এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শনিবার, 15 মার্চ 2014 19:08

অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে ইরান ও রাশিয়ার গুরুত্বারোপ

ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে খুব শিগগিরি অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি সই হতে যাচ্ছে। ইরানের তেলমন্ত্রী এবং ইরান-রাশিয়া যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের সভাপতি বিজান নমদার জাঙ্গানে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য গতকাল দু’দিনের মস্কো সফরে গেছেন। তেহরান ত্যাগের প্রাক্কালে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরানের নতুন সরকার রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিস্তারের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

 

বর্তমানে ইরান ও রাশিয়ার বাণিজ্য লেনদেনের পরিমাণ বছরে ৫০০ কোটি ডলার। দু’দেশের কর্মকর্তারাই অর্থনৈতিক ছাড়াও রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছেন। কারণ অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ দুই দেশ বাণিজ্য লেনদেনের পরিমাণ বছরে দুই হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করতে পারে। ইরানের তেলমন্ত্রী বিজান নমদার জাঙ্গানে বলেছেন, বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ অগ্রহণযোগ্য কারণ এর পরিমাণ খুবই কম। তিনি বলেন, তেহরান প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মস্কোর সঙ্গে সহযোগিতা বিস্তারে আগ্রহী।

 

বিপুল পরিমাণ গ্যাস ও খনিজ তেলের অধিকারী হওয়ার কারণে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্ব অপরিসীম এবং এ ক্ষেত্রে ইরান ও রাশিয়ার যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরান ও রাশিয়া গত কয়েকমাসে তেলের বিনিময়ে পণ্য আমদানির বিষয়ে বেশ কয়েকটি চুক্তি সই করেছে। গত ছয় মাসের মধ্যে ইরানের তেল ও জ্বালানি মন্ত্রীরা দুইবার মস্কো সফর করে সেদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। দু’দেশের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং এ থেকে বোঝা যায়, ইরানের তেলমন্ত্রীর মস্কো সফরের মাধ্যমে বিরাজমান কিছু কিছু মতপার্থক্যের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

 

এর আগে রাশিয়ার তেল কোম্পানিগুলো ইরানের তেলের বাজারে ফিরে আসতে তাদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল। রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি বলেছে, সেদেশের অনেক তেল কোম্পানি ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর ইরানের বাজারে প্রবেশ করতে আগ্রহী। এদিকে ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মস্কো সফরের একই সময়ে দু’দেশের প্রেসিডেন্টরা এক টেলিফোন সংলাপে কিরঘিজিস্তানের বিশকেকে গত সেপ্টেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত সহযোগিতা চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন যাতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিস্তার করা যায়। 

 

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আলাপ কেবলমাত্র অর্থনৈতিক সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাদের মধ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে। এ ছাড়া, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু আলোচনায় রাশিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ বিষয়ে দু’দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অব্যাহত রয়েছে।

 

সিরিয়া, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়েও তেহরান ও মস্কো অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। এ কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ দু’দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রাখবে। #

 

রেডিও তেহরান/আরএইচ/১৫

 

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন