এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বুধবার, 23 সেপ্টেম্বর 2015 18:38

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পূর্ণ হজবাণী

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

 

ওয়ালহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন ওয়াস্ সালাতু ওয়াস্ সালামু আলা সাইয়্যিদিল খালকি আজমায়িন। মুহাম্মাদিউঁ ওআলিহিত্ তাহিরিন, ওসাহবিহিল মুনতাজিবিন,ওআলাত্ তাবিয়িনা লাহুম বিইহসানি ইলা ইয়াওমিদ্দিন।

 

তৌহিদের ঘাঁটি মহান কাবার প্রতি সালাম, যে কাবা মুমিনদের তাওয়াফের স্থান, ফেরেশ্‌তাদের অবতরণস্থল! সালাম মাসজিদুল হারামের প্রতি, আরাফাতের ময়দান, মাশআর এবং মিনার প্রতি সালাম! একইভাবে বিনয়ী অন্তরগুলোর প্রতিও সালাম, সালাম জিকরধ্বনিময় মুখগুলোর প্রতি, উন্মুক্ত অন্তর্দৃষ্টির অধিকারীদের প্রতি, সঠিক পন্থার দিশারি চিন্তাধারার প্রতিও সালাম। সালাম হজ্জব্রত পালনকারী সেইসব সৌভাগ্যবানের প্রতি যাঁরা আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দিয়ে লাব্বায়িক বলার তৌফিক লাভ করেছেন এবং ঐশী নিয়ামতে পরিপূর্ণ দস্তরখানে বসার সুযোগ পেয়েছেন। 

 

সর্বপ্রথম দায়িত্ব হলো এই সার্বজনীন, ঐতিহাসিক এবং বিশ্বজনীন লাব্বায়িক নিয়ে চিন্তাভাবনা করা: ইন্নাল হামদা ওয়ান্নিমাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাকা লাব্বায়িক। সকল প্রশংসা এবং সকল কৃতজ্ঞতা শুধুমাত্র তাঁরই জন্য, সকল নিয়ামত তাঁরই পক্ষ থেকে এসেছে এবং সকল রাজ্য কিংবা রাজত্ব এবং সকল ক্ষমতার মালিক তিনিই। একজন হজ্জ পালনকারীর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এই গূঢ় অর্থপূর্ণ ঐশী হুকুম বা বিধান পালনের ক্ষেত্রে উপর্যুক্ত বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া উচিত।

 

এই ফরয বিধান পালনের ধারাবাহিকতায় একজন হাজিকে হজ্জের আনুষ্ঠানিকতাগুলোর সাথে মিশে যেতে হবে। তাহলেই হজ্জ পালনকারী হজ্জের অবিস্মৃতব্য ও অবিনশ্বর শিক্ষাগুলো আত্মস্থ করতে পারবেন এবং সেইসব শিক্ষার আলোকে নিজের জীবনের কর্মসূচিগুলো সাজিয়ে নিতে পারবেন। হজ্জের দাবি এটাই। এই মহান শিক্ষা অর্জন করার পর সেই অনুযায়ী আমল করা হলে জীবনটা এমনই বরকতপূর্ণ হয়ে উঠবে যে একজন মুসলমান সেই রহমত ও বরকতের সাহায্যে নিজের জীবনকে জীবন্ত, প্রাণবন্ত এবং আনন্দময় করে তুলতে পারবেন। জীবনের  প্রতিবন্ধকতাগুলো এ সময় তো বটেই সব সময়ের জন্যই তিনি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

 

আত্মপূজা বা ভোগবিলাসের মূর্তি, গর্ব-অহংকার ও কামনা-বাসনার মূর্তি, আধিপত্য মেনে নেওয়া এবং আধিপত্যকামিতার মূর্তি, বিশ্বসাম্রাজ্যবাদ ও বলদর্পিতার মূর্তি, দায়িত্বহীনতা এবং অলসতার মূর্তি, মানব জীবনের মূল্যকে তুচ্ছ করে তোলার মূর্তি ইত্যাদি সকল মূর্তি অন্তরের গহীন থেকে আসা ইব্রাহিমি এই উচ্চ স্বরধ্বনির মাধ্যমে ভেঙে চুরে খানখান হয়ে যাবে। ক্লান্তি অবসন্নতা, দুরবস্থা, পরনির্ভরশীলতা ইত্যাদির পরিবর্তে জীবনে নেমে আসবে প্রশান্তি, সম্মান, মর্যাদা এবং স্বাধীনতার সুখ ও আনন্দ।

 

হজ্জ পালনকারী প্রিয় ভাইবোনেরা! আপনাদের যিনি যে দেশ থেকেই কিংবা যে জাতি থেকেই এসে থাকুন না কেন আপনাদের উচিত ঐশী এই হেকমতপূর্ণ কথাগুলো নিয়ে একবার ভালোভাবে ভাবা, চিন্তাভাবনা করা এবং তারই শিক্ষার আলোকে বর্তমান মুসলিম বিশ্বের বিশেষ করে উত্তর আফ্রিকা এবং পশ্চিম এশিয়ার সমস্যাগুলোর দিকে দৃষ্টি দেয়া। সেইসাথে সবার উচিত যার যার ব্যক্তিগত ও পারিপার্শ্বিক সামর্থ্য অনুযায়ী কর্তব্য নির্ধারণ করে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করা।

 

আজ মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার কুচক্রী নীতি এ অঞ্চলের জনগণের জন্য বয়ে এনেছে যুদ্ধ, রক্তপাত ও ধ্বংসলীলা, সৃষ্টি করেছে উদ্বাস্তু সমস্যা, দারিদ্র, পশ্চাদপদতা এবং ধর্মীয় ও জাতিগত মতবিরোধ। অন্যদিকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রে ইহুদিবাদী ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞ ও বর্বর আচরণ নৃশংসতা ও নির্দয়তার চরমে পৌঁছেছে।

 

ইহুদিবাদীরা একের পর এক মসজিদুল আকসার অবমাননা করছে। পাশাপাশি  তাদের দমন-পীড়নে নির্যাতিত ফিলিস্তিনি জাতির সম্পদ ও প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে। আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের এই ঘৃণিত আচরণ আজ গোটা মুসলিম জাহানের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনাদের উচিত এই বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা এবং এর মোকাবিলায় ইসলামের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী নিজেদের কর্তব্য নির্ধারণ করা।

 

এ ব্যাপারে মুসলিম বিশ্বের আলেম সমাজ এবং রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের কর্তব্য রয়েছে অনেক বেশি; কিন্তু দুঃখজনকভাবে তাদের বেশিরভাগই রয়েছেন গভীর ঘুমে বিভোর। আলেমদের উচিত ধর্মীয় বিভেদের আগুন জ্বালানো বাদ দেয়া, রাজনৈতিক নেতাদের উচিত শত্রুর মোকাবিলায় ভাবলেশহীনতা পরিহার করা এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উচিত আনন্দ-ফুর্তিতে গা ভাসানো বন্ধ করা। আর তাদের সবার উচিত মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাথা চিহ্নিত করে তা উপসমের ব্যবস্থা করা। কারণ, আল্লাহ রব্বুল আলামিনের দরবারে একদিন তাদেরকে এই কর্তব্য পালনের ব্যাপারে জবাবদিহী করতে হবে।

 

মধ্যপ্রাচ্যের কান্না উদ্রেককারী ঘটনাপ্রবাহ বিশেষ করে ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, বাহরাইন, জর্দান নদীর পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা এবং এশিয়া ও আফ্রিকার আরো কিছু দেশের ঘটনাবলী বর্তমান মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় সংকট। এসব সংকটে বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র খুঁজে বের করে তা নস্যাতের উপায় নিয়ে ভাবতে হবে। মুসলিম জাতিগুলোকে তাদের সরকারগুলোর কাছে এ দাবি জানাতে হবে এবং সরকারগুলোকে তাদের গুরুদায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

 

হজ্বের মহা আড়ম্বরপূর্ণ সমাবেশ হচ্ছে এই ঐতিহাসিক কর্তব্য পালনের ক্ষেত্র সৃষ্টি ও দায়িত্ব বন্টনের সর্বোত্তম স্থান। বারাআত বা মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হচ্ছে হজ্বের মহাসম্মিলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা যা সকল দেশের সব হাজীর গুরুত্বসহ পালন করা উচিত।

 

এ বছর মসজিদুল হারামের দুঃখজনক ও প্রাণহানিকর ঘটনা হজ্বযাত্রীদের পাশাপাশি মুসলিম জাতিগুলোকে বেদনাসিক্ত করেছে। এটা ঠিক যে, এই দুঃখজনক ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা নামাজ ও তাওয়াফসহ অন্যান্য ইবাদতে মশগুল ছিলেন এবং মহান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাত লাভের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন।

 

কাজেই পৃথিবীর নিরাপদতম স্থানে বসেই তারা সৃষ্টিকর্তার দিদার লাভ করে থাকবেন ইনশাআল্লাহ। এটি মহাসৌভাগ্যের বিষয় এবং তাদের নিকটজনদের জন্য এটিই সান্ত্বনা। তবে যারা আল্লাহর ঘরের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন এর মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা তাদের প্রতিশ্রুতি ও গুরুদায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন- এটাই আমাদের একান্ত প্রত্যাশা।

 

ওয়াসসালামু আলা ইবাদিল্লাহিস সলেহিন

সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী

৪ জ্বিলহাজ ১৪২৬ হিজরি মোতাবেক ২৭ শাহরিভার ১৩৯৪ ফারসি সাল।

১৬ সেপ্টেম্বর (রেডিও তেহরান): ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্প্রতি সই হওয়া পরমাণু সমঝোতার কারণে তার দেশের সামনে শান্তিপূর্ণ পরমাণু গবেষণা ও উন্নয়নের পথ সুগম হয়েছে।

 

তিনি বলেন, এ সমঝোতার কারণে ইরান এখন পরমাণু গবেষণা ও উন্নয়নের কাজ দ্রুত করতে সক্ষম হবে। একইসঙ্গে এ ক্ষেত্রে নতুন নতুন জ্ঞানও অর্জন করতে পারবে। রাজধানী তেহরানে স্বাস্থ্য বিষয়ক কয়েকটি কোম্পানির এক সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেছেন।

 

প্রেসিডেন্ট রুহানি আরো বলেন, চূড়ান্ত সমঝোতার পর এখন দেশের পরমাণু বিজ্ঞানী, খ্যাতিমান আন্তর্জাতিক আইনবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদকে ‌একসঙ্গে হাতে হাত ধরে কাজ করতে হবে যাতে পরমাণু কর্মসূচির আসল লক্ষ্য অর্জন করা যায়। আরাক হ্যাভি ওয়াটার রিঅ্যাক্টর সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, এ স্থাপনাটিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী দুই সদস্যের সহযোগিতা আধুনিকায়ন করা হবে। এ স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে মূলত নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও রেডিও-আইসোটোপ তৈরির জন্য।

 

তিনি আরো জানান, ফোরদো পরমাণু স্থাপনা হবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও গবেষণা কাজের প্রধান কেন্দ্র। এ কেন্দ্রের একটি অংশ এখন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং বাকি অংশটি আধুনিক পরমাণু গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হবে।#

 

রেডিও তেহরান/এসআই/১৬ 

১৩ সেপ্টেম্বর (রেডিও তেহরান): বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও ব্রাজিলের মধ্যে সম্পর্ক সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি।

 

আজ (রোববার) ইরানের রাজধানী তেহরানে ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মৌরো ভিয়েরার সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, রাজনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ইরান ও ব্রাজিলের কাছাকাছি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।এছাড়া, ল্যাটিন আমেরিকার উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি ব্রাজিলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে ইরান অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান রুহানি।

 

ল্যাটিন আমেরিকার স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা রক্ষায় মহান দেশ ব্রাজিলের ইতিবাচক এবং তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকারও প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট রুহানি। সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর চূড়ান্ত পরমাণু সমঝোতার কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, এর ফলে ইরানের সঙ্গে অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

 

তিনি আরো বলেন, ইরান মনে করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আরো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা এবং সহযোগিতা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে এই ঐতিহাসিক পরমাণু সমঝোতাই  শেষ নয় বরং এ থেকে শুরু হয়েছে।

 

ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করতে  ব্রাসেলিয়ার প্রবল আগ্রহ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ইরানের ইতিবাচক এবং ঐতিহাসিক অংশগ্রহণের প্রতি ব্রাজিল সব সময় সমর্থন এবং স্বীকৃতি দিয়ে আসছে। এছাড়া, বিভিন্ন ইস্যুতে এই দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিয়েরা।#  

                                      

রেডিও তেহরান/ এমবিএ/১৩

৯ সেপ্টেম্বর (রেডিও তেহরান): ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, তার দেশ কেবল পরমাণু বিষয়ে মার্কিন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং কেবল এ বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কথা বলবে না।


মার্কিন সরকার ইরানের সঙ্গে প্রকাশ্যেই শত্রুতা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, 'এক মার্কিন কর্মকর্তা যখন মুচকি হাসছেন তখন দেশটির অন্য এক কর্মকর্তা ইরানের বিরুদ্ধে সংসদীয় বিল তৈরি করছেন।'


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আজ (বুধবার) ইরানের সর্বস্তরের জনগণের এক সমাবেশে এইসব মন্তব্য করেছেন।


ইসলামী ইরানের ওপর নানা দাবি চাপিয়ে দিতে এবং এই দেশটির ওপর প্রভাব খাটানোর জন্যই মার্কিন সরকার ইরানের সঙ্গে নানা বিষয়ে আলোচনা করতে চায় বলে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।
৬ জাতির সঙ্গে ইরানের পরমাণু বিষয়ে সমঝোতা হওয়ায় আগামী ২৫ বছর পর্যন্ত তেহরান সম্পর্কে তেলআবিবের কোনো উদ্বেগ নেই বলে ইহুদিবাদী ইসরাইলের শাসকগোষ্ঠী যে মন্তব্য করেছে তা নাকচ করে দিয়েছেন ইসলামী এই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, 'আগামী ২৫ বছর পর তোমরাই থাকবে না ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের অস্তিত্বই থাকবে না আল্লাহর ইচ্ছায়। আর এর আগেও ইহুদিবাদীরা মুজাহিদদের বীরত্বপূর্ণ তৎপরতা ও জিহাদি চেতনার কারণে এক মুহূর্তের জন্যেও শান্তি পাবে না।'


ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনী (র) মার্কিন সরকারকে 'বড় শয়তান' হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, 'কেউ কেউ এই বড় শয়তানকে মুক্তির ফেরেশতা হিসেবে তুলে ধরার ওপর জোর দিচ্ছে, কিন্তু ইরানি জাতি এই শয়তানকে তাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে; আর এই শয়তানকে দরজা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়ার পর আমরা তাকে আবারও জানালা দিয়ে এখানে ফিরে আসার ও প্রভাব খাটানোর সুযোগ দেব না।' # 

 

  রেডিও তেহরান/এএইচ/৯

 

 

 

আনোয়ারুল হক আনোয়ার: গত ২৬ মার্চ থেকে সৌদি আরবের নেতত্বে সামরিক জোট ইয়েমেনে একতরফা হামলা শুরু করে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনের সাথে মিশরও সৌদি জোটে যোগদান করে হামলায় অংশ নিচ্ছে। এমনকি ওই জোটের সাথে ইসরাইলও সম্পৃক্ত রয়েছে বলে বিশ্বের বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে। একতরফা যুদ্ধের প্রথম দিকে আমার মনে হয়েছিল যে, সৌদি জোট মাত্র এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ইয়েমেন দখল করতে পারবে। কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো। সৌদি জোটের বিমান হামলায় হাজার হাজার নীরিহ মানুষ হতাহত হবার পাশাপাশি শত শত বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। এর বিপরীতে ইয়েমেনি যোদ্ধাদের হামলায় সৌদি জোটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন তথ্যে জানা গেছে, ইয়েমেনি দেশপ্রেমিক যোদ্ধাদের পাল্টা হামলায় এ যাবত ১০টি অত্যাধুনিক আ্যাপাচি হেলিকপ্টার, শতাধিক সাঁজোয়া যান, ৩০টি ট্যাঙ্ক, ৩টি সেনাঘাঁটি, ১০টি সীমান্ত চৌকি, ৫টি ক্ষেপণাস্ত্র মঞ্চ ধ্বংস, বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র আটক, পাঁচ শতাধিক সৌদিজোট সেনা নিহত এবং দুই সহস্রাধিক আহত হয়েছে। এসময় ইয়েমেনি যোদ্ধারা কয়েকটি সীমান্ত ফাঁড়িসহ সৌদি ভূখণ্ড দখল করে। সৌদি জোটের উদ্যোগে একতরফা যুদ্ধের অন্যতম কারণ হচ্ছে, ইয়েমেনের প্রতিবাদী জনতাকে স্তব্ধ করে ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রেসিডেন্ট মানসুর হাদিকে পুণরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা। কিন্তু বাঁধ সেধেছে ইয়েমেনি বীর যোদ্ধাদের দুর্বার প্রতিরোধ। অবস্থা এমনই হয়েছে যে, ইচ্ছা থাকলেও সৌদি জোট এখন রনাঙ্গন ত্যাগ করতে পারছে না। কারণ এতে তাদের প্রভাব ও মান সম্মানের বিষয়টি জড়িত রয়েছে।

 

উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে উত্তর ইয়েমেন ও দক্ষিণ ইয়েমেন একত্রিত হয়ে ইয়েমেন প্রজাতন্ত্র গঠিত হয়। দেশটির উত্তর ও উত্তর-পূর্বে সৌদি আরব, পূর্বে ওমান এবং দক্ষিণে এডেন সাগর অবস্থিত। আয়তন ৫লাখ ২৭ হাজার ৯৭০ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা ২ কোটি ৩৮ লাখ ৩৩ হাজার। মাথাপিচু আয় মাত্র ৯০০ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যে দেশটি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হিসেবে বিবেচিত। ইয়েমেন পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয় স্থান। ইয়েমেনিরা পরিশ্রমী এবং যোদ্ধা জাতি হিসেবে পরিচিত। দেশটির অধিকাংশ এলাকা পাহাড় ও মরুভূমি ঘেরা। সৌদি জোটের হামলায় এ যাবত ১ কোটি ৩০ লাখ অধিবাসী খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। বহু হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বেসামরিক স্থাপনা বিমান হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েও সৌদি জোট বাহিনী সাফল্য অর্জন করতে পারছে না কেন? আগেই বলেছি ইয়েমেনিরা সাহসী ও যোদ্ধা জাতি। অতীত ইতিহাস সেটাই বলে। মরু, পাহাড়ি ও দূর্গম এলাকায় দিনের পর দিন যুদ্ধ করার মানসিকতা তাদের রয়েছে। অপরদিকে সৌদি জোট বাহিনী সন্মুখ সমরের পরিবর্তে বিমান হামলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। কারণ সন্মুখ যুদ্ধে সৌদি জোটের তেমন কোন অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। এরা পশ্চিমা দেশগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি ডলার ব্যয় করে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ক্রয় করলেও কয়েক যুগ যাবত কারো সাথে যুদ্ধে জড়ায়নি। ইরাক কুয়েত যুদ্ধে সেটা আবারো প্রমাণিত হয়েছে। পরে অবশ্য পশ্চিমা দেশগুলোর সমন্বয়ে যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে তারা ইরাকের বিরুদ্ধে সামরিক যুদ্ধে বিজয় লাভ করে।

সৌদি আরব কি ফাঁদে পা দিয়েছে? ইয়েমেন যুদ্ধ এখন সৌদিসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের জন্য রীতিমত প্রেস্টিজ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘না ঘরকা-না ঘটকা’র ন্যায় বিষয়টি উপনীত হয়েছে। পেট্রো ডলারের শক্তিতে বলীয়ান সৌদি আরব সব সময় গোটা মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাবশালী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবার স্বপ্ন দেখে আসছিল। যার ফলশ্রুতিতে গত দুই দশকে প্রায় ১৮/১৯ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ক্রয় করে। কিন্তু সৌদিদের আকাঙ্ক্ষায় বাঁধ সেধেছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম পরাশক্তি শক্তি ইরানের উত্থান। অর্থনৈতিক, সামরিক, শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রতিনিয়ত উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশটি বিশ্ববাসীকে ইতোমধ্যে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি ৬ জাতিগোষ্ঠীর সাথে সম্পাদিত পারমানবিক চুক্তির মাধ্যমে দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা রাখে। ফলে সৌদিদের হতাশা আরো বৃদ্ধি পায়। এমনকি সৌদি আরব এখন ইরানকে এক নম্বর শত্রু হিসেবে মনে করে। ইয়েমেনের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মানসুর হাদি সৌদি সমর্থিত।

 

অপরদিকে ইয়েমেনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং গোষ্ঠী ইরানকে সমর্থন করে। আর এতে ক্ষেপে যায় সৌদি আরব। তারা একতরফাভাবে ইয়েমেনে হামলা শুরু করে। প্রথমদিকে বিমান হামলা চালিয়ে ইয়েমেনের অসংখ্য স্থাপনা ধ্বংস করা হয়। এসময় বিমান হামলায় শত শত নারী-পুরুষ-শিশু হতাহত হয়। তখন সৌদি জোট ধারনা করেছিল যে, মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গোটা ইয়েমেন তাদের আয়ত্বে এসে যাবে। কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো। এখন প্রতিনিয়ত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে সৌদি সামরিক জোট। অতএব, ফলাফল শূন্য।

 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও সৌদি জোটি কি ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখবে না কি একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে তারা কি পিছু হটে যাবে? এক্ষেত্রে দুটি বিষয় থাকতে পারে। প্রথমটি হচ্ছে, ইয়েমেনি যোদ্ধারা যদি আক্রমন আরো তীব্রতর করে- তাহলে সৌদি জোট ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তখন পরিস্থিতি নতুন মোড় নিতে পারে। আর যদি এভাবে যুদ্ধ অব্যাহত থাকে-তাহলেও সৌদি জোটের ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে থাকবে। এভাবে এক সময় সৌদি জোটের অনুরোধে হয়ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি সম্ভব হবে। তখন হিসাব-নিকাশ করে দেখা যাবে,  একতরফা যুদ্ধে জড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সৌদি আরবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, ইরাকের কুয়েত আগ্রাসন অতপরঃ সৌদি ভূখণ্ডে হামলার সময় মুসলিম বিশ্ব সৌদি আরবকে সমর্থন দিয়েছিল। বর্তমান ইয়েমেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। পেট্রো ডলার কিংবা দান অনুদান দিয়ে মানুষের বিবেক কেনা যায় না। এবারের যুদ্ধে সৌদি আরব হয়ত সেটাই ভেবেছিল। তারা এও ভেবেছিল যে, ইয়েমেন যুদ্ধে বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশ সৌদি জোটে যোগ দেবে। সেটাও সম্ভব হয়নি। ইরানকে চিরশত্রু  ভেবে নিজের ক্ষমতা জাহির করতে গিয়ে একটি দুর্বল দেশে হামলা চালাতে গিয়ে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হাতে উল্টো মার খাওয়া এখন সৌদিদের জন্য মান-সম্মানের ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।#

 

লেখক : সিনিয়র রিপোর্টার ও আন্তর্জাতিক গবেষক।

সম্প্রতি ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে আহলে বাইত বিশ্ব-সংস্থার ষষ্ঠ বার্ষিক সম্মেলন। এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন ১৩০ দেশের ৭০০ জন চিন্তাবিদ ও জ্ঞানী-গুণী। তারা চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের যন্ত্রণা থেকে মুসলিম উম্মাহকে রক্ষার জন্য ইসলামী ঐক্য ও মুসলিম মাজহাবগুলোর মধ্যে নৈকট্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ৪ দিনের এই সম্মেলনের অবকাশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ(সা.)'র আহলে বাইতের সদস্য হযরত ইমাম জাইনুল আবেদিন (আ.)'র আদর্শ জীবন বিষয়ক কংগ্রেস বা সেমিনার। এই মহামানব কারবালার ট্র্যাজেডির পর কিভাবে নানা দোয়া ও মুনাজাতের অনন্য সংগ্রামের মাধ্যমে ভেঙ্গে-পড়া ইসলামী সমাজের নানা দিককে সমৃদ্ধ করেছিলেন তা ছিল এই সেমিনারের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। ইমামের এইসব দোয়া ও মুনাজাত সংকলিত হয়েছে 'সহিফায়ে সাজ্জাদিয়া' নামক বইয়ে।

 

ইরানের প্রেসিডেন্ট হুজ্জাতুল ইসলাম ডক্টর হাসান রুহানি আহলে বাইত বিশ্ব-সংস্থার ষষ্ঠ বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন করতে গিয়ে শত্রুদের নানা ষড়যন্ত্রের প্রেক্ষাপটে ইসলামী ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন এবং ইসলামের চেহারা কালিমালিপ্ত করার সুযোগ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দেয়া উচিত নয় বলে জোর দিয়েছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট ওই সম্মেলনে আরও বলেছেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নিজেদের ইসলামপন্থী হিসেবে জাহির করে ইসলামের বদনাম করছে অথচ ইসলাম হচ্ছে মানবজাতির সবার জন্য শান্তি, সমঝোতা এবং দয়ার ধর্ম। ইসলাম মানুষের ওপর সহিংসতা, নৈরাজ্য বা বলদর্পিতা ও হত্যাকাণ্ড চাপিয়ে দেয়ার নীতিতে বিশ্বাসী নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। ডক্টর রুহানি মুসলিম উম্মাহর অভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ওপর জোর দিয়েছেন এবং ইসলাম অবমাননার সমস্ত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে মুসলিম জাতিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসলামের সীমানা রক্ত, জাতীয়তা বা চরমপন্থার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত হয় না, বরং এর সীমানার ভিত্তি হচ্ছে ইমান ও নীতি-নৈতিকতা বা মূল্যবোধ। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান নানা ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আদর্শ বা মডেল বলে রুহানি দাবি করেন।

 

বিশ্বনবীর আহলে বাইতের মাজহাব মহানবীর (স) প্রকৃত সুন্নাহ তুলে ধরেছে এবং তা পবিত্র কুরআনের বিধি-বিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে ইরানের প্রেসিডেন্ট আহলে বাইত বিশ্ব-সংস্থার ষষ্ঠ বার্ষিক সম্মেলনে উল্লেখ করেন। মহানবীর আহলুল বাইত (আ.)-কে ইসলামী ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসলামী মাজহাবগুলোর মধ্যে নানা মতভেদ থাকা সত্ত্বেও মহানবীর (সা.) অতি কাছের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সবাই সর্বোচ্চ সম্মান দেখান। আর এই সদস্যরা হলেন, তাঁর কন্যা হযরত ফাতিমা জাহরা (সা. আ.), তাঁর চাচাতো ভাই ও জামাই আমিরুল মু'মিনিন ইমাম আলী (আ.) এবং মহানবীর দুই নাতি হযরত ইমাম হাসান ও হুসাইন (আ.)। ঠিক একইভাবে সব মুসলিম মাজহাব ইমাম মাহদি (আ.)'র আবির্ভাবে বিশ্বাসী (মহান আল্লাহ তাঁর পুনরাবির্ভাব ত্বরান্বিত করুন) এবং এটা স্বীকার করে যে ইমাম মাহদি (আ.) কারবালার শহীদ হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)'র প্রত্যক্ষ বংশধর। সব মাজহাব এটাও বিশ্বাস করে যে ইমাম মাহদি (আ.) শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধিতে ভরা বিশ্ব-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবেন।

 

ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর হাসান রুহানি আরও বলেছেন, আহলে বাইত বিশ্ব-সংস্থার ষষ্ঠ সম্মেলনের বার্তা হল বিশ্বের সর্বত্র ইসলামী ঐক্য, শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা। আর বিশ্বনবীর আহলে বাইতের পরিচয় সম্পর্কে যথাযথ ধারণা অর্জন না করা পর্যন্ত এইসব প্রচেষ্টা সফল হবে না বলে তিনি সতর্ক-বাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না- তা তারা ইয়েমেন, ইরাক, লেবানন, সিরিয়া ও ফিলিস্তিনসহ যে কোনো অঞ্চলেরই অধিবাসী হন না কেন। কারণ, সব মুসলমানই হলেন ভাই। 


ইরানের বিশিষ্ট আলেম ও ফেকাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম মাবলাগি বলেছেন, আমরা যখন ৫ মাজহাবের বিধান পড়ি তখন নানা ভুল ধারণা দূর হয়ে যায় এবং এটা স্পষ্ট হয় যে মুসলিম উম্মাহর সমস্যা সমাধান হতে পারে শান্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে।



পবিত্র নাজাফ আশরাফের গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ শেখ বাশির নাজাফি সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা মোকাবেলার ওপর জোর দেয়ার জন্য আয়োজিত আহলে বাইত বিশ্ব-সংস্থার ষষ্ঠ সম্মেলনে পাঠানো বার্তায় ইসলামী ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও আহলে বাইতের শিক্ষা যথাযথভাবে ছড়িয়ে দেয়ার ওপর জোর দিয়েছেন যাতে ওয়াহাবি-তাকফিরি সন্ত্রাসীদের নানা ধরনের হীন ষড়যন্ত্র বানচাল করা যায়।


সিরিয়ার বিশিষ্ট আলেম শেখ নাবিল আল হালওয়ায়ি এই সম্মেলনে বলেছেন, মহানবীর (স) আহলে বাইতের আদর্শ অনুসরণ করা হলে শান্তি ও সমৃদ্ধি জোরদারের পাশাপাশি শত্রুদের নানা ষড়যন্ত্র থেকে ইসলামকে রক্ষা করা যাবে। 


আফগানিস্তানের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হাজ মুহাম্মাদ মুহাক্কিক নানা মুসলিম মাজহাবের মধ্যে ঐক্য জোরদারের বিষয়ে ইসলামী ইরানের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এবং মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্যই তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো গড়ে তোলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী আহলে বাইত বিশ্ব-সংস্থার ষষ্ঠ সম্মেলনে যোগ দেয়া ব্যক্তিত্বদের এক সমাবেশে ইসলামে মহানবীর (স) আহলে বাইতের মর্যাদা ও তাঁদের অনন্য অবদানের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি প্রকৃত ইসলামী শিক্ষা ও জুলুমের মোকাবেলায় আল্লাহর রাস্তায় প্রকৃত জিহাদ জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন, জিহাদ বলতে কেবল সামরিক জিহাদকে বোঝায় না, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জিহাদ বা প্রচার অভিযানকেও বোঝায়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর নানা ষড়যন্ত্র উপলব্ধি করা ও তাদের পরাজিত করাও জিহাদ। তিনি বলেন, ইরানে ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের পর থেকে এইসব ষড়যন্ত্র বেড়ে গেছে যাতে অন্য কোনো দেশে ইরানের মত বিপ্লব সংঘটিত না হয়।


মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি শত্রুদের অন্যতম ষড়যন্ত্র- এ কথা তুলে ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, আজ ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, বাহরাইন ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে যা ঘটছে তাকে সাম্প্রদায়িক সংকট বলে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে, অথচ বাস্তবে এসবই হল রাজনৈতিক সংঘাত এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে এইসব সংকট সমাধান করা উচিত।


আহলে বাইত বিশ্ব-সংস্থার ষষ্ঠ সম্মেলনের সমাপনী ইশতিহারে শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে ইসলামী ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ইশতিহারে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইয়েমেনসহ মুসলিম বিশ্বের নানা অঞ্চলে তাকফিরি সন্ত্রাস নির্মূলের জন্য ইসলামী ঐক্য জোরদারের পরামর্শ দেয়া হয়।#

 

রেডিও তেহরান/এএইচ