এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শুক্রবার, 06 মে 2016 16:27

যৌন নির্যাতনের ঘটনায় বেসামাল মার্কিন সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

যৌন নির্যাতনের ঘটনায় বেসামাল মার্কিন সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন জানিয়েছে, শাস্তি কিংবা প্রতিশোধ মূলক ব্যবস্থা নেয়ার ভয়ে সেনাবাহিনীতে যৌন নির্যাতনের ঘটনার বেশিরভাগই প্রকাশিত হয় না। পেন্টাগনে এ ব্যাপারে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর মার্কিন সেনাবাহিনীতে যৌন নির্যাতনের বিষয়ে প্রায় ৬০০০ অভিযোগ জমা পড়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৪ ও ২০১৫ সালে ৩৬০৪টি যৌন নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। সেই তুলনায় বর্তমানে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যৌন নির্যাতনের ঘটনা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

 

সেনাবাহিনীতে যৌন নির্যাতন বিরোধী নির্বাহী পরিষদের উপদেষ্টা নিত গ্যালব্রাইট বলেছেন, ৪০ শতাংশ নারী কর্মী এবং ১০ শতাংশ পুরুষ কর্মীদের ওপর ধর্ষণ কিংবা যৌন নির্যাতন চালানোর ঘটনা ঘটেছে। পেন্টাগনের এ কর্মকর্তা আরো বলেছেন, গত বছর যৌন নির্যাতনের যেসব অভিযোগ জমা পড়েছে তার মধ্যে ১৯ শতাংশ এসেছে পুরুষ ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে।

 

সেনাবাহিনীতে যৌন নির্যাতন বিরোধী নির্বাহী পরিষদের প্রধান জেনারেল ক্যামেল নিকোলাস বলেছেন, যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঠিক কতখানি বেড়েছে সে ব্যাপারে সঠিক তথ্য জানা কঠিন। কারণ যারা অভিযোগ দায়ের করেছে পরবর্তীতে তাদের ৬৮ শতাংশই নিজ সহকর্মী বা কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে দুর্ব্যবহারের সম্মুখীন হয়েছে। এ কারণে মার্কিন সেনাবাহিনীর বেশিরভাগ সদস্যকে চরম অস্থিরতা ও অস্বস্তিকর অবস্থায় দিন কাটাতে হয় এবং এক পর্যায়ে তারা অনেক উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে বাধ্য হয়। তবে যৌন নির্যাতনের শিকার সেনাবাহিনীর বহু সদস্য নানা আতঙ্কের কারণে অভিযোগ জানানো থেকে বিরত থাকে। পেন্টাগনের এ কর্মকর্তা জেনারেল ক্যামেল নিকোলাস আরো বলেছেন, যারা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছে তাদের মধ্যে ৩৮ শতাংশই পরবর্তীতে প্রতিশোধের সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে তাদের নানা সুযোগ সুবিধাগুলো কেড়ে নেয়া হয়েছে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন সেনাবাহিনীতে সহকর্মী বা অধীনস্থদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে এটাই সবচেয়ে মারাত্মক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সবচেয়ে বিপদে রয়েছে নারী কর্মীরা। মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত নারীদের অবস্থা এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে, একদিকে তারা নিজ সহকর্মীদের হাতে যে কোনো সময় ধর্ষণের আশঙ্কায় থাকে অন্যদিকে যুদ্ধের ময়দানেও তাদের ওপর যৌন নির্যাতন কিংবা প্রাণ হারানোর মতো ঘটনার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে।

 

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর নারী কর্মীরা এতো বেশি সংখ্যায় ধর্ষিত হচ্ছে যে তা বেসামরিক নারীদের ওপর ধর্ষণের ঘটনার প্রায় অর্ধেকের সমান। পরিস্থিতির এতোটাই অবনতি ঘটেছে যে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্যাতনের শিকার নারী বা পুরুষের কাছ থেকে খুঁটিনাটি বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও তাদের সাক্ষাতকার নেয়ার জন্য স্পেশাল তদন্ত টিম গঠন করতে বাধ্য হয়েছে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, কর্মকর্তাদের নীরবতার সুযোগে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ অনেক বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়টি মার্কিন জনগণ এবং সমরবিদদেরকেও চিন্তিত করে তুলেছে। মার্কিন সমাজে প্রতি ছয় জন নারীর মধ্যে একজন কোনো না কোনোভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয় এবং সেনাবাহিনীতে প্রতি তিন জনের মধ্যে একজন যৌন হয়রানির শিকার হয় আর অপর দুই জন এ বিষয়ে মুখ খুলতে চায় না। কোনো কোনো সামরিক ঘাঁটিতে নারী সৈনিককে একা থাকতে হয় এবং সহকর্মীদের হাতে ধর্ষণ কিংবা যৌন হয়রানির আশঙ্কায় থাকতে হয় তাকে। #

 

মোঃ রেজওয়ান হোসেন/৬

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন