এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla

জোবায়ের আল মাহমুদ: বড় এক বিপদ থেকে রক্ষা পেল কানাডা ও তার জনগণ। সম্প্রতি কানাডার ৪২তম জাতীয় নির্বাচনে স্টিফেন হার্পারের লজ্জাজনক বিদায়ের মধ্য দিয়ে কানাডা এবারের মত রক্ষা পেল। সারা পৃথিবীর মানুষ যে কানাডাকে একটি উদার-গণতান্ত্রিক-উন্নত-বৈচিত্র্যপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে জানে; সে কানাডা ধ্বংস হয়ে যেত– যদি এবার আবার স্টিফেন হার্পার ক্ষমতায় আসত। কানাডার ভাগ্য ভালো– জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করেনি।  

 

গত ১৯ অক্টোবর কানাডায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতা করেছে প্রধান তিনটি দল- ক্ষমতাসীন ‘কনজারভেটিভ পার্টি’, বিরোধী ‘লিবারেল পার্টি’ এবং বামপন্থী ‘নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি’ (এনডিপি)। কনজারভেটিভ পার্টি’র নেতৃত্বে ছিলেন সদ্য-বিগত নয় বছরের প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পার, এনডিপি’র নেতৃত্বে ছিলেন টম মুলকেয়ার এবং লিবারেল পার্টি’র নেতৃত্বে ছিলেন জাস্টিন ট্রুডো। তিনটি দলের নির্বাচন পরবর্তী পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি স্বাভাবিকভাবেই তিন ধরণের ছিল। যেমন, হার্পারের শ্লোগান ছিল– ‘নিরাপদ কানাডা জন্যে প্রয়োজন প্রমাণিত নেতৃত্ব’; মুলকেয়ারের শ্লোগান ছিল –‘পরিবর্তনের জন্যে আমরা তৈরি’; এবং ট্রুডোর শ্লোগান ছিল– ‘প্রয়োজন সত্যিকারের পরিবর্তন’। শ্লোগান ছাড়াও, অর্থনীতি, পরিবেশ ও সম্পদ, বৈদেশিক নীতি ও নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা, অভিবাসী ও বেকার সমস্যাসহ সব বিষয়েই তিনটি দলের ভিন্ন ভিন্ন পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি ছিল। এসব পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির সত্য-মিথ্যা নির্ণয়, কার্যকারিতা যাচাই এবং সম্ভাবনা জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্যে তারা কমপক্ষে পাঁচটি জাতীয় বিতর্ক ও টিভি বিতর্কে অংশ নেয়। সাধারণত এসব বিতর্ক দেখে জনগণ সিদ্ধান্ত নেন– কাকে তারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।

 

নির্বাচনের ছয় মাস আগ থেকে এই তিন দলের নেতারা তুমুল বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। সংসদ থেকে শুরু করে টিভি-বিতর্ক পর্যন্ত; সবখানে। যদিও সবগুলো বিতর্ক সাধারণত শুরু হয়েছে কানাডার অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তা, বৈদেশিক নীতি ইত্যাদি দিয়ে, কিন্তু শেষ হয়েছে ইসলাম নিয়ে। বিশেষকরে, মুসলিম নারীদের নিকাব নিষিদ্ধ করার বিষয়ে। নির্বাচনের আগের দু’মাস কানাডা নিয়ে আন্তর্জাতিক বড়-বড় সংবাদ মাধ্যমগুলো যত সংবাদ, সম্পাদকীয় এবং টক-শো পরিবেশন করেছে,  অর্ধেকের বেশি ছিল নিকাব নিয়ে বিতর্ক। সদ্য-বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পার ও তার দল কনজারভেটিভ পার্টি শুরু থেকেই ইসলাম বিদ্বেষী ও মুসলিম নারীদের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিলেন। বিপরীতে, জাস্টিন ট্রুডো ও তার দল লিবারেল পার্টি মুসলিম নারীদের স্বাধীনতার পক্ষে, নিকাব পরার অধিকারের পক্ষে এবং কানাডার বৈচিত্র্য সংস্কৃতির পক্ষে ছিলেন। আর বামপন্থী এনডিপি নিজেদের জন্যে মাঝামাঝি একটি অবস্থান বেছে নিয়েছিল। যেহেতু তথাকথিত বাংলাদেশী বামপন্থীদের মত এনডিপি তাদের সততা ও মূল্যবোধের বিসর্জন দেয়নি; ফলে অধিকাংশ বিতর্কে তারা শক্তভাবে নিকাবের পক্ষাবলম্বন করেন।  

 

২৪ সেপ্টেম্বর, কানাডার পাঁচটি রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতারা একটি জাতীয় বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান এবং সদ্য-বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পার বলেন, ‘আমি আবার নির্বাচিত হলে নারীদের নিকাব পরা নিষিদ্ধ করব। কেননা, এটি কানাডার সংস্কৃতির বিপরীত এবং একটি বর্বর প্রথা।’

 

ওই বিতর্কে স্টিফেন হার্পারের কড়া সমালোচনা করেন লিবারেল পার্টির তরুণ নেতা জাস্টিন ট্রুডো। তিনি বলেন, ‘হার্পার নির্বাচনে জয়ী হবার জন্যে একটি খেলায় নেমেছেন। তিনি সংখ্যালঘু মুসলিম নারীদের অধিকার ও স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে নির্বাচনে জয়ী হতে চান। কিন্তু আমি সোজা বলে দিতে চাই, আমি বিশ্বাস করি– সরকার কোনো নাগরিককে তার পোশাকের ব্যাপারে বাধ্য করতে পারে না। আমি অবশ্যই সংখ্যালঘুর পক্ষে আছি এবং নারীদের নিকাব পরার অধিকারের পক্ষে থাকব।’

 

এনডিপি প্রধান টম মুলকেয়ারও সেদিন স্টিফেন হার্পারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন , ‘নিকাব পরার কারণে হার্পার অনেক নারীকে চাকরিচ্যুত করেছেন, এবং অনেকেই নিকাব পরার কারণে কানাডায় চাকরি পাচ্ছেন না।’

নির্বাচনের আগে, এরকম আরো অনেকগুলো জাতীয় বিতর্ক  অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবগুলো বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী হার্পার ছিলেন নারী ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিপক্ষে আর জাস্টিন ট্রুডো ছিলেন নিকাবের পক্ষে।

 

জাতীয় বিতর্কে নামার আগেও নিকাব নিয়ে কানাডার সংসদে কম বিতর্ক হয়নি। ২০১৫-এর ১০ মার্চে, সংসদে দাঁড়িয়ে স্টিফেন হার্পার মুসলিম নারীদের নিকাবকে একটি নারী-বিরোধী প্রথা হিসেবে উল্লেখ করেন।’ তার এ বক্তব্যে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়; বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পরের দিন জাস্টিন ট্রুডো সংসদে দাঁড়িয়ে স্পিকারকে বলেন,  ‘গতকাল প্রধানমন্ত্রী কানাডার নাগরিকদের অধিকার ও স্বাধীনতার বিপক্ষে একটি বিপজ্জনক অবস্থান নিয়েছেন। অর্ধ মিলিয়ন মুসলিম নারী কানাডার নাগরিক। কেন তিনি তাদের পছন্দের বিশ্বাসকে ‘নারী-বিরোধী’ বলেছেন? তিনি কি এর কোনো ব্যাখ্যা করতে পারবেন?’

 

জাস্টিন ট্রুডোর এ প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পার বলেন,  ‘আমি ধর্মীয় বিশ্বাসকে নারী বিরোধী বলিনি। আমি বলেছি নিকাব একটি নারী বিরোধী প্রথা– যা অধিকাংশ মডারেট মুসলিমও বিশ্বাস করে।’ এবার জাস্টিন ট্রুডো আরো কড়া ভাষায় হার্পারের সমালোচনা করে স্পিকারকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কেন বলেছেন – ধর্মীয় স্বাধীনতাকে দমন করা উচিত?’ এর জবাবে হার্পার বলেন,  ‘আমি চাই না কানাডার কোনো মুসলিম নারী তার পরিচয় গোপন করে রাখুক; এমনিতেই মুসলিমরা বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে জড়িত।’

 

কানাডার সংসদে এভাবে নানা সময়ে নিকাবের বিষয়টি উঠে আসে। ক্ষমতার দোহাই দিয়ে স্টিফেন হার্পার ও তার দলের সদস্যরা নানাভাবে ধর্মীয় ও নারী স্বাধীনতা হরণ করতে শুরু করে। কিন্তু বরাবরই এসবের প্রতিবাদ করে লিবারেল পার্টির প্রধান জাস্টিস ট্রুডো।

 

এর আগে, স্টিফেন হার্পার একটি সরকারী আদেশ জারি করে। আদেশে বলা হয়– কানাডার নাগরিকত্বের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে কোনো নারী মুখ ঢেকে আসতে পারবে না। এ আদেশের বিরুদ্ধে, ২০১৫ সালের শুরুতে, জুনেরা ইসহাক নামে এক নারী আদালতে অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নারীদের নিকাব খুলে আসার যে আদেশ সরকার দিয়েছে, তা কানাডার ‘নাগরিক অধিকার সনদ’ (চার্টার রাইটস) এবং ‘বহু সংস্কৃতি আইন’ (মাল্টি কালচারাল অ্যাক্ট) লঙ্ঘন করেছে। কানাডার আদালত জুনেরা ইসহাকের এই মামলা গ্রহণ করেন এবং ৬ ফেব্রুয়ারি কানাডার ফেডারেল কোর্ট এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, নিকাবের বিষয়ে সরকারি বাধ্যবাধকতা কানাডার নাগরিক আইনের পরিপন্থি। আদালত তার রায়ের পক্ষে কয়েকটি যুক্তি প্রদান করেন– 

 

এক. যদি শপথ নেবার সময় মুখ বা ঠোঁটের সঞ্চালন দেখানো আবশ্যক হয়, তাহলে কানাডার নাগরিকত্ব অর্জন করা শুধু নিকাব পরা মুসলিম নারীর পক্ষেই অসম্ভব নয়, একইভাবে একজন বোবা ব্যক্তি বা নীরবতা পালনকারী সাধুর জন্য অসম্ভব।

 

দুই. কানাডার নাগরিকত্ব আইনে ধর্মীয় আনুগত্য করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। যদি সরকারি আদেশ মেনে নেয়া হয় এবং শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে মুসলিম নারীদের নিকাব পরার অনুমতি না দেয়া হয়, তাহলে নাগরিকত্ব আইন লঙ্ঘন করা হবে।

 

-এসব যুক্তি দেখিয়ে, কানাডার আদালত নিকার বিরোধী সরকারি আদেশের বিপক্ষে রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষ ফেডারেল আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন; কিন্তু তাও নাকচ হয়ে যায়। ফলে এই মামলার রায় সারা দেশে আলোড়ন তোলে। মামলায় জিতে, অবশেষে,  ৯ অক্টোবর নিকাব পরেই জুনেরা ইসহাক কানাডার একজন গর্বিত নাগরিক হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

 

স্টিফেন হার্পার বারবার হেরেছেন নিকাব বিতর্কে, হেরেছেন আদালতেও। হেরে গিয়ে তিনি রেগে গিয়েছেন চরম। চূড়ান্ত হেরে যাবার আগের দিন, অর্থাৎ ১৮ অক্টোবর পর্যন্তও তিনি তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে গিয়েছেন– ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন। তার প্রতিটি বক্তব্যে, প্রতিটি বিতর্কে, দলীয় প্রতিটি পরিকল্পনায় ইসলামের বিদ্বেষ ছিল সুস্পষ্ট। হার্পারের সাথে সাথে তার কনজারভেটিভ পার্টির লোকজনও দেশজুড়ে ইসলাম-বিদ্বেষ ছড়িয়ে বেড়াতেন এবং এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন। নিকাব নিয়ে বিভিন্ন ধরণের কুরুচিপূর্ণ ছবি এবং কটাক্ষ করা অডিও-ভিডিও তারা তাদের ওয়েবসাইটে আপলোড করতেন নিয়মিত। নির্বাচনের আগে হার্পারের ওয়েবসাইটের প্রচ্ছদে লেখা ছিল– ‘আমি তরুণী মেয়েদেরকে কখনো বলবো না, মেয়ে হবার কারণে তাদের মুখ ঢেকে রাখা উচিত। এটি আমাদের কানাডার নয়।’ হার্পার তার টুইটারে লিখেছেন – ‘আমার গর্ব, আমি আজ নিকাবের বিপক্ষে বলে এসেছি।’

 

এভাবে হার্পার ও তার দল যত পেরেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে মুসলিম নারীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়েছে; কেবল নির্বাচনে জয়ী হবার জন্যে। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার, ভাগ্য ভালো কানাডার, সে জয়ী হতে পারেনি। ৪২তম জাতীয় নির্বাচনে হার্পারের ভরাডুবি হলো। এখন প্রশ্ন হলো,  কেন এমনটা হলো-তা জানার জন্যেই এই দীর্ঘ ভূমিকা।

 

এবারের নির্বাচনে আসন সংখ্যা ছিল ৩৩৮টি। লিবারেল পার্টি ১৮৪ টি আসন পেয়ে নির্বাচনে জয় লাভ করেছে। ক্ষমতাশীল কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৯৯ টি আসন এবং বামপন্থী এনডিপি পেয়েছে ৪৪টি আসন। জাস্টিস ট্রুডো ৮৫ টি আসন বেশি পেয়ে স্টিফেন হার্পারকে হারিয়েছেন। ২০১১ সালের নির্বাচনে লিবারেল পার্টি পেয়েছিল মাত্র ৩৬ টি আসন। ২০১৩ সালে জাস্টিস ট্রুডো লিবারেল পার্টির হাল ধরেন। ফলে এবার তার যোগ্য নেতৃত্বের কারণেই কেবল লিবারেল পার্টি আগের চেয়ে ১৪৮ টি আসন বেশি পেয়ে কানাডার ক্ষমতায় আসীন হয়েছে। অন্যদিকে, ২০১১ সালে স্টিফেন হার্পার ১৫৯ টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় টিকে ছিলেন। আর এবার তার স্বৈরতান্ত্রিক ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে গতবারের চেয়ে ৬০ টি আসন কম পেয়ে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিলেন।

 

লক্ষণীয়, এবারের নির্বাচনে কানাডা-নাগরিকদের চিন্তায় যে বিরাট পরিবর্তন হলো, তা কেবল স্টিফেন হার্পারের বিতর্কিত-অপরিকল্পিত- স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনার কারণেই ঘটেনি। ইসলাম নিয়ে অমুসলিমদের ধারণা যে ধীরে ধীরে পরিষ্কার হচ্ছে – এটা তারও ইঙ্গিত। বিভিন্ন গণমাধ্যমের জরিপ অনুযায়ী জানা যায়, এক বছর আগেও কানাডায় কনজারভেটিভ পার্টির জনপ্রিয়তা ছিল বেশি। যখনি স্টিফেন হার্পার ও তার দল নির্বাচনে জেতার জন্যে প্রকাশ্যে ও ন্যক্কারজনকভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াতে শুরু করল, নারীদের স্বাধীনতা হরণ করলো, তখনি তার জনপ্রিয়তা কমতে থাকল। কানাডার বড়বড় জাতীয় গণমাধ্যমগুলো আমাদের তাই দেখিয়েছে। এমনকি ছয় মাস আগেও কনজারভেটিভ পার্টি ছিল প্রথম, দ্বিতীয় বামপন্থী এনডিপি এবং তৃতীয় ছিল লিবারেল পার্টি। দু’মাস আগে অর্থাৎ আগস্ট মাসে নারী স্বাধীনতার ব্যাপারে কিছুটা ভালো উদ্যোগ নেয়ায় এনডিপি  চলে আসে প্রথমে, কনজারভেটিভ দ্বিতীয়তে এবং লিবারেলরা তৃতীয় থেকে যায়। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, ১৭, ২৪ এবং ২৮ সেপ্টেম্বরের জাতীয় বিতর্ক অনুষ্ঠানগুলোতে স্টিফেন হার্পারকে তরুণ নেতা জাস্টিস ট্রুডো যেভাবে ধসিয়ে দিয়েছেন, তাতে প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পার আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারেননি। একেবারে মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি খাওয়ার মত অবস্থা।

 

কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিস ট্রুডোকে ইসলামের খুব বড় একজন বন্ধু হিসাবে ভেবে নিচ্ছি, তা নয়। তবে ইসলাম ও মুসলিম নারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ব্যাপারে তিনি যতটা শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছেন, তা এ যুগে বিরল; অমুসলিম নেতাদের থেকে এতটা আশা করা যায় না। হার্পার ভেবেছিলেন– সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিরোধিতা করলে কানাডার বিশাল জনসংখ্যা তাকে ক্ষমতায় রাখবে। কিন্তু তার ধারণা ছিল ভুল। বিশ্ব চিন্তার পরিবর্তন হচ্ছে। নাইন-এলেভেনের পরবর্তী ধারণার সাথে এখনকার চিন্তার মিল নেই। ইসলাম নিয়ে মানুষ আবার নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছে। হার্পার এটা বোঝেনি বলে বিরাট হোঁচট খেয়েছে। হার্পারের মত বাংলাদেশের নেতারাও যদি ইসলামকে না-বুঝে, না-জেনে সিদ্ধান্ত নেন, তাদেরও একই দশা হওয়া স্বাভাবিক।#

 

লেখক: তুরস্কের উলুদাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র

 

২২ অক্টোবর (রেডিও তেহরান): ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর ফতোয়া অনুযায়ী মহররম ও আশুরার শোক পালনের ক্ষেত্রে শরীর রক্তাক্ত করা হারাম।


এমনকি গোপনে এ কাজ করতেও নিষেধ করেছেন তিনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, এ ধরনের কাজ শোক-প্রকাশ নয় বরং শোক-প্রকাশের ধ্বংস সাধন।


এ ছাড়া তিনি পোশাক খুলে বা খালি-গা হয়ে শোক প্রকাশ করারও বিরোধিতা করেছেন।


বিশ্বের কোনো কোনো অঞ্চলে আশুরা ও মহররমের শোক প্রকাশের নামে অনেকেই নানা পন্থায় শরীরকে রক্তাক্ত করেন। আর এ বিষয়টি মহররমের পবিত্রতা ও শোক-প্রকাশকারীদের সম্পর্কে নানা নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করছে অনেকের মধ্যেই।


এ ধরনের তৎপরতার ফলে ইসলামের শত্রুরা এই মহান ধর্ম সম্পর্কে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানোর সুযোগ নিচ্ছে বলে ইরানের শীর্ষস্থানীয় অন্য অনেক আলেমও মনে করেন এবং তাই তারা শোক-প্রকাশের ক্ষেত্রে এসব বাড়াবাড়ি পরিহার করতে মুসলমানদের সতর্ক করে আসছেন। 

 

ইসলামের বিধান অনুযায়ী ইবাদতের জন্য পোশাক, শরীর ও স্থান পবিত্র হওয়া জরুরি। 

 

কিন্তু রক্ত অপবিত্র হওয়ায় এর স্পর্শে স্থান, দেহ ও পোশাক অপবিত্র হয়ে যায়। তাই ইবাদতের স্বার্থে মসজিদ ও ইমামবাড়ার মত পবিত্র স্থানকে ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের রক্ত দিয়ে অপবিত্র করা নিষিদ্ধ বলে ইরানের আলেম সমাজ ফতোয়া দিয়ে এসেছেন। 

 

যারা কারবালার শোকাবহ ঘ্টনার জন্য শোক প্রকাশ করতে চান তারা অপাত্রে রক্ত অপচয় না করে রোগিদের জন্য হাসপাতালে রক্ত দান করলে অনেক সাওয়াবের অধিকারী হবেন বলেও ইরানি আলেম সমাজ মনে করেন। #  

 

রেডিও তেহরান/এএইচ/২২

 

 

 

১৯ অক্টোবর (রেডিও তেহরান): ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, সৌদি আরবের মিনায় পবিত্র হজের সময় হাজিদের যে ভয়াবহ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তা অবশ্যই ভুলে যাওয়া যাবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মিনায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য সৌদি সরকার দায়ী।  

 

তিনি এ ঘটনাকে অত্যন্ত তিক্ত ও বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন। ইরানের হজ সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে সর্বোচ্চ নেতা এ কথা বলেছেন। মিনা ট্র্যাজেডির বিষয়ে পশ্চিমা সরকার ও মানবাধিকার সংস্থারগুলোর নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেন সর্বোচ্চ নেতা। এ ঘটনায় সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং হজ সংস্থার কর্মকর্তাদের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে খোঁজখবর নেয়া অব্যাহত রাখার ওপর জোর  দেন।

 

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিনায় প্রতীকি শয়তানকে পাথর মারার সময় হঠাৎ প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে হাজারো নিহত হন। ইরান গতকাল বলেছে, সৌদি আরবে অন্তত ৫,০০০ হাজির দাফন করা হয়েছে। কিন্তু সৌদি আরব প্রথম দিকে ৭৭০ জন হাজি নিহত হওয়ার কথা বলেছে এবং এ সংখ্যা আর বাড়ায় নি। অথচ বিভিন্ন দেশের হাজি মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সর্বোচ্চ নেতা বলেন, মিনা ট্র্যাজেডির বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সম্মিলিত কণ্ঠে প্রতিবাদ করার দরকার ছিল কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এ ইস্যুতে শুধু ইরানই জোরালোভাবে প্রতিবাদ করছে।#

 

রেডিও তেহরান/এসআই/১৯

১৮ অক্টোবর (রেডিও তেহরান): ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, ইরান এবং জার্মানি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক উন্নয়নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে দু দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তেহরান সফররত জার্মান পররষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাংক-ওয়ালটার স্টেইনমেয়ারকে দেয়া সাক্ষাতে এ সব কথা বলেন প্রেসিডেন্ট রুহানি।

 

সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে সব দেশের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। এ ছাড়া, সন্ত্রাসবাদ দমনে দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ না করার আহ্বান জানান তিনি।

 

প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, কোনো কোনো দেশের আন্তরিকতা না থাকায় তা সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।#

 

রেডিও তেহরান/সমর/এসআই/১৮

 

১৪ অক্টোবর (রেডিও তেহরান): ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, তার দেশের উন্নয়ন ইসলামি বিপ্লবের আদর্শের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

 

তিনি বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের বিপ্লবী তৎপরতা ও আদর্শ অব্যাহত থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত ইরানের উন্নতি, মহিমা এবং আধ্যাত্মিক প্রভাব বাড়তেই থাকবে। রাজধানী তেহরানে আজ (বুধবার) বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেছেন।

 

সর্বোচ্চ নেতা বলেন, বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের সূচক নির্ধারণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থাও এখন ইরানের উন্নয়নকে স্বীকার করছে। তরুণদের মধ্যে বর্তমান ও ভবিষ্যতের আশা সম্পর্কে হতাশা ছড়ানো জাতির মর্যাদার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হবে। ইরানের তরুণরা বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়ে গর্বিত হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। যেসব ব্যক্তি ও সংবাদমাধ্যম ইরানের তরুণদেরকে হতাশ করছে তাদের বিরুদ্ধে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, ইরানের পরমাণু অগ্রগতিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রের উন্নয়ন কোনো কাল্পনিক বিষয় নয়; সারা বিশ্ব তা জানে। তিনি বলেন, ইরানের এসব উন্নয়নের কথা স্বীকার না করা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।#

 

রেডিও তেহরান/এসআই/১৪

৮ অক্টোবর (রেডিও তেহরান): রাশিয়া কোনো ঘোষণা না দিয়েই সিরিয়ার এক বিশাল অঞ্চলসহ আশপাশে ভিন্ন দেশের ওপরও নো-ফ্লাই জোন বা উড্ডয়ন-নিষিদ্ধ অঞ্চল গড়ে তুলেছে। 

 

'দেবকা ফাইল' নামের একটি ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ব্যাখ্যামূলক সংবাদের ওয়েব সাইট এই তথ্য দিয়ে বলেছে, রাশিয়ার গড়ে-তোলা এইসব উড্ডয়ন-নিষিদ্ধ অঞ্চলগুলোর মধ্যে  রয়েছে (সিরিয়ার ও আংশিকভাবে ইসরাইলের দখলে-থাকা) গোলান পার্বত্য ভূমি, তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল ও সাইপ্রাস। 

 

সিরিয়ায় পশ্চিমা মদদপুষ্ট তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে সম্প্রতি ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। ফলে আইএসআইএল বা দায়েশসহ সিরিয়ার আসাদ সরকার-বিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর শত শত জঙ্গি নিহত হয়েছে। এ অবস্থায় রাশিয়া এ অঞ্চল নো-ফ্লাই জোন বা উড্ডয়ন-নিষিদ্ধ অঞ্চল গড়ে তোলায় জঙ্গিদের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়ল। 

 

এ ছাড়াও রাশিয়া সিরিয়ার লজাকিয়া বন্দরে 'মস্কোকাভা' নামের একটি ডেস্ট্রয়ারে ৬৪টি বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত 'এস-থ্রি হান্ড্রেড' নামের অত্যাধুনিক সিস্টেম মোতায়েন করেছে। ফলে সিরিয়ার আকাশে বিমান হামলা চালাতে হলে তুরস্ক, ব্রিটেন, ইসরাইল ও জর্দানকে রাশিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। তা না হলে তাদের জঙ্গি বিমানগুলো যে কোনো সময় ভূপাতিত হতে পারে। 

 

কেবল স্টিলথ জঙ্গি বিমান অত্যাধুনিক রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র-সজ্জিত এই রুশ সিস্টেমকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।  তুরস্কে মোতায়েন মার্কিন জঙ্গি বিমানগুলো হল এফ-সিক্সটিন মডেলের। অন্যদিকে তুরস্ক, জর্দান, ব্রিটেন ও ইসরাইলের কাছে এই রাডার এড়ানোর মত স্টিলথ বা উন্নত জঙ্গি বিমান নেই।

  

ওয়েব সাইটটি লিখেছে, নো-ফ্লাই জোন বা উড্ডয়ন-নিষিদ্ধ অঞ্চল গড়ে তোলা ও সিরিয়ায় এস-৩০০ মোতায়েনের কারণে রুশ বিমান হামলার পরিধি ও তীব্রতা বেড়ে যাবে। দেবকার এইসব বিশ্লেষণ থেকে ইসরাইলের আতঙ্কই ফুটে উঠেছে। 

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার এইসব পদক্ষেপের কারণে সিরিয়াকে টুকরো টুকরো করার ও ইসরাইল-বিরোধী সংগ্রামের অন্যতম প্রধান ফ্রন্টের নেতা হিসেবে খ্যাত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার যে স্বপ্ন পাশ্চাত্য, ইসরাইল ও আরব রাজা-বাদশাহরাসহ তাদের আঞ্চলিক সেবাদাস সরকাররা দেখছিল তা মরীচিকায় পরিণত হয়েছে।  এ অবস্থায় রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিক্রিয়াশীল এই জোটের সরাসরি সামরিক সংঘাতও বেধে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।  বিশেষ করে দখলদার ইসরাইল এই আশঙ্কা করছে যে সিরিয়ায় রুশ সেনা ও অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা-ব্যবস্থা মোতায়েনের ফলে আরব এই দেশটির আকাশে রুশ সেনাদের সঙ্গে ইসরাইলি সেনাদের সংঘর্ষ ঘটতে পারে। 

 

রাশিয়ার বিমানগুলো যদি সিরিয়ায় আইএসআইএল ছাড়াও সিআইএ’র সমর্থিত অন্যান্য জঙ্গি বা  কথিত ‘মধ্যপন্থী’ বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চলায় তাহলে ওয়াশিংটনকেও প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে হবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক  মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রেজনস্কি। 

 

এইসব গোষ্ঠী রাশিয়া ও তার আঞ্চলিক মিত্র শক্তিগুলোর হামলায় পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যেতে পারে বলে পাশ্চাত্য ও আরব প্রতিক্রিয়াশীল সরকারগুলো আশঙ্কা করছে। 

 

অবশ্য ব্রিটিশ বিশ্লেষক রবার্ট ফিস্কের মতে সিরিয়ায় আসাদের বিরোধী ‘নরমপন্থী বা মধ্যপন্থী বিরোধী’ বলে কোনো গোষ্ঠীর অস্তিত্ব নেই। তাই রাশিয়া সিরিয়ায় কথিত মধ্যপন্থী বিদ্রোহীদের ওপর হামলা চালাতে পারে বলে যে হৈ-চৈ পশ্চিমা নেতারা ও তাদের স্থানীয় এজেন্টরা শুরু করেছে তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। ফিস্কের মতে পাশ্চাত্য ও তার স্থানীয় দোসররা মধ্যপন্থী বিদ্রোহী বলতে ফ্রি সিরিয়ান আর্মিকে বুঝিয়ে থাকে যে বাহিনীকে তারা অস্ত্র ও প্রশিক্ষণসহ সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। তারা এই গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী বলে মনে করে না! অথচ সিরিয়ায় আসাদের বিরুদ্ধে প্রথমদিকেই বিদ্রোহ শুরুর নামে এই গোষ্ঠীর সদস্যরা সিরিয়ার বহু নিরপরাধ ও বেসামরিক মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।

  
এদিকে চীন আইএসআইএল বা দায়েশ বিরোধী জোটে তথা রাশিয়া, সিরিয়া, ইরান ও ইরাকের মধ্যে গড়ে-ওঠা  নতুন জোটে যোগ দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আইএসআইএল-বিরোধী সংগ্রামে ইরান ও রাশিয়াকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে। আর এই জোটে চীনের অংশ গ্রহণ মার্কিন ও আরব প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর জোটকে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় পুরোপুরি অক্ষম করে তুলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। চীনের একটি রণতরী ভূমধ্য সাগরের দিকে এগিয়ে আসছে বলে সম্প্রতি  এক খবর প্রকাশিত হয়েছে।

 

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র চীনের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, বিশ্বের যে কোনো দেশই আইএসআইএল-বিরোধী জোটে যোগ দিতে পারে।

 

তিনি আরও বলেছেন, ‘মার্কিনীদের কাছে প্রশ্ন করেছিলাম, মধ্যপন্থী আসাদ-বিরোধীরা তথা ফ্রি-সিরিয়ান আর্মি- যাদের দোহাই আপনারা সব সময় দিচ্ছেন-  কোথায় আছে যে আমাদের জোট তাদের ওপর হামলা চালাবে না? কিন্তু আমেরিকানরা এ প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে না।’ 

 

ওদিকে ইউরোপীয় জোটের প্রধান বলেছেন, রাশিয়া ও ইরানের সমর্থন বাশার আসাদের বিজয়ের সম্ভাবনাকেই বাড়িয়ে তুলেছে।

  

রাশিয়া এক সপ্তাহ আগে সিরিয়ায় আইএসআইএল-এর অবস্থানে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। এইসব হামলায় শত শত তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী হতাহত হয়েছে এবং শত শত সন্ত্রাসী আত্মসমর্পণ করেছে। হাজার হাজার তাকফিরি সন্ত্রাসী পালিয়ে গেছে বলেও খবর এসেছে। সন্ত্রাসীদের বিপুল পরিমাণ ভারী অস্ত্রসহ ত্রিশটি ঘাঁটি রুশ বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

 

রাশিয়ার বিমান-সেনারা সমন্বিত বিমান হামলার মাধ্যমে এরই মধ্যে সিরিয়ার সরকারি সেনাদের সঙ্গে সন্ত্রাস-বিরোধী স্থল-অভিযানেও শরিক হয়েছে বলে খবর এসেছে। #   

 

রেডিও তেহরান/এএইচ/৮