এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বৃহস্পতিবার, 10 জুলাই 2014 10:52

ভারতীয় অর্থনীতিতে ভয়ঙ্কর দিন আসছে: পার্লামেন্টে অর্থমন্ত্রীর আশঙ্কা

অরুণ জেটলি অরুণ জেটলি

১০ জুলাই (রেডিও তেহরান): ভারতের পার্লামেন্টে পেশ করা ২০১৩-১৪ অর্থবছরের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, “২০১৪-১৫ অর্থবছরে ভারতীয় অর্থনীতি ৫.৪ থেকে ৫.৯ শতাংশের মধ্যে অগ্রগতিকে ছোঁয়ার চেষ্টা করবে।‌ বর্ষা এবং বাইরের পরিবেশ খারাপ থাকায় উদ্বেগের কারণ থেকেই যাবে।‌ গত দু’বছরে অগ্রগতিতে মন্দা ছিল সর্বত্রগামী।‌ বিশেষ করে এই মন্দা শিল্পক্ষেত্রকে আঘাত করেছে।‌ মুদ্রাস্ফীতি এই সময় কমে যায়, তবে শেষ পর্যম্ত বেড়েই থাকে খাদ্য মুদ্রাস্ফীতির বাড়তি প্রবণতার জন্য।‌”  

 

বুধবার সমীক্ষাটি সংসদে পেশ করেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি।‌ সমীক্ষায় বলা হয়, ভয়ঙ্কর দিন আসন্ন।‌ যাবতীয় কারণ দেখিয়ে তা ব্যাখ্যা করতে চেয়ে বলা হয়, গ্যাস ও ডিজেলের দাম না বাড়িয়ে পথ নেই।‌ যদিও মোদি সরকারের আগমনী সঙ্কেতের সঙ্গে সঙ্গে ‘ভাল দিন আসছে’ বলে আশার বাণী শোনানো হয়েছিল।‌ কিন্তু অর্থনৈতিক সমীক্ষা তার বিপরীত ইঙ্গিত দিচ্ছে।‌

 

বাজেটের একদিন আগে প্রকাশিত এই অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা কমবে বলে আশা করা যাচ্ছে।‌ এর ফলে আর্থিক নীতি কিছু সরল হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস জাগবে।‌ বিশ্ব অর্থনীতি অতীতের দুর্দশা থেকে কিছুটা মাথা তুলতে পারবে, বিশেষ করে কিছু উন্নত দেশের অর্থনীতির সাফল্যের ফলে।‌ এর দরুন অর্থনীতি উন্নততর অগ্রগতির কথা ভাবতে পারবে ২০১৪-১৫ ও তার পরে।‌ কিন্তু উদ্বেগের যে কারণগুলো থেকে যাচ্ছে, যেমন খারাপ বর্ষা, বাইরের খারাপ পরিবেশ এবং বিনিয়োগের খারাপ আবহাওয়া।‌ ফলে অগ্রগতির পায়ের বেড়ি হয়ে থাকবে এগুলোই।‌ ২০০৯-১০ ও ২০১০-১১ অর্থবছরে কিছুটা চাঙ্গা হওয়ার পর জি ডি পি-র অগ্রগতি দশকের সবচেয়ে নিচে নেমে যায়।‌ ২০১২-১৩-য় দাঁড়ায় ৪.৫ শতাংশ।‌ ফের ২০১৩-১৪-য় কিছুটা বাড়ে।‌ হয় ৪.৭ শতাংশ।‌

 

এরপরও সমীক্ষা আশা করছে, বিনিয়োগের আবহাওয়া ঠিক করতে ও আর্থিক শৃঙ্খলার উন্নতিসাধন করতে যেসব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তাতে আগামী বছরগুলিতে অগ্রগতি ৭.৮ শতাংশে পৌঁছতে পারে।‌ নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হলো, ব্যবসার মানসিকতাকে চাঙ্গা করা।‌ এটাই বিনিয়োগ নতুন করে শুরু করার উপায় হতে পারে।‌ তবে সব ক্ষেত্রেই বলা হয়েছে, আর্থিক সংহতিতে জোর দিতে হবে।‌ বলা হয়েছে, কাঠামোগত বাধা দূর করতে হবে।‌ সরকার ও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে তাতে বাইরের অর্থনৈতিক পরিস্হিতির উন্নতি হয়েছে তাৎপর্যপূর্ণভাবে।‌ ২০০৭-০৮ পর্যম্ত বিনিয়োগের সুসময় ছিল ভারতে।‌ বেসরকারি, কর্পোরেট ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য এটা সম্ভব হয়েছিল।‌ সেই কর্পোরেটের বিনিয়োগই ব্যাপকভাবে কমে যায়।‌ ফলে সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে বিনিয়োগে মন্দা দেখা দেয়।‌ এজন্যই শিল্পের মানসিকতাকে চাঙ্গা করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।‌

 

বাইরের বাণিজ্য ক্ষেত্র ঘুরে দাঁড়িয়েছে ২০১৩-১৪-র প্রথম তিন মাসের পর।‌ বছর শেষ হয় চলতি আমানতের ঘাটতি জি ডি পি-র ১.৭ শতাংশ নিয়ে।‌ ২০১২-১৩-তে যা ছিল ৪.৭ শতাংশ।‌ আর্থিক ক্ষেত্রেও উন্নতি দেখা যায়।‌ আর্থিক ঘাটতি কমে যায়।‌ ঘাটতি জি ডি পি-র ৫.৭ শতাংশ ছিল ২০১১-১২-তে।‌ ২০১২-১৩-তে তা হয় ৪.৯ শতাংশ।‌ এবং ২০১৩-১৪-তে হয় ৪.৫ শতাংশ।‌ কাঠামোগত ত্রুটিগুলি রয়েই যায়।‌ পরিষেবাতেও দেখা দেয় মন্দা।‌ বিশেষ করে অভ্যম্তরীণ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে।‌ পরিবহণ, গুদাম ক্ষেত্রেও, এবং সার্বিকভাবে শিল্পক্ষেত্রে দেখা যায় অধোগতি।‌ রেকর্ড খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে বলে আশা করা হয় ২০১৩-১৪-তে।‌

 

বলা হয়, ২৬৪.৪ মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে।‌ সমীক্ষার মতে, কাজের বয়সের ভিত্তিতে জনসংখ্যার অনুপাত বাড়বে।‌ ২০০১-এ এটা ছিল ৫৮ শতাংশ, ২০২১-এ হবে ৬৪ শতাংশের বেশি।‌ সুবিধার পাশাপাশি এর জন্য চ্যালেঞ্জ আছে।‌ এদিকে সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বছরের শেষ নাগাদ মুদ্রাস্ফীতি কমবে।‌ ফলে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের হার কমাতে পারে।‌ অরুণ জেটলি জানান, অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার জন্য তেলের দাম বাড়াতে হতে পারে।‌

 

এদিকে, পাইকারি মূল্যসূচক মুদ্রাস্ফীতি পাঁচ মাসে মাথায় উঠেছে।‌ মে মাসে দাঁড়িয়েছে ৬.০১ শতাংশ।‌ খাদ্যদ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য ৫.২০ শতাংশ থেকে বেড়ে যায়।‌ সমীক্ষা বলছে, আবহাওয়া দপ্তর কম বৃষ্টি হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করায় ফসলের সম্ভাবনা নিয়েও সংশয় দেখা যাচ্ছে।‌ খরার সম্ভাবনা নিয়েও হিসাব-নিকাশ করা হয়েছে।‌ ফের অপরিশোধিত তেলের বাড়তি দামের কথা বলা হয়েছে।‌

সমীক্ষায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।‌ ৮ বিলিয়ন ইউনিট কম উৎপাদন হয়েছে বিদ্যুৎ।‌

 

আগামী বছরগুলোতে ৭.৮ শতাংশ অগ্রগতি অর্জনের জন্য সরকারকে ত্রিস্তরীয় কৌশল নিতে বলা হয়েছে।‌ এই নীতি হলো, মুদ্রাস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণ করো, কর ও ব্যয় সংস্কারে জোর দাও এবং বাজার অর্থনীতির জন্য আইনি ও নিয়ন্ত্রণকারী কাঠামো গড়ে তোলো।‌ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সরকার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে আর্থিক নীতির কাঠামো রচনা করবে।‌ তারপর আর্থিক সংহতি ও খাদ্যের বাজারের সংস্কারের লক্ষ্যে কাজ করবে।‌ তৃতীয়ত, কর ও ব্যয় সংস্কারের লক্ষ্যে পণ্য ও পরিষেবা কর চালু করবে।‌ #

 

রেডিও তেহরান/এআর/১০

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন