছে মতো সন্ত্রাসীদের কথিত সমর্থক দেশগুলোর তালিকা তৈরি করে থাকে। ১৯৮৪ সালে আমেরিকার ওই তালিকায় ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক বানোয়াট ও মিথ্যা অভিযোগ আরোপ করা হয়। এরই অংশ হিসেবে ১৯৮৩ সালে লেবাননে বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইরানকে জড়ানো হয়। ওই বিস্ফোরণে প্রায় ২৪০ জন মার্কিন মেরিন সেনা নিহত হয়েছিল। এরপর ২০০৩ সালে নিহতদের পরিবারবর্গকে অভিযোগ দায়ের ও ক্ষতিপূরণ নেয়ার জন্য মার্কিন আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়। এরপর আদালত তার রায়ে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য ইরানের ২০০ কোটি ডলার আটকের নির্দেশ দেয়।

 

এরপর ২০০৬ সালেও আমেরিকার ফেডারেল আদালত ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় নিহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে। সম্প্রতি আমেরিকার আরেকটি আদালত কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছে ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ইরানের হাত ছিল। এ ছাড়া, আমেরিকা আন্তর্জাতিক আইনের কোনো তোয়াক্কা না করেই ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, নানা ছল চাতুরীর মাধ্যমে ইরানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থ হাতিয়ে নেয়া এবং দেশটির ওপর চাপ অব্যাহত রাখাই এ ধরণের পদক্ষেপের প্রধান উদ্দেশ্য। অথচ একটি দেশ নিয়ে বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি বরং বহু দেশ মিলেই আন্তর্জাতিক সমাজ। ইরানের সঙ্গে আমেরিকার এ আচরণ শত্রুতার চরম বহিঃপ্রকাশ এবং ইরানি জাতি কখনই তা ভুলে যাবে না।#

 

মোঃ রেজওয়ান হোসেন/২৬

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন