এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
রবিবার, 20 মার্চ 2016 14:50

ফার্সি নববর্ষ উপলক্ষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিবৃতি

ফার্সি নববর্ষ উপলক্ষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিবৃতি

২০ মার্চ (রেডিও তেহরান): ইরানের নববর্ষের সূচনালগ্নে সবোর্চ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি একটি বিবৃতি দিয়েছেন। ওই বিবৃতিতে তিনি গেল বছরকে তিক্ত-মধুর,উত্থান-পতন এবং হুমকি ও সুযোগের বছর বলে উল্লেখ করেছেন। মিনা বিপর্যয়কে তিক্ত এবং বিপ্লব বার্ষিকীর মিছিল ও ২৬ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে মধুর অভিজ্ঞতা বলে মন্তব্য করেন।

 

সেইসঙ্গে পরমাণু সমঝোতার ফলে বিচিত্র উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পাশাপাশি আশারও সঞ্চার হয়েছে। সবোর্চ্চ নেতা তাঁর বিবৃতিতে সর্বপ্রকার হুমকিকে সুযোগ পরিণত করার জন্য ব্যাপক চেষ্টা প্রচেষ্টা চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

 

অর্থনীতির ওপর অগ্রাধিকার ও জরুরি ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে তিনি এক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব দূর করা এবং অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলায় এক্ষেত্রে গতিশীলতা আনা ইত্যাদিকে দেশের অর্থনৈতিক মূল বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন এইসব লক্ষ্য অর্জিত হতে পারে কেবল প্রতিরোধমূলক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। প্রতিরোধমূলক অর্থনীতির মাধ্যমেই বেকারত্ব ও অচলাবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব, সম্ভব দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরা, শত্রুদের হুমকি দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবেলা করা এবং দেশের জন্য আরও বহু সুযোগ সৃষ্টি করে সেগুলোকে কাজে লাগানো।

 

‘প্রতিরোধমূলক অর্থনীতি;পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন’ নববর্ষের এই শ্লোগানই সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে লক্ষ্যে পৌঁছার চাবিকাঠি বলে সবোর্চ্চ নেতা উল্লেখ করেন।

 

সর্বোচ্চ নেতার এইসব দৃষ্টিভঙ্গি পরমাণু সমঝোতার পর সংকট ও সম্ভাবনাগুলোর সঙ্গে প্রকৃত অর্থেই পরিচিতি ঘটাবে। বিগত দিনের পরিস্থিতি ও ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে এবং ক্ষুদ্র স্বার্থের পরিবর্তে সামগ্রিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সঠিক পথ খুঁজে পেতেও তাঁর এই বিবৃতি সাহায্য করবে। এরকম ভাববার কারণ হলো সকল আশা আকাঙ্ক্ষা সত্ত্বেও উদ্বেগকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। সচেতন থাকলে যে-কোনো বাধা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করা সম্ভব।

 

সকল প্রকার হুমকির শেকড় গেল বছরের মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির মাঝে খুঁজে পাওয়া যাবে। ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার শত্রুরা বিচিত্র ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে চেষ্টা করেছে ইরানের সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ধারনা দিতে এবং ইরানের স্বাধীনতাকে খর্ব করতে। কিন্তু পারে নি। ইরানকে কোনঠাসা করার শতচেষ্টা করেও শত্রুরা ইসলামি সরকার ব্যবস্থা কিংবা বিপ্লবের কোনো একটি মূল্যবোধের ওপরও তারা আঘাত হানতে পারে নি। মার্কিন নেতৃত্বাধীন আধিপত্যবাদীদের সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়ে ইরান তার সামগ্রিক সাফল্য অর্জন করেছে।

 

সবোর্চ্চ নেতার বক্তব্য অনুযায়ী গেল বছরের তিক্ত-মধুর সকল অভিজ্ঞতায় আশাবাদী হবার পাশাপাশি সচেতনও হতে হবে। ইরানি জাতিকে শত্রুদের হুমকি মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হবার চিন্তা চেতনা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে হবে। ভাবতে হবে শুধু ভবিষ্যত সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়ে। এরকম ভাবা ঠিক হবে না যে পরমাণু সমঝোতার ফলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বরং ভাবতে হবে কী করে হুমকিকে সুযোগ পরিণত করার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করা যায়।

 

নতুন বছর শুরু হয়েছে অবরোধ,চাপ ও হুমকি মোকাবেলা ইরানের দৃঢ় অবস্থানের মধ্য দিয়ে। ইরান সেভাবেই দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যাবার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। নওরোজে দেওয়া সবোর্চ্চ নেতার বিবৃতিতে নতুন বছরে বৃহৎ সাফল্যের সেই পথের রূপরেখা সুস্পষ্ট#

 

রেডিও তেহরান/এনএম/২০

 

 

 

মাধ্যম

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন