এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বুধবার, 13 এপ্রিল 2016 15:11

বাংলা নববর্ষ: উদযাপনের পদ্ধতি নিয়ে নানা বিতর্ক

বাংলা নববর্ষ: উদযাপনের পদ্ধতি নিয়ে নানা বিতর্ক

নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর উৎসব হল পহেলা বৈশাখ। এ দিনটিকে কেন্দ্র করে সারাবিশ্বের বাঙালিরা উৎসবে মেতে ওঠে। পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান বৈশাখী মেলা। কোনো কোনো জায়গায় এই মেলা চলে পুরো সপ্তাহ জুড়ে। এসব মেলায় পাওয়া যায় স্থানীয় কৃষিজাত দ্রব্য, কারূপণ্য, লোকশিল্পজাত পণ্য, কুটির শিল্পজাত সামগ্রী, সব ধরণের হস্তশিল্প ও মৃৎশিল্পজাত, মানে মাটির সামগ্রী। এ ছাড়া শিশু-কিশোরদের খেলনা, মেয়েদের সাজসজ্জার সামগ্রীসহ আরো অনেক কিছু পাওয়া যায় এই মেলায়। এছাড়াও রকমারি লোকজ খাদ্যসামগ্রী, যেমন, চিড়া, মুড়ি, খৈ, বাতাসা ও বিভিন্ন প্রকার মিষ্টির বৈচিত্র্যময় সমারোহ থাকে মেলায়। 

 

শুধু খাওয়া দাওয়াই নয়, এসব মেলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকগীতি ও লোকনৃত্য পরিবেশন করা হয়। সেখানে পালাগান, কবিগান, জারিগান, গম্ভীরা গান, গাজীর গান  তো থাকেই, থাকে যাত্রাপালার আয়োজনও। কোথাও কোথাও পথনাট্য উৎসবও হয়ে থাকে। চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, নাটক, পুতুল নাচ, নাগর দোলা, সার্কাস বৈশাখী মেলার বিশেষ আকর্ষণ। শিশু- কিশোরদের জন্য আরো থাকে বায়োস্কোপ। শহরাঞ্চলে নগর সংষ্কৃতির আমেজেও এখন আয়োজিত হয় বৈশাখী মেলা।

 

বাংলা নববর্ষের সবচেয়ে রঙচঙে ও আনন্দঘন অনুষ্ঠান হয় ঢাকায়। হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয় রমনার বটমূলে। শিল্পীরা বৈশাখের আগমনী গান গেয়ে স্বাগত জানান নববর্ষকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের বকুলতলায় একই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-ছাত্ররা মিলে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। শহীদ মিনার, টি.এস.সি এবং চারুকলাসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে। তবে এবার খানিকটা ভিন্ন আঙ্গিকে ১লা বৈশাখ পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে মঙ্গলশোভা যাত্রার মুখোশ পরা, ভুভুজেলা বাজানো নিষিদ্ধ হয়েছে, কোথাও কোথায় পান্তা-ইলিশের অনুষ্ঠান বর্জন হয়েছে। খোদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐতিহ্যবাহী জাতীয় মাছ ইলিশ রক্ষার স্বার্থে নববর্ষ উদ্‌যাপনের দিন অর্থাৎ পয়লা বৈশাখ ১৪২৩-এর খাদ্যতালিকায় ইলিশের কোনো আইটেম রাখছেন না। গণভবনে এ দিনের মেন্যুতে খিচুড়ির সঙ্গে থাকছে বেগুন ভাজি, ডিম ও মুরগির মাংস ভুনা।

 

মুখোশ-ভুভুজেলা নিষিদ্ধ

এবার বাংলা নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখোশ না পরার অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

 

সোমবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এ অনুরোধ জানান।

 

ডিএমপি কমিশনার জানান, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে নিশ্চ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় কেউ যেন মুখোশ না পরেন আয়োজকদের সে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে শোভাযাত্রা উপলক্ষে তৈরি মুখোশ হাতে রাখা যাবে।

 

এর আগে রোববার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, পহেলা বৈশাখে বিকট আওয়াজের বাঁশি বাজানোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। ছোট ছোট মুখোশ দিয়ে মুখাবরণ বন্ধ করে দিয়ে তারপর বের হওয়া, এটা আমরা নিয়ন্ত্রণ করব।

 

পান্তা-ইলিশ নিষিদ্ধ

এদিকে, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে এ বছর ইলিশ ছাড়াই বাংলা নববর্ষ উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খুলনা জেলা প্রশাসন।

 

সোমবার খুলনা জেলা প্রশাসক (ডিসি) নাজমুল আহসান ‘ডিসি খুলনা’ নামে তার ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি অন্যদেরও একই পন্থা অবলম্বনের অনুরোধ জানান।

 

এর আগে রোববার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাটকা ও মা-ইলিশ রক্ষায় এ বছর ইলিশ ছাড়াই বাংলা নববর্ষ উদযাপন করার কথা জানান।

 

জেলা প্রশাসক বলেন, পহেলা বৈশাখে পান্ত-ইলিশ খাওয়া সাম্প্রতিক ধারণা। ঐতিহাসিকভাবে এর পক্ষে কোনো জোরালো উদাহরণ পাওয়া যায় না। সম্প্রতি পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে জাটকা নিধন করা হচ্ছে। নিষিদ্ধ জেনেও বেশি দামে বিক্রির জন্য এই অপরাধ করে যাচ্ছেন কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী। তারা এ সময় ইলিশের দামও মাত্রাতিরিক্তভাবে বাড়িয়ে দিয়েছেন।

 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়েও বর্ষবরণ উৎসবে পান্তা-ইলিশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. ইমামুল হক গত বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে বর্ষবরণ ও বৈশাখী মেলা উদযাপনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময়ের সময় পান্তা-ইলিশ নিষিদ্ধ করার যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, বাংলা বর্ষবরণের সঙ্গে পান্তা-ইলিশের আদৌ কোনো সম্পর্ক নেই। পহেলা বৈশাখে ইলিশ খাওয়ার এই রীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে গণসচেতনতা তৈরি করা দরকার।

 

এছাড়া, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) বর্ষবরণ আয়োজনে ইলিশ নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আলী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

পহেলা বৈশাখের সাথে ইলিশের সম্পর্ক আছে কি?

বর্ষবরণ আয়োজনে ইলিশ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. একে এম নূর-উন-নবী বলেন, “পহেলা বৈশাখের সাথে ইলিশের কোনো সম্পর্ক নেই। পহেলা বৈশাখে ইলিশ নয় বরং নুন-পান্তা-তেল-মরিচই উপযুক্ত খাবার। সাথে ভর্তা বা ডিম ভাজিই যথেষ্ঠ হতে পারে। তাছাড়া ইলিশ প্রজননের এই সময়ে বাঙালী উৎসবের নামে ইলিশ উৎসব করা হলে সাগরে ইলিশের সংখ্যা কমে যাবে।”

 

বাংলার ঐতিহ্য নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন অধ্যাপক ও বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। কিন্তু বাংলা নববর্ষের দিনে ইলিশ খাওয়ার আদৌ কোনো সম্পর্ক আছে কিনা জানতে চাইলেইতনি বলেন, বাঙালির নববর্ষ উদযাপনের চিরায়ত সংস্কৃতির সাথে ইলিশের কোনো সম্পর্ক নেই।

 

তিনি জানান, “বৈশাখে যখন খরার মাস যখন কোনো ফসল হতো না তখন কৃষকদের হাতে পয়সাও থাকতো না। সুতরাং তাদের পক্ষে ইলিশ কিনে খাওয়া সম্ভব হতো না। সুতরাং এটা মোটেও সত্যি নয় যে, কৃষকরা নববর্ষ উদযাপনে পান্তা ইলিশ খেয়ে বছর শুরু করতো। গ্রামবাংলায় নববর্ষের উৎসবই ছিল খুব ছোট আকারে। কৃষাণী আগের রাতে একটি নতুন ঘটে কাঁচা আমের ডাল ভিজিয়ে রাখতো, চাল ভিজিয়ে রাখতো। সকালে কৃষক সেই চাল পানি খেত এবং শরীরে কৃষাণী পানিটা ছিটিয়ে দিত। তারপর সে হালচাষ করতে যেত। দুপুরবেলায় পান্তা খেতে পারতো কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ দিয়ে। কখনো কখনো একটু শুটকি, একটু বেগুণ ভর্তা ও একটু আলু ভর্তা দিয়ে খেত”।

 

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বৈশাখের পান্তা-ইলিশের জন্য ‘শহরের কিছু শিক্ষিত নাগরিককে’ দায়ী করেছেন।

 

লেখক-চিন্তক যতীন সরকার বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে পান্তা-ইলিশকে পহেলা বৈশাখের অনুষঙ্গ করে তোলা হয়। প্রকৃত অর্থে এটি বানোয়াট সংস্কৃতিচর্চা। এর সঙ্গে বাঙালির কোনও সম্পর্ক নেই। পান্তা হচ্ছে গরীবের খাবার আর উৎসবের সময় মানুষ যেখানে ভালো ভালো খাবার খায়, সেখানে পান্তাকে খাওয়ানো হচ্ছে ব্যবসার খাতিরে।”   

 

বর্ষবরণে অপসংস্কৃতি চর্চা

নববর্ষের অনুষ্ঠানে মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালানো, মুখোশ পরা, সিদুঁর দেয়াকে বাংলাদেশের ধর্মীয় মহল সমর্থন করছেন না। এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক, প্রাবন্ধিক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ আবুল কাসেম ফজলুল হক রেডিও তেহরানকে বলেন, “বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর এরকম ঘটনা কখনও কখনও ভীষণভাবে দেখা গেছে। বিশেষ করে ১৯৮০ দশকে মৌলবাদ বিরোধী আন্দোলন যখন শুরু হয়েছে, সেই আন্দোলনে বিদেশী রেডিও বেশ উসকানিমূলক প্রচার করেছে। তাতে উৎসাহিত হয়ে এবং আরো নানা কারণে আমাদের দেশের কোনো মহল থেকে এই সিদুঁর দেয়া, মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানো এ ধরনের কিছু বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়। আর এসব আমাদের দেশে পুরাতন কোনো কোনো ধর্মীয় ধারা। ইসলাম এদেশে ব্যাপ্তি লাভের অনেক আগে থেকেই এসব ধারা এদেশে ছিল। তো সেই জিনিষগুলো একসময় বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে বিলুপ্তই হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের মধ্যে এগুলো আদৌ ছিল না এমনকি হিন্দু সমাজেও এগুলোর প্রচলন খুব কম ছিল। তো সেই জায়গায় পহেলা বৈশাখের অনু্ষ্ঠানে কোনো কোনো বছর আমি শুনেছি হরে রাম হরে রাম বলা হচ্ছে। এ ধরনের কাজগুলো উসকানিমূলক। ধর্মনিরপেক্ষতার কথা যারা খুব জোর দিয়ে বলেন তারা গণতন্ত্র বা অন্য কোনো রাজনৈতিক আদর্শকে বিকশিত না করে শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস, ধর্মীয় সংস্কার এমনকি সামগ্রিকভাবে ধর্মকে আক্রমণ করার একটা প্রবণতা কিছু বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ বিষয়টি অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর ফলে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি হয় এবং মানুষের ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করা হয়। আমি বলব এরকম করা উচিত নয়।”

 

মুসলমানরা তাদের নববর্ষ উদযাপন করবে তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ সংরক্ষণ এবং দেশীয় সংস্কৃতির ভিত্তিতে। এই মত সম্পর্কে আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, বাঙালি হিন্দুদের সংস্কার, বিশ্বাস, জীবনযাত্রা ও ধর্মের সাথে বাঙালি মুসলমানদের ক্ষেত্রে এগুলোর বেশ কিছু পার্থক্য সুস্পষ্ট। আর এটা খুবই স্বাভাবিক যে, মুসলমানদের অনুষ্ঠান পালনে কিছুটা ভিন্নতা থাকবে এবং সেটাই স্বাভাবিক। আর এই ভিন্নতা জোর করে মুছে মেলার চিন্তা একটা মস্তবড় ভুল। আবারও বলছি এই ভিন্নতা থাকবেই এবং এসব ভিন্নতা নিয়ে এগুতে এগুতে যখন জ্ঞান বিজ্ঞানের বিস্তারের সাথে সাথে নতুন নতুন চিন্তা বা বিষয় সামনে আসবে, প্রকৃতিরও পরিবর্তন হবে তখন ভবিষ্যতে অন্যরকম হবে। তবে তখনও ব্যবধান ও পার্থক্য থাকবে। কিন্তু সেই পার্থক্যের রূপ এখনকার চেয়ে ভিন্ন হবে বলে তিনি মনে করেন।

 

সম্রাট আকবরের সময় বর্ষবরণ

সম্রাট আকবরের আমলে অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে বাংলা নববর্ষ পালন করা হতো। এ দিন আমীর-ওমরাহদের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষ সাধ্যানুযায়ী নতুন জামা-কাপড় পরে উৎসবে অংশ নিতেন। মিষ্টান্ন আপ্যায়ন, গানের জলসা ছাড়াও নানা ধরনের ধেলাধুলার ব্যবস্থা থাকত। মুসলমানরা নববর্ষের দিন ভবিষ্যতের মঙ্গলের জন্য আল্লাহর কাছে বিশেষ মুনাজাত ও মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করতেন।

 

উল্লেখ্য, মোঘল সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে তারই নির্দেশে ৯৯৮ হিজরী মোতাবেক ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলা সনের প্রবর্তন হয়। বাদশাহ আকবর ৯৬৩ হিজরীতে অথাৎ ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে (১৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে) দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন। এই ঐতিহাসিক ঘটনা চিরন্তরণীয়  করে রাখার জন্য ৯৬৩ হিজরী অবলম্বন করেই বাংলা সন চালু করা হয়। অর্থাৎ ১, ২, ৩- এভাবে হিসাব না করে মূল হিজরী সনের চলতি বছর থেকেই বাংলা সনের গণনা শুরু হয়। ফলে জন্ম বছরেই বাংলা সন ৯৬৩ বৎসর বয়স নিয়ে যাত্রা শুরু করে।  

 

হিজরী সনের প্রথমদিন হল পহেলা মহররম। বাংলা সনে তা পরিবর্তন করে পহেলা বৈশাখ করা হয়। ৯৬৩ হিজরীতে মহররম মাস ও বৈশাখ মাস একই সঙ্গে আসে। ফলে, তদানীন্তন শকাব্দের প্রথম মাসটি গ্রহণ না করে হিজরী সনের প্রথম মাস  মহররমের অর্থাৎ বৈশাখ মাসকেই বাংলা সনের মাস হিসাবে পরিচিহ্নিত করা হয়।

 

বাংলা সনের সৃষ্টি হয় ফসল তোলার সময় লক্ষ্য করে। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে সৌর বৎসর অবলম্বনে এই নতুন সন গণনা শুরু হয়। তাই, প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ‘ফসলী সন’ নামে অভিহিত হতো। ‘বাংলা’র জন্য উদ্ভাবিত বলে এটি পরবর্তী পর্যায়ে ‘বাংলা সন’ নামে পরিচিত হয়।# (আশরাফুর রহমান) 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন