এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
রবিবার, 01 মে 2016 16:59

মার্কিন কংগ্রেসে ইরান বিরোধী প্রস্তাব: উদ্দেশ্য নৌশক্তিকে খর্ব করা

মার্কিন কংগ্রেসে ইরান বিরোধী প্রস্তাব: উদ্দেশ্য নৌশক্তিকে খর্ব করা

আমেরিকা দু’টি উপায়ে ইরান আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে আসছে। একদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরান বিরোধী তৎপরতা চালাচ্ছে অন্যদিকে মার্কিন কংগ্রেস ইরান বিরোধী নানা প্রস্তাব পাশ করে ইরানকে জব্দ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতার পর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানকে একঘরে করার মার্কিন ষড়যন্ত্র থেমে নেই। আমেরিকা নতুন করে ইরান বিরোধী তৎপরতায় নেমেছে।

 

সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে একটি খসড়া প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। ওই প্রস্তাব পাশ হলে পারস্য উপসাগরে ইরানের সামরিক উপস্থিতিকে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মার্কিন কংগ্রেসের তথ্যকেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে, ওই খসড়া প্রস্তাবে জাতিসংঘের আইন উপেক্ষা করায় এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন লঙ্ঘন করায় ইরানের সমালোচনা করা হয়েছে।

 

প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, ওই অঞ্চলের সমুদ্র সীমায় ইরান এমনভাবে সামরিক মহড়া চালায় যার ফলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা তৈরি দেয়। আর এর ফলে মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য সর্বোচ্চ মাত্রায় ঝুঁকি তৈরি হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ডিসেম্বরে বিমানবাহী রণতরী থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে ইরান বিশাল নৌমহড়া চালায়। এ ছাড়া, চলতি বছর জানুয়ারিতে ওই এলাকার ওপর দিয়ে ইরানের বিমান উড্ডয়ন করে এবং অবৈধভাবে ইরানের পানিসীমায় প্রবেশ করার কারণে আমেরিকার দুটি জাহাজ আটক করে। এসব কারণে মার্কিন আইন প্রণেতারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সামরিক উপস্থিতিকে হুমকি বলে মনে করছেন।

 

মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত ওই খসড়া প্রস্তাবে ইরানের তৎপরতাকে অত্যন্ত বিপদজনক অভিহিত করে শক্তভাবে তার জবাব দেয়ার জন্য ওবামা সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। তবে অনেকের মতে, এ ধরণের প্রস্তাবের প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে, ইরান আতঙ্ক তৈরি করে রাজতন্ত্র শাসিত আরব দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি করা। বাস্তবতা হচ্ছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিই এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা ও উত্তেজনা সৃষ্টির প্রধান কারণ। মার্কিন কর্মকর্তারা মানবাধিকার ইস্যুতেও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ইরান বিরোধী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সন্ত্রাসবাদের প্রতি ইরানের কথিত সমর্থনের অভিযোগ তুলে ইরানের অর্থ-সম্পদ আটক করছে। অথচ আমেরিকা নিজেই মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সন্ত্রাসবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে।

 

আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে মানবতার শত্রু দখলদার ইসরাইলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন দিচ্ছে। এ অবস্থায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে বৈরুতে সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্তরা ইরানের আটককৃত অর্থ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে নেয়ার জন্য মার্কিন আদালতে মামলা করতে পারবে। ১৯৮৩ সালে ওই হামলায় ২৪১ জন মার্কিন মেরিন সেনা নিহত হয়েছিল। এ রায়ের মাধ্যমে মার্কিন সরকার সরাসরি ইরানের সম্পদ লুট করার পদক্ষেপ নিয়েছে। ইরানের বিচার বিভাগের উপ প্রধান আর্দেশির লারিজানি এ ব্যাপারে বলেছেন, আমেরিকার এই অন্যায় আচরণ থেকে আমরা এ শিক্ষা পাই যে, তাদেরকে কখনই বিশ্বাস করা যায় না।

 

ইরানের সংসদ মজলিশে শূরায়ে ইসলামীর প্রতিনিধিরাও মার্কিন আদালতের এ পদক্ষেপকে অযৌক্তিক ও বেআইনি অভিহিত করে বলেছেন, এটা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনার জন্য হুমকি। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারণ আমেরিকা অন্য দেশের অধিকারকে পদদলিত করছে এবং জাতিসংঘের উচিৎ এ ধারা প্রতিহত করা।#

 

মোঃ রেজওয়ান হোসেন/১

 

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন