এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সোমবার, 03 মার্চ 2008 14:09

অর্থনৈতিক মুক্তির দিশারী ইমাম খোমেনী

পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি যখন মানুষকে দারিদ্র ও শোষণ থেকে মুক্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছে তখন ইসলামী বিপ্লবের রূপকার ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ) মানব জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামী বিধান প্রতিষ্ঠার জন্যে তার চিন্তা, লেখনী ও আন্দোলনকে নিয়োজিত করেছিলেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও তিনি ইসলামী বিধানের যুগোপযোগী ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ইসলামী নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালনার দিক-নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। আজ আমরা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইমাম খোমেনী (রঃ) অবদান ও এ বিষয়ে তার চিন্তাধারা তুলে ধরবো ।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গী তুলে ধরতে গিয়ে মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ) বলেছেন, "যে পুঁজিবাদ অত্যাচারী, বেহিসাবী এবং মজলুম জনগণকে বঞ্চিত করে, ইসলাম সে পুঁজিবাদকে সমর্থন করে না, বরং কোরআন ও সুনড়বাহ এ ধরনের ব্যবস্থার সাংঘাতিক নিন্দা করেছে। ইসলাম এ ধরনের পুঁজিবাদকে ন্যায় বিচারের বিরোধী বলে জানে। একইসাথে ইসলাম কমিউনিজম ও মার্কসবাদী লেনিনবাদী সরকার ও তার অর্থনৈতিক ব্যবস্থারও বিরোধী। কারণ কমিউনিজম ব্যক্তিমালিকানার বিরোধী এবং অভিনড়ব মালিকানার নীতিতে বিশ্বাসী। ইসলাম এ দুয়ের মাঝামাঝি বা ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা তথা সীমিত মালিকানাকে সমর্থন করে ।" উপনিবেশবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে ইমাম খোমেনী (রঃ) বলেছেন, " উপনিবেশবাদীরা মুসলিম দেশগুলোতে যে অন্যায্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু করেছে তাতে জনগণ দুটি অংশে বিভক্ত হয়েছে। এক অংশে রয়েছে জালেম এবং অন্য অংশে রয়েছে মজলুম বা নির্যাতিত শ্রেণী। এ ব্যবস্থার ফলে একদিকে কোটি কোটি মুসলমান ক্ষুধার্ত, স্বাস্থ্যসেবা ও সংস্কৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং অন্যদিকে মতা ও সম্পদের অধিকারী অল্প সংখ্যক মানুষ বিলাসিতা ও দূর্নীতিতে নিমজ্জিত। ক্ষুধার্ত ও বঞ্চিত মানুষেরা উন্নত জীবন যাপনের আশায় লুটেরা শাসকদের জুলুমের নাগপাশ থেকে মুক্তি পাবার চেষ্টা করছে, কিন্তু অল্পসংখ্যক শাসক শ্রেণী ও তাদের শাসন যন্ত্র তাদেরকে বাধা দিচ্ছে। এ অবস্থায় নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানো এবং জালেমদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় আমাদের দায়িত্ব।" ইমাম খোমেনীর দৃষ্টিতে শুধু অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করা ইসলামী অর্থ ব্যবস্থার লক্ষ্য নয়, বরং এর লক্ষ্য হলো সমাজ ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার এবং সাম্য বা সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। ইসলামী অর্থনীতি তৌহিদ ভিত্তিক। ইসলামের দৃষ্টিতে সব কিছুর মালিক হলেন আল্লাহ এবং মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডসহ সব কাজেরই লক্ষ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। ইসলামের বিধান অনুযায়ী সমাজের যিনি শাসক তার অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সমাজের সবচেয়ে নিচু পর্যায়ের ব্যক্তির চেয়ে বেশী হবেনা বরং সমান হতে হবে ।

ইমাম খোমেনী (রঃ)'র মতে ইসলামী অর্থনীতির লক্ষ্য তথা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার অর্থ হলো ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধান কমিয়ে দেয়া এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বৈষম্যগুলো দূর করে প্রত্যেক মানুষকে তার প্রাপ্য অধিকার দেয়া । তাঁর মতে, " বিশ্বনবী হযরত মোঃ (সঃ) সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার জন্যেই ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মহানবী (সঃ)'র আহলে বাইতভূক্ত পবিত্র ইমামগণও সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিচার প্রতিষ্ঠাকে তাদের প্রধান নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন । ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ছাড়া শুধু শাসন ক্ষমতা হাতে নেয়ার প্রতি তাদের বিন্দুমাত্রও আকর্ষণ ছিলনা ।"

মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ) সুদ প্রথার কঠোর বিরোধিতা করে গেছেন। পবিত্র কোরআন সুদ গ্রহণকে আল্লাহর সাথে যুদ্ধের শামিল বলে উল্লেখ করেছে। এরই আলোকে তিনি বলেছেন, " সুদ কল্যাণকর অর্থনৈতিক তৎপরতায় বাধা সৃষ্টি করে এবং সুদ অর্থনৈতিক তৎপরতাকেই কমিয়ে দেয় । সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে চড়া সুদে ঋণ দিয়ে তাদেরকে এমনভাবে শোষণ করছে যে তারা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ দিতে হিমশিম খাচ্ছে। বর্তমানে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর কাছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর দেনার পরিমাণ প্রায় দশ হাজার বিলিয়ন ডলার। সুদের অন্য একটি কুফল হলো এর ফলে ধনীরা আরো ধনী এবং গরীবরা আরো গরীব হয়। সুদ গ্রহীতা তেমন কোনো পরিশ্রম না করেই নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভ গ্যারান্টি সহকারে পেয়ে থাকে, কিন্তু যে ব্যক্তি ঋণ গ্রহণ করলো সে যে তার ব্যবসা বা কারবারে লাভ করতে পারবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই, এমনকি সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে হয়তো তাকে আসল পুঁজিরও কিছু অংশ হারাতে হয়। সুদ মানব সমাজে কল্যাণকামীতার চেতনা কমিয়ে দেয় এবং সুদখোর ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দিন দিন বেশী স্বার্থপর বা মুনাফাকামী হতে থাকে।" ইমাম খোমেনী (রঃ) ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের ব্যাংক ব্যবস্থাকেও ইসলামী আইন অনুযায়ী ঢেলে সাজান। তিনি বলেন, " মানুষকে শোষণ না করা এবং সুদ নিয়ে মানুষকে নিঃস্ব না করা ও ইসলামী নীতি অনুযায়ী ইরানের ব্যাংক পরিচালনা করা উচিত।"

মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ) বন্ধু দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও পণ্য বিনিময়কে গুরুত্ব দিতেন। তবে যে বিনিময় এক দেশের ওপর অন্য দেশের কর্তৃত্ব বা আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে, তিনি তার বিরোধী ছিলেন । গত কয়েক শতাব্দীতে ইউরোপে শিল্প বিপ্লব ঘটেছিল গরীব দেশগুলো থেকে কাঁচামাল ও খনিজ সম্পদ সস্তায় বা বিনামূল্যে সংগ্রহের মাধ্যমে। শ্রম বিভাজন ও সস্তায় শ্রমিকদের ব্যবহার করা ছিল তাদের শোষনের অন্যতম পদ্ধতি। এভাবে তাদের শিল্প বিপ্লবের ফলে বাণিজ্য ঘাটতির শিকার হয়ে তিগ্রস্থ হয়েছে তৃতীয় বিশ্ব। একইসাথে উপনিবেশবাদীরা তৃতীয় বিশ্বে তাদের পন্য রপ্তানীর পাশাপাশি তাদের সাংস্কৃতিক চিন্তাধারাও প্রচার করে তিগ্রস্থ করেছে তৃতীয় বিশ্বের। তাই ইমাম খোমেনী (রঃ) শুধু ভারসাম্যপূর্ণ পণ্য ও বানিজ্য বিনিময়ের কথা বলতেন যাতে কোনো পই ক্ষক্ষত্রুটি না হয়। মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ) অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কৃষি খাতকে অন্য সব খাতের চেয়ে এমনকি শিল্প খাতের চেয়েও প্রাধান্য দিয়েছেন। কারণ, মানুষের প্রাথমিক চাহিদাগুলো পূরনের জন্যে ইসলাম কৃষি খাতকে খুবই গুরুত্ব দিয়েছে। আর এ জন্যেই ইমাম খোমেনী আগে কৃষি ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে এবং পরে শিল্প খাতে জোর দেয়ার আহবান জানিয়েছিলেন। শিল্পখাতের তৎপরতা যেন কৃষিখাতের তৎপরতায় বিন্দুমাত্র বাধা সৃষ্টি না করে সে জন্যে তিনি সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। তিনি ইরানী জনগণের জন্যে খাদ্য উৎপাদনে নিয়োজিত কৃষকদের তৎপরতাকে জিহাদ বলে উৎসাহ দিয়েছেন।

মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ ) জানতেন, সাম্রাজ্যবাদীরা বিশ্বে খাদ্য ও কৃষি পণ্যকেও তাদের আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাই তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে তিনি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবার পরামর্শ দিয়ে গেছেন। তিনি এ ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। শাহের শাসনামলে ইরান পাশ্চাত্য থেকে চড়া দামে গমসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য কিনতো। সে সময় তেল রপ্তানী থেকে অর্জিত আয়ের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগই ব্যয় করা হতো পাশ্চাত্য থেকে খাদ্য আমদানীর ক্ষেত্রে। কিন্তু এখন ইরান গম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ন হয়েছে এবং অন্যান্য অনেক খাদ্যে স্বনির্ভরতার পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইমাম খোমেনী (রঃ) বলতেন, "কোনো জাতি কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলে অন্যান্য ক্ষেত্রেও সে জাতির স্বাধীনতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথ প্রশস্ত হয়।" তিনি আরো বলেছেন, "ইরানে চাষাবাদের সুযোগ সুবিধাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হলে আমরা ভবিষ্যতে খাদ্য রপ্তানীও করতে পারবো। ইরানে কৃষি খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্যে গ্রামাঞ্চলে যথেষ্ট রাস্তা ও বাঁধ নির্মাণের কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হয়েছে।"

ইমাম খোমেনী (রঃ) শিল্প খাতকেও গুরুত্ব দিতেন । তবে তিনি এমন সব মৌলিক শিল্পের বিকাশ ঘটাতে বলতেন যা প্রথমতঃ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সত্যিকার অর্থে সহায়তা করবে ও দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে নিয়ে যাবে; দ্বিতীয়তঃ যন্ত্রাংশের জন্যে বা পরিপূরক পন্যের জন্যে শিল্পন্নোত দেশগুলোর ওপর নির্ভর করতে না হয়, বা নির্ভর করতে হলেও খুব সামান্য মাত্রায় নির্ভর করতে হয় এবং তৃতীয়তঃ ঐসব শিল্প বিষয়ে যেন দেশের ভেতরেই বিশেষজ্ঞ গড়ে তোলা যায়। আসলে ইমাম খোমেনী তাঁর এ নীতির মাধ্যমে আধিপত্যকামী দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চাহিদা পূরণের সস্তা হাতিয়ারে পরিণত না হতে এবং তাদের বৈষম্যমূলক আন্তর্জাতিক শ্রম বিভাজন নীতি ও তাদের পন্যের মাধ্যমে সংক্রমিত সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার না হতে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। ইমাম এটা ভালো করেই জানতেন যে পশ্চিমা দেশগুলো উন্নয়নশীল বা গরীব দেশগুলোকে তাদের শিল্প পণ্য বা পণ্যের যন্ত্রাংশ দিলেও তারা কোনো উন্নত প্রযুক্তি বা মূল প্রযুক্তি দেয়না, ফলে গরীব দেশগুলোকে ঐসব যন্ত্রাংশ মেরামত বা নতুন যন্ত্রাংশ কেনার জন্যে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। ইমাম খোমেনী (রঃ) চাইতেন - সব ধরনের যন্ত্র নিজেরাই তৈরি করবো- তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো যেন এ আত্মবিশ্বাস ও কঠিন প্রতিজ্ঞাকেই তাদের শিল্প নীতিতে পরিণত করে। বিদেশের শিল্প পণ্য আমদানীর ফলে দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্প ক্ষত্রুটি হয় বলে তিনি মনে করতেন। অবহেলিত ও বঞ্চিত এলাকায় শিল্প কারখানা স্থাপন করা ছিল ইমাম খোমেনী (রঃ)'র শিল্প সংক্রান্ত আরো একটি দূরদর্শী নীতি।

এভাবে দেখা যায়,ইমাম খোমেনীর অর্থনৈতিক দিক নির্দেশনার ফলে পশ্চিমা দেশগুলোর অসহযোগিতা, বিশেষ করে আমেরিকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান কৃষিক্ষেত্রে অনেকাংশে স্বনির্ভরতা অর্জনের পাশাপাশি শিল্প ক্ষেত্রেও ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। ইস্পাত, তামা, তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিকেল শিল্পসহ ইরানের বড় বড় শিল্প কারখানাগুলো এখন ইরানী কর্মী ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে এবং এসব শিল্পে ইরান প্রায় পুরোপুরি স্বনির্ভরতা অর্জন করা ছাড়াও গুণগত এবং পরিমাণগত ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে। ইরান এখন যাত্রীবাহী বিমান, মটর গাড়ী, বাস, ট্রাক, ট্রাক্টর, রেল ওয়াগন ও বগি এবং রেডিও, টেলিভিশন, রেফ্রিজেটরসহ বিভিন্ন ধরনের অনেক ইলেকট্রনিক সামগ্রী উৎপাদন ও রপ্তানী করছে। সামরিক শিল্পেও ইরান স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে রয়েছে । ইরান কামান, ট্যাংক ক্ষেপনাস্ত্র, এবং এমনকি সাবমেরিনও নির্মাণ করছে । তাই এটা বলা, যায় ইমাম খোমেনী (রঃ) অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ইরান ও বিশ্বের বঞ্চিত জাতিগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন এবং এসব দিক থেকে তিনি তৃতীয় বিশ্ব ও ইসলামী ইরানের মুক্তিকামী জনগণের জন্যে আদর্শ হয়ে থাকবেন । #

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন