এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বুধবার, 27 এপ্রিল 2016 17:43

আরব দেশগুলোর যৌথ সামরিক জোট: লক্ষ্য ইরানকে মোকাবেলা করা

আরব দেশগুলোর যৌথ সামরিক জোট: লক্ষ্য ইরানকে মোকাবেলা করা

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য ইরানকে দায়ী করা রাজতন্ত্র শাসিত আরব দেশগুলোর অভিন্ন নীতি বা কৌশলে পরিণত হয়েছে। আর এ সবই হচ্ছে সৌদি আরবের উস্কানিতে। সৌদি আরব, বাহরাইনসহ আরো কয়েকটি আরব দেশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান বিরোধী প্রচারণায় নেমেছে।

 

ইন্টারনেট ভিত্তিক বার্তাসংস্থা গালফ নিউজের প্রতিবেদনে আজ এ সম্পর্কে লেখা হয়েছে, বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ঈসা আলে খলিফা এবং মরক্কো রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ বাহরাইনসহ অন্যান্য আরব দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন দেয়ার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছেন। এদিকে, কায়রোয় মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আস সিসির সঙ্গে বাহরাইনের রাজার সাক্ষাতেও তারা ইরানের বিরুদ্ধে একই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেছেন। এ সাক্ষাতে বাহরাইনের রাজা আঞ্চলিক হুমকি মোকাবেলার জন্য আরব দেশগুলোকে নিয়ে যৌথ সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

 

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত আরব দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ ধরণের পরিকল্পনার বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছিল। এ ব্যাপারে গত বছর পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত আরব দেশগুলোর জোট পিজিসিসি এবং আমেরিকার মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। গত বছরের মে মাসে ক্যাম্প ডেভিডে শরীক দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা হয় এবং তারা আঞ্চলিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য যৌথ কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে একমত হয়। সৌদি আরব, বাহরাইন, ওমান, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পিজিসিসি’র সদস্য।

 

আমেরিকা এবং পিজিসিসি’র প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা গত ২০ এপ্রিল রিয়াদে বৈঠকে মিলিত হন এবং তারা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। আরব দেশগুলোকে নিয়ে যে যৌথ সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে তার অংশ হিসেবে রিয়াদ বৈঠকে আমেরিকার সঙ্গে আরব সরকারগুলোর দ্বিপক্ষীয় কিংবা বহুপক্ষীয় সামরিক সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণের কথা বলা হয়েছে। ওই পরিকল্পনার আওতায় এ অঞ্চলে আমেরিকা ব্যাপক মাত্রায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার সুযোগ পাবে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বিরাজমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কথা বলে যে যৌথ সামরিক জোট গঠনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে তা মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকে মোকাবেলার জোটে পরিণত হয়েছে। এরই ভিত্তিতে আমেরিকা রাজতন্ত্র শাসিত আরব দেশগুলোকে এ নিশ্চয়তা দিয়েছে যে, তারা আঞ্চলিক হুমকি মোকাবেলায় এ দেশগুলোতে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনে সহযোগিতা দেবে। যদিও তারা মূলত ইরানকেই হুমকি বলে মনে করে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, আরব দেশগুলো বিশেষ করে সৌদি আরব ও বাহরাইন তাদের ভুল নীতির কারণে বর্তমানে খুব বিপদের মধ্যে রয়েছে। এ কারণে তারা ইরানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আরোপসহ নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নিজেদের অন্যায় অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করছে। বর্তমানে অন্যান্য আরব দেশও ইরানের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের যেসব অভিযোগ তুলছে তার পেছনে সৌদি আরবের ইন্ধন রয়েছে। অথচ সৌদি আরবই প্রথম বাহরাইনের গণআন্দোলন দমনের জন্য সেদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। তারা ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করছে গত এক বছর ধরে। ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়ে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে সৌদি আরব। এ ছাড়া, সন্ত্রাসীদের অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে ইরাক ও সিরিয়াকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে সৌদি আরব। অনেকের মতে, সৌদি আরবের এ নীতি এ অঞ্চলের কোনো দেশের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা তো রাখবেই না বরং পরিস্থিতি আরো জটিল হবে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যে কেবল আমেরিকা ও ইসরাইলের স্বার্থই হাসিল হবে#

 

মোঃ রেজওয়ান হোসেন/২৭

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন