এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
মঙ্গলবার, 11 মার্চ 2008 16:50

মুসলিম বিশ্বের যোগ্য ইমাম

আলজেরিয়ার পথে পথে আজ তোমার জিন্দাবাদ
মালয়েশিয়ার বন মর্মরে আজ তোমার জিন্দাবাদ
বুখারার প্রতি ইটে ইটে আজ তোমার জিন্দাবাদ
কাবুলের প্রাণ সারারাত জাগে আজ তোমার জিন্দাবাদ
বসনিয়ার সব ব্যথিত শিশুরা তোমার জন্যে কাঁদে
ইমাম তোমার আলখেল্লায় আবে হায়াতের ছায়া
দুচোখে তোমার মুহাম্মদের প্রেম
ইনসানিয়াত তোমার গর্বে পৃথিবীর পথে
ফেরি করে আজ নতুন শরাব স্বপ্নের কলরব
সাম্য শান্তি মৈত্রীর বরাভয়
ইমাম তোমার আলখেল্লায় আবে হায়াতের ছায়া
ইমাম তোমার কন্ঠে আমার মুহাম্মদের নাম

মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ) ছিলেন পবিত্র ইসলাম ধর্মের যুগোপোযোগী ব্যাখ্যা দেয়ার ক্ষেত্রে অসাধারণ মতা সম্পন্ন ব্যাক্তিত্ব । পবিত্র কোরআন ও হাদীস মুসলমানদের জন্যে ব্যক্তিগত ইবাদত বন্দেগীর চেয়ে সমাজনীতি তথা রাষ্ট্র ও রাজনীতিকে অনেক বেশী গুরুত্ব দিয়েছে -এ মহাসত্যকে ইমাম খোমেনী তাঁর অনেক ভাষণ বা লেখনীতে বিভিন্ন প্রমাণ ও উদাহরণ দিয়ে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছিলেন । ইসলামের যে বিষয়গুলোকে বিভ্রান্তির বেড়াজালে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে সে বিষয়গুলোকে তিনি পুনরায় স্পষ্ট করে তুলে ধরে মুসলিম উম্মাহর একজন যোগ্য অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন । হজ্জ্ব ও জুমার নামাজ যে রাজনৈতিক ও সামাজিক ইবাদত -এটাও ইমাম খোমেনী তুলে ধরেছেন । মহানবী (সঃ) আল্লাহর নির্দেশে মুসলমানদেরকে হজ্জ্বের সময় কাফের ও মুশরিকদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দিতে বলেছিলেন । অথচ সাম্রাজ্যবাদীদের স্থানীয় এজেন্টদের কর্তৃত্বের কারণে এ ঘোষণা দীর্ঘকাল ধরে উপেতি হয়েছে। হজ্বের সময় আজকের যুগের কাফের মুশরিক তথা আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইলসহ ইসলামের অন্যান্য শত্রুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ না করা হলে মহানবী (সঃ) প্রবর্তিত সেই রাজনৈতিক চেতনার হজ্জ্ব আদায় হবেনা বলে ইমাম খোমেনী মনে করতেন । ইমাম খোমেনী (রঃ) হজ্জ্বকে প্রাণহীন আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমিত করার বিরুদ্ধে কথা বলতেন । তিনি চাইতেন হজ্জ্ব যেন মুসলমানদের সমস্ত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্যে তাদের পারস্পরিক মত বিনিময় ও নীতি নির্ধারণের এবং ঐক্যের মহাসম্মেলনে পরিণত হয় ।
সাম্প্রতিক হজ্জ্বের সময় অনেক মুসলমান আমেরিকা, ইসরাইল ও বৃটেনের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়েছেন এবং মিনায় তিন শয়তানের ওপর পাথর নিক্ষেপের সময় অনেক হাজী আমেরিকা, ইসরাইল ও বৃটেনকে শয়তান হিসেবে অভিহিত করে পাথর বা কঙ্কর নিক্ষেপ করেছেন । এ ধরনের ঘটনাকে ইমাম খোমেনীর দেখানো ইসলামী রাজনৈতিক চেতনারই প্রভাব বলা যায় । মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ) ইসলামী বিপ-বের পর প্রচার মাধ্যম, চলচ্চিত্র ও রেডিও টেলিভিশনের মতো গুরুত্বপর্ণ গণমাধ্যমগুলোকে ইসলাম ও শিক্ষা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইসলামের যুগোপযোগী চাহিদা পূরণের আরেকটি দুরদর্শী পদপে বাস্তবায়ন করেছেন । অথচ মুসলিম বিশ্বের অনেক আলেম অজ্ঞতা বা অদূরদর্শীতার কারণে এসব মাধ্যমকেই না জায়েজ বা হারাম বলে মনে করতেন বা এখনও সে ভুল ধারণা পোষণ করছেন । ইমাম খোমেনী (রঃ) বলেছেন, " আমরা সিনেমা, রেডিও ও টেলিভিশনের বিরোধী নই । আমাদের বিরোধ দূর্নীতির সাথে । সিনেমা একটি আধুনিক আবিষ্কার যা জনগণকে শিতি করে গড়ে তোলার কাজে ব্যবহার করা উচিত । আজ আমরা দেখছি ইরানের চলচ্চিত্রগুলো কোনো ধরনের অশ্লীলতা বা অনৈতিক উপাদান ছাড়াই বিশ্বের চলচ্চিত্র অঙ্গনে পুরস্কার অর্জন করছে " ।
ইমাম খোমেনী প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সব ধরনের অপসংস্কৃতিকেই ঘৃণা করতেন এবং সেসব থেকে মুসলমানদের দূরে থাকতে বলতেন । মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ) সংকীর্ণ আঞ্চলিকতাবাদ বা পশ্চিমা জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতেন । তাঁর মতে, সাম্রাজ্যবাদীরা মুসলমানদের চিন্তাজগতে জাতীয়তাবাদের বীজ ঢুকিয়ে দিয়ে মুসলিম জাতিগুলোকে পরষ্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে । মরহুম ইমাম এ প্রসঙ্গে বলেছেন, " ইসলাম সমগ্র মানব জাতির বিভিন্ন অংশকে চিরুনীর দাঁতের মতো ঐক্যবব্ধ করতে চেয়েছে যাতে কেউ কারো ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে না পারে । মুসলমানদের অনৈক্য ও বিভক্তি পরাশক্তিগুলো মনে প্রাণে কামনা করে । তারা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় তুর্কি সাম্রাজ্যকে প্রায় ১৫ ভাগে বিভক্ত করে এবং সেখানে বাছাই কর পুতুল বা ক্রীড়নকদের মতায় বসিয়ে দেয় "। মুসলিম সরকারগুলো যদি আরব জাতীয়তাবাদ, ইরানী জাতীয়তাবাদ, ও তুর্কী জাতীয়তাবাদের মতো বিভিন্ন জাতীয়তাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ইসলামের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তাহলেই মুসলিম বিশ্বের সমস্যার সমাধান হবে বলে ইমাম খোমেনী মন্তব্য করেছিলেন । তথাকথিত ধর্মনিরপেতাবাদী মুসলিম সরকারগুলোর বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে ইমাম খোমেনী (রঃ) বলেছিলেন, " এইসব শাসকগোষ্ঠীর সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই । যদি তারা কালেভদ্রে কখনো ইসলামের নাম মুখে নেয় , তাহলে তা জনগণকে ধোঁকা দেয়ার জন্যেই নেয় "। ইরানে ইমাম খোমেনী (রঃ)'র নেতৃত্বে সংঘটিত ইসলামী বিপ্লবের প্রভাব যাতে মুসলিম দেশগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্যে সাম্রাজ্যবাদীরা ইরানী বিপ্লবকে শিয়া বিপ্লব বলে প্রচারণা চালায় এবং শিয়া ও সুন্নীদের মধ্যে বিভেদ উসকে দেয়ার চেষ্টা করে । ইমাম খোমেনী এ প্রসঙ্গে বলেছেন, " জাতীয়তাবাদের চেয়েও বিপজ্জনক ও দুঃখজনক হচ্ছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সাথে শিয়াদের অনৈক্য সৃষ্টি " । তিনি বলেন, " যারা শিয়া ও সুন্নীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তারা আসলে শিয়াও নয়, সুন্নীও নয়, তারা সাম্রাজ্যবাদের দালাল এবং তারা বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে মুসলমানদেরকে আমাদের কাছ থেকে সরিয়ে নিতে চায় ।" সাম্রাজ্যবাদীদের এ চক্রান্তের জবাবে ইমাম খোমেনী (রঃ) বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ)'র জন্মবার্ষিকী উপলে ১২ ই রবিউল আউয়াল থেকে ১৭ ই রবিউল আউয়ালকে ইসলামী ঐক্য সপ্তাহ হিসেবে ঘোষণা করে মুসলমানদের মধ্যে মাজহাবী অনৈক্য দূর করার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং প্রতিবছর ইরানে এ ঐক্য সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে । আর এ জন্যেই ইমাম খোমেনী (রঃ)'র সূচিত ইসলামী বিপ্লবের প্রকৃতি সম্পর্কে একজন কবি বলেছেন,

এ বিপ্লব বলে গেলো শিয়া নয়, সুন্নীও নয়
নির্যাতিত আজ মুসলমান
এবার দাঁড়াতে হবে শীশাঢালা প্রাচীর সদৃশ
একতার বিকল্প নেই
এবং জানিয়ে দিলো ঐক্যবদ্ধ জনতা বিজয়ী হবেই ।

মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ) ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদী ইসরাইলের জবর দখলের অবসান ঘটানো ও বিশেষ করে মুসলমানদের প্রথম কেবলা আল আকসা মসজিদকে ইহুদিবাদী দখলদারদের নাগপাশ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে বিশ্বের মুসলমানদের সচেতন এবং ঐক্যবদ্ধ করার জন্যে পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে বিশ্ব কুদস দিবস বলে ঘোষণা দিয়েছেন । এর মাধ্যমে ইমাম খোমেনী মুসলিম উম্মাহকে এটাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক অঙ্গণে মুসলমানদের প্রধান সমস্যা হলো ফিলিস্তিন সংকট । ইমাম খোমেনী (রঃ) বলতেন , " ইসরাইল মুসলিম বিশ্বের মধ্যে একটি বিষাক্ত ক্যান্সারের সমতূলক্ষ্য, তাই এ বিষাক্ত ক্যান্সারকে সমূলে উৎপাটন করতে হবে।" তিনি আরো বলেছেন , মুসলমান বা আরবরা যদি এক বালতি করে পানি ঢালতো তাহলে ইসরাইল ধ্বংস হয়ে যেত " । ইসরাইলের সাথে আলোচনায় বসে আরব বা ফিলিস্তিনীরা যে শান্তি অর্জন করতে পারবেনা সে বিষয়েও ইমাম খোমেনী মুসলিম বিশ্বকে সাবধান করে দিয়েছিলেন । আজ এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, কথিত শান্তি আলোচনাগুলোর নামে ইসরাইল গত ২০ বছরে ফিলিস্তিনীদের শুধু ধোঁকাই দিয়েছে, অন্যদিকে লেবাননের সংগ্রামী মুসলমানেরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ করে ইসরাইলকে সেখান থেকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়েছে । লেবাননের হিজবুল্লাহ আন্দোলনকে মূলতঃ ইমাম খোমেনীর দিক নির্দেশনার ফসল বলা যায় । আর এ জন্যেই ইসরাইলের বিরুদ্ধে সংগ্রামে বিজয়ী লেবাননের হিযবুল্লাহ নেতা শেখ নাসরুল্লাহ বলেছেন , ইসরাইলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধে বিজয়ের জন্যে হিযবুল্লাহ ইমাম খোমেনী (রঃ)'র কাছে ঋণী ।
ইরানের ইসলামী রাষ্ট্র যাতে স্থায়িত্ব ও অগ্রগতি অর্জন করতে না পারে সে জন্যে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো ইসলামী বিপ্লবের পর এক বছর না যেতেই প্রতিবেশী ইরাকের বাথ সরকারকে দিয়ে ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয় । সাম্রাজ্যবাদীরা ভেবেছিল ইরানে বিপ্লব হওয়ায় দেশটির সেনাবাহিনী অসংগঠিত অবস্থায় আছে এবং এ অবস্থায় ইরানকে দখল করে নেয়া বা অন্ততঃ ইরানের কয়েকটি প্রদেশ দখল করা সাদ্দাম সরকারের জন্যে খুবই সহজ ব্যাপার হবে । কিন্তু মরহুম ইমাম খোমেনীর নির্দেশে ইরানের অসংগঠিত সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবী গণবাহিনী ইরাকী আগ্রাসনের পাল্টা জবাব দেয় এবং ইরাকের সেনাবাহিনীর দখলে থাকা সমস্ত ইরানী ভূখন্ড পুনরুদ্ধার করে । এমনকি ইরানের মুজাহিদরা ইরাকের অভ্যন্তরে হামলা চালিয়ে ফাও দ্বীপসহ বসরার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয় । এ যুদ্ধের প্রথম থেকেই রাশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকা এবং অধিকাংশ আরব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরাকের সাদ্দাম সরকারকে নিষিদ্ধ অস্ত্র ও অর্থের যোগান দেয়াসহ সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে আসছিল। কিন্তু যখন ইরাক পরাজয়ের সম্মুখীন হয় তখন এইসব দেশই যুদ্ধ বন্ধ করার জন্যে ইরানের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করতে থাকে । এ সময় ইমাম খোমেনী (রঃ) আগ্রাসন শুরু করার জন্যে জাতিসংঘের মাধ্যমে ইরাককে নিন্দা করা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায় না করা পর্যন্ত ইরানের প্রতিরোধ যুদ্ধ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন । শেষ পর্যন্ত ইরাক ও জাতিসংঘ ইমাম খোমেনী (রঃ)'র এ দাবী মেনে নিলে ইরান যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব মেনে নেয় । এ ঘটনার মাধ্যমে ইমাম বিশ্ববাসীকে এটা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বৈধ এবং আগ্রাসী শক্তিকে সমুচিত শাস্তি দেয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করা উচিত যাতে ভবিষ্যতে কোনো জালেম শক্তি আগ্রাসন চালানোর সাহস না পায়। ইমাম খোমেনী (রঃ) বলতেন - আগ্রাসী শক্তি কখনো দূর্বলের অধিকার স্বীকার করেনা, তাই দূর্বল বা মজলুমকেই নিজ অধিকার আদায়ের জন্যে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে । ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইমাম খোমেনী ১৯৮৯ সালের চৌঠা জানুয়ারী সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন । গর্বাচেভের কাছে ইমামের চিঠি পাঠানোর ঘটনা বিশ্বের পরাক্রমশালী শাসকদের কাছে বিশ্বনবী (সঃ)'র ইসলামের আহ্বান সম্বলিত চিঠি পাঠানোর স্মৃতি জাগিয়ে দেয় ।
গর্বাচেভের কাছে লেখা চিঠিতে ইমাম এ ভবিষ্যদ্বানী করেছিলেন যে, ‘‘এখন থেকে কমিউনিজমকে বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসের যাদুঘরগুলোতে খুঁজতে হবে । কারণ, মানুষের সত্যিকার প্রয়োজনের ব্যাপারে কোনো সদুত্তর মার্কসবাদে নেই । কারণ এটি একটি বস্তুবাদী মতবাদ । অর্থনৈতিক সমস্যা বা স্বাধীনতাহীনতা আপনাদের প্রধান সমস্যা নয় । প্রধান সমস্যা হলো সত্যিকারের খোদা বিশ্বাসের অনুপস্থিতি যা পাশ্চাত্যকেও অশ্লীলতা ও সামাজিক অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বা ভবিষ্যতে সে পথে ঠেলে দিবে । জনাব গর্বাচেভ! ইসলামের ওপর গভীরভাবে গবেষণা করার জন্যে আমি আপনাকে আহবান জানাচ্ছি , এটা এ জন্যে নয় যে ইসলাম ও মুসলমানদের আপনাকে প্রয়োজন, বরং এজন্যে যে, ইসলামের মহান ও চিরন্তন মূলক্ষ্যবোধ সকল জাতির সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও মুক্তির উপায় হতে পারে এবং যেটা মানব জাতির মৌলিক সমস্যাগুলোর গিট খুলে দিতে পারে ।"
ইমাম খোমেনী (রঃ) তাঁর দূরদর্শীতার মাধ্যমে বুঝতে পেরেছিলেন যে, বিশ্বে কমিউনিজম নামক কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকবেনা এবং গর্বাচেভের কাছে লেখা তাঁর এ ভবিষ্যদ্বানী কয়েক বছরের মধ্যেই সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে । ভেঙ্গে পড়া সোভিয়েত ইউনিয়ন বা বর্তমান রাশিয়াসহ সাবেক সোভিয়েত ব্লকভূক্ত দেশগুলোর নতুন নেতৃবৃন্দ যে আমেরিকার প্রভাব বলয়ে বাঁধা পড়তে পারেন ইমাম খোমেনী সে আশঙ্কাও করেছিলেন । আর এ জন্যেই তিনি গর্বাচেভকে সতর্ক করে দিয়ে লিখেছিলেন, " মার্কসবাদী কুহেলিকার প্রাচীর ভাঙ্গতে গিয়ে পাশ্চাত্য ও বড় শয়তানের তথা আমেরিকার জিন্দানখানায় ধরা দিবেন না "। ইমাম খোমেনীর এসব বাণী থেকে বোঝা যায় বিশ্ব রাজনীতি সম্পর্কে তিনি কতোটা অভিজ্ঞ এবং দূরদর্শী ছিলেন ।
ইমাম খোমেনী (রঃ) গর্বাচেভের কাছে লেখা চিঠিতে ইবনে সিনা, ফারাবী , সোহরাওয়ার্দী ও মোল্লা সাদরার মত দার্শনিকদের যুক্তিকে সংক্ষেপে তুলে ধরে এটা দেখিয়েছেন যে, ইসলাম মানুষের বিবেক ও প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ধর্ম এবং সত্য ও যুক্তি শুধু ইন্দ্রিয়লব্ধ বিষয় বা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার বিষয় নয় । আসলে ইমাম খোমেনী (রঃ) একজন শ্রেষ্ঠ ফকীহ বা ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ হবার পাশাপাশি দর্শন শাস্ত্রেও সুপন্ডিত ছিলেন ।
মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ) জীবনের এসব দিক ও অবদানগুলোর আলোকে বলা যায়- তিনি শুধু ইরানী জাতির জন্যেই পথ নির্দেশক বা আন্তরিক অভিভাবক ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন গোটা মুসলিম বিশ্বের জন্যে একজন আন্তরিক অভিভাবক ও পথ-নির্দেশক এবং রাসূল (সঃ)র একজন যোগ্য উত্তরসূরী । তাই মুসলিম সংস্কারক ও আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে ইতিহাসে তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে । #

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন