এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
মঙ্গলবার, 19 এপ্রিল 2016 18:24

'তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে দেশে সাইবার ক্রাইম বেড়েছে'

'তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে দেশে সাইবার ক্রাইম বেড়েছে'

ষোল কোটি মানুষের বাংলাদেশে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ছয় কোটি ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বিটিআরসি। চলতি বছর মার্চ শেষের তথ্য হিসাব করে বিটিআরসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ৬ কোটি ১২ লাখ ৮৮ হাজার।

 

গত বছর মার্চে বাংলাদেশে ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৬২ হাজার গ্রাহক ইন্টারনেট সেবা নিয়েছেন। এই হিসাবে এক বছরে দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ।

 

বিটিআরসির তথ্যে দেখা যায়, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগই এ সেবা নিচ্ছেন মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে।

 

বিটিআরসির সচিব মো. সারওয়ার আলম সোমবার গণমাধ্যমকে বলেছেন, “বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ডেটা ব্যবহারের আগ্রহ বাড়ছে। গ্রাহক সংখ্যা আগামীতে আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।”

 

মার্চ মাসের হিসাব অনুযায়ী দেশে ছয়টি মোবাইল ফোন অপারেটরের হাতে মোট ১৩ কোটি ৮ লাখ ৮১ হাজার গ্রাহক রয়েছে। তবে এর মধ্যে আট কোটির মতো বর্তমানে চালু আছে বলে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর ধারণা।

 

এদিকে, মোবাইল ও ইন্টারনেটের বিস্তার এবং তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দেশে সাইবার ক্রাইম ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাসের মতো। হাতে কম দামে আধুনিক প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট পেয়ে অনেকেই এর অপ-ব্যবহার করছেন বলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি। কেউ বুঝে আবার কেউ না বুঝে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছেন। অপরাধীর সংখ্যাও দিনে দিনে বেড়ে চলেছে।

 

গুরুতর অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে আনেক ক্ষেত্রেই আইনের অপপ্রয়োগ করা হচ্ছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

এ প্রসঙ্গে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার- এর পরিচালক নাসিরুদ্দিন এলান বলেন, বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় সাংবাদিক বা মানবাধিকার কর্মীরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

 

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সুরাইয়া পারভীন রেডিও তেহরানকে বলেন, তথ্য প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই্। এর অপব্যবহার রোধ করতে জনগণের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির আধুনিকায়ন ও প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে।

 

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সূত্রে জানা গেছে, আইসিটি আইন সংশোধন হওয়ার পরে ২০১৩ সালে ২৫টি, ২০১৪ সালে ৬৫টি, ২০১৫ সালে ৬৫টি এবং এ বছর গত ছয় মাসে ২৩টি মামলার আলামত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে। এর মধ্যে আইসিটি আইনে দায়ের হওয়া মামলাই বেশি। এ সময়ে এসব মামলার মধ্যে আইসিটি আইনে ৬২টি ও পর্নোগ্রাফি আইনে ৩১টি মামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪২টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে।

 

ওদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির জন্য আলাদা একটি ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।#

 

আব্দুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/১৯

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন