এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শুক্রবার, 26 জুন 2015 22:23

দাবদাহ চলছে, কারণ বের করতে হন্যে এশিয় বিজ্ঞানীরা

২৬ জুন (রেডিও তেহরান): পাকিস্তান ও ভারতের বিজ্ঞানীরা সাম্প্রতিক দাবদাহের কারণ বের করতে হন্যে হয়ে উঠেছেন। তারা বলেছেন, তাপ বেড়ে যাওয়া দাবদাহের একটি কারণ কিন্তু এর সাথে জড়িত অন্যান্য কারণ এখনো সঠিক ভাবে নির্ধারণ করা যায় নি।

 

তারা আরো বলছেন, নিম্নচাপ, উচ্চ মাত্রার জলীয় বাষ্প এবং অস্বাভাবিক ভাবে ঝড়ো হাওয়ার অনুপস্থিতি অসহ্য দাবদাহ সৃষ্টির পেছনে কাজ করেছে। তবে বছরের এ সময়ে হঠাৎ করে কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হল তা এখনও বের করতে পারেন নি আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা।

 

করাচিতে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে পৌঁছাবে বলে গত সপ্তাহে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। পাকিস্তানের আবহাওয়াবিদরা এ পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তাদের পূর্বাভাস ঠিক হয়েছিল। তাপ এবং অন্যান্য কারণ মিলে করাচিতে অসহ্য দাবদাহ সৃষ্টি করেছিল বলে জানান তারা।

 

তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবদাহে পাকিস্তানে আজ(শুক্রবার) পর্যন্ত ১,১১৬ জন মারা গেছেন। এদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারতে সরকারি হিসাবে দাবদাহের মৃতের সংখ্যা দুই হাজার অতিক্রম করেছে। যদিও প্রকাশিত খবরে মৃতের সংখ্যা তিন হাজারে বেশি বলে দাবি করা হয়েছে।

 

করাচিতে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড থাকলেও তা অনুভূত হয়েছে ৪৯ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা একে হিট ইনডেক্স বা তাপ সূচক হিসেবে অভিহিত করে বলে জানান পাকিস্তান জাতীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রের পরিচালক মোহাম্মদ হানিফ।

 

তাপ সূচকের ব্যাখ্যা দিতে যেয়ে তিনি বলেন, বায়ুর চাপ কম এবং  জলীয় বাষ্পের মাত্রা অত্যন্ত বেশি ছিল। একই সঙ্গে সাগর থেকে মৃদু হাওয়া আসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি তাপ অনুভব করা গেছে।

 

ভারতের আবহাওয়া বিজ্ঞানীরাও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখতে পেয়েছেন। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের মহা পরিচালক এল এস রাথোর এ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সন্ধ্যায় সাগর থেকে ভেসে আসা মৃদু হাওয়ায় তাপ হ্রাস পায়। সারা দিনের তাপের ফলে মানুষের দেহে যে পীড়নের সৃষ্টি হয় তা কমতে সাহায্য করে এ হাওয়া। কিন্তু এ বছর এ রকমটি ঘটে নি উল্লেখ করে রাথোর জানান, তার বদলে ভূখণ্ড অব্যাহত ভাবে উত্তপ্ত করা হয়েছে।

 

আবহাওয়া হঠাৎ করে কেনো এমন হেঁয়ালি পূর্ণ আচরণ করেছে তার কোনো সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই বলে জানান ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব ট্রপিকাল মেট্রোলজির জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধান আর কৃষ্ণা।   

 

 

বিংশ শতকের মাঝামাঝি থেকে এশিয়ার ব্যাপক এলাকা জুড়ে দাবদাহের মাত্রা অনেক বেড়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে এতকাল গুরুত্ব দেয়া হয় নি বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।#

 

রেডিও তেহরান/সমর/২৬

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন