এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বৃহস্পতিবার, 28 এপ্রিল 2016 17:10

ইরানের ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের বিরূপ মন্তব্য: কলকাঠি নাড়ছে আমেরিকা

ইরানের ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের বিরূপ মন্তব্য: কলকাঠি নাড়ছে আমেরিকা

ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতা হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার কথা থাকলেও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইউং কিম বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কাজ শুরু করার কোনো কর্মসূচি তাদের নেই। তিনি আরো বলেছেন, আমরা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করছি কিন্তু ইরানের সঙ্গে কাজ শুরু করার বিশেষ কোনো পরিকল্পনা এখনো নেয়া হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ফরাসি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংক অর্থনৈতিক সমস্যা দূর করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এ চেষ্টা যখনই ইরান সীমান্তের কাছে গিয়ে উপস্থিত হয় তখনই তা থমকে যায়। ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ওয়াশিংটনে অবস্থিত বিশ্বব্যাংক ২০০৫ সাল থেকেই পরমাণু কর্মসূচির অজুহাতে ইরানে তাদের নানা প্রকল্প বন্ধ করে দেয়। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পরও ইরানের সঙ্গে কাজ শুরু করার কোনো ইচ্ছা বিশ্বব্যাংকের নেই।

 

ইরানের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সম্পর্ক নিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ইরানের কর্মকর্তারা সহযোগিতা করার জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে কোনো আবেদন করেননি। কিন্তু তারপরও ইরান ও বিশ্বব্যাংকের এ ব্যবধান বিশেষ করে বিশ্বব্যাংকের অন্যায্য আচরণের কারণ অনুসন্ধান করতে হবে অন্যখানে। আর তা হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক বৃহৎ সংস্থাগুলোর ওপর আমেরিকার আধিপত্য বা প্রভাব।

 

বিশ্বব্যাংকে সবচেয়ে বেশি শেয়ার রয়েছে আমেরিকার এবং এর প্রেসিডেন্ট জিম ইউং কিমের বড় সমর্থক হচ্ছে এ দেশটি। এ কারণে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতার ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য থেকে পরমাণু চুক্তির পর মার্কিন আসল লক্ষ্য নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে-ইরানের অর্থনীতি ও বাণিজ্য ব্যবস্থা ধ্বংস করাই যার প্রধান উদ্দেশ্য। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক পদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, বিশ্বব্যাংকে তাদের প্রতিনিধির উচিৎ ইরানকে ঋণ দেয়ার যে কোনো প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাহ্যিকভাবে দেখলে মনে হবে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে, বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক বৃহৎ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোরও ইরানের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর আমেরিকার রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে এবং আমেরিকার ইশারায় তারা ওঠাবসা করছে। তবে বিশ্বব্যাংক চাইলে সমস্যার কিছুটা সমাধান করতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, বিশ্বব্যাংক ইরানের যোগাযোগ, জ্বালানি ও অবকাঠামো উন্নয়নের মতো প্রকল্পগুলোতে অর্থ বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বিশ্বব্যাংকে সবচেয়ে শেয়ারের অধিকারী আমেরিকার নেতিবাচক ভূমিকা ও প্রভাবের বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না।

 

ইতালির একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তেহরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও ইরানের সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসা পুরোপুরি শুরু করার ক্ষেত্রে এখনো অনেক বাধা রয়ে গেছে। এ ছাড়া, ইতালির বহুল প্রচলিত দৈনিক ইলসুলে ওয়েন্তি এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে লিখেছে, গত বছরের জুলাইয়ে পরমাণু সমঝোতা হলেও ইরানের মতো একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশ এখনো বিশ্ব অঙ্গন থেকে বিচ্ছিন্ন ও কোণঠাসা হয়ে আছে। এতে আরো বলা হয়েছে, খুব সামান্য নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক লেনদেনে এখনো বাধা রয়ে গেছে। প্রতিবেদনে আরো এসেছে, ইরানের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ শ্রমিক রয়েছে। তাই দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ দেয়া উচিৎ। আমেরিকা যে আচরণ করছে সে বিষয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, এতে করে তাদের প্রতি অনাস্থা ও অবিশ্বাস বাড়বে।

 

প্রকৃতপক্ষে, আমেরিকা এখনো ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার জন্য ইরান আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং অন্য দেশের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্য সম্পর্কে বাধা সৃষ্টি করছে। ইরানের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অসহযোগিতা এ ষড়যন্ত্রের অন্যতম দৃষ্টান্ত। #

 

মোঃ রেজওয়ান হোসেন/২৮

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন