এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
রবিবার, 05 জানুয়ারী 2014 21:37

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কত শতাংশ ভোট পড়েছে?

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কত শতাংশ ভোট পড়েছে?

৫ জানুয়ারি (রেডিও তেহরান): বাংলাদেশের সদ্য সমাপ্ত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বল্পসংখ্যক ভোটার ভোট দিয়েছে বলে দাবি করেছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যম, মানবাধিকার ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা এবং রাজনৈতিক দল।

 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, একটি ভোটও পড়েনি ৪৩টি কেন্দ্রে। এর মধ্যে ২৭টি লালমনিরহাটে, ৫টি সিরাজগঞ্জে, ১টি রাজশাহীতে, ১টি বিশ্বনাথে ও ১টি উখিয়ায়। মাত্র ১টি ভোট পড়েছে লালমনিরহাটের ১টি কেন্দ্রে। স্বল্প ভোটার উপস্থিতির কারণে বহু কেন্দ্রে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীকেও অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে।  ঢাকায় নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে দেশীয় পর্যবেক্ষকের সংখ্যাও ছিল খুবই কম। অনেক কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকের কোনো উপস্থিতিও দেখা যায়নি। আবার কিছু কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকরা ছিলেন খোশ গল্পে।

 

একতরফা এ নির্বাচনে ঠিক কত শতাংশ ভোট পড়েছে সে সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন এখনো কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে বেসরকারি কিছু মানবাধিকার ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো বলছে- সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ভোট পড়েছে। আর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের দাবি অনুযায়ী- এ সংখ্যা ৪-৫ শতাংশের মত। তবে  আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচলনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক মহীউদ্দীন খান আলমগীর ভোটার উপস্থিতির হার নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়ে বিরোধী দল ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

শূন্য থেকে ১০ ভাগ ভোট পড়েছে: বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থা

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক অ্যাডভোকেট এ কে আজাদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটার ছিল খুবই স্বল্প সংখ্যক। বেশির ভাগ ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল শতকরা শূন্য ভাগ থেকে ১০ ভাগ পর্যন্ত। কিছু কিছু কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের মনোনিত প্রার্থী ও তাদের বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ওই সব আসনে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২৫ ভাগের বেশি ভোট পড়েনি।

 

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, রাজধানীর বেশকিছু কেন্দ্র ভোটারবিহীন থাকলেও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রতিনিধিরা আসলেই হঠাৎ করে ৪০-৫০ জন দলীয় কর্মী লাইন ধরে ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়, ১০ ভাগ ভোটার উপস্থিতির নির্বাচনকে প্রকৃতপক্ষে নির্বাচন বলা যায় না। এজন্য তারা অবিলম্বে এ নির্বাচন বাতিল করে সব দলের অংশগ্রহণে নতুন তফসিল দেয়ার দাবি জানান।

 

ভোট পড়েছে ১০ শতাংশেরও কম: ফেমা

ফেয়ার ইলেকশন মনিটিরিং অ্যালায়েন্স ফেমা’র প্রধান মুনিরা খান জানিয়েছেন, রোববারের নির্বাচনে সব মিলিয়ে ১০ শতাংশেরও কম ভোটার ভোট দিয়েছেন।

 

গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি জানান, আমি নিজে রাজধানীর বেশ কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে গিয়ে খুব কম ভোটরের উপস্থিতি দেখেছি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে আমাদের পর্যবেক্ষকরা যেসব খবর দিয়েছেন তাতেও ১০ শতাংশের কম ভোট পড়েছে বলে জানা গেছে।

 

৪-৫ শতাংশ ভোট পড়েছে : মঈন খান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ভোটার ও প্রার্থীবিহীন এ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৪-৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।

 

নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল সাড়ে ৪টায় নিজ বাসভবনে তাতক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়  তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, জনগণ প্রহসনের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। এর মধ্য দিয়ে আবারো প্রমাণিত হলো দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

 

৯০ শতাংশের বেশি জনগণ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে : জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বলেছে, দেশের জনগণ সরকারের একদলীয় প্রহসনের নির্বাচন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। বাংলাদেশে এমন দূরাবস্থার নির্বাচন অতীতে কখনো হয়নি। এ নির্বাচনের সাথে জনগণের কোন ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। দেশের শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি মানুষ এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রতি তাদের অবস্থান ব্যক্ত করেছে।

 

সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এ মন্তব্য করেছেন।

 

ভোটার উপস্থিতি কম ছিল: ইনু

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, “৭০ এর নির্বাচনসহ অতীতের সব নির্বাচনের চেয়ে আনুপাতিক হারে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল; এটি স্বীকার করছি।”

 

তবে, তিনি বলেন, সংঘাতময় সময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারাটাই সরকারের একটি রাজনৈতিক সাফল্য। এ জন্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

রোববার রাত আটটায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

 

ভোটের হার নিয়ে জয়ের আগাম প্রচারণা

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার আগেই 'সংবাদমাধ্যমের' বরাত দিয়ে নির্বাচনে ৪০ ভাগ ভোট পড়েছে এবং তা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিক থেকে নিজের ফেসবুক ফ্যানপেইজে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলো যে রিপোর্ট প্রকাশ করছে তাতে ভোটাদের ভোটদানের হার এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০% বলছে, যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ৪-৫টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত পুরো দু'টি জেলায়, ভোটাদের ভোটদানের হার ছিল ৫১%।

 

‘জালিয়াতির সাধারণ নির্বাচন’: এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন

হংকংভিত্তিক খ্যাতনামা মানবাধিকার সংগঠন এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন (এএইচআরসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার জাতিকে একটি ‘জালিয়াতির সাধারণ নির্বাচন’ প্রত্যক্ষ করতে বাধ্য করেছে। আজকের এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোট ছাড়া বিরোধী দলগুলো বয়কট করেছে।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেয়ার জন্য সরকার পুলিশ, আধা সামরিক বাহিনী এবং গুরুত্বপূর্ণ সব প্রতিষ্ঠান এমনকি নির্বাচন কমিশনসহ বেসামরিক প্রশাসনকে চরমভাবে দলীয়করণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, নানাভাবে নির্বাচন কমিশন বর্তমান সরকারের পুতুলে পরিণত হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘন করে নির্বাচন কমিশন ব্যাকডেটে অনেক প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়ার সুযোগ দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন নির্লজ্জভাবে ক্ষমতাসীন দলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়।

 

আপডেট: দেরিতে  হলেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট প্রদানের হার প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসি’র চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী সারা দেশের ১৩৯টি আসনে গড়ে ৪০ দশমিক ৫৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। মঙ্গলবার এ হিসাব প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।#

 

রেডিও তেহরান/এআর/৫

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন