এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শুক্রবার, 25 এপ্রিল 2014 19:22

গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে মার্কিন সিনেটরের বিবৃতি; অর্থনীতিবিদের অভিমত

শ্রমিকদের রক্তের দাগ লেগে থাকা বাংলাদেশী পোশাক পশ্চিমারা কিনবে না বলে এক বিবৃতিতে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন আমেরিকার প্রভাবশালী সিনেটর ও ফরেন রিলেশন কমিটির চেয়ারম্যান রবার্ট মেনেন্দেজ।

 

রানা প্লাজা ট্রাজেডির একবছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার দেয়া ওই বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভবন ধসে সহস্রাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর পরও কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। ইউনিয়ন করার অধিকার বাস্তবায়নে বিজিএমইএ ও সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ায় ঘাটতি রয়েছে। এক বছরে আমেরিকা, আইএলও এবং বিদেশি ক্রেতারা কারাখানার নিরাপত্তায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও দেশের ভেতরে পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্টরা গতানুগতিকভাবেই সময় পার করেছেন। অনেক কারখানা মালিক শ্রমিকদের ইউনিয়ন গঠনে বাধা দিচ্ছেন। তারা ইউনিয়ন নেতাদেরকে ছাঁটাই করছেন। এমনকি কারখানার ব্যবস্থাপকদের কেউ কেউ ইউনিয়ন সংগঠকদের ওপর ভয়াবহ হামলার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু বিজিএমইএ এবং সরকারকে বুঝতে হবে, শ্রমিকদের রক্তের দাগ লেগে থাকা পোশাক পশ্চিমা ক্রেতারা আর কিনবে না।

 

মার্কিন সিনেটরের এমন অভিযোগের বিষয়ে একমত নন বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি সালাম মুর্শেদী। রেডিও তেহরানকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশী ক্রেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক উন্নত। সব কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন চালুরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কারাখানা পরিদর্শক নিয়োগের কাজ চলছে। তবে, রাতারাতি সবকিছু করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে ক্রেতা সংগঠন অ্যালায়েন্স ও অ্যাকোর্ডও একমত বলে দাবি করেন সালাম মুর্শেদী।

 

পোশাক মালিকদের দাবির সঙ্গে শ্রমিক সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠনসহ বিদেশী ক্রেতা সংগঠন একমত নয় বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. পিয়াস করিম। রেডিও তেহরানকে তিনি বলেন, মালিকরা শুধু মুখে বললেই হবে না, সবাইকে এ বিষয়ে বুঝাতে হবে যে, কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, এটা প্রমাণ করে দেখাতে হবে। কিন্তু সেটা করতে তারা পারছে না। তাই শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে পোশাক কারখানা পরিচালনা করতে হবে। কেননা বিদেশী ক্রেতারা যদি শ্রমিক শোষণের অভিযোগে পোশাক কিনতে না চায় তাহলে জোর করে তাদের পোশাক কিনতে বাধ্য করা সম্ভব নয়।

 

তিনি আরো বলেন, পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি বিদেশী ক্রেতাদের সঙ্গে সরকারকে বোঝাপড়া করতে হবে। কিন্তু বিষয়টি রাজনৈতিক হলেও এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই, সরকার নৈতিকভাবে দুর্বল হওয়ায় এ বিষয়ে বোঝাপড়া করতে পারছে না বলেও মনে করেন ড. পিয়াস করিম।#

 

রেডিও তেহরান/এসএম/এসআই/২৫

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন