এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
মঙ্গলবার, 25 আগস্ট 2015 13:53

চীনের বিস্ময়কর উত্থান: বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত?

আনোয়ারুল হক আনোয়ার : অবিশ্বাস্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে চীন। শিল্পায়ন, শিক্ষা, সাংস্কৃতি, চিকিৎসা, বিজ্ঞান, সামরিক, অর্থনৈতিক, পর্যটন, যোগাযোগ, মহাকাশ গবেষণা এমনকি বিভিন্ন দেশের সাথে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সেতুবন্ধন প্রতিষ্ঠা করছে উদীয়মান দেশটি। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি পরিবারে চীনের তৈরি পণ্য-সামগ্রী শোভা পাচ্ছে। এক সময়ের কমিউনিজম বলয় থেকে বেরিয়ে দেশটির শক্তিশালী নেতা দেং শিয়াও পিং যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল আজ তার সুফল পাচ্ছে প্রতিটি চীনা নাগরিক। ১৯৭৮ সালের পূর্বে যেখানে চীনের মাথাপিচু আয় ছিল মাত্র ১১’শ ডলার বর্তমানে মাথাপিচু আয় দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার মার্কিন ডলার। আগামী এক দশকে মাথাপিচু আয় ১৫ হাজার ডলার দাঁড়ালে অবাক হবার কিছু থাকবেনা। অর্থাৎ চীন বিশ্বমণ্ডলে টর্ণেডোর গতিতে অগ্রসর হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই, সর্বক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বে নেতৃত্ব প্রদান।

 

চীনের আয়তন ও অবস্থান : ১৯৪৯ সালে গনপ্রজাতন্ত্রী চীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। চীনের আয়তন ৩৭ লাখ ৪ হাজার ৪২৭ বর্গমাইল। অর্থাৎ আমেরিকার আয়তনের সমান। জনসংখ্যা ১৩৫ কোটি। দেশটির উত্তরে মঙ্গোলিয়া, উত্তর-পূর্বে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া, পূর্বে চীন সাগর, দক্ষিণে ভিয়েতনাম, লাওস, মিয়ানমার, ভারত, ভূটান, নেপাল, দক্ষিণ -পশ্চিমে পাকিস্তান, পশ্চিমে আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরজিগিস্তান ও কাজাকিস্তান। চীনের পূর্বে পীত সাগরের পাশে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। তাই চীনারা তাদের দেশকে ‘চুংকও’ অর্থাৎ মধ্যদেশ হিসেবে ডাকে। চীনের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে, চীনের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভূ-ভাগের অখণ্ডতা রক্ষা করা, আধিপত্যের বিরোধিতা করা, বিশ্বশান্তি রক্ষা করা, দেশ যত ছোট বা বড় হোক, শক্তিশালী হোক আর দুর্বল হোক সবাই আন্তর্জাতিক সমাজের একই মর্যাদাপ্রাপ্ত। ১৯৫০ সালে সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে রাষ্ট্রায়ত্ব করা হয়। সে সময় চীন মূলতঃ সর্বক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকে। এরপর চীনের লৌহ মানব দেং শিয়াও পিং চীনকে অথনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালে মুক্ত সংস্কার অর্থনীতি গ্রহণ করেন। ১৯৯৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে হংকং এর নিয়ন্ত্রণ লাভ করে। ১৯৮০ দশকের চীনে ব্যাপক উন্নয়ন ও পরিবর্ধন শুরু হয়। বিমান বন্দর, সড়ক, রেলপথ, নৌ-বন্দর নির্মাণ বৃদ্ধি পায়। ১৯৯০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত গড়ে ১০% অর্থনৈতিক প্রবৃত্তি অর্জন সম্ভব হয়।

 

চীনের শিল্প বিপ্লব : শিল্পায়ন ব্যতীত দেশের উন্নতি সম্ভব নয়। চীনের লৌহ মানব দেং শিয়াও পিং এ বিষয়টি উপলব্ধি করে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। দেশকে শিল্পায়নে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষে আশির দশক থেকে দ্রæত অগ্রগতি লাভ করে চীন। দেশটিতে অনেকগুলো ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ রয়েছে। এগুলোতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পণ্য সামগ্রী উৎপাদন করা হয়। বিদেশে রফতানির পূর্বে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী বিশেষভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। জানা গেছে, প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী জাহাজ চারটি মহাদেশে চীনা পণ্য পারাপারে নিয়োজিত রয়েছে। ক্রেতা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে  উৎপাদিত পণ্য এখন আন্তর্জাতিক বাজার দখল করে নিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপের কোনো দেশ একটি পণ্য বাজারজাত করার কয়েক দিনের মধ্যে চীনারা উক্ত পণ্যটি আরো কম মূল্যে প্রস্তুত ও বাজারজাত করছে। ফলে অধিক সস্তায় ক্রেতারা চীনা পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। আর এভাবে চীনা পণ্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছে যে, কোনো শত্রু দেশও চীনা পণ্যের আগমন ঠেকাতে পারছে না। দ্রুত শিল্পায়নের মাধ্যমে চীন অর্থনীতিতে শীর্ষে অবস্থান করছে। চীনের শিল্পোন্নতি ও অথনৈতিক অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্বের বেশ কয়েকটি শীর্ষ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান গত এক দশকে দেশটিতে হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এক কথায় ১৩৫ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশটির বিশাল বাজারে প্রবেশের লক্ষ্যে বিশ্বের নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো রীতিমত প্রতিযোগিতায় নেমেছে। একসময় পণ্য সামগ্রী রফতানীর শীর্ষে ছিল জার্মানি। ২য় ও তয় যথাক্রমে জাপান ও আমেরিকা। কিন্তু ২০১৪ সালে জার্মানিকে পেছনে ফেলে চীন রফতানীর শীর্ষ পদটি দখল করে। মানুষের প্রয়োজনের সবগুলো পণ্য উৎপাদন করছে চীন।

 

চীনের প্রতিরক্ষা শিল্প : শিল্পে ব্যাপক অগ্রগতির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পেও চীন প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন চমক প্রদর্শন করে চলেছে। এক সময় আমেরিকার অহংকার এফ-১৬ যুদ্ধ বিমান ছিল শত্রু পক্ষের জন্য চরম আতঙ্কের বিষয়। কিন্তু চীন আমেরিকার এ-১৬, বি স্টিলথ বোমারু বিমান, গোয়েন্দা বিমান কিংবা মহাশূন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পেছনে ফেলে বিশ্বকে তাক লাগিয়েছে। আমেরিকা উপগ্রহ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম অর্জন করে দশ বছর পূর্বে। অপরদিকে ২০১৩ সালে চীনের একটি উপগ্রহ অকেজো হওয়ায় এটি ভূ-পৃষ্ঠে আঘাত হানার আশংকা ছিল। কিন্তু চীন তার নৌ-বাহিনীর জাহাজ থেকে ১৬০ কিলোমিটার উর্ধ্বে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে উপগ্রহটি ধ্বংস করে বিশ্বকে অবাক করে দেয়। চলতি বছর আমেরিকা ১১’শ কোটি ডলার ব্যয়ে বিশাল আয়তনের বিমানবাহী রণতরী উদ্বোধন করে। এর মাত্র দেড় সপ্তাহ পর চীন ঘোষণা করে যে, তাদের কাছে এমন সব অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে-যেগুলো দিয়ে আমেরিকার সকল রণতরী এমনকি ডুবোজাহাজও সনাক্ত করে নিখুঁতভাবে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। বিষয়টি নিয়ে আমেরিকানদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। সর্বশেষ একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, মহাকাশে আমেরিকার আধিপত্য ঠেকাতে চীন অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নির্মাণ করেছে এমনকি মহাকাশে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব যেকোনো সময় খর্ব করে দিতে পারে চীনা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

 

দেড় দশক পূর্বে ইউক্রেন থেকে ভাসমান ক্যাসিনো নির্মাণের জন্য চীন ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার খরচ করে একটি পরিত্যক্ত জাহাজ ক্রয় করে। পরে চীনারা ২০১৪ সালে ওই জাহাজটিকে ”বিমানবাহী রণতরী”তে রূপান্তর করে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। এরপর আরো একটি বিমানবাহী রণতরী সমুদ্রে যাত্রা করে। আগামী এক দশকে চীন অন্তত আরো ৪টি বিমানবাহী রণতরী নির্মাণ করবে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

 

উল্লেখ্য, বর্তমানে আমেরিকার ১১টি বিমানবাহী রণতরী ৪টি মহাদেশের সাগর মহাসাগরে বিচরন করছে। পারমানবিক ডুবোজাহাজ নির্মাণে চীন অনেকদূর এগিয়েছে। আগামী ১০/১২ বছরে চীন পারমানবিক ও ডিজেল চালিত ডুবো জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি করবে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানির করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। চীনের অকৃত্রিম মিত্র পাকিস্তান আগামী এক বছরের মধ্যে চীন থেকে ৬টি ডুবোজাহাজ গ্রহণ করবে। গত কয়েক দশকে চীন কারো সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি। সেক্ষেত্রে চীনা গণফৌজসহ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের যুদ্ধ ক্ষমতা হ্রাস পাবার কথা। কিন্তু চীন বিষয়টি উপলব্ধি করে বিভিন্ন দেশের সাথে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ করে আসছে।

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রতিবছর প্রতিরক্ষা বাজেট ঘোষণা করলেও বাস্তবে এখাতে আরো বেশী অর্থ ব্যয় করে থাকে। এর মধ্যে আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, বৃটেন, চীন উল্লেখযোগ্য। তাই চীনও এ পদাঙ্ক অনুসরণ করে আসছে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, চীন কী ধরনের এবং কী পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র নির্মাণ করে থাকে সেটা আজানা থেকে যায়। চীনের প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর সেক্টরের তথ্যাদি দেশটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাই চীনের প্রতিরক্ষা বাহিনী কিংবা অস্ত্রশস্ত্রের সঠিক হিসাব-নিকাশ প্রায়ই অজানা থেকে যায়। এক্ষেত্রে চীন আনুষ্ঠানিকভাবে যেটুকু প্রকাশ করে-শুধুমাত্র সেটাই বিশ্ববাসী জানতে পারে। আর এতে করে চীনের চৌকশ প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানীরা আমেরিকান সামরিক বিশেষজ্ঞদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। অর্থনীতির পাশাপাশি চীনের সামরিক উত্থানে আমেরিকাসহ পশ্চিমারা মহা দুঃশ্চিন্তায় রয়েছে।

 

চীনের অর্থনৈতিক অবস্থান : আমেরিকা, পশ্চিমাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাংক, বীমা, শিল্প, যোগাযোগ, পর্যটন থাতে চীন হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্য আমেরিকা সর্বত্র চীনের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে। সড়ক, মহাসড়ক, রেলপথ, সেতু, ভবন, বিমানবন্দর, ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস এবং আধুনিক নৌ-বন্দর নির্মাণে চীনাদের জুড়ি নেই। চীনে ৪৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বিশাল সেতু রয়েছে। মাত্র তিন বছরে ওই সেতু নির্মাণ সম্পন্ন করেছে। ১০ মাত্রার ভূমিকম্প নিরোধ সেতুটি। এটি নির্মাণে ৪২ লাখ মেট্রিক টন ইস্পাত ব্যবহার করা হয়েছে। তেমনিভাবে মাত্র ৬০ দিনে ৪০ তলা ভবন নির্মাণ চীনাদের কীর্তি বহন করে। এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্য আমেরিকার বহু দেশে চীনের আর্থিক সহযোগিতায় অর্থনৈতিক গতির সঞ্চার হয়েছে। বাংলাদেশেও চীনের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক কথায় সমস্যা জর্জরিত ৮/১০ টি দেশকে একসাথে আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে অর্থনীতি সচল করতে পারে একমাত্র চীন। যেটা অন্য কোন দেশের পক্ষে সম্ভবপর নয়। চীনের বৈদেশিক রিজার্ভের পরিমাণ আমেরিকা, রাশিয়া, জার্মানী ও ফ্রান্সসহ চারটি দেশের রিজার্ভের সমান। শুধু নিজ দেশেই নয়-বরং বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের শিল্পায়নের চীন বিনিয়োগ করছে। ফলে শিল্পক্ষেত্রেও বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে অগ্রসর হচ্ছে চীন। কথায় বলে, চীনের প্রেসিডেন্ট কিংবা প্রধানমন্ত্রী যে দেশ সফর করে থাকে- সে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল হয়। প্রবাদটি অমূলক নয়। চীনা প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি পাকিস্তান সফর করেন। ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে করাচীতে ১১’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। যেটা পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচে বড় বিনিয়োগ বলেছে বিশেষজ্ঞরা। তেমনিভাবে ইউক্রেন ইস্যুতে পাশ্চিমারা ২০১৪ সালে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তখন রাশিয়ায় অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয়। এর কয়েক মাস পর চীনের প্রেসিডেন্ট রাশিয়া সফরে গিয়ে দেশটির সাথে ৭ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য চুক্তি করে। ফলে রাতারাতি রাশিয়ায় অর্থনৈতিক গতি ফিরে আসে। অর্থাৎ শিল্প ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চীন সারা বিশ্বকে মাকড়সার জ্বালের ন্যায় আবদ্ধ করছে। এতে উভয় দেশই উপকৃত হচ্ছে।

 

বৈদেশিক সম্পর্ক : শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্বির পাশাপাশি চীন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে অনেকদূর এগিয়েছে। বিশেষ করে, এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্য আমেরিকার দেশেগুলোর সাথে চীনের সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। অপরদিকে অর্থনীতি ও শিল্পায়নের সুবাদে তৃতীয় বিশ্বের অনেক দরিদ্র দেশে ‘আর্থিক রক্ষাকবজ’-এর ভূমিকা পালন করছে চীন। মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল বাজারে এখন চীনা পণ্যের সমাহার পর্যটকদের নজর কাড়ে। এক সময়ের কমিউনিস্ট শাসিত দেশটি বর্তমানে বন্ধু রাষ্ট্রের সংখ্যা বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করেছে। চীনা পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টি করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। এক সময় ভারতের বাজারে বিদেশী পণ্য কদাচিৎ দেখা গেলেও মুক্তবাজার অর্থনীতি চালুর সুবাদে এখন চীনা পণ্যের রমরমা ব্যবসা চলছে দেশটিতে।

 

পরিশেষে : সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, কঠোর পরিশ্রম, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কঠোর নীতি প্রণয়ন এবং শত কোটি অধিবাসীর অগাধ দেশ প্রেমের সুবাদে চীন সারা বিশ্বের জন্য রোল মডেল। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যে কোন ইস্যুতে চীন এখন শক্তিশালী অভিভাবকের আসনে আসীন। এক সময়ের বিরুদ্ধবাদী এমনকি শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোও বর্তমানে বাধ্য হয়ে চীনকে সমীহ করে চলেছে। বিশাল শিল্প সাম্রাজ্য, অগাধ অর্থ, চমক লাগানো সামরিক শক্তি এবং হিমালয়ের ন্যায় দেশপ্রেম সম্পন্ন চীন বিশ্ব মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। এক সময় আমেরিকা-রাশিয়াকে দুই পরাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু মাত্র দুই দশকের ব্যবধানে সব হিসাব-নিকাশ ওলট-পালট হয়ে গেছে। যোগ্যতার নিরিখে চীন এই মর্যাদা লাভ করেছে। সুতরাং আমি মনে করি ‘চীনের বিস্ময়কর উত্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত বহন করে।‘

 

লেখক : সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক ইনকিলাব এবং আন্তর্জাতিক গবেষক।

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন