এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বৃহস্পতিবার, 14 জানুয়ারী 2016 11:30

'সন্ত্রাসবাদ নয়, ইসলাম-প্রেমই আমেরিকার শত্রু; এবার জয়ের পালা মুসলমানদেরই'

'সন্ত্রাসবাদ নয়, ইসলাম-প্রেমই আমেরিকার শত্রু; এবার জয়ের পালা মুসলমানদেরই'

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী গত ২৯ ডিসেম্বর (২০১৫) আন্তর্জাতিক ইসলামী ঐক্য সম্মেলনে যোগ-দেয়া বিশ্বের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, বিশেষজ্ঞ ও আলেমদের এক সমাবেশে ইসলামী ঐক্যসহ প্রাসঙ্গিক নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন। এখানে তার ওই ভাষণের স্মরণীয় কিছু অংশ তুলে ধরা হল:

 

বিশ্বনবী (সা) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের সদস্য ইমাম জাফর সাদিক (আ)’র  জন্ম-বার্ষিকী উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের বর্তমান নেতা বলেছেন, মহানবী (সা.) নানা ধরনের পাপাচার, বৈষম্য, জুলুম ও নৃশংসতা-কবলিত এবং মানবতাহীন অন্ধকার পৃথিবী তথা মৃত পৃথিবী বা সভ্যতাকে জাগিয়ে তুলেছিলেন ইসলামের মাধ্যমে। বর্তমান দুনিয়াও সেই একই ধরণের অনাচার, মানবতাহীনতা, বৈষম্য, নৃশংসতা ও পাপাচারে ভরে গেছে। তাই আমাদেরও উচিত বর্তমান এই মৃত বিশ্বকে জাগিয়ে তোলার জন্য চেষ্টা করা। বর্তমানে বস্তুবাদী শক্তিগুলোর নানা হাতিয়ার দিয়ে  মানবতা ও নৈতিকতাসহ মানবীয় মহৎ গুণগুলোকে দলিত-মথিত করা হচ্ছে, ন্যায়বিচারকে করা হচ্ছে পদদলিত, মানুষের রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে জমিন বর্বর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন শক্তিগুলোর মাধ্যমে। পরাশক্তিগুলোর হাতে লুণ্ঠিত ও শোষিত জাতির মানুষেরা অনাহারে প্রাণ হারাচ্ছে। এই হচ্ছে বর্তমান দুনিয়ার অবস্থা। এটা ইসলাম-পূর্ব যুগের সেই একই জাহিলিয়াত। 

 

 তাই আজ নতুন ইসলামী সভ্যতা গড়ে তুলতে হবে মানব জাতির জন্য। পরাশক্তিগুলো যা ভাবছে এটা তা নয়। এর অর্থ নানা দেশ দখল করা নয়, এর অর্থ জাতিগুলোর অধিকার লঙ্ঘন নয়, অন্য জাতিগুলোর ওপর নিজস্ব নীতি ও সংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়া নয়, বরং এর অর্থ হল জাতিগুলোর কাছে খোদায়ী উপহার তুলে ধরা যাতে জাতিগুলো স্বেচ্ছায় সঠিক পথটি বেছে নিতে পারে। পরাশক্তিগুলো বিশ্বের জাতিগুলোকে আজ ভুল পথে টেনে নিয়েছে। 

 

ইউরোপ মুসলমানদের বিজ্ঞান ও দর্শনকে ব্যবহার করে এক নতুন সভ্যতার ভিত্তি গড়ে তুলেছিল। এই সভ্যতা ছিল বস্তুবাদী সভ্যতা। ষোড়শ ও সপ্তদশ শতক থেকে এই নতুন সভ্যতার ভিত্তি গড়ে তোলে। তারা বস্তুবাদী হওয়ায় নানা ধরনের দায়িত্ব-জ্ঞানহীন মাধ্যম বা উপায়-উপকরণ ব্যবহার করে। তারা মানুষের ওপর উপনিবেশ চাপিয়ে দেয় এবং জাতিগুলোর ওপর কর্তৃত্ব গড়ে তোলে ও তাদের সম্পদ লুট করে। আবার অন্যদিকে নিজেদেরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করার জন্য নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিতে সুসজ্জিত করে। আর (কথিত) এই সভ্যতাকে তারা মানবজাতির ওপর কর্তৃত্বশীল করেছে। গত চার থেকে পাঁচ শতকে ইউরোপীয়রা এই কাজই করেছে।

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেছেন:  পশ্চিমারা যে সভ্যতা বিশ্বে উপস্থাপন করেছে তার রয়েছে চোখ ধাঁধানো কিছু দিক। যেমন,  উন্নত নতুন প্রযুক্তি, দ্রুত গতি এবং  মানুষের আরাম-আয়েশের কাজে ব্যবহৃত  নানা মাধ্যম বা সাজ-সরঞ্জাম উদ্ভাবন। কিন্তু এই সভ্যতা মানুষের জন্য  সুখ ও সৌভাগ্য এবং ন্যায়বিচার বয়ে আনতে পারেনি। বরং ন্যায়বিচারের কাঠামো চূর্ণবিচূর্ণ করেছে, জাতিগুলোকে বন্দী করেছে, অবজ্ঞা করেছে এবং পশ্চিমা সমাজ নিজের ভেতরেই নানা সংঘাত বা বিরোধ সৃষ্টি করেছে। তারা নৈতিক চরিত্রের দিক থেকে অধঃপতিত এবং আধ্যাত্মিক দিক থেকে অন্তঃসারশূন্য। পশ্চিমারাই এইসব বিষয় স্বীকার করছে। পাশ্চাত্যের একজন বড় রাজনীতিবিদ বা নীতি-নির্ধারক আমাকে বলেছেন: আমাদের সমাজ পচে গেছে এবং তা অনুভব করছি। তিনি ঠিকই বলেছেন। পশ্চিমা সভ্যতার বাহিরটা চাকচিক্যময় হলেও ভেতরটা মানবজাতির জন্য খুবই বিপজ্জনক। আজ পাশ্চাত্যের সভ্যতা তার ভেতরকার নানা সংঘাত ও বিরোধগুলো তুলে ধরছে। এ বিষয়টি আমেরিকায় এক ধরনের, ইউরোপে এক ধরনের এবং পশ্চিমাদের কর্তৃত্বাধীন অঞ্চলে আরেক ধরনের।

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সুরা আলে ইমরানের ১৪০ নম্বর আয়াতের আলোকে (জয় ও পরাজয়ের এই দিনগুলোকে আমি মানুষের মধ্যে পালাক্রমে আবর্তন ঘটিয়ে থাকি) আরও বলেছেন, এখন আবারও ইসলামের পালা তথা মুসলমানদের পালা এসেছে। তাদেরকে উদ্যমী উদ্যোগ নিয়ে নতুন ইসলামী সভ্যতার ভিত্তি বা অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। পশ্চিমারা যেমন সেদিন মুসলমানদের জ্ঞান আর অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করেছিল আজ একইভাবে নতুন ইসলামী সভ্যতা গড়ে তোলার জন্য আমাদেরকেও বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞানকে ব্যবহার করতে হবে এবং ব্যবহার করতে হবে বিশ্বের নানা মাধ্যম বা উপায়-উপকরণকে। কিন্তু এ সভ্যতার প্রাণ বা চেতনা হতে হবে ইসলামিক ও আধ্যাত্মিক। মুসলিম চিন্তাবিদ ও আলেমদেরকেই এ দায়িত্ব পালন করতে হবে। মুসলিম বিশ্বের রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে আমার আর কোনো আশা-ভরসা নেই। তারা এক্ষেত্রে সহায়ক হবেন বলে অতীতে মনে করা হত। কিন্তু এখন এই প্রত্যাশা এখন কেবলই মুসলিম বিশ্বের সেইসব আলেম ও প্রকৃত জ্ঞানীদের কাছ থেকে করা হচ্ছে যাদের কেবলা পাশ্চাত্য নয়। এখন তারাই এ কাজ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং তা সম্ভবও বটে। কারণ, মুসলিম বিশ্বের রয়েছে বিপুল ও প্রতিভাবান জনশক্তি, সমৃদ্ধ বহু দেশ, সুবিধাজনক ভৌগলিক অবস্থান ও বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ।  এসবের সঙ্গে যদি যুক্ত হয় স্বাধীন ও খাঁটি ইসলামের শিক্ষা তাহলে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, রাজনীতি ও সমাজের নানা ক্ষেত্রে সৃষ্টিশীল আর শৈল্পিক নানা সৃষ্টি বা অবদান উপহার দিতে পারবে তারা। 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার ভাষণে আরও বলেছেন: ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত। এটি মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি পরীক্ষার মাধ্যম। ইসলামী বিপ্লব সফল হওয়ার আগে ইরানি জাতি সব দিক থেকেই পিছিয়ে পড়েছিল। তারা হয়ে পড়েছিল বিজাতীয়দের ওপর নির্ভরশীল। জ্ঞান-বিজ্ঞানে এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হয়েছিল কোণঠাসা। আজ ইসলামী ইরানের নানা অগ্রগতির বিষয় শত্রুরাও স্বীকার করছে। ইসলামী বিপ্লব সফল হওয়ার ৩৫ বছর পর আজ বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তিতে ইরান এখন উন্নত দেশগুলোর সারিতে রয়েছে। ইসলামের বরকতেই তা সম্ভব হয়েছে। পরাশক্তিগুলোর অশুভ ছায়াতলে না থাকলে এমন সাফল্য অর্জন সম্ভব। অবশ্য এ জন্য মূল্যও দিতে হয়েছে। সব বড় কাজের জন্যই মূল্য দিতে হয়। মুসলিম উম্মাহ আন্তরিক সাধনা ও চেষ্টার মাধ্যমে নতুন ইসলামী সভ্যতার ভিত্তি গড়ে তুলতে সক্ষম। 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী আরও বলেছেন, আমরা বল প্রয়োগ করে নতুন ইসলামী সভ্যতার দিকে কাউকে আহ্বান জানাব না। আমরা কোনো দেশের ওপরই ইসলামী জাহানের কর্তৃত্ব  চাপিয়ে দেব না। আমরা মার্কিন সরকার ও ইউরোপের মত আচরণ করব না। ইউরোপীয়রা সেই আটলান্টিক অঞ্চল থেকে সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দিয়ে  ভারত উপমহাদেশে এসে ভারত ও আশপাশের কয়েকটি দেশের সম্পদ লুট করে এই দেশগুলোর সর্বনাশ করেছে। আর এভাবেই পাশ্চাত্য অগ্রসর হয়েছে। ওরা আজও সেই একই কাজ করছে ভিন্ন কিছু পন্থায়। ওরা অন্যদের সম্পদ, অর্থ ও পুঁজি ব্যবহার করে এবং অন্যদের ফসল ঘরে তুলে নিজেদের উন্নয়ন ঘটিয়ে। ওরা বাহ্যিকভাবে নিজেদের সাজিয়ে রাখলেও ভেতরে ভেতরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ক্রমেই। মুসলমানরা কোনো সাফল্য অর্জন করলে ওরা দুঃখ পায় এবং মুসলমানদের কষ্ট দেখলে ওরা খুশি হয়। কুরআনও এ কথা বলে। তাই ওদের তথা ইসলামের শত্রুদের হাসি ও রক্তচুক্ষ দেখে প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়। সঠিক পথ খুঁজে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে মুসলিম বিশ্বকে। 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেছেন:  আমেরিকাসহ ইসলামের শত্রুরা শিয়া-সুন্নি মতপার্থক্যসহ নানা অজুহাতে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চায়। এটা ওদের অন্যতম বড় হাতিয়ার। শিয়া ও সুন্নি বিষয়ের সঙ্গে মার্কিন ও ইসরাইলি নেতাদের এত মাথা-ব্যথা কেন? ব্রিটিশরাও শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব সৃষ্টিতে ওস্তাদ ছিল। সেই ওসমানীয় শাসনামলেই ব্রিটিশরা এ কাজে সিদ্ধহস্ত ছিল। মুসলিম বিশ্বের নানা অঞ্চলে তারা এ নিয়ে বিভেদ ছড়াত। কিন্তু এখন মার্কিন সরকারের এ সংক্রান্ত ষড়যন্ত্র আরও বেশি বিপজ্জনক। মুসলিম বিশ্বে অন্য কোনো মাজহাবের মোকাবেলায় মার্কিন সরকার যদি আমাদের মাজহাবের পক্ষ নিতে চায় তাহলে এতে খুশি না হয়ে অসন্তুষ্ট হওয়াই উচিত এবং ভেবে দেখতে হবে যে কি এমন দুর্বলতা আমাদের মধ্যে রয়েছে যে ওরা আমাদের পক্ষ নিতে চায়।  ওদের কাছে শিয়া ও সুন্নি কোনো বিবেচনার মূল বিষয় নয়। ওরা আসলে ইসলামের মূল নীতিরই শত্রু। ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশ তো প্রকাশ্যেই ক্রুসেডের কথা বলেছিলেন। অবশ্য ওরা মূল খ্রিস্ট ধর্ম বা খ্রিস্টানদের পক্ষেরও লোক নয়। কারণ, খ্রিস্টানরা যুগ যুগ ধরে মুসলিম বিশ্বে নিরাপদই ছিল। আসল দ্বন্দ্বটা হল, সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে ইসলামের। ওরা ইসলামেরই শত্রু। ওরা যদি সুন্নিদের বন্ধু হত তাহলে ফিলিস্তিনে ও গাজায় এভাবে গণহত্যা আর যুদ্ধ চাপিয়ে দিত না। এক সময় ওরা জাতীয়তাবাদের নামে মুসলমানদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাধাত। আর এখন দ্বন্দ্ব বাধাতে চায় মাজহাবের নামে।  তাই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্বের ফাঁদে পড়া যাবে না। এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে সব মুসলমানকে। 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ইসলামের সঙ্গে মার্কিন সরকারের শত্রুতা প্রসঙ্গে বলেছেন, একজন সাংবাদিক কোনো এক মার্কিন রাজনীতিবিদকে প্রশ্ন করেছিলেন, আমেরিকার শত্রু কে?  উত্তরে তিনি বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদ আমেরিকার শত্রু নয়, মুসলমানরাও আমেরিকার শত্রু নয়, বরং শত্রু হল ‘ইসলামের প্রতি ভালবাসা’। অর্থাৎ যতদিন মুসলমানরা ইসলামের প্রতি আগ্রহী বা উৎসাহী থাকবে না এবং তাদের এ জীবনাদর্শের ব্যাপারে উদাসীন থাকবে ততদিন তাদেরকে শত্রু ভাববে না মার্কিন সরকার। কিন্তু যখনই মুসলমানরা ইসলামপন্থী হয়ে পড়বে এবং ইসলামী আইনের ও ইসলামের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার কথা বলবে তখনই তাদের শত্রুতা শুরু হয়ে যাবে। আসলে ওই মার্কিন রাজনীতিবিদ সত্য কথাই বলেছেন, ইসলামের প্রতি অনুরাগই আমেরিকার শত্রু। তাই যখন বিশ্বের ইসলামী জাগরণ দেখা দেয় তখন দেখুন তারা কেমন হতচকিত হয়ে পড়ে! এ সময় তারা ইসলামী জাগরণকে দুর্বল করার ও এমনকি নির্মূলের চেষ্টা চালায়। কখনও কখনও তারা কোনো কোনো অঞ্চলে তা করতে সফলও হয়। অবশ্য আমি আপনাদের বলে দিচ্ছি যে, ইসলামী জাগরণ কখনও নির্মূল হবে না। মহান আল্লাহর দয়ায় ও ক্ষমতায় ইসলামী জাগরণ তার লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে সক্ষম হবে।

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেছেন: ওরা তথা মার্কিন সরকারসহ ইসলামের শত্রু ও সাম্রাজ্যবাদীরা আসলে মুসলমানদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ বাধাতে চায়। দুঃখজনকভাবে তারা কিছুটা সফলও হয়েছে। তারা মুসলিম দেশগুলোকে একের পর এক ধ্বংস করছে। তারা সিরিয়াকে, ইয়েমেনকে ও লিবিয়াকে ধ্বংস করছে- এই দেশগুলোর সব অবকাঠামোই ধ্বংস করছে। কিন্তু কেন? কেন আমরা তাদের ষড়যন্ত্রের কাছে নতজানু হব? কেন তাদের এইসব ষড়যন্ত্র আমাদের কাছে অজ্ঞাত থেকে যাবে? এক্ষেত্রে সফল হতে চাইলে আমাদেরকে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ও দূরদর্শী হতে হবে। আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী (আ) বলেছেন, অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিরা ছাড়া এই পতাকা কেউ বহন করতে পারবে না। সুরা আলে ইমরানের ১২০ নম্বর আয়াতের একাংশে বলা হয়েছে: “ যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর ও তাকওয়া অবলম্বন কর তাহলে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।”  যদি আমরা দূরদৃষ্টি ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন হয়ে অগ্রসর হই এবং ধৈর্য ধরি। আর প্রতিরোধ চালিয়ে যাই তাহলে ওদের ষড়যন্ত্রগুলো বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলবে না। আর যদি আমরাও তাদের মতই কথা বলি ও তাদের মতই কাজ করি তাহলে তার পরিণতি এমনই হবে যা মাঝে-মধ্যে কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে। 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেছেন: বাহরাইনের মুসলমানদের ওপর কেনো এমন চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে? কেনো নাইজেরিয়ায় ঐক্য ও সংস্কারবাদী-শান্তিকামী ওই মু’মিন তথা শেইখ জাকজাকির জন্য অমন বিপর্যয় সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তার আশপাশে সমবেত প্রায় এক হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে? কেন গত দুই বছরে তার ছয় সন্তানকে শহীদ করা হয়েছে? কেন গোটা বিশ্ব এই বিপর্যয়ের ব্যাপারে নীরব রয়েছে? কেনো মুসলিম বিশ্ব প্রায় এক বছর ধরে ইয়েমেনের ওপর দিন-রাত বোমা বর্ষণকে সহ্য করছে? প্রায় এক বছর ধরে ইয়েমেনের জনগণের ঘর-বাড়ি, হাসপাতাল, স্কুল ও রাস্তা-ঘাট এবং নিরপরাধ নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর বোমা বর্ষণ করা হচ্ছে? এসব কী মুসলিম বিশ্বের স্বার্থে করা হচ্ছে?  সিরিয়াতে একভাবে, ইরাকে একভাবে সহিংসতা চালানো হচ্ছে। তাদের লক্ষ্যগুলো খুবই বিপজ্জনক। তাদের নানা গবেষণা বিভাগে এসব নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তাই আমাদের উচিত জেগে ওঠা।

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী আরও বলেছেন, আমি আগেই বলেছি, যাদের কাছে প্রত্যাশা করা হচ্ছে এবং যারা  জনগণকে জাগিয়ে তোলার দায়িত্ব পালনে সক্ষম ইসলামী বিশ্বের সেইসব আলেম ও সৎ চিন্তাবিদদের উচিত তাদের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে কথা বলা। মুসলিম বিশ্বের কোনো কোনো রাজনীতিবিদের বিবেক জাগ্রত রয়েছে। বিষয়টি আমরা কাছ থেকে দেখেছি- এই রাজনীতিবিদরা জোরালো ভূমিকা রাখতে সক্ষম। আমার আরজ হল, বিশ্বনবী (সা)’র জন্মদিন স্মরণের এ অনুষ্ঠানে আমরা এ কল্যাণটুকু অর্জন করতে চাই যে, যে কাজ ইসলাম প্রথম দিনটিতে করেছিল তথা মৃত বিশ্বকে জীবিত করার কাজ তা করার জন্য উদ্যমী হব। আর এ জন্য দরকার বুদ্ধি, প্রজ্ঞা, চিন্তা-ভাবনা, অন্তর্দৃষ্টি, শত্রুকে চেনা এবং শত্রুদের ষড়যন্ত্রকে চেনা। শত্রুর ষড়যন্ত্রে যেন আমরা প্রতারিত না হই। মহান আল্লাহ যেন আমাদের সহায়তা করেন এবং আমাদেরকে সহজ-সরল পথে চলার তৌফিক দেন। আরব কবি (আহমাদ শুওকি) যথার্থই বলেছেন: দুনিয়ার ক্ষমতাশীলরা ও বলদর্পীরা যখন তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে তোমাদের বিরুদ্ধে তখন তন্দ্রামগ্ন হওয়ার ও ঘুমানোর তথা অসচেতন থাকার কোনো অধিকার নেই তোমাদের (মুসলমানদের)। (الدَّهرُ یَقظان وَ الأَحداثُ لم یَنَم‌

فَما رُقادُکُم یا أَفضَلَ الأُمَم) 

 

হে আল্লাহ! ইসলাম আমাদের যেভাবে এ দুনিয়ায় দেখতে চায় সেই সরল পথেই আমাদের অবিচল রাখ। #       

    

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন