এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বুধবার, 27 এপ্রিল 2016 18:22

বাংলাদেশে গুপ্তহত্যা বৃদ্ধি: জড়িতদের সম্পর্কে নানা মত (অডিও)

শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খাঁন, রুহিন হোসেন প্রিন্স ও মার্শা বার্নিকাট শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খাঁন, রুহিন হোসেন প্রিন্স ও মার্শা বার্নিকাট

বাংলাদেশে আইএস আছে এবং তারাই হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকাস্থ নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। জুলহাজ মান্নান হত্যার তদন্ত বিষয়ে আজ (বুধবার) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মার্শা এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করার আগ্রহের কথা জানান।

 

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইএস-এর নাম ভাঙিয়ে এদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলোই এসব কাজ করে থাকে।’

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘সন্ত্রাস-জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে। বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় হয়। সেটা আরও ব্যাপক আকারে করা হবে। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি মনিটরিং সেল খোলা হবে। যে সেল ২৪ ঘণ্টা এসব বিষয় তদারকি করবে।’

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মার্কিন দূতাবাসের সাবেক কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নানের হত্যা নিয়ে বার্নিকাট অনেক কষ্ট পেয়েছেন। তারা একসঙ্গে অনেকদিন কাজ করেছেন। জুলহাজের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এজন্য তিনি খুবই দুঃখ পেয়েছেন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বার্নিকাটকে বলেছি, এটা বাংলাদেশের সমস্যা নয়। সারা পৃথিবীর সমস্যা।’ এ সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি খুন হয়েছেন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বার্নিকাট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ব্লগার ও বিদেশিসহ ৩১ খুনের তালিকা দিয়েছেন। এ বিষয়ে মন্ত্রী বার্নিকাটকে বলেছেন, ‘প্রত্যেকটি খুনের ঘটনাতেই খুনিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। অনেককে ধরাও হয়েছে। যারা এসব ঘটায় তারা সব দেশেরই শত্রু। তারা কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়।‘

 

এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াতকে ইঙ্গিত করে আজও বলেছেন, যারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে, তারাই আজ পরিকল্পিতভাবে মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করাই এর উদ্দেশ্য।

 

এ প্রসঙ্গে বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন রেডিও তেহরানকে বলেন, সারাদেশের মানুষের মধ্যে একটি নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। অথচ রাষ্ট্র দায়িত্বহীন আচরণ করছে।

 

তিনি মনে করেন- রাষ্ট্রের উর্ধ্বতন মহল থেকে যেভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে তাতে সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় জনগণকে প্রতিবাদে এগিয়ে আসতে হবে।

 

সিপিবি’র কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স অনুরূপ মন্তব্য করে বলেন, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা এখন খুবই জরুরি।

 

এর আগে, গতকাল সিরাজগঞ্জ জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত ও একাত্তরের ঘাতকদের লালনকারীরা এখন দিশেহারা হয়ে দেশের রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করার প্রয়াস চালাচ্ছে।’

 

এ সময় তিনি দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা বিশেষ করে বগুড়া ও রাজশাহীতে আবারও ‘জঙ্গি অপতৎরতা’ শুরু হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

 

জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা হেফাজতের উদ্দেশ্যে তিনি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনই এসব দুষ্কৃতিকারীদের খুঁজে বের করতে হবে।’#

 

আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৭

মাধ্যম

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন