এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla

২৬ এপ্রিল (রেডিও তেহরান): ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের জনগণের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। গতকাল ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প দেশটিতে আঘাত হেনেছে এবং এরই মধ্যে মৃতের সংখ্যা এক হাজার আটশ’ ছাড়িয়ে গেছে। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

 

নেপালের প্রেসিডেন্ট রাম বারান যাদবের কাছে পাঠানো বার্তায় ভূমিকম্পে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন প্রেসিডেন্ট রুহানি। একই সঙ্গে ভূমিকম্পে স্বজনহারা পরিবারগুলোর দুঃসহ শোক সহ্য করার মতো ধৈর্য কামনা করেন তিনি।

 

এদিকে, এর আগে নেপাল সরকারের প্রতি পাঠানো বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারজিয়া আফখাম ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ইরানের গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

 

নেপালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে ত্রাণ পাঠানো ও সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে ঘোষণা করেছে ইরান। এ ছাড়া,  ত্রাণ চাহিদা জানানোর জন্য এরই মধ্যে কাঠমান্ডুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।#

 

রেডিও তেহরান/সমর/২৬ 

২১ এপ্রিল (রেডিও তেহরান): ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর হাসান রুহানি ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এ অঞ্চলে নিজের লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই রিয়াদ হামলা চালাচ্ছে ইয়েমেনে।


এশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্যে তেহরান ত্যাগের প্রাক্কালে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।


হাসান রুহানি ইয়েমেনে সৌদি হামলাকে কাণ্ডজ্ঞানহীন পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, একটি দরিদ্র দেশের অবকাঠামো ধ্বংস করা এবং শিশু, নারী ও পুরুষদের হত্যার এ ছাড়া অন্য কী অর্থ থাকতে পারে যে সৌদি সরকার তার ভারসাম্য হারিয়েছে?


তিনি বলেন, রিয়াদ ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও উত্তর আফ্রিকায় তার আশাগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং এখন এ অঞ্চলের আরো একটি দেশে বোমা ফেলে নিজের ব্যর্থতাগুলো পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।


জনাব রুহানি সৌদি হামলার কঠোর নিন্দা জানাতে এবং ইয়েমেন সংকট সমাধানে জাতিসংঘে উত্থাপিত ইরানি প্রস্তাবকে সমর্থন দিতে বিশ্ব-সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রুহানি ইয়েমেনে অবিলম্বে যুদ্ধ-বিরতি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে বলেছেন, ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ কোনো ফল বয়ে আনবে না এবং দেশটির সংকট কেবল স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান হতে পারে।


ইয়েমেন সংকট সমাধানের লক্ষ্যে ইরান গত সপ্তাহে জাতিসংঘে চার দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে।


পরমাণু বিষয়ে ৬ জাতি গ্রুপের সঙ্গে ইরানের একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তা সব দেশের জন্যই কল্যাণকর হবে বলে ইরানের প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেছেন। # 

 

রেডিও তেহরান/এএইচ/২১

 

 

 

 

১৯ এপ্রিল (রেডিও তেহরান): ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী তার দেশের বিরুদ্ধে ‘নির্লজ্জ’ সামরিক হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, তার দেশ সব সময় আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জাতীয় সেনাবাহিনী দিবস উপলক্ষে আজ (রোববার) তেহরানে পদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

 

সর্বোচ্চ নেতা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে ইরানের সেনাবাহিনীর ইতিবাচক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে ইরান যে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছে তাতে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান রয়েছে। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, ইরানি জনগণ প্রমাণ করেছে তারা যেকোনো মূল্যে দেশ রক্ষা করতে জানে। যেকোনো হুমকির মোকাবিলায় ইরানি জনগণের ঐক্য ও সংহতিরও প্রশংসা করেন তিনি।

 

সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ইরান কখনো আঞ্চলিক বা প্রতিবেশী কোনো দেশের ওপর আগ্রাসন চালায় নি এবং ভবিষ্যতেও চালাবে না। কিন্তু এইসঙ্গে সর্বশক্তি দিয়ে যেকোনো হুমকির মোকাবিলা করবে। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, কিছু দেশ ও গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত যে দাবি করছে তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তিনি বলেন, যারা নারী ও শিশুসহ বেসামরিক লোকজনকে টার্গেট করে হামলা চালায় তাদের আমরা ঘৃণা করি। তারা ইসলাম ও মানবতার সবরকম নীতি উপেক্ষা করছে। কিন্তু তারপরও অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা হস্তক্ষেপ করতে চাই না।

 

মার্কিন সরকার ইরানকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরার জন্য এদেশের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মিথ্যাচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি । সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ইরান নয় বরং মার্কিন সরকারই অন্য দেশের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে ও বিভিন্ন দেশে হামলা চালায়।#

 

রেডিও তেহরান/এমআই/১৯

১৮ এপ্রিল (রেডিও তেহরান): ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি মধ্যপ্রাচ্যে নয়া ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইয়েমেনের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা আগ্রাসী শক্তিগুলোর জন্য অপমান বয়ে আনবে। আজ (শনিবার) রাজধানী তেহরানে  ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

 

প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, তার দেশের সেনাবাহিনী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে এবং অসহায় মানুষকে রক্ষা করতে চায়। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের উচিত ইরানের সেনাবাহিনীর কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের উপর হামলা না চালানো।  নিরপরাধ মানুষের উপর হামলা করে কেউ সম্মানিত হতে পারেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইয়েমেনে সামরিক আগ্রাসনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জনগণের মধ্যে সৌদি আরব সম্পর্কে তীব্র বিরক্তি তৈরি হয়েছে। আগ্রাসী শক্তিকে তার কর্মের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়াই সৌদি আরব গত ২৬ মার্চ প্রতিবেশী দেশ ইয়েমেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। পরবর্তীতে আমেরিকা ও তার কয়েকটি মিত্র দেশ ইয়েমেনে সৌদি হামলায় যোগ দেয়। এ পর্যন্ত এসব হামলায় ২,৬০০ জনেরও বেশি নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছে।#

 

রেডিও তেহরান/এমআই/১৮

১৬ এপ্রিল (রেডিও তেহরান): ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, তার দেশের সঙ্গে চূড়ান্ত পরমাণু চুক্তির প্রয়োজন তেহরানের চেয়ে পাশ্চাত্যের বেশি। তিনি আজ ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় গিলান প্রদেশের একটি জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে আরো বলেছেন, আমরা একথা বলতে চাই না যে পরমাণু চুক্তির কোনো প্রয়োজন আমাদের নেই। প্রত্যেকেরই এ চুক্তি প্রয়োজন। এ চুক্তির প্রয়োজন ছয় জাতিগোষ্ঠীর কাছে তেহরানের চেয়ে বেশি।

 

জাতিসংঘের পাঁচ স্থায়ী সদস্যদেশ ও জার্মানিকে নিয়ে গঠিত ছয় জাতিগোষ্ঠী গত ২ এপ্রিল ইরানের সঙ্গে একটি অভিন্ন বোঝাপড়ায় উপনীত হয়েছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে দু’পক্ষ ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে একটি সার্বিক ও চূড়ান্ত চুক্তি সই করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

প্রেসিডেন্ট রুহানি এ সম্পর্কে বলেন, কিন্তু আমরা যদি চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হই তাহলে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আগের মতো বহাল রাখা যাবে না। কারণ তারা জানে এর আগেও নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি বহাল রাখা যায়নি এবং ভবিষ্যতেও যাবে না। এ ছাড়া, চুক্তি না হলে তা কারো জন্যই ভালো হবে না। ড. রুহানি বলেন, তার দেশ যে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায়নি সে বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য তেহরান চুক্তি সই করতে চায়। এরইমধ্যে পাশ্চাত্য ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির অধিকার মেনে নিয়েছে এবং এটি তেহরানের জন্য একটি বড় ধরনের অর্জন।#

 

রেডিও তেহরান/এমআই/১৬

১৬ এপ্রিল (রেডিও তেহরান): ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ইয়েমেনের নিরস্ত্র জনগণের ওপর হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে সৌদি সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তিনি ইরানের গিলান প্রদেশ সফরের প্রথম দিনে (বুধবার) এই দাবি জানিয়েছেন।


ড. রুহানি বলেছেন, দেশগুলোর মধ্যে সংলাপ ও জনগণের রায়ের প্রতি সম্মানই শান্তি ও নিরাপত্তা বয়ে আনে এবং জেনে রাখুন, মজলুমদের ওপর জঙ্গি বিমান থেকে বোমা ফেলে কোনো লক্ষ্য অর্জন করা যাবে না।


তিনি প্রশ্ন করেন, 'কেন মার্কিন সরকারের উপহার দেয়া বিমানগুলো থেকে ইয়েমেনের মজলুম জনগণের ওপর বোমা ফেলছেন? কেনো একটি দুর্বল দেশের অবকাঠামো ধ্বংস করছেন এবং নারী ও শিশুদের হত্যা করছেন? আপনারা কি এ অঞ্চলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চান? আগে ডলার দিয়ে, আর এখন বোমা ফেলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন?' 


ইরান মধ্যপ্রাচ্যে নিজের কর্তৃত্ব ও সুন্নি মুসলমানদের ওপর শিয়া মুসলমানদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে না, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা চায় বলে উল্লেখ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা চাই এ অঞ্চলের জাতিগুলো মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। ইরানের কাছে শিয়া-সুন্নি, তুর্কি, আরব, বালুচ ও ফার্সি-ভাষীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।


ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানি আরও বলেছেন, 'আজ বিশ্বের সব শক্তি ও এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্টও স্বীকার করেছেন যে, ইরানের ধর্ম-ভিত্তিক গণ-শাসন ব্যবস্থার প্রকৃতিকে বদলে দেয়া যাবে না। গত ১৬ মাসের পরমাণু আলোচনায় বিশ্ব এই বাস্তবতা স্বীকার করেছে যে, ইরান উন্নয়ন, জ্ঞান-বিজ্ঞান, স্থায়ী শিল্পের শীর্ষস্থান বা চূড়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।' বিশ্বের বড় বড় শক্তির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ও জনগণের সহায়তা নিয়ে ইরান সম্মানজনক (পরমাণু) চুক্তিতে উপনীত হবে বলে তিনি জোর আশা প্রকাশ করেন। 


প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, 'মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা কি চান, উগ্রবাদী মার্কিনীরা কি পেতে চান তার সঙ্গে ইরানের সরকার ও জাতির কোনো সম্পর্ক নেই, আমরা আমাদের সদিচ্ছার জবাবে মার্কিন সরকারের মধ্যে সদিচ্ছা দেখতে চাই; মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ আমাদের আলোচনার প্রতিপক্ষ নয়, বরং পাঁচ যোগ এক নামের ৬ জাতি গ্রুপই হল এই আলোচনায় আমাদের প্রতিপক্ষ। এই ৬ জাতি গ্রুপ ও মার্কিন সিনেট আর প্রতিনিধি পরিষদ জেনে রাখুক সমঝোতার ফলে যদি নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেয়া হয় তাহলে কোনো চুক্তিই হবে না, মহান ইরানি জাতির ওপর নিষেধাজ্ঞাগুলো বাতিল না করা পর্যন্ত আমরা পরমাণু চুক্তি সই করবো না।'# 

 

রেডিও তেহরান/এএইচ/১৬