এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শুক্রবার, 06 মে 2016 18:47

গণমাধ্যম, মিডিয়া মনিটরিং সেল এবং বাস্তবতা: সাংবাদিক প্রতিক্রিয়া

গণমাধ্যম, মিডিয়া মনিটরিং সেল এবং বাস্তবতা: সাংবাদিক প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে সরকার ও বিরোধীপক্ষের বিপরীত মত। বতর্মান সরকারের আমলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও বিরোধী পক্ষ বলছে, এ সরকার যেভাবে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতন করছে, তাতে মত প্রকাশের অধিকারকে সঙ্কুচিত করা হয়েছে। দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাগুলোকেও বিভিন্ন সময়ে কথা বলতে দেখা গেছে।

 

এমন পরিস্থিতিতে, গণমাধ্যমের জন্য মনিটরিং সেল গঠনের কথা বলেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বুধবার সংসদকে জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও তথ্য পর্যবেক্ষণের জন্য সরকার একটি মনিটরিং সেল গঠন করতে যাচ্ছে। সংবাদ মাধ্যম ও বিভিন্ন ব্লগ বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাস ও মতামতের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে সমাজে বিভেদ তৈরি করে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য এ সেল কাজ করবে।

 

এর প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমকে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করতেই সরকার এই মনিটরিং সেল করার উদ্যোগ নিয়েছে। নিজেদের অনাচার ও দুর্নীতি চাপা দিতেই গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে সরকার বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

 

মনিটরিং সেল গঠনের বিরোধিতা করেছেন সাংবাদিক নেতারা। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাহফুজউল্লাহ রেডিও তেহরানকে বলেন, সংসদে তথ্যমন্ত্রীর মিডিয়া মনিটরিং সেল করার কথা বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তেরই বহিঃপ্রকাশ। এ সেলটি তথ্য অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে বলেই জানা যাচ্ছে। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানটির অতীত ইতিহাস হলো, এর মাধ্যমেই সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাই এর দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোজগত গণমাধ্যমের জন্য নিয়ন্ত্রণমূলক। তাই অভিভাবক প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিভঙ্গি সংশোধন না হলে তার অধীনে থাকা মনিটরিং সেল, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্যই কাজ করবে। আর গণমাধ্যমে কোনটা জনবিরোধী, ধর্মবিরোধী, জাতীয় স্বার্থ বিরোধী তা কে নির্ধারণ করবে? কেননা প্রতিটি দেশে সমাজে এ নিয়ে মতপার্থক্য আছে। আর বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের জন্য মনিটরিং সেল করতেই পারে বলে মনে করেন মাহফুজউল্লাহ।

 

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল রেডিও তেহরানকে বলেন, তথ্য অধিদফতরের মাধ্যমেই সরকার ও গণমাধ্যম পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ করে থাকে। এটা দীর্ঘকালের ঐতিহ্য। যদিও এ অধিদফতরকে অপব্যবহারও করা হয়েছে। সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় কবিতা ছাপানোর জন্যও এ প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান থাকার পরও কেন আলাদা মনিটরিং সেল গঠনের প্রয়োজন পড়লো, তা বোধগম্য নয়। তবে, কোন উদ্দেশ্য সরকার এটি করতে চায় সেটি পরিষ্কার না হওয়ায়, এখনও মন্তব্য করার সময় আসেনি। তবে দেশের গণমাধ্যমের যে অবস্থা তা নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো সেল করা হলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না। দেশের গণমাধ্যম কর্মীরা তা মেনে নেবে না বলেই জানান মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল।

 

বিএনপির শাসনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে মনিটরিং সেল করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, পেশাজীবী ও প্রশাসনের লোকদের দিয়ে এ সেল পরিচালিত হতো। এই সেল কি কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা জানা নেই। সরকারকে সহায়তার জন্যও করা হতে পারে। তারপরও এ সেল নিয়ে সরকারের ভেতরে বাইরে সমালোচনা হয়েছিল বলে জানান মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল।#

 

শামস মন্ডল/গাজী আবদুর রশীদ

 

মাধ্যম

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন