এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla

৮ জুলাই (রেডিও তেহরান): ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি পাঁচ জাতির অর্থনৈতিক জোট ‘ব্রিক্স’ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে রাশিয়ার উদ্দেশ্যে তেহরান ছেড়েছেন।

 

আজ সন্ধ্যায় তিনি তেহরানের মেহরাবাদ বিমাবন্দর থেকে মস্কোর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। প্রেসিডেন্ট রুহানির মস্কো যাওয়ার কথা ছিল আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) কিন্তু সফরসূচি পরিবর্তন করে আজ সন্ধ্যায় তিনি রওয়ান দিলেন। রাশিয়া পৌঁছে তিনি ব্রিক্স সম্মেলনের পাশাপাশি সাংহাই সহযোগিতা পরিষদের বৈঠকে যোগ দেবেন।

 

আগামীকাল থেকে ব্রিক্স শীর্ষ সম্মেলন শুরু হবে। ইরান এ জোটের সদস্য না হলেও প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিকে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি এ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বিশেষ অতিথি হিসেবে এবং সাংহাই সহযোগিতা পরিষদের বৈঠকে পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

 

এ সফরে তিনি দুটি জোট ও সংস্থার রাষ্ট্র প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষয় বৈঠক করবেন বলে তার কর্মসূচিতে রয়েছে। ব্রিক্সভুক্ত দেশগুলো হচ্ছে রাশিয়া, চীন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিল। আর সাংহাই সহযোগিতা পরিষদের সদস্য হিসেবে রয়েছে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, কাজাখস্তানসজহ বেশ কয়েকটি দেশ। ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে দুটি জোট ও সংস্থাতেই ইরানকে পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ দেয়া হবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে।#

 

রেডিও তেহরান/এসআই/৮  

৮ জুলাই (রেডিও তেহরান): ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, আসন্ন আন্তর্জাতিক কুদস দিবসে সারা বিশ্বের মুসলমানরা দেখিয়ে দেবে- তারা ফিলিস্তিনকে ভুলে যায় নি।

 

তিনি বলেন, সারা বিশ্বের মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধভাবে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মুক্তি চায়। ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন এবং এ বিষয়ে কোনো  কোনো রাষ্ট্রের নীরবতার পরও মুসলমানেরা ফিলিস্তিনকে ভুলে যাবে না; আল-কুদসকেও ভুলবে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক কুদস দিবস উপলক্ষে ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধের প্রতি ঐক্যবদ্ধ সমর্থন দেবে বিশ্ববাসী।

 

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে ড. হাসান রুহানি বলেন, সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলো কয়েকটি পরাশক্তি ও ইসরাইলের স্বার্থে কাজ করছে আর এ কারণে আল-কুদসের বিষয়ে অনেকের মনযোগ অন্য দিকে ঘুরে গেছে। কিন্তু কুদস দিবসে মানুষ বলে দেবে, ফিলিস্তিনি জনগণ ও অধিকৃত ভূখণ্ডের কথা তাদের মন থেকে মুছে যায় নি; কখনো ভুলে যাবেও না। তিনি আশা করেন, ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে বিশ্ববাসী এবারের কুদস দিবস পালন করবে।

 

১৯৭৯ সালের আগস্ট মাসে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ খোমেনী পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে আন্তর্জাতিক কুদস দিবস ঘোষণা করেন। সেই থেকে বিশ্বব্যাপী দিনটিতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের দখলদারিত্বের অবসানের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করে থাকে।#

 

রেডিও তেহরান/এসআই/৮  

৩ জুলাই (রেডিও তেহরান): পরমাণু আলোচনায় যোগ দিতে নিজের দপ্তর প্রধান মোহাম্মাদ নাহাভান্দিয়ানকে ভিয়েনায় পাঠিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় বর্তমানে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু আলোচনা চলছে।

 

৩০ জুনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি করতে ব্যর্থ হওয়ার পর পরমাণু আলোচনা ৭ জুলাই পর্যন্ত বাড়াতে সম্মত হয় দু’পক্ষ। ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠী ওই তারিখের মধ্যে ব্যাপকভিত্তিক ও টেকসই পরমাণু চুক্তি সই করার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছেন।

 

এর আগে নাহাভান্দিয়ান তার ইনস্টাগ্রাম পৃষ্ঠায় একটি বিমানের ছবি পোস্ট করে তার জন্য দোয়া করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ভিয়েনায় গিয়ে তিনি সরাসরি পরমাণু আলোচনায় যোগ দেবেন নাকি ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন তা জানা যায়নি।#

 

রেডিও তেহরান/এমআই/৩

শুক্রবার, 03 জুলাই 2015 13:59

বাক-সংযমে রোযার ভূমিকা

আবদুল হক: দয়াময় আল্লাহ মানুষকে গড়েছেন সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ করে। এ শ্রেষ্ঠত্বের প্রধান দুই চিহ্নায়ক: উন্নত চিন্তার ক্ষমতা ও সমৃদ্ধ ভাষার বৈভব। ভাষা বিনে চিন্তা চলে না, কথা ছাড়া চিন্তা ফলে না। মানুষের জ্ঞান, সম্পর্ক, সমাজ ও সভ্যতার সমস্ত নির্মাণের পেছনে নিয়ামকরূপে ক্রিয়মান তার সৃজনশীল বাকশক্তি। এদিকে ইশারা করেই পবিত্র কুরআনে মানুষের ভাবপ্রকাশের শক্তি উল্লিখিত হয়েছে মহান আল্লাহর অপার দয়ার নিদর্শন হিসেবে:

 

الرَّحْمَنُ. عَلَّمَ الْقُرْآنَ. خَلَقَ الإِنسَانَ. عَلَّمَهُ الْبَيَانَ.

 

“দয়াময় আল্লাহ, তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন; তিনিই সৃষ্টি করেছেন মানুষ, তাকে ভাবপ্রকাশ করতে শিখিয়েছেন তিনিই।” ––– কুরআন, ৫৫:১-৪।

 

আমরা যারা কথা বলতে জানি, তাদেরকে দয়াময়ের দান এ বাকশক্তির মূল্য ও ইতিবাচক ভূমিকা জানানোর কিছু নেই। তবে তার নেতিবাচক দিক নিয়ে ভাবনার দরকার আছে। মুসলিম হিসেবে আমাদের জানার প্রয়োজন আছে বাকশক্তির অতিব্যবহার ও অপব্যবহারের পরিণাম কী এবং এ থেকে বেঁচে থাকার গুরুত্ব ও পদ্ধতি কী।

 

সমাজে চলতে চলতে আর দিনরাত বলতে বলতে, কাজের কথার ফাঁকে ফাঁকে বিস্তর বাজে কথাও আমাদের বলা হয়ে যায়। সেইসব বাজে কথার বহু রূপ: নিন্দা, অপবাদ, গালি, অশ্লীল বাক্য, হুমকি, মিথ্যা কথা, চোগলখোরি, চাটুকারিতা, মিথ্যা সাক্ষ্য, প্রতিশ্রুতিভঙ্গ, দান করে খোঁটা দেওয়া, তাচ্ছিল্য, আত্মপ্রচার, অযথা কথা ইত্যাদি। কুরআন-হাদীসে এমন সমস্ত বাজে কথাকে ব্যাপক অর্থে “লাগ্‌ও” (لغو) ও “ক্বাউল আয্-যূর” (قول الزَور) শব্দে চিহ্নিত করা হয়েছে, এগুলি তাকওয়ার বিপরীত ও নিষিদ্ধ সাব্যস্ত হয়েছে, এসব অভ্যেস ছাড়তে তাগিদ করা হয়েছে এবং সেইসঙ্গে তাবৎ বাজে কথা ও কাজ এড়িয়ে চলবার অবিচল সামর্থ্য অর্জনের জন্যে সিয়াম সাধনার মতো আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের কার্যকর ব্যবস্থাপত্র পেশ করা হয়েছে:

 

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ـ

 

 “হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্যে রোযার বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান দেওয়া হয়েছিল তোমাদের পূর্বতনদের, যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হতে পারো।” ––– কুরআন, ২:১৮৩।

 

 

তাকওয়া মানে ভয় করা, আল্লাহকে; তাকওয়া মানে দূরে থাকা, আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ সমস্তকিছু থেকে। রোযার মূল উদ্দেশ্য এ তাকওয়ার অধিকারী হওয়া এবং এরই আলোকে পুরো জীবন পরিচালনার শক্তি লাভ করা। অন্যদিকে, ‘ক্বাউল আয-যূর’ মানে এমন কথাবার্তা যা সত্য ও ন্যায়ের বিপরীত। সাধারণভাবে ‘মিথ্যা’ অর্থে প্রযুক্ত হলেও এর অর্থ শুধু মিথ্যা কথা নয়, বরং উপরিউক্ত বাজে কথার সবগুলি প্রকারকেই তা শামিল করে। ফলে কুরআনে যেমন জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সিয়াম সাধনার মূল উদ্দেশ্য হলো তাক্বওয়া হাসিল করা – ‘যূর’ বা বাজে কথা ও কাজ আমাদেরকে সেই উদ্দেশ্যে পৌঁছুতে দেয় না। এভাবেই বাজে কথা দাঁড়িয়ে যায় রোযার উদ্দেশ্যের মুখোমুখি, এবং বাক-সংযম অবলম্বন করতে না পারলে রোযাদারের রোযা অর্থহীন উপবাস ও নিছক আত্মপ্রবঞ্চনায় পর্যবসিত হয়। এজন্যেই মহানবী সা. সকলকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন:

 

مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ ـ

 

“যে-ব্যক্তি বাজে কথা ও কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কিছুই যায়-আসে না।”  ––– বুখারী, ১৮০৪; তিরমীযী, ৭০৭।

 

চিন্তার কথা, এ হাদীসে রোযা বা রোযাদার শব্দটি নেই। রাসূল সা. এমন বলেন নি যে, ‘কোনো রোযাদার যদি বাজে কথা ও কাজ না ছাড়ে তাহলে তার রোযায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই’; বরং বলেছেন, ‘তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ অর্থাৎ একেবারে সাফ কথায় জানিয়ে দেওয়া হলো: বাজে কথা ও কাজের অভ্যেস ত্যাগ করতে না পারলে বস্তুত সেটি আদৌ রোযাই হলো না, বরং খামাখা ‘পানাহার ত্যাগ’ মাত্র। এ হাদীস থেকে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রোযার বাহ্যিক যে-শর্ত, নির্দিষ্ট সময় ধরে পানাহার ও যৌনতা থেকে বিরত থাকা – তার চেয়ে রোযার অভ্যন্তরীণ যে-দিক, চারিত্রিক স্খলন কাটিয়ে উঠে নৈতিক পরিশুদ্ধি ও তাক্বওয়া অর্জন, রোযার পূর্ণতার প্রশ্নে তার গুরুত্ব মোটেই কম নয়।

 

ইবাদতের সঙ্গে অভ্যেসের একটা ঐক্য আছে, অনুষ্ঠানের যোগ আছে – কিন্তু অভ্যেস ও অনুষ্ঠান মুখ্য নয়। মুখ্য হলো প্রাপ্তি। রোযা বিধিত হয়েছে তাক্বওয়ার জন্যে – যেন আমরা সুন্দর মানুষ হয়ে উঠি, যেন গভীর মমতা নিয়ে দুঃখী-দরিদ্রের পাশে দাঁড়াই, যেন পালনকর্তার সন্তোষ অর্জন করে তাঁর করুণার ছায়ায় ঠাঁই পাই। কিন্তু অভ্যেসের চক্রে আমরা প্রায়ই মুখ্য লক্ষ্যটি ভুলে যাই, আনুষ্ঠানিক আড়ম্বরে উদ্দিষ্ট ঢাকা পড়ে যায়। বাহ্যিক সব নিয়মকানুন মেনে রোযা রাখি বটে – কিন্তু বাজে কথা ছাড়তে পারি না, এর দোষ ওকে বলি, সামান্য বিষয় নিয়ে কলহে নেমে পড়ি, লাভের লোভে মিথ্যে কথাও বলে ফেলি; এর ফলে বাহ্যিক বিধিগতভাবে রোযা ভেঙে গেছে বলা যদি না-ও যায়, তবু এতে সন্দেহ নেই যে, উদ্দেশ্যগতভাবে এ রোযা নিষ্ফল, নিরর্থক, নিষ্প্রাণ। চারিত্রিক শুদ্ধি অর্জনে সচেষ্ট না হলে, যাচ্ছেতাই বকবক করার পুরনো অভ্যেস বহাল রাখলে, কষ্ট করে ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করে এবং রাত জেগে দীর্ঘ নামায আদায় করে কোনো লাভ নেই। কেননা রাসূল সা. বলেছেন:

 

كَمْ مِنْ صَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ صِيَامِهِ إِلاَّ الْجُوعُ وَ الظَّمَأُ، وَكَمْ مِنْ قَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ قِيَامِهِ إِلاَّ السَّهَرُ وَ الْعَنَاءُـ

 

“অনেক রোযাদার এমন, যারা রোযা রেখে কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কষ্ট পাওয়া ছাড়া আর কিছুই পায় না; আর যারা রাত জেগে নামায আদায় করে তাদের মধ্যেও এমন বহু লোক আছে, নামাযে দাঁড়িয়ে রাত জেগে কষ্ট করা ছাড়া যাদের আর কোনো লাভ হয় না।” ––– মুসনাদ-ই আহমদ, ৯৩৯২; সুনান ইবনু মাজা, ১৬৯০; সুনান দারিমী, ২৭২০।

 

স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, শুধু পানাহার ত্যাগের নাম রোযা নয়, নিয়মমতো আনুষ্ঠানিকতা পালন করলেই ইবাদত হয়ে যায় না। প্রত্যেকটি ইবাদত বিধিবদ্ধ করার পেছনেই বিশেষ উদ্দেশ্য আছে, প্রাপ্তি আছে, তাৎপর্য আছে। সেই উদ্দেশ্য সফল করতে হয়, প্রাপ্তি লাভ করতে হয়, তাৎপর্য উপলব্ধি করতে হয়। তা না হলে রোযা হয় না, উপবাস হয়; নামায হয় না, ওঠবস হয়; সমর্পণ হয় না, প্রদর্শন হয়। রোযার উদ্দেশ্য হলো হৃদয়ে আল্লাহর সর্বময় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে এ চেতনার আলোকেই সকল রকম মিথ্যা ও অশ্লীলতা থেকে মুক্ত থেকে সত্য ও সংযত কথা বলা, সৎ ও মহৎ আচরণ করা এবং নিজের ইচ্ছাকৃত অভুক্তির কষ্টকর অভিজ্ঞতা দিয়ে দারিদ্র্যপীড়িত নিত্য-অভুক্তদের কষ্ট অনুভব করে তাদের সহমর্মী ও সাহায্যকারী হয়ে ওঠা। রামাযানের পবিত্রতা ও মর্যাদার দিকে খেয়াল রেখে প্রতিবছর অন্তত এ মাসে আমাদের সমাজে কিছু পরিবর্তন অবশ্য ঘটে, ইমাম ও আলিমদের ওয়ায-নসিহতের প্রভাবে মুসলিম জনসাধারণকে তাক্বওয়া ও অধিক ইবাদতে মনোযোগী হতে দেখা যায়, অশ্লীলতার ওপরেও অনেকটা পর্দা পড়ে, হাট-বাজারে উচ্চশব্দে প্রবৃত্তিবাদী গান বাজানো বন্ধ থাকে, দান-খয়রাতের পরিমাণও বাড়ে – কিন্তু যে-ব্যাপারটি সবচেয়ে উপেক্ষিত থেকে যায় তা হলো বাক-সংযমের গুরুত্ব। কারণ কথা বলার মতো সোজা কাজ আর নেই; আমরা কথা বলতে এত বেশি অভ্যস্ত যে, বলার আগে কী বলা উচিত তা একবার ভেবে দেখতে অভ্যস্ত হওয়ার ফুরসতই পাই না। অথচ একটু চিন্তা করে দেখলে সকলেই স্বীকার করব যে, আমাদের চারপাশে যত দ্বন্দ্ব-কলহ মারামারি খুনোখুনির ঘটনা ঘটে তার প্রত্যেকটিরই সূত্রপাত হয় অশালীন ও অসংযত কথা থেকে। তাই বাক-সংযম ছাড়া সুন্দর চরিত্রগঠন যেমন সম্ভব নয়, তেমনি পরিবারে সমাজে এবং রাষ্ট্রেও শান্তিপ্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ইসলামে যত ইবাদত আছে তার মধ্যে বাক-সংযমে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে রোযা। অন্যান্য নবীর যুগে তো বাক-শাসনের জন্যে নীরবতার রোযা প্রচলিত ছিল, অধিকন্তু আমাদের রোযায় বাক-সংযমের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মানবপ্রবৃত্তির অসংখ্য অসৎ প্রবণতা দমনের ব্যবস্থা রেখে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থা কাজে লাগাবার উপায় হলো, বাহ্যিক ভোগ-বিরতিই শুধু নয়, রোযাকে গ্রহণ করতে হবে সকল অসৎ প্রবণতা দমন করে আত্মশুদ্ধি সাধন ও আধ্যাত্মিক উত্তরণের মাধ্যম হিসেবে। আত্মশুদ্ধি ও আত্মোৎকর্ষের সাধনা ছাড়া নিছক ভোগ-বিরতির রোযা প্রকৃত রোযা নয়। আল্লাহর রাসূল সা. তাই বার বার বেহুদা ও বাজে কথা ও কাজ থেকে বেঁচে থাকতে তাগিদ করেছেন এবং কেউ গালি দিলে বা ঝগড়া বাঁধাতে এলে কী করতে হবে তা-ও শিখিয়ে দিয়েছেন:

 

لَيْسَ الصِّيَامُ مِنَ الأَكْلِ وَالشُّرْبِ ، إِنَّمَا الصِّيَامُ مِنَ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ ، فَإِنْ سَابَّكَ أَحَدٌ أَوْ جَهِلَ عَلَيْكَ، فَلْتَقُلْ : إِنِّي صَائِمٌ ، إِنِّي صَائِمٌ ـ

 “পানাহার বর্জনের নাম রোযা নয়। রোযা হলো অনর্থক ও অশ্লীল কথা-কাজ বর্জন করার নাম। কেউ তোমাকে গালি দিলে বা তোমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে তুমি তার সঙ্গে তেমনটি না করে কেবল এটুকুই বলো: “আমি রোযা রেখেছি, আমি রোযা রেখেছি।”  ––– ইবনু খুযায়মা, ১৮৭৯; ইবনু হিব্বান, ৩৫৬১; মুসতাদরাক আল-হাকিম, ১৫৭০।

 

ইসলামের শিক্ষা হলো প্রয়োজনে কথা বলা, সত্য ও পরিমিত কথা বলা, সুন্দর শব্দে ও নরম স্বরে কথা বলা। কেননা প্রত্যেকটি শব্দই নথিভুক্ত করে রাখা হয়:

 

مَّا يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ ـ

 

“মানুষ যে-কথাই উচ্চারণ করে তার জন্যে তৎপর প্রহরী তার কাছেই রয়েছে।” ––– কুরআন; ৫০:১৮।

 

সত্য, শুদ্ধ ও সঙ্গত কথা বলাই তাক্বওয়া ও সাফল্য অর্জনের পথ:

 

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًاـ يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا ـ

 

“হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তাহলে তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের কর্ম ত্রুটিমুক্ত করবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন। যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, তারা অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে।” ––– কুরআন; ৩৩:৭০-৭১।

 

বাজে কথা এড়িয়ে চলা মুমিনদের বৈশিষ্ট্য:

 

وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ ـ

 

“(তারাই মুমিন), যারা অপ্রয়োজনীয় ও বেহুদা কথা থেকে বিরত থাকে।”  ––– কুরআন; ২৩:৩।

 

ভালো কথা অথবা নীরবতা, অন্যথা নয়। মহানবীর আদেশ:

 

من كان يؤمن بالله واليوم الآخر ، فليقل خيرا أو ليصمت ـ

“যে-ব্যক্তি আল্লাহ ও বিচারদিবসে বিশ্বাস রাখে সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।” ––– সহীহ বুখারী : ৫৬৭৩।

 

রামাযান হলো নিবিষ্ট ইবাদত ও নীরব অনুধ্যানের মাস। আমাদের উচিত দুনিয়ার কোলাহল থেকে যথাসাধ্য দূরে থেকে জীবনে সিয়াম সাধনার লক্ষ্য ও শিক্ষা সার্থক করে তুলতে চেষ্টা করা। রাসূল সা. বলেছেন:

 

إِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلا يَرْفُثْ ، وَلا يَصْخَبْ ـ

 

“তোমাদের কেউ যখন রোযা রাখে, তখন সে যেন অশালীন কথাবার্তা না বলে এবং হৈচৈ না করে।” ––– সহীহ বুখারী : ১৯০৪।

 -------------------------------------------------------------------------------------------------

আবদুল হক : কবি ও প্রাবন্ধিক। ইমেইল : এই ইমেইল ঠিকানাটি spambots থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। এটি দেখতে হলে আপনার জাভা স্ক্রিপ্ট সক্রিয় থাকতে হবে।

 

 

 

 

২ জুলাই (রেডিও তেহরান): পশ্চিমা গণমাধ্যম মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর বর্বরতার সঠিকভাবে খবর প্রচার করছে না বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী। তিনি বলেছেন, ইয়েমেনের নিরীহ জনগণের উপর সৌদি পাশবিক বোমাবর্ষণের খবর বেমালুম চেপে যাচ্ছে পশ্চিমা গণমাধ্যম।

 

রাজধানী তেহরানে বুধবার কবি, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের জন্য আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে এ অভিযোগ করেন তিনি। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, আমেরিকা, ব্রিটেন ও ইহুদিবাদীদের নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কখনো কখনো একটি পশুর জীবন বাঁচানোর জন্য অতিরঞ্জিত প্রচারণায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। অথচ বর্তমানে ইয়েমেনের আদম সন্তানদের ওপর সৌদি গণহত্যা কিংবা অতীতে গাজা ও লেবাননের জনগণের ওপর ইসরাইলি বর্বরতার খবর নির্লজ্জভাবে চেপে গেছে। তিনি বলেন, কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে এ ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও শয়তানি মেনে নেয়া সম্ভব নয়।

 

সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, ইয়েমেনের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় সৌদি আরব প্রতিদিন বিমান হামলা চালাচ্ছে এবং এতে শত শত নিরপরাধ মানুষ হতাহত হচ্ছে। কিন্তু মার্কিন সমর্থিত এই সৌদি আগ্রাসনের খবর আন্তর্জাতিক মূলধারার গণমাধ্যমে গুরুত্ব পাচ্ছে না।

 

ইরানের আরব ও আফ্রিকা বিষয়ক উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। ওমান সফররত আব্দুল্লাহিয়ান মাস্কাতে স্বাগতিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ বিন আলাওয়ির সঙ্গে সাক্ষাতে এ আহ্বান জানান।

 

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গত মার্চ মাসের শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনে অন্তত ২,৬০০ ব্যক্তি নিহত ও ১১,০০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।#

 

রেডিও তেহরান/এমআই/২

৩০ জুন (রেডিও তেহরান): ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তি লঙ্ঘন করা হলে তেহরান আবার আগের পথে ফিরে যাবে। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, চুক্তি কোনোভাবে লঙ্ঘন করা হলে ইরান পরমাণু কার্যক্রম আগের চেয়ে জোরদার করবে।

 

ড. রুহানি বলেছেন, “যদি চুক্তি হয় তাহলে আমরা তা বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকব এবং এটি পরিষ্কার যে, চুক্তির অন্য পক্ষকেও তা মানার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে।” ইরানের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় আজ (মঙ্গলবার) প্রেসিডেন্ট রুহানি এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, “যদি ছয় জাতিগোষ্ঠী সম্ভাব্য পরমাণু চুক্তি লঙ্ঘন করে তাহলে তার প্রশাসন আগের অবস্থায় এমনকি তার চেয়ে জোরালো পরমাণু কর্মসূচিতে ফিরতে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে।” ছয় জাতিগোষ্ঠী রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখালে চলমান পরমাণু আলোচনা থেকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। ড. রুহানি আশা করেন, ৩০ জুনের পর কয়েক দিনের মধ্যে পরমাণু চুক্তি হতে পারে।

 

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, পরমাণু ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ জটিলতা নিরসন করা হয়েছে; বাকি সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য দু পক্ষ পথ বের করতে পারে। তিনি আরো বলেন, তার প্রশাসন গত দু বছরে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, কোনো ধরনের অস্ত্র তৈরির জন্য ইরান পরমাণু কার্যক্রম পরিচালনা করছে না।#

 

রেডিও তেহরান/এসআই/৩০