এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বৃহস্পতিবার, 21 এপ্রিল 2016 17:03

মোদি সরকারকে বড় ধাক্কা হাইকোর্টের, উত্তরাখণ্ডে প্রেসিডেন্ট শাসন খারিজ

মোদি সরকারকে বড় ধাক্কা হাইকোর্টের, উত্তরাখণ্ডে প্রেসিডেন্ট শাসন খারিজ

ভারতের উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল হাইকোর্ট আজ কেন্দ্রীয় মোদি সরকারকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। গভর্নরের রিপোর্টের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সুপারিশে গত ২৭ মার্চ প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখোপাধ্যায় কংগ্রেস শাসিত উত্তরাখণ্ড রাজ্যে প্রেসিডেন্ট শাসন জারি করেছিলেন। আজ (বৃহস্পতিবার) হাইকোর্টের পক্ষ থেকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রেসিডেন্ট শাসনকে খারিজ করে দেয়া হয়েছে। আগামী ২৯ এপ্রিল হরিশ রাওয়াত সরকারকে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিকমহলে ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।

 

আদলতের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপকে তীব্র সমালোচনা করা হয়। গতকাল কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তিকে খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি কে এম জোসেফ এবং বিচারপতি বিচারপতি ভি কে বিস্তের সমন্বিত ডিভিশন বেঞ্চ জানায় ‘রাজ-সিদ্ধান্ত বলে কিছু নেই। বিচার বিভাগ যে কোনও কিছুই পর্যালোচনা করতে পারে। প্রেসিডেন্টও ভীষণ ভাবে ভুল করতে পারেন।’

 

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে সাফাই দিয়ে বলা হয়, ‘উত্তরাখণ্ডে প্রেসিডেন্ট শাসন জারির সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট নিজেই সম্মতি জানিয়েছেন। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আর বিচার চলে না।’ যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের সাফাইকে উড়িয়ে দিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতিরা বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের ‘প্রজ্ঞা’ নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলছেন না। কিন্তু সব কিছুই আইনি পর্যালোচনার অধীন।’

 

কঠোর মনোভাব নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে বিচারপতিরা বলেন, ‘আপনারা গণতন্ত্রের শিকড়ে আঘাত করছেন। এভাবে খেয়ালখুশি মতো প্রেসিডেন্ট শাসন জারি করা হলে ভবিষ্যতের জন্য ভুল দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। ১০/১৫ বছর পরে এর প্রভাব কী পড়বে, সেটাও ভাবা দরকার।’

 

আজ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। হরিশ রাওয়াত সরকারে মন্ত্রী থাকা ইন্দিরা হৃদয়েশ বলেন, হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

কংগ্রেস নেতা রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন, ‘এটা সংবিধানের জয়। বিজেপি’র উচিত এজন্য ক্ষমা চাওয়া।’

 

হাইকোর্টের এই রায়ে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের অনৈতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাদের বড় জয় হিসেবে মনে করছে কংগ্রেস।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে সুপ্রিমকোর্টে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।

 

কংগ্রেসের ৯ জন বিধায়ক বিদ্রোহ করায় উত্তরাখণ্ডে হরিশ রাওয়াত সরকার সংকটে পড়েছিল। যদিও হরিশ রাওয়াত তার সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। ২৮ মার্চ রাজ্য সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দেয়ার কথা ছিল। উত্তরাখণ্ডের গভর্নর কে কে পল মুখ্যমন্ত্রীকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে বলেছিলেন। যদিও তার একদিন আগেভাগেই ২৭ মার্চ কেন্দ্রীয় সরকারের সুপারিশে রাজ্য সরকারকে ভেঙে দিয়ে সেখানে প্রেসিডেন্ট শাসন জারি হওয়ায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।

 

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি প্রেসিডেন্ট শাসন জারি প্রসঙ্গে সাফাই দিয়ে বলেন, উত্তরাখণ্ডে সংবিধানের শাসন ভেঙে পড়েছিল, তাই সেখানে প্রেসিডেন্ট শাসন জারি করতে হয়েছে।

 

কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপকে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ জানায় কংগ্রেস।#

 

এমএএইচ/জিএআর/২১

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন