এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বুধবার, 04 মে 2016 17:02

আমেরিকা ভিন্ন কৌশলে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার চেষ্টা করছে

আমেরিকা ভিন্ন কৌশলে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার চেষ্টা করছে

ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতা হওয়ার পর গত জানুয়ারি থেকে তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। এরফলে পরমাণু কর্মসূচির অজুহাতে ইরানের বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল তা উঠিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা যদিও মুখে বলছেন, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার পথে আর কোনো বাধা নেই কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্র ও আচরণে প্রমাণিত হয়েছে তারা ভিন্ন কৌশলে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে চায়। মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত সাম্প্রতিক ইরান বিরোধী খসড়া প্রস্তাবই এর প্রমাণ।

 

মার্কিন টিভি চ্যানেল ফক্স নিউজে এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের তিনজন সদস্য যাত্রীবাহী বিমান নির্মাণ কোম্পানী বোয়িং-এর কাছে লেখা চিঠিতে বলেছেন, ইরানের কাছে বিমান বিক্রির যে কোনো চুক্তি সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থনে ইরানের হাতকে আরো শক্তিশালী করবে। চিঠিতে তারা আরো দাবি করেছেন, আমেরিকার কাছ থেকে যাত্রীবাহী বিমান কিনে তা যুদ্ধের কাজে লাগাতে পারে ইরান। বোয়িং কোম্পানির নির্বাহী পরিচালকের কাছে লেখা চিঠিতে ইরানের কাছে বিমান বিক্রি না করার জন্যও আবেদন জানানো হয়েছে।

 

পরমাণু সমঝোতার পর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে ইরানের বিমান কোম্পানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়। এর ফলে ইরানের কাছে মার্কিন যাত্রীবাহী বিমান বিক্রির পথে আর কোনো বাধা নেই। অবশ্য ইরানের মতো একটি লোভনীয় বাজার ধরার জন্য শুধু যে আমেরিকার বোয়িং কোম্পানী চেষ্টা চালাচ্ছে তাই নয় একই সঙ্গে বিমান নির্মাণকারী অন্য কোম্পানীও ইরানে বিমান বিক্রির সুযোগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

 

প্রকৃতপক্ষে, আমেরিকার বিভিন্ন কোম্পানী ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা বা ইরানের বিশাল বাজার ধরার জন্য ব্যাপক আগ্রহী হলেও ইরান আমেরিকাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে কোন দেশের রাজনৈতিক আচরণ কেমন ছিল তার ওপর ভিত্তি করেই ইরান তাদের প্রতি আস্থার বিষয়টি নির্ধারণ করবে। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে দেয়া সাক্ষাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, অন্য দেশের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে হবে বাইরের কারো দ্বারা প্রভাবিত হওয়া যাবে না।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকা নিজস্ব আইন চাপিয়ে দিয়ে কিংবা মানবাধিকার ও সন্ত্রাসবাদের কথা বলে ইরানকে চাপে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা আরো দাবি করেছেন, ইরান ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানের অর্থ জব্দ করার নির্দেশ দেয়। আদালত জানায় ১৯৮৩ সালে লেবাননে বোমা বিস্ফোরণে নিহত মার্কিন নাগরিকদের পরিবারবর্গ ইরানের জব্দকৃত অর্থ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য আদালতে যেতে পারবে।

 

ইরান বিরোধী তৎপরতার অংশ হিসেবে সম্প্রতি মার্কিন রিপাবলিকান দলের দু’জন সদস্য কংগ্রেসে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। ওই প্রস্তাবে তারা দাবি করেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সামরিক মহড়া উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে এবং নষ্ট হবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা। এ ছাড়া, ইরানের সামরিক মহড়া সেখানে অবস্থিত মার্কিন নৌ ঘাঁটির জন্যও হুমকি বলে তারা দাবি করেন। প্রস্তাবে ওই অঞ্চলে ইরানের তৎপরতাকে অত্যন্ত বিপদজনক অভিহিত করে এর কঠোর জবাব দেয়ার জন্য মার্কিন সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়। #

 

মোঃ রেজওয়ান হোসেন/৪

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন