এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla

সম্প্রতি (গত ৪ জুন) ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনী (র.)'র ২৬ তম মৃত্যু-বার্ষিকী উপলক্ষে (তাঁর মাজার প্রাঙ্গণে) ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এ মহান ইমামের চিন্তাধারার কয়েকটি মূল নীতিমালা সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। তার ওই বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ তুলে ধরছি এখানে:

 

মরহুম ইমাম খোমেনীর ব্যক্তিত্ব ও চিন্তাধারাকে বিকৃত করার বা অস্পষ্ট রাখার মারাত্মক বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, ইমামকে কেবল এক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখা ঠিক নয়। তার মতে তিনি ছিলেন ইরানি জাতির এক মহা-আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক এবং একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক মতাদর্শের প্রতিষ্ঠাতা। ইরানি জাতি তার এই আদর্শকে মেনে নিয়েছে। আর এ আদর্শের পথে চলা অব্যাহত রাখার জন্য মরহুম ইমাম খোমেনীকে ভালভাবে চেনা জরুরি। 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মতে ইমাম খোমেনী (র.)'র চিন্তাদর্শের প্রথম মূলনীতি হল খাঁটি মুহাম্মাদী ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করা ও মার্কিন ইসলামকে নাকচ করে দেয়া। ইমামের মতে খাঁটি ইসলাম হল কুরআন ও মহানবীর (সা.) সুন্নাহ-নির্ভর। এ ইসলাম যুগ ও স্থান সম্পর্কিত অভিজ্ঞতার আলোকে স্পষ্ট ধারণার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলোয় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে পরিপূর্ণতা পেয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন ইসলামের কেবল দু'টি শাখা রয়েছে: একটি শাখা হল স্যেকুলার বা ধর্ম-নিরপেক্ষ ইসলাম যা সমাজকে ইসলাম থেকে পৃথক করে এবং অন্যটি হল শুষ্ক-নির্দয় ইসলাম যার ভিত্তি হল গোঁড়ামি বা কুসংস্কারাচ্ছন্ন চিন্তাধারা। ইমাম এ দুটি শাখাকেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। 

 


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এটা স্পষ্ট করেছেন যে বর্তমান বিশ্বে স্যেকুলার ইসলাম ও শুষ্ক-নির্দয় ইসলামের ( যেমন, আইএসআইএল ও তালেবান) অস্তিত্ব রয়েছে এবং আমেরিকাসহ বিশ্বের মোড়ল শক্তিগুলো এই ইসলামকে সমর্থন দিচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যেমন আইএসআইএল’র অপরাধ ও নৃশংসতার বিরোধিতা করছে ঠিক তেমনি আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর ওপর মার্কিন পুলিশের হিংস্র আচরণেরও বিরোধী। একইসঙ্গে ইরান গাজায় ইহুদিবাদীদের জুলুম ও অবিচার এবং বাহরাইনে জনগণের ওপর দমন-পীড়ন ও ইয়েমেনে বোমা বর্ষণ তথা আগ্রাসনের বিরোধী। 

 


ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মতে ইমাম খোমেনী (র.)'র চিন্তাদর্শের দ্বিতীয় মূলনীতিটি হল খোদায়ী ওয়াদাগুলোর প্রতি দৃঢ়-বিশ্বাস এবং সাম্রাজ্যবাদী ও বলদর্পী শক্তিগুলোর প্রতি অবিশ্বাস। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, এ নীতির ফলে ইমাম তার বিপ্লবী অবস্থানে অবিচল ও দ্বিধাহীন ছিলেন যদিও তিনি জানতেন যে পরাশক্তিগুলো এর ফলে ক্রুদ্ধ হবে; কিন্তু তিনি খোদায়ী শক্তি ও খোদায়ী সাহায্যের ওপর ভরসা করতেন। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন মু'মিনদের এই ওয়াদা দিয়েছেন যে যারা আল্লাহর দ্বীনের সাহায্য করবে তিনি তাদের সাহায্য করবেন। মহান আল্লাহ সুরা মুহাম্মাদের সপ্তম আয়াতে এ প্রসঙ্গে বলেছেন: হে ঈমানদাররা! তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য কর তাহলে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পদক্ষেপগুলোকে সুদৃঢ় করবেন।  

 


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এ প্রসঙ্গে আরও বলেছেন, অন্যদিকে যারা আল্লাহর এই ওয়াদায় বিশ্বাসী নয় আল্লাহ তাদেরকে অভিশাপ দেন এবং তাদের স্থান জাহান্নামে হবে বলে উল্লেখ করেছেন।  

 


(সুরা ফাতহের ষষ্ঠ আয়াত- তিনি কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসী নারী এবং অংশীবাদী পুরুষ ও অংশীবাদিনী নারীদেরকে শাস্তি দেন, যারা আল্লাহ সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করে। তাদের জন্য মন্দ পরিণাম। আল্লাহ তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাদেরকে অভিশপ্ত করেছেন। এবং তাহাদের জন্যে জাহান্নাম প্রস্তুত রেখেছেন। তাদের প্রত্যাবর্তন স্থল অত্যন্ত মন্দ।) 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মতে ইসলামী বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনী (র.) জনগণের শক্তির প্রতি আস্থাশীল ছিলেন ও এই শক্তিকে ব্যাপক গুরুত্ব দিতেন এবং সরকারি ক্ষমতা জোরদারের বা কেন্দ্রীভূত করার বিরোধিতা করতেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, সেই দিনগুলোতে কোনো এক ভুল ধারণার ভিত্তিতে দেশের সমস্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সরকারের ওপর ন্যস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ইমাম এ বিষয়ে বার বার সতর্ক করতেন। ইমাম খোমেনী (র.) অর্থনৈতিক, সামরিক, দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠন এবং প্রচারের বিষয়ে ও এসবেরও ওপরে দেশের নানা নির্বাচনের বিষয়ে জনগণের ওপর আস্থাশীল ছিলেন। ইমাম খোমেনী (র.) দশ বছর ইরানের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় নেতা ও শাসক ছিলেন। এই দশ বছরে দেশটিতে অনুষ্ঠিত হয় ১০টি নির্বাচন। আর এ থেকেই জনগণের প্রতি ইমামের গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। অথচ এই ১০ বছরের মধ্যে ৮ বছরই চাপিয়ে দেয়া এক অসম যুদ্ধে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে ইরানকে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে যাতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এক দিনও দেরি করা না হয় সে বিষয়ে অশেষ জোর দিতেন তিনি। ফলে নির্বাচনগুলো যথাসময়েই হয়েছে।

 

 


ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মতে সামাজিক ন্যায়-বিচারের প্রতি বিশ্বাস, দুর্বল ও বঞ্চিতদের প্রতি সহায়তা এবং প্রাসাদ-তুল্য ভবনে থাকা ও বিলাসী জীবন যাপনের বিরোধিতা ছিল ইমাম খোমেনী (র.)'র আরেকটি মূলনীতি। ইমাম স্মরণ করিয়ে দিতেন যে দরিদ্ররাই নানা অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে তাদের উপস্থিতির মাধ্যমে ও (তারাই বিপ্লবে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে)। তারাই বিপজ্জনক নানা ময়দানে উপস্থিত হয়েছে হত-দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও এবং দারিদ্রের বিষয়ে তারা প্রতিবাদও করছে না!

 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর মতে, বিশ্বের ওপর মোড়লীপনা করতে অভ্যস্ত দাম্ভিক শক্তিগুলোর বিরোধিতা করা ছিল ইমাম খোমেনী (র.)'র অন্যতম মূল নীতি। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ইমাম দাম্ভিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সখ্যতা রাখতেন না এবং মার্কিন সরকারকে বড় শয়তান বলে উল্লেখ করা ছিল ইমামের অভিনব সৃষ্টিশীলতা। আপনি যখন কোনো প্রতিষ্ঠানকে শয়তান বলে মনে করবেন তখন আপনার আচরণ ও অনুভূতি তার প্রতি কেমন হবে তা স্পষ্ট। ইমাম জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মার্কিন সরকারকে এমনই মনে করতেন ও তা উল্লেখও করতেন। (উল্লেখ্য, সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তিগুলোকে দাম্ভিক শক্তি বলে উল্লেখ করা ও নিজের ইসলামী আন্দোলনকে দাম্ভিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই বলে উল্লেখ করাও ছিল ইমামের অনন্য সৃষ্টিশীলতা যার ভিত্তি ছিল পবিত্র কুরআনের বাণী।)  

 


ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দৃষ্টিতে জাতির স্বাধীনতায় বিশ্বাস ও আধিপত্যকামীতা প্রতিরোধ ছিল ইমাম খোমেনী (র.)'র অন্যতম মূলনীতি। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এ প্রসঙ্গে বলেছেন, মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে যখন সম্মান দেখানো হচ্ছে তখন একটি দেশের তুলনায় একটি জাতির স্বাধীনতা বিজাতীয়দের ও বিরোধীদের মোকাবেলায় কেনো সম্মানিত হবে না?  

 


মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন, 'আল্লাহ কখনও ঈমানদারদের ওপর কাফিরদের কর্তৃত্বের পথ খোলা রাখেননি।' মুসলমানদের স্বাধীনতা নির্ভর করে কাফিরদের প্রতি আস্থা না রাখার মধ্যে এবং তাদের কর্তৃত্ব ও অভিভাবকত্ব মেনে না নেয়ার মধ্যে। ( কুরআনের দৃষ্টিতে কাফিরদের সঙ্গে মুসলমানদের এমন কোনো সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও অন্য যে কোনো চুক্তি করা অবৈধ যা তাদের ওপর কাফিরদের কর্তৃত্ব বা কাফিরদের প্রতি নির্ভরশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। )  

 


মরহুম ইমাম খোমেনী সব সময়ই জাতীয় ঐক্য ও ইসলামী ঐক্যের ওপর জোর দিতেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এ প্রসঙ্গে বলেছেন, "ইমাম এরই আলোকে শিয়া-সুন্নি মাজহাবগত বিভেদ বা জাতিগত বিভেদসহ বিভেদকামী যে কোনো শত্রুদের নীতি বলে মনে করতেন এবং তিনি জাতীয় ঐক্যের ওপর নজিরবিহীন জোর দিতেন। মার্কিন সরকার যেসব সুন্নিকে সহায়তা দিচ্ছে ও যেসব শিয়াকে লন্ডন থেকে বিশ্বের নানা অঞ্চলে মদদ দেয়া হচ্ছে তারা উভয়ই শয়তানের ভাই। তারা উভয়ই আমেরিকা, পাশ্চাত্য ও সাম্রাজ্যবাদীদের অনুচর।" 

 

 

রেডিও তেহরান/এএইচ

 

 

 

 

 

২৭ মে (রেডিও তেহরান): ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন- দেশ ও জাতির কল্যাণ নিশ্চিত করতে পরমাণু আলোচনায় রাষ্ট্রীয় দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখতে হবে। আজ (বুধবার) ইরানের সংসদ স্পিকার আলী লারিজানি ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

 

সর্বোচ্চ নেতা বলেন-“পরমাণু ইস্যুতে প্রকাশ্যে যেসব ঘোষণা দিয়েছি সেটাই হলো রাষ্ট্রের অবস্থান। মৌখিক ও লিখিতভাবে কর্মকর্তাদেরকে এ অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।" ইরানের পরমাণু আলোচক দলের সদস্যদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আমাদের ভাইয়েরা পরমাণু ইস্যুতে কাজ করছে, চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আসলেই তারা এ ক্ষেত্রে ঘাম ঝরাচ্ছে। তবে দেশ ও জাতির কল্যাণ নিশ্চিত করতে তাদেরকে অবশ্যই রাষ্ট্রীয় অবস্থানে অটল থাকতে হবে।”

 

অভ্যন্তরীণ শক্তি ও সামর্থ্যকে কাজে লাগানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেছেন, সবার এটা বিশ্বাস করা উচিত যে জাতীয় সামর্থ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হলে সহজেই পরমাণু সমস্যার সমাধান হবে।#

 

তেহরান রেডিও/এসএ/২৭

 

 

 

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, তার দেশের জনগণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি, সংহতি ও গঠনমূলক যোগাযোগ চায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সহিংসতা ও চরমপন্থার যুগ শেষ হয়ে গেছে।”

 

তেহরান প্রদেশের শাহরিয়ার শহরে এক সমাবেশে ইরানের প্রেসিডেন্ট এসব কথা বলেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তি এবং আলোচনার মাধ্যমে ইরান চলমান সংকটের সমাধান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যকে অনিরাপদ করে তোলার বিষয়ে শত্রুদের ষড়যন্ত্র নস্যাত করতে হলে দেশের ভেতরে যেমন ঐক্য ও সংহতি দরকার তেমনি আঞ্চলিক প্রতিরোধ প্রয়োজন।

 

ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যকার চলমান পরমাণু আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ইরানি আলোচক দল নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে; এ ধরনের ভূমিকা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।#

 

রেডিও তেহরান/এসআই/২৬

২৪ মে (রেডিও তেহরান): ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, তার দেশ কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে পশ্চিমা অন্যায় নিষেধাজ্ঞা অপসারণের চেষ্টা করছে। শান্তিপূর্ণ পরমাণু আলাচনার মাধ্যমে এ প্রচেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

পশ্চিমা কয়েকটি দেশ ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দেয়া নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট রুহানি আজ (রোববার) বলেন, এসব নিষেধাজ্ঞা অন্যায়ভাবে আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু ইরান তা কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে সরানোর চেষ্টা করছে।   

 

ইরানের খুররম শহর মুক্তির ৩৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট রুহানি এসব কথা বলেছেন। ইরানের ওপর ইরাকের চাপিয়ে দেয়া আট বছরের যুদ্ধের সময় ইরাকি বাহিনী খুররম শহর দখল করে নেয় এবং পরে ইরানি বাহিনী শহরটি মুক্ত করে।#

 

রেডিও তেহরান/এসআই/২৪

মানবজাতির মুক্তির দূত বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)’র নবুওয়ত ও রেসালাত-প্রাপ্তির দিবস মানবজাতির ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও উৎসব। ন্যায়বিচার, জ্ঞান, সাম্য ও উন্নত নৈতিক এবং মানবীয় গুণগুলোর মাধ্যমে মানবজাতিকে পূর্ণতার চরম শিখরে পৌঁছে দেয়াই ছিল তাঁর এই মহান মিশনের লক্ষ্য। শেষ নবীর (সা.) সেই মিশনের গুরুত্ব আজও এতটুকু ম্লান হয়নি এবং তা কখনও ম্লান হবে না। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বিশ্বনবীর নবুওয়ত-প্রাপ্তি দিবস উপলক্ষে গত ১৬ মে রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে আধুনিক বা নব্য-জাহিলিয়্যাত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তার ওই বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ তুলে ধরছি: 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মতে বিশ্বনবী (সা.)’র নবুওয়তি মিশন শুরুর বার্ষিকী কেবল মুসলমানদের জন্যই নয়, গোটা মানবজাতির জন্যই সবচেয়ে বড় উৎসব। সব যুগেই ওই মহান মিশনের শিক্ষাগুলো পর্যালোচনা করা এই উৎসব পালনের লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে অজ্ঞতা মোকাবেলাই ছিল নবুওয়্যতি মিশনের লক্ষ্য এবং অজ্ঞতা তখন কেবল আরবদের মধ্যে নয় রোমান ও ইরানি সাম্রাজ্যসহ অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছিল।

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মতে, জাহিলিয়্যাত বা অজ্ঞতার অর্থ কেবলই জ্ঞানের অনুপস্থিতি নয়। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ব্যাপক অর্থে অজ্ঞতা হল মানব সমাজের ওপর কুপ্রবৃত্তি ও ক্রোধের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা যার ফলে মানুষ হারিয়ে ফেলে মহৎ মানবীয় গুণ ও তার ওপর কর্তৃত্ব করে অনৈতিক নানা স্বভাব। 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ইসলাম-পূর্ব মানব সমাজ বা জাহিলি যুগের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘ইসলাম-পূর্ব মানব সমাজের ওপর ছিল একদিকে লাগামহীন কুপ্রবৃত্তি ও যৌন প্রবৃত্তির মত নানা অশুভ ইচ্ছার কর্তৃত্ব এবং অন্যদিকে ছিল এইসব অশুভ ইচ্ছার দাস শ্রেণীর মানুষের মাধ্যমে রক্তপাত, নৃশংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের সর্বোচ্চ তাণ্ডব, তারা অন্যদের নিরপরাধ নারী ও শিশুকে তো দূরের কথা নিজ শিশু সন্তানদেরও দয়া করতো না, অর্থাৎ তারা নিজ শিশুদেরকেও হত্যা করত।’

 

তিনি আরও বলেছেন, ‘ইসলাম এইসব নোংরা বাস্তবতার তথা মানব জীবনের ওপর নানা অশুভ ইচ্ছার কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং সারা বিশ্বকে সতর্ক করছে।–আর এটাই ইসলামের বাণী।’ 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মতে, বর্তমান যুগেও অজ্ঞতা বিরাজ করছে। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, আজ পাশ্চাত্যে যৌন অনাচারের কামনাকে ‘মানবীয় ঝোঁক’ বলে সাফাই দেয়া হচ্ছে। যখন প্রশ্ন করা হয় কেনো সমকামিতাকে উৎসাহ দিচ্ছ, ওরা বলে, এটাতো ‘মানবীয় ঝোঁক’। যারা এ ধরনের যৌন কুরুচিসহ নানা ধরনের কুরুচির মধ্যে কোনো লাল-সীমানারও ধার ধারে না তারা নৃশংসতার ক্ষেত্রেও পুরোপুরি লাগামহীন, ফলে যে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করতে ও জাতিগুলোর ওপর গণহত্যা এবং দমন-পীড়ন চাপিয়ে দিতে দ্বিধান্বিত হয় না মোটেই।–আর এটাই হচ্ছে আধুনিক অজ্ঞতার যুগ। 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার  মতে, প্রাচীন অজ্ঞতার যুগ ও বর্তমান অজ্ঞতার যুগের মধ্যে পার্থক্য হল আধুনিক অজ্ঞতা বা জাহিলিয়্যাত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সজ্জিত, ফলে বিজ্ঞান মানুষের মুক্তির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে না, বরং মানুষের দুর্ভোগের মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।  তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন,  বর্তমান যুগে প্রাচীন অজ্ঞতাকেই হাজার গুণ বিপজ্জনক করে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মতে ইসলামও বর্তমান যুগে সুসজ্জিত হয়েছে ও তা শত্রুদের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে সক্ষম, তবে এ জন্য আগে দূরদর্শিতা অর্জন করতে হবে এবং এরপর মুসলমানদের দৃঢ়-সংকল্প ও  অধ্যবসায় বা সাধনা জরুরি। 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুসলিম বিশ্বের, বিশেষ করে সিরিয়া, ফিলিস্তিন, ইরাক, ইয়েমেন, লিবিয়া ও আফগানিস্তানের নানা সংকট প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা ও মুসলিম ভাইদের হত্যা করাসহ অনেক সংকট বিরাজ করছে। আল্লাহর ব্যাপারে উদাসীন কয়েকটি গোষ্ঠী বড় বড় দাম্ভিক শক্তিগুলোর ষড়যন্ত্র অনুযায়ী কাজ করছে। এই শক্তিগুলোর শীর্ষে রয়েছে মার্কিন সরকার। এই সরকার নিজ স্বার্থ রক্ষার নামে ময়দানগুলোতে নামছে এবং যা খুশি তাই করছে-সেই কুপ্রবৃত্তি ও ক্রোধের ভিত্তিতে। অর্থাৎ নিরপরাধ মানুষদের হত্যা করছে এবং অসৎ গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দিচ্ছে।’ 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মতে সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধের মার্কিন দাবি মিথ্যা, বরং মার্কিন সরকারই সবচেয়ে বিপজ্জনক ও নির্দয় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো সৃষ্টি করেছে। আইএসআইএল সৃষ্টিতে সবচেয়ে প্রধান ভূমিকা রাখার কথা মার্কিন সরকারই স্বীকার করেছে। ওরাই এইসব অপরাধীকে অস্ত্র ও অর্থ বা ডলার দিচ্ছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাঁর ভাষায় লাগামহীন কুপ্রবৃত্তি ও ক্রোধের ফলে সৃষ্ট বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতিকে অজ্ঞতা বা জাহিলিয়্যাত হিসেবে অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে জেগে ওঠা ও রুখে দাঁড়ানোকে মুসলিম উম্মাহর দায়িত্ব বলে মনে করেন। তিনি বলেছেন, ‘সাম্রাজ্যবাদী দাম্ভিক শক্তিগুলো তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে নানা গোষ্ঠীকে উস্কে দিয়ে পরস্পরকে যুদ্ধে লিপ্ত হতে বাধ্য করছে এবং এভাবে অস্ত্র কোম্পানিগুলোর মালিকের পকেট অর্থে ভরপুর করছে ও পাশ্চাত্যের প্রায় দেউলিয়া হয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে। তাই আমাদেরকে জেগে উঠতে হবে।’ 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব স্থানীয় দেশ ও জাতিগুলোর ওপরই বর্তায়, এ বিষয়ে নাক গলানোর কোনো অধিকার মার্কিন সরকারের নেই। মার্কিন সরকার এ অঞ্চলের নিরাপত্তা চায় না, বরং নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য এ অঞ্চলের কোথাও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে তাতে জড়িতদের সহায়তা করে। ইয়েমেনে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টিতে মার্কিন সরকারের মদদ যোগানোই এর প্রমাণ। 

 

ইসলামী নীতিমালার আলোকে ইরান সব সময়ই সন্ত্রাসের বিরোধী দেশ হিসেবে ইয়েমেন, ফিলিস্তিন ও বাহরাইনের মজলুম জাতিগুলোকে নিজের সাধ্য অনুযায়ী সহায়তা করে যাবে বলে তিনি জানান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা স্মরণ করিয়ে দেন যে ইসলামের নীতি অনুযায়ী পবিত্র রজব মাসে যুদ্ধ করা হারাম, এমনকি মক্কার মুশরিকরাও রজব মাস এসে গেলে যুদ্ধ বন্ধ করত, কিন্তু মক্কার সেই মুশরিকদের চেয়েও নিকৃষ্ট লোকেরা ইয়েমেনের পরিবারগুলোকে শোকার্ত করছে। (ইসলামের নীতি অনুযায়ী রজব, মুহররম, জিলকদ ও জিলহজ মাসে-আক্রান্ত না হলে যুদ্ধ করা হারাম। হযরত ইব্রাহিম-আ.’র যুগ থেকে এই বিধান পালন শুরু হয়েছিল বলে পবিত্র কুরআনের অনেক মুফাসসির মনে করেন। বিশ্বনবী-সা.’র আগে মক্কার মুশরিকরা এই বিধান মেনে চলত, যদিও তারা কখনও কখনও নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী এই মাসগুলোকে এগিয়ে বা পিছিয়ে নিত ) 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার বক্তব্যে এটাও উল্লেখ করেছেন যে শত্রুরা মুসলিম দেশগুলোকে পরস্পরের প্রতি ভীত করে আসল শত্রুর ব্যাপারে তাদেরকে উদাসীন করতে চায়, অথচ এ অঞ্চলের ও মুসলিম বিশ্বের প্রধান শত্রু  হল সাম্রাজ্যবাদী দাম্ভিক শক্তিগুলো, ইহুদিবাদীরা ও তাদের ওপর নির্ভরশীল সরকারগুলো। তাঁর মতে এইসব নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধই হল অজ্ঞতা বা জাহিলিয়্যাতকে মোকাবিলা করা। নব্য-জাহিলিয়্যাত হল নির্মম, নৃশংস, দয়ামায়াহীন এবং নানা হাতিয়ারে সজ্জিত। তাই এর মোকাবেলা করতে হবে অত্যন্ত সতর্ক হয়ে। ইরানি জাতি এর মোকাবিলা করেছে এবং তা আবারও করবে। 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর মতে ইসলামী জাগরণকে যদিও সাময়িকভাবে দমন করা হয়েছে, কিন্তু জাগরণ ও অন্তর্দৃষ্টিকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘ইসলামী উম্মাহর মিশন বা রেসালাতকে ভুলে যাওয়া ও মুসলিম উম্মাহর শক্তিকে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। সৌভাগ্যবশত মুসলিম উম্মাহর শক্তি অনেক বেশি। তাদের এই অবস্থার কারণ হল শত্রুরা বহু বছর ধরে সর্বশক্তি দিয়ে এ অঞ্চলের জাগরণ ও প্রতিরোধের শক্তিকে দমন করতে চেয়েছে, কিন্তু সক্ষম হয়নি, তারা প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর কেন্দ্র ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে ৩৫ বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে আসছে, কিন্তু মহান আল্লাহর শোকর তারা ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও পরাজিত হবে।’# 

 

রেডিও তেহরান/এএইচ

 

 

 

২১ মে (রেডিও তেহরান): ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, তার দেশের বিজ্ঞান এবং সামরিক স্থাপনা পরিদর্শনের শর্তে তেহরান ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো পরমাণু চুক্তি সই করবে না। 

 

ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে পরমাণু চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের সামরিক স্থাপনা পরিদর্শন করতে দেয়া হবে না বলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী গতকাল (বুধবার) যে বক্তব্য দিয়েছেন সে প্রসঙ্গে ড. রুহানি বলেন,তার প্রশাসন সর্বোচ্চ নেতার আদেশকে অত্যন্ত কঠোরভাবে মেনে চলে।

 

প্রেসিডেন্ট রুহানি আজ (বৃহস্পতিবার) পূর্বাঞ্চলীয় আজারবাইজান প্রদেশে দেয়া এক বক্তৃতায় বলেন, “ইসলামি বিপ্লবের নেতার কথাই হচ্ছে ইরানি প্রশাসনের জন্য আইন। আমরা ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে কখনো এমন চুক্তিতে সই করব না যা বিদেশিদেরকে ইরানের বিজ্ঞান ও সামরিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ করে দেবে।”

 

তিনি আরো বলেন,গবেষণা এবং উন্নয়ন আমাদের জন্য রেড লাইন এবং পরমাণু আলোচকরা এ ব্যাপারে ভালোভাবেই অবগত রয়েছেন।

 

গতকাল সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন,তার দেশের সামরিক স্থাপনায় বিদেশিদের পরিদর্শন এবং ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীদের সঙ্গে সাক্ষাতের নামে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ দেয়া হবে না। সর্বোচ্চ নেতা আরো বলেছেন, শত্রুদের মনে রাখা উচিত- ইরানি জাতি এবং কর্মকর্তারা কখনই বাড়তি দাবি মেনে নেবেন না এবং কোনো প্রকার হুমকি বরদাস্ত করবে না।#

 

রেডিও তেহরান/এমবিএ/এসআই/২১