এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
রবিবার, 20 ডিসেম্বর 2015 16:17

‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খুব স্পর্শকাতর বিষয়ে হাত দিয়েছেন’

‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খুব স্পর্শকাতর বিষয়ে হাত দিয়েছেন’

২০ ডিসেম্বর (রেডিও তেহরান): পশ্চিমা যুব সমাজের উদ্দেশে দেয়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দ্বিতীয় ঐতিহাসিক চিঠির ব্যাপারে নানা মহলের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক বিষয়ে কলম্বিয়ার বিশিষ্ট গবেষক ফানি উচওয়া বলেছেন, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা পশ্চিমা যুব সমাজকে সম্বোধন করে খুব স্পর্শকাতর বিষয়ে হাত দিয়েছেন। যুবসমাজ সর্বোচ্চ মাত্রায় তথ্য পাচ্ছে। পশ্চিমা গণমাধ্যম ও পরাশক্তিগুলো এবং বিশেষ করে মার্কিন সরকার সব সময়ই গণমাধ্যম ব্যবহার করে ও বিশেষ করে বিশ্বের বাণিজ্যিক মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে যুব সমাজের চিন্তাধারার ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।’

 

তিনি আরও বলেছেন, ‘পশ্চিমা যুব সমাজ নিজ নিজ দেশের ও বিশ্বের চলমান পরিস্থিতির দিকে সূক্ষ্ম নজর রাখার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে। আর ঠিক এ জন্যই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাদের সম্বোধন করে বার্তা পাঠিয়েছেন।‘

 

ফানি উচওয়া মনে করেন, পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রচারণা সব সময়ই বিশ্বের রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে বিন্যস্ত করা হয়। তারা অতীতে সোভিয়েত ইউনিয়নের ব্যাপারে আতঙ্ক ও ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা করত। বর্তমানে তারা ভেনিজুয়েলার সরকার সম্পর্কে একই অনুভূতি প্রচারের চেষ্টা করছে। গত ৫০ বছর ধরে তারা একই কাজ করেছে কিউবার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে পাশ্চাত্যের সরকার ও গণমাধ্যমগুলো খুবই ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় পশ্চিমা যুব সমাজ কেবল একপেশে তথ্য পেয়েছে এবং অনেক বিষয়ে অজ্ঞ থেকে গেছে বলে কলম্বিয়ার বিশিষ্ট এই বিশেষজ্ঞ মনে করেন। আর এ অবস্থায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা পশ্চিমা যুবসমাজকে ইসলামের মৌলিক উৎসগুলো থেকে এ মহান ধর্ম সম্পর্কে জানার আহ্বান জানিয়েছেন। তার এ আহ্বান ওয়াহাবি-তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএসআইএল, আলকায়দা ও তালেবানের প্রচারণার সঙ্গে সম্পর্কহীন নয় বলেও ফানি উচওয়া মনে করেন। এ চিঠি কেবল যুবসমাজের জন্যই প্রণীত হয়নি বিভিন্ন ধর্মের নানা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জন্যও প্রণীত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

 

আন্তর্জাতিক বিষয়ে কলম্বিয়ার বিশিষ্ট গবেষক ফানি উচওয়া মনে করেন, তালেবান, আলকায়দা ও আইএসআইএল বা দায়েশের মত গোষ্ঠীগুলোসহ যারা বিশ্বে এক কঠিন সংকট সৃষ্টি করেছে তারা সামাজিক নেটওয়ার্ক থেকে সংগ্রহ করা কিছু তথ্য-উৎসকে কুরআনের নৈতিক ও মূল নীতি হিসেবে প্রচার করছে।

 

ফানি উচওয়া আরও বলেছেন, ‘বর্তমান যুগে ইসলাম সম্পর্কে সঠিক গবেষণা উপেক্ষিত রয়েছে। অথচ এ ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা অন্তত ১৫০ কোটি। ইসলাম সম্পর্কে যেসব গবেষণা করা হচ্ছে তা অগভীর, দুর্বল ও গতানুগতিক এবং এসব গবেষণায় ইসলামী জীবন-যাপনের নানা দিক আর সেসবের দর্শনসহ ইসলামের রাজনৈতিক দিকগুলো স্থান পাচ্ছে না। মোটকথা ইসলাম ও ইসলামী সভ্যতা সম্পর্কে প্রকৃত গবেষণা চালানো হচ্ছে না। আর এ অবস্থায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী যুবসমাজকে ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্য এ ধর্মের মূল উৎসগুলোকে ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন।’

 

কলম্বিয়ার এই চিন্তাবিদ একই প্রসঙ্গে আরও বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই চিঠি কেবল যুবসমাজের উদ্দেশেই উচ্চারিত হয়নি। বিশ্বের নানা ধর্মের নেতা ও তাদের ধর্মীয় কেন্দ্রগুলোও এই বাণীর অন্যতম টার্গেট। কারণ, মূল উৎসগুলোকে ব্যবহার করে ইসলাম সম্পর্কে গবেষণা এইসব ক্ষেত্রেও একটি বিস্মৃত বিষয়। আমরা যদি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আহ্বানের জবাব দিতে সক্ষম হই এবং মূল উৎসগুলোকে ব্যবহার করে ইসলাম সম্পর্কে প্রকৃত গবেষণা চালাতে সক্ষম হই তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। #

 

পশ্চিমা যুবসমাজের প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দ্বিতীয় চিঠির পূর্ণ বিবরণ

 

রেডিও তেহরান/এআর/২০

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন