এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বৃহস্পতিবার, 14 এপ্রিল 2016 16:46

'৯/১১ ঘটায় ইসরাইল, সেই ১৫ সৌদি ছিল সিআইএ’র চর'

'৯/১১ ঘটায় ইসরাইল, সেই ১৫ সৌদি ছিল সিআইএ’র চর'

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে কথিত ‘ছিনতাই-করা বিমান নিয়ে’ মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন ও বিশ্ব-বাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন টাওয়ারে হামলায় জড়িত ১৫ জন সৌদি ছিনতাইকারী ছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র অনুচর। আর তারা ইহুদিবাদী ইসরাইল ও মার্কিন সরকারের স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যকে ধ্বংস এবং আমেরিকান সামরিক বাজেটকেও দ্বিগুণ করতে চেয়েছে ওই হামলার মাধ্যমে।


ইরানের প্রেস টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এইসব মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট মার্কিন শিক্ষাবিদ ও গবেষক ডক্টর কেভিন ব্যারেট। মার্কিন সংসদের কয়েকজন সাবেক সদস্য ১১ সেপ্টেম্বরের হামলায় সৌদি আরবের সম্ভাব্য ভূমিকা তুলে ধরার লক্ষ্যে ওই হামলার বিষয়ে তৈরি করা তদন্ত-প্রতিবেদনের গোপন অংশ প্রকাশের দাবি জানানোর পর ব্যারেট এইসব মন্তব্য করলেন।


ডক্টর ব্যারেট ২০০৩ সাল থেকে নয়-এগারোর ঘটনাগুলো নিয়ে গবেষণা করে আসছেন এবং তিনি ওই ঘটনা তদন্ত বিষয়ে একটি বৈজ্ঞানিক প্যানেলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।


মার্কিন কংগ্রেসের ওই সাবেক সদস্যরা বলছেন, নয়-এগারোর হামলার তদন্ত-রিপোর্টের অপ্রকাশিত ২৮ পৃষ্ঠার তথ্য থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে ওই হামলায় জড়িত সৌদি আরবের দু’জন নাগরিক রিয়াদ সরকারের সহায়তা পেয়েছে।


ডক্টর ব্যারেট বলেছেন, ‘ওই গোপন ২৮ পৃষ্ঠা প্রকাশ করার আন্দোলন সফল হয়েছে বলে মনে হচ্ছে অথবা অন্তত তা সফলতার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। আমরা সোমবারে শুনেছি যে ওবামা এ সংক্রান্ত পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া শেষ করার কথা ভাবছেন। আর দৃশ্যত এর অর্থ হল তিনি তার ক্ষমতার মেয়াদের শেষের দিকে ওই পৃষ্ঠাগুলো প্রকাশ করবেন। এই বুধবারে সাবেক কংগ্রেস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ওই ২৮ পৃষ্ঠা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তাই এসব খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে মনে হচ্ছে।... এটা করা হলে সৌদি-মার্কিন সম্পর্কে অবশ্যই নানা সমস্যা দেখা দেবে। কারণ বিমান ছিনতাইয়ে অভিযুক্ত ১৯ ব্যক্তির কেউ কেউ যে সৌদি শাসক-চক্রের সহায়তা পেয়েছে ওই ২৮ পৃষ্ঠায় সে বিষয়ে প্রাথমিক আলোকপাত করা হয়েছে। আসলে ওই লোকগুলোকে নয়-এগারোর অপরাধগুলোর জন্য দায়ী করা অন্যায়।’


তিনি আরও বলেন, এই পৃষ্ঠাগুলো প্রকাশ করা হলে পুরো ঘটনার চিত্র প্রকাশ পাবে কিনা সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর এ বিষয়টি সৌদি-মার্কিন সম্পর্কেও তেমন একটা ফাটল ধরাবে না বলে ব্যারেট মন্তব্য করেছেন।


নয়-এগারোর ঘটনাটির পুরো রহস্য উদঘাটনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, সৌদি শাসক-পরিবার যে নয়-এগারোর হামলা ও ষড়যন্ত্র পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করেছে- এমন ধারণা হাস্যকর; কারণ, সৌদি সরকার হচ্ছে মার্কিন সরকারের তল্পিবাহক।


ডক্টর ব্যারেট আরও বলেছেন, ‘কথিত বিমান-ছিনতাইয়ে জড়িত বলে যে ১৫ জন সৌদির কথা বলা হয় তারা আসলে ওই বিমানগুলোতেই ছিল না, ১৯ জন কথিত ছিনতাইকারীর কেউই কিংবা কোনো আরবই ওই চার বিমানে ছিল না; থাকলে বিমানের যাত্রীর তালিকায় তাদের নাম থাকত, কিন্তু তালিকায় তাদের কারো নামই ছিল না। তাই এই ১৫ জন সৌদি হল আসলে অভিনেতা বা ভাঁড় যাদের জড়ানো হয়েছে ওই হামলার দায় চাপানোর জন্য এবং তারা আসলে সিআইএ’র এজেন্ট। আমরা তা জানি এবং আমি সিআইএ’র একটি সূত্র থেকে সরাসরি নিশ্চিত হয়েছি যে ওই ১৫ জন সৌদি নাগরিক চাকরির ভিসা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বহুবার এসেছে; কিন্তু তাদের চাকরির ভিসায় একটি বিশেষ সংখ্যা ছিল যা কেবল সিআইএ’র বড় ধরনের সেবকদের দেয়া হয় বিশেষ পুরস্কার হিসেবে। সিআইএ এই সৌদিদেরকে অর্থ দিত সৌদিতে এই সংস্থার স্বার্থে তাদের সেবা গ্রহণের বিনিময় হিসেবে, আর তাদেরকে যে কথিত চাকরির ভিসা দেয়া হয়েছে তা পরিচয় গোপন রাখার জন্য এক বিশেষ ধরনের ভিসা মাত্র। তাই এই সৌদিরা যে সিআইএর গুপ্তচর ছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাদের কেউ কেউ ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন ঘরোয়া গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইএ’র লোকদের সঙ্গে বসবাস করত।  ফলে এটা স্পষ্ট যে এরা মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে নয় বরং মার্কিন সরকারের স্বার্থেই কাজ করত। এদের রাখা হয়েছে বা জড়ানো হয়েছে এ জন্য যাতে সৌদি সরকারের ওপর নয়-এগারোর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ চাপানো যায়। আর জন্যই এদেরকে নিয়োগ করা হয়েছে ইসরাইল ও তার মার্কিন সহযোগীদের পক্ষ থেকে।’ 


ডক্টর ব্যারেটের মতে সৌদি সরকার যাতে মার্কিন জোট ত্যাগ না করে তা নিশ্চিত করার জন্যই এসব করা হয়েছে। কারণ, তৎকালীন সৌদি রাজা ২০০১ সালে মার্কিন জোট ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তার মতে পাকিস্তানের সঙ্গেও একই ধরনের কাজ করেছে মার্কিন সরকার। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’এর প্রধানকে ফাঁদে ফেলা হয় এবং তাকে দিয়ে মুহাম্মাদ আত্তার (কথিত বিমান ছিনতাইকারী, মিশরীয়) কাছে অর্থ পাঠানো হয়, আর এরপর এ খবর ফাঁস করা হয় ভারতের একটি দৈনিকে। কারণ, পাকিস্তান সরকারও মার্কিন জোট ত্যাগ করার হুমকি দিয়েছিল ২০০১ সালে। 


ব্যারেট আরও বলেছেন, ‘এখন ইহুদিবাদী চক্রের হাতের মুঠোয় থাকা সাম্রাজ্যবাদী মাধ্যমগুলো এটা চায় না যে পারমাণবিক শক্তির অধিকারী পাকিস্তান ও তেল-সমৃদ্ধ সৌদি আরব স্বাধীন দেশে পরিণত হোক। তাই ইহুদিবাদীরা নয়-এগারোর ঘটনাকে ব্যবহার করেছে যাতে পাক-সৌদি সরকারকে আবারও সাম্রাজ্যবাদী জোটের বলয়ে ফেরত আনা যায়। আর এটা হচ্ছে নয়-এগারোর ঘটনার অনেক লক্ষের মধ্যে অন্যতম।’  


তার মতে নয়-এগারোর ঘটনার সবচেয়ে বড় লক্ষ ছিল মার্কিন সেনাপতি জেনারেল ওয়েসলি ক্লার্কের কথিত সেই সাতটি দেশকে ৫ বছরের মধ্যে ধ্বংস করা যারা ইসরাইলের শত্রু বা ইসরাইলকে হুমকি দেয়। ‘এখন ওই ২৮ পৃষ্ঠা প্রকাশ করা হলে তাতে কি পূর্ণ সত্য বেরিয়ে আসবে?’-প্রশ্ন করেন ডক্টর ব্যারেট।


তার মতে নিউইয়র্কের সাত নম্বর ভবন ও টুইন টাওয়ার ধ্বংস করা হয়েছিল নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায়। কথিত ছিনতাই-হওয়া সেইসব বিমানে কোনো ছিনতাইকারীই ছিল না, এইসব বিমানে কোনো আরব আরোহীই ছিল না। তিনি বলেন, ওই বিমানগুলোতে আরব ছিনতাইকারী থাকার দাবির পক্ষে বিন্দুমাত্র সাক্ষ্য-প্রমাণও নেই।


ব্যারেট আরও বলেন, ‘এইসব বাস্তবতা বা সত্যগুলো বেরিয়ে আসলে বোঝা যাবে যে, আসলে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ঘটনা ছিল ইসরাইল এবং তার মার্কিন সহযোগীদের একটি সাজানো ঘটনা যার সঙ্গে জড়িত ছিল বুশ, চেনি, রামসফেল্ড ও আরও অনেকে। এটা এক নতুন পার্ল হারবর-ষড়যন্ত্র যা সাজানো হয়েছিল ইসরাইলের স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যকে ধ্বংস করার ও মার্কিন সামরিক বাজেটকে দ্বিগুণ করার লক্ষে। মার্কিন সাম্রাজ্যকে চাঙ্গা করাও ছিল এর লক্ষ্য। কিন্তু এর ফলে মার্কিন সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়েছে, কেবল ইসরাইলই লাভবান হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে ইসরাইলের সব প্রতিবেশী। আমেরিকাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মত নেতাই দরকার। ট্রাম্প টুইন টাওয়ার ধ্বংসে জড়িত লোকদের পরিচয় প্রকাশের যে ওয়াদা দিয়েছেন তা পালন করা জরুরি। আসলে ওই ধ্বংসযজ্ঞ ছিল ইহুদিবাদীদের কাজ।’


ব্যারেট মার্কিন ক্ষমতার-কাঠামোয় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দেন যার নিয়ন্ত্রক হচ্ছে ইহুদিবাদীরা। আর এই ধনতান্ত্রিক বা কর্পোরেট কাঠামোর তিনটি অংশ হল-ব্যাংকিং, বিনিয়োগ শিল্প এবং গণমাধ্যম। # 

 

আমির হোসেন/১৪

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন