এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
মঙ্গলবার, 03 মে 2016 00:25

ইউসুফ-রাসেলের দাপুটে ব্যাটিংয়ে কোলকাতার জয়, কোহলি হতাশ

আন্দ্রে রাসেল ও ইউসুফ পাঠানের উচ্ছ্বাস, (ডানে) বিরাট কোহলি আন্দ্রে রাসেল ও ইউসুফ পাঠানের উচ্ছ্বাস, (ডানে) বিরাট কোহলি

ইউসুফ পাঠান ও আন্দ্রে রাসেলের দাপুটে ব্যাটিংয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছে কোলকাতা নাইট রাইডার্স। দিল্লি ও মুম্বাইয়ের কাছে হারের পর এই জয়টি খুবই দরকার ছিল নাইটদের। এর ফলে ৮ ম্যাচের ৫টি জিতে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলে গৌতম গম্ভীরের দল।

 

চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় কোলকাতা নাইট রাইডার্স। প্রথমে ব্যাট করে কোলকাতার সামনে ১৮৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা রাখে বিরাট কোহলির দল। ১৮৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইউসুফ পাঠান, আন্দ্রে রাসেল ও গৌতম গম্ভীরের নির্ভরশীল ব্যাটিংয়ে জয় তুলে নেয় কেকেআর।

 

তবে, কোলকাতার হয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই স্টুয়ার্ট বিনির বলে প্যাভেলিয়নে ফিরে যান রবিন উথাপ্পা। এরপর মাঠে নেমে গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে জুটি বাধেন ক্রিস লিন। দলীয় ৩৪ রানের মাথায় যুবেন্দ্র চাহালের বলে লিন ১৫ রানে আউট হলে চাপের মুখে পড়ে কোলকাতা। এ অবস্থায় মনীশ পাণ্ডেকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন গৌতম গম্ভীর। কিন্তু দলীয় ৬৬ রানের সময় শ্রীনাথ অরবিন্দ অধিনায়ক গম্ভীরকে আউট করেন। এর মাত্র ৩ রান পর পাণ্ডেও ফিরে গেলে কোলকাতা হেরে যাচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছিল।

 

কিন্তু এর পর অসম্ভবকে সম্ভব করতে লড়াকু ইনিংস খেলেন ইউসুফ পঠান। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন আন্দ্রে রাসেল। ২৪ বলে ১টি চার ও ৪টি ছয় হাঁকিয়ে ৩৪ রান করে স্পিনার যুবেন্দ্র চাহালের বলে স্টুয়ার্ট বিনির হাতে ধরা পরে মাঠ ছাড়েন রাসেল। এরপর মাঠে নামেন সূর্যকুমার যাদব। তিনি ৫ বলে ১০ রান করলেও আসল কাজটা করেন ইউসুফ পাঠান। মাত্র ২৯ বলে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে কোলকাতাকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি।

 

ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে সবচেয়ে বেশী ২টি উইকেট শিকার করেছেন স্পিনার যুবেন্দ্র চাহাল। এছাড়া স্টুয়ার্ট বিনি, শ্রীনাথ অরবিন্দ ও শেন ওয়াটসন একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

 

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে লোকেশ রাহুল, বিরাট কোহলি ও শেন ওয়াটসনের ব্যাটে ১৮৫ রান সংগ্রহ করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। ওপেন করতে এসে ক্রিস গেইল মাত্র ৭ রান করে আউট হয়ে গেলে দলের ব্যাটিংয়ের হাল লোকেশ রাহুলের সঙ্গে এসে ধরেন বিরাট কোহলি। দু’জনেই করেন ৫২ রান করে। লোকেশ রাহুল ৩২ বলে ৪টি চার ও ২টি ছয় মেরে ৫২ রান করে পীযূষ চাওলার বলে ইরফান পাঠানের হাতে ধরা পরে মাঠ ছাড়েন। ডি ভিলিয়ার্স মাত্র ৪ রান করে আউট হন। অধিনায়ক বিরাট কোহলিও ৪৪ বলে ৪টি চার মেরে ৫২ রান করে মরনে মরকেলের বলে আন্দ্রে রাসেলের হাতে ধরা পরে সাজঘরে ফিরেন। অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন ২১ বলে ৫টি চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে ৩৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলার পর রান আউটের শিকার হন। এছাড়া, সচিন বেবি ও স্টুয়ার্ট বিনি দু’জনেই ১৬ রান করে আউট হন।

 

কোলকাতার হয়ে সর্বোচ্চ দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডানহাতি পেসার মরনে মরকেল ও ভারতীয় স্পিনার পীযূষ চাওলা। এছাড়া একটি করে উইকেট নিয়েছেন ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল ও ডানহাতি পেসার উমেশ যাদব। যাদব ৪ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে উইকেটটি লাভ করেন। নারাইন ৪ ওভারে ৪৫ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি। এ ম্যাচের বাংলাদেশি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের জায়গা হয়নি।

 

এদিকে, স্বস্তির জয় পেলেও দলের বোলিং নিয়ে চিন্তিত কোলকাতার অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর। ম্যাচ শেষে তিনি জানালেন, অসাধারণ ব্যাটিং করলেও বোলিংয়ে একটু পিছিয়ে ছিল কোলকাতা। আর এটিই নিয়ে কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি।

 

গম্ভীরের ভাষায়, “অসাধারণ একটি জয় আমাদের, অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। ইউসুফ এবং রাসেল যেভাবে ম্যাচটি বের করে এনেছে তা সত্যি চমৎকার। আমাদের শুরুটা মোটেও ভালো ছিলনা, এরকম বড় রান তাড়া করতে নেমে আমরা শুরুতেই গড়মিল করে ফেলছিলাম। তবে আমি জানতাম এই পিচে এরকম রান তাড়া করা সম্ভব। তবে আমি আমাদের বোলিং নিয়ে চিন্তিত, আসলে উমেশের দিনটি আজকে ওর পক্ষে ছিল না, কিন্তু শেষের ওভারগুলোতে আমাদের কাজ করতে হবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “ক্রিজে যখন ইউসুফ এবং রাসেল ছিল আমি বেশ স্বস্তিতে ছিলাম কেননা আমি জানতাম এই দুইজনের সামর্থ্য আছে ম্যাচ জেতানোর। রাসেল একজন অসাধারণ অলরাউন্ডার, সে আজকে আবার তা প্রমাণ করল। এই জয়টা অনেক বেশী জরুরী ছিল আমাদের জন্য।”

 

এদিকে, হারের বৃত্ত থেকে বের হতে না পেরে হতাশা প্রকাশ করেছেন ব্যাঙ্গালুরু অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের চোখের সামনেই ম্যাচটিকে হারতে দেখলাম, এটি অনেক দুঃখজনক। আমাদের সুযোগ ছিল, কিন্তু সুযোগগুলো লুফে নিতে পারিনি। আর ক্রিজে যখন ইউসুফ আর রাসেলের মতন পরিপক্ব ব্যাটসম্যান থাকে তখন পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়, আমাদের এই জায়গায় সুযোগ ছিল যেটি আমরা হাতছাড়া করেছি।”

 

তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করেছিলাম তাদের ১৭৫ রানের মধ্যে আটকায় ফেলতে পারব, কিন্তু তা আর সম্ভব হয়নি। আসলে এটিই টি২০ খেলা, এখানে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না। আমাদের ব্যাটিংয়ে সেরকম সমস্যা নেই, বোলিংটা নিয়ে ভাবতে হবে।”

 

কোলকাতার ঘুরে দাঁড়ানোর এ ম্যাচে এক উইকেট ও ২৪ বলে ৩৯ রান নিয়ে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার পেয়েছেন আন্দ্রে রাসেল।#

 

আশরাফুর রহমান/৩

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন