এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শুক্রবার, 29 এপ্রিল 2016 15:12

মার্কিন আচরণের প্রতিবাদে জাতিসংঘ মহাসচিবকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠি

মার্কিন আচরণের প্রতিবাদে জাতিসংঘ মহাসচিবকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনকে লেখা এক চিঠিতে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে এবং ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে আমেরিকাকে রাজি করানোর আহবান জানিয়েছেন। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রুলিংয়ের মাধ্যমে তেহরানের ২০০ কোটি ডলার বাজেয়াপ্ত করায় এর প্রতিবাদে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বান কি মুনকে ওই চিঠি দিয়েছেন।

 

চিঠিতে তিনি বলেন, বাজেয়াপ্ত করা অর্থের মালিক ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং আমেরিকার কাছ থেকে এ অর্থ ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব আইনি ব্যবস্থা নেবে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার ওই চিঠিতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে, মার্কিন ব্যাংকগুলোতে আটক ইরানের অর্থ ফেরত দিতে এবং পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী অন্য দেশের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্য সম্পর্কে হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে আমেরিকাকে রাজি করানোর জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, আমেরিকার বেআইনি কর্মকাণ্ড থেকে নিজ জনগণকে রক্ষা করার অধিকার ইরান সরকারের রয়েছে।

 

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট গত ২০ এপ্রিল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে রায় দেয় সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্তরা আটক ইরানের অর্থ থেকে ক্ষতিপূরণ নেয়ার জন্য আদালতে যেতে পারবে। আদালতের রুলিংয়ে দাবি করা হয়েছে, ১৯৮৩ সালে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বোমা হামলায় ইরানের হাত ছিল এবং নিহতদের পরিবারের জন্য এই ক্ষতিপূরণ আদায়ের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

 

এ ছাড়া, নিউইয়র্কের একটি আদালত সম্প্রতি ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে ইরান জড়িত ছিল বলে দাবি করেছে। এ দাবি তুলে আদালত ওই সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের জন্য আমেরিকায় আটক ইরানের অর্থ থেকে ১০৫০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াশিংটনে মার্কিন এই আদালত এবং দেশটির সুপ্রিম কোর্টের রুলিং থেকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মার্কিন বিচার ব্যবস্থার নেতিবাচক ভূমিকার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। আমেরিকার এই দুই আদালত ইরানের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক কথাবার্তা বলছে ও রায় দিয়েছে অথচ মার্কিন সরকারেরই উচিৎ শত্রুতামূলক আচরণের কারণে ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেয়া। কথিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জড়িয়ে ইরানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে অথচ খোদ ইরানই দীর্ঘ দিন ধরে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে আসছে এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় ইরানই মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।

 

১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে ইরানকে জড়িত করার বিষয়টি হাস্যকর। বরং এর মাধ্যমে মার্কিন আদালত প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনার বিষয়ে ২৮ পৃষ্ঠার যে তদন্ত প্রতিবেদন গোপন করা হয়েছে তা থেকেই সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়।

 

কারণ ওই তদন্তে সৌদি আরবের নাম উঠে এসেছিল। কিন্তু রিয়াদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে মার্কিন কর্মকর্তারা ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় সৌদি আরবের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশে বিরত থাকেন। ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর তেহরানের সঙ্গে শত্রুতামূলক নীতির কারণে সন্ত্রাসবাদের প্রতি কথিত সমর্থনের অজুহাতে মার্কিন সরকার ইরানের সব অর্থ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে। অথচ ন্যায়বিচার অনুযায়ী মার্কিন সরকারের উচিৎ ইরানের জনগণকে ক্ষতিপূরণ দেয়া। মার্কিন শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের কারণে ইরানের জনগণ এ পর্যন্ত বহুভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।#

 

মোঃ রেজওয়ান হোসেন/২৯

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন