এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla

২৯ জুলাই (রেডিও তেহরান): ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন,  ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতার ফলে ইউরোপের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক শক্তিশালী হওয়ার পথ সুগম হয়েছে। তিনি আজ (বুধবার) তেহরান সফররত ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরা ফ্যাবিয়াসের সঙ্গে বৈঠকে এ মন্তব্য করেন।

 

হাসান রুহানি বলেন, ভিয়েনা সমঝোতার ভিত্তিতে ইরান-ফ্রান্স সহযোগিতার ফলে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।

 

গত ১৪ জুলাই ভিয়েনায় স্বাক্ষরিত ইরানের পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী তেহরান তার পরমাণু কর্মসূচিতে সুনির্দিষ্ট কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করবে। অন্যদিকে পাশ্চাত্য ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। ছয় জাতিগোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্যাবিয়াস ওই সমঝোতায় সই করেন।

 

ফ্যাবিয়াসের সঙ্গে সাক্ষাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট আরো বলেন,  পরমাণু সমঝোতার মাধ্যমে ছয় জাতিগোষ্ঠী, ইরান এবং আঞ্চলিক দেশগুলো লাভবান হবে। এ সমঝোতা নানা ধরনের হুমকিকে সুযোগে পরিণত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি এ সমঝোতা বাস্তবায়নে আন্তরিকতার পরিচয় দিতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

 

সাক্ষাতে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার দেশের বহু কোম্পানি ইরানের বাজারে ফিরে এসে এমন কিছু খাতে পুঁজি বিনিয়োগ করতে চায় যেখানে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হয়। তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের পক্ষ থেকে ফ্রান্স সফরের একটি আমন্ত্রণপত্র প্রেসিডেন্ট রুহানির হাতে তুলে দেন।#

 

রেডিও তেহরান/এমআই/২৯

২৭ জুলাই (রেডিও তেহরান): ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, তার দেশ কারো সঙ্গে যুদ্ধ চায় না। তবে শত্রুর যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তেহরান দাঁত ভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

 

রুহানি আরো বলেছেন, কেউ ইরানে অভিযান চালানোর দুঃসাহস দেখালে এর জবাব হবে ভয়াবহ। গতকাল (রোববার) ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্দিস্তান প্রদেশে এক জনসমাবেশে তিনি  এসব কথা বলেছেন। রুহানি আরো বলেন, ইরান সংযম, ভ্রাতৃত্ব, স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী।

 

ইরানের প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় ইরান বিশ্বকে জানিয়েছে, আগ্রাসন, দখলদারিত্ব এবং অন্য দেশের বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ করার ইচ্ছা ইরানের নেই। তেহরান বরং যুক্তি ও আদর্শে বিশ্বাসী। তবে যেকোন আগ্রাসনের মোকাবেলায় ইরান সর্বশক্তি দিয়ে নিজের ভূখণ্ড রক্ষা করবে।

 

হাসান রুহানি আরো বলেন, আলোচনার টেবিলে আমরা প্রমাণ করেছি, সংযম ও যুক্তির মাধ্যমে যেকোনো উগ্রপন্থা, হুমকি এবং বলদর্পী নীতির বিরুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব। এছাড়া ওই আলোচনা বিশ্বের জন্য একটি বড় উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বলেও রুহানি উল্লেখ করেন।  

 

ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সব পন্থাই খোলা রয়েছে বলে সম্প্রতি কিছু মার্কিন কর্মকর্তা হুমকি দেয়ার পর রুহানি এসব কথা বলেন।#

 

রেডিও তেহরান/এমবিএ/২৭

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী অতি সম্প্রতি তেহরানে অনুষ্ঠিত ঈদুল ফিতরের নামাজের খোতবায় বিশ্ব কুদস দিবসের ব্যাপক শোভাযাত্রার কথা তুলে ধরে বলেছেন, ইরানের মুসলিম জাতি ইবাদতের মাস তথা পবিত্র রমজান মাসেও (রোজা রাখা অবস্থায় ও তীব্র গরম আর প্রখর রোদ উপেক্ষা করে) সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী প্রতিরোধের ময়দানে এভাবে তথা এতো বিপুল মাত্রায় নেমেছে এবং নিজেদেরকে এভাবে ময়দানে নামিয়েছে ও এভাবে প্রকাশ করেছে।


তিনি আরও বলেছেন, বিশ্ব কুদস দিবসে পুরো ইরানে 'আমেরিকা ও ইসরাইল ধ্বংস হোক'-এই শ্লোগান উচ্চারিত হওয়ায় বোঝা গেল ইরানী জাতি কী চায়। 


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ঈদুল ফিতরের খুতবায় ৬ বৃহৎ শক্তির সঙ্গে ইরানের পরমাণু আলোচনা ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, 'দুঃখজনকভাবে অপবিত্র কিছু হাত পবিত্র রমজান মাসকেও এ অঞ্চলের বহু মানুষের জন্য তিক্ত করেছে। ইয়েমেন, বাহরাইন, ফিলিস্তিন ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মুমিন মুসলমান শত্রুদের অপতৎপরতার ফলে কঠিন সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ও কঠিন অবস্থায় রোজা রেখেছেন। এসবই আমাদের জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।'


সৌদি সরকার পবিত্র রোজার মাসেও ইয়েমেনের নিরপরাধ নারী ও শিশুদের ওপর হত্যাযজ্ঞ বন্ধ রাখেনি। 


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা পরমাণু আলোচনা প্রসঙ্গে তার দেশের আলোচক টিম ও প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং চলমান এই প্রক্রিয়ায় ইরানের জাতীয় স্বার্থকে সতর্কভাবে রক্ষা করার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি কোনো অবস্থাতেই পরমাণু সমঝোতার টেক্সট বা লিখিত বক্তব্যকে অপব্যবহার করতে দেয়া হবে না বলে উল্লেখ করেছেন। ইরানের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা ও নিরাপত্তার চৌহদ্দি রক্ষা করা হবে বলেও তিনি জানান। এইসব ক্ষেত্রে ইরান কখনও শত্রুদের বাড়তি দাবির কাছে নজজানু হবে না বলেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা জোর দিয়ে বলেছেন যে সাম্প্রতিক পরমাণু সমঝোতার টেক্সট চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হোক বা না হোক তার দেশ এ অঞ্চলের মিত্রদের প্রতি সমর্থন দেয়া বন্ধ করবে না। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, 'মজলুম ফিলিস্তিনি জাতি, মজলুম ইয়েমেনি জাতি, সিরিয়ার সরকার, ইরাকি সরকার ও জাতি, বাহরাইনের মজলুম জনগণ, ফিলিস্তিন এবং লেবাননের খাটি মুজাহিদরা সব সময়ই আমাদের সমর্থন পাবে।'
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এটাও জোর দিয়ে বলেছেন, পরমাণু বিষয়ে যা-ই ঘটুক না কেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী সরকারের মোকাবেলায় তেহরানের নীতিতে কখনও পরিবর্তন ঘটবে না এবং ইরান বিশ্বের নানা বিষয়ে মার্কিন সরকারের সঙ্গে কখনও আলোচনা করবে না। হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এটাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে পরমাণু ইস্যুর মত কয়েকটি ব্যতিক্রমী বিষয়েই কেবল আলোচনা হয়েছে মার্কিন সরকারের সঙ্গে যা অতীতেও হয়েছে। তিনি এ প্রসঙ্গে আরও বলেছেন, ‘এ অঞ্চলে মার্কিন নীতি ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নীতির মধ্যে ১৮০ ডিগ্রির ব্যবধান বা পার্থক্য রয়েছে। মার্কিন সরকার লেবাননের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিবেদিত-প্রাণ ও ত্যাগী সংগঠন হিজবুল্লাহ এবং লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলনকে সন্ত্রাসবাদী বলে অভিযুক্ত করছে। অন্যদিকে তারা শিশু হত্যাকারী ইহুদিবাদী সন্ত্রাসী সরকারকে সাহায্য ও সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। তাই এ ধরনের (মার্কিন) সরকারের সঙ্গে কি করে লেনদেন ও আলোচনা করা যায়?’

 


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা পরমাণু আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে বিগত কয়েক দিনে মার্কিন কর্মকর্তাদের দেয়া বক্তব্যকে যুদ্ধের সময়ে ব্যবহৃত কাব্যিক বাগাড়ম্বরের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, এইসব বক্তব্য আমেরিকার ঘরোয়া সমস্যাগুলো থেকে উৎসারিত হয়েছে।


ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়েছে- মার্কিন সরকারের এই দাবি প্রসঙ্গে আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, ‘আমরা পবিত্র কুরআন ও ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পরমাণু অস্ত্র তৈরি, সংরক্ষণ ও ব্যবহার করাকে হারাম বলে মনে করি এবং এ অস্ত্র তৈরির কোনো পদক্ষেপই নেব না। আমাদের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মার্কিন সরকার ও এই আলোচনার কোনো সম্পর্ক নেই।’

 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ২০১০ সালের এপ্রিল মাসেই নিরস্ত্রীকরণ ও পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ বিষয়ক প্রথম সম্মেলনে পাঠানো বার্তায় পরমাণু, রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্রসহ গণ-বিধ্বংসী অস্ত্রের যে কোনো ধরনের ব্যবহারকে ‘মানবিক নীতিমালার মারাত্মক লঙ্ঘন ও যুদ্ধ-অপরাধের স্পষ্ট দৃষ্টান্ত’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে এও বলেছিলেন, আমরা এইসব অস্ত্র ব্যবহারকে হারাম এবং মানবজাতিকে এইসব মহাবিপদ থেকে রক্ষার ও নিরাপদ রাখার চেষ্টা চালানো সবারই দায়িত্ব।’ 


ইরানকে নতজানু করা সম্ভব হয়েছে বলে মার্কিন সরকার যে দাবি করেছে তা নাকচ করে দিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘আমেরিকার বিগত ৫ প্রেসিডেন্ট ইরানে ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে নতজানু করার আশায় হয় মারা গেছে কিংবা ইতিহাসে হারিয়ে গেছে। বর্তমান প্রেসিডেন্টও (ওবামা) তার এই আশা পূরণে কখনও সফল হবে না।’ 

 


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা ৬ জাতি গ্রুপের সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে এক বক্তব্যে ১৯৫২ সালের সামরিক অভ্যুত্থান ও সাদ্দামের প্রতি সহায়তাসহ ইরানি জাতির ওপর মার্কিন সরকারের নানা জুলুম ও এই জাতির বিরুদ্ধে ভুল পদক্ষেপের কথা স্বীকার করেছেন। 


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এইসব স্বীকারোক্তির কথা তুলে ধরে বলেছেন, মার্কিন জুলুমের সংখ্যা কেবল এই কয়েকটি ঘটনার মধ্যেই সীমিত নয়, এসবের চেয়েও অনেক বেশি। যেমন, স্বৈরশাসক শাহের প্রতি সমর্থন, বিভিন্ন সময়ে ইরানের সম্পদ লুট ও শোষণ করা, ইরানের ওপর সন্ত্রাসী নানা হামলা, ইরান বিরোধী সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে সহায়তা দেয়া, ইরানি জাতিকে অপমানের চেষ্টা করা ইত্যাদি। তিনি এ প্রসঙ্গে আরও বলেছেন, ‘আজ বহু বছর পর আপনারা নানা ভুল করার কথা স্বীকার করছেন। আপনারা আজও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং বিশেষ করে ইসলামী ইরান ও ইরানি জাতির বিষয়ে ভুল করে যাচ্ছেন। কয়েক বছর পর অন্য কেউ এসে আপনাদের এই ভুলগুলোর কথা তুলে ধরবে, ঠিক যেভাবে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট অতীতের মার্কিন নেতাদের ভুলগুলো তুলে ধরেছেন। ...ভুলগুলো থেকে বেরিয়ে আসুন ও সত্যকে উপলব্ধি করুন।’

 


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এটাও তুলে ধরছেন যে, ইসলামী ইরান মহান আল্লাহর সহায়তায় অতীতের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। বিশ্বের ছয় বড় শক্তি ১২ বছর ধরে ইরানকে পরমাণু শিল্প অর্জন থেকে বিরত রাখার চেষ্টা চালিয়েছে। তারা কেউ কেউ বলেছিল, ইরানের পরমাণু ক্ষেত্রের সব নাট-বল্টু খুলে ফেলতে হবে। কিন্তু আজ তারা ইরানের কয়েক হাজার পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজ সচল রাখার এবং পরমাণু বিষয়ে ইরানের উন্নয়ন ও গবেষণার কাজ চালিয়ে যাওয়াকে মেনে নিয়েছে। এটা ইরানি জাতির শক্তিমত্তার প্রমাণ ছাড়া অন্য কিছু নয়। 


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার দেশের ওপর পশ্চিমাদের হামলার হুমকির জবাবে ঈদুল ফিতরের খুতবায় বলেছেন,‘আমরা কখনও যুদ্ধের পক্ষে নই। আমরা কখনও আগ বাড়িয়ে যুদ্ধে নামব না। কিন্তু যদি যুদ্ধ ঘটে যায় তাহলে যে শক্তি এ যুদ্ধ শেষে মাথা নত করতে বাধ্য হবে সে হল আগ্রাসী ও অপরাধী আমেরিকা।’ #

 

রেডিও তেহরান

 

 

 

 

২৬ জুলাই (রেডিও তেহরান): ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন,  কোনো চাপের কাছে তার দেশ আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি আরো বলেছেন, এ কথা সবার জানা যে- চাপ এবং নিষেধাজ্ঞার মতো অস্ত্র ব্যবহার করে এখন আর ইরানকে হুমকি দেয়া যাবে না।

 

ড. রুহানি বলেন, “আমরা আজ এমন এক অবস্থানে আছি যে, পুরো বিশ্বকে আমরা বলেছি ইরানকে আর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেয়া যাব না।” ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্দিস্তান প্রদেশে এক জনসমাবেশে তিনি আজ (রোববার) এসব কথা বলেছেন।

 

প্রেসিডেন্ট রুহানি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার সব চক্র ভেঙে ফেলতে কাজ করবে তার সরকার যাতে ইরানি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায়। তিনি বলেন, “আলোচনার টেবিলে আমরা পরমাণু সংকটের সমাধান করেছি, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সব ইস্যুও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।” প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, অভ্যন্তরীণ সংকট চাপা দিতে গিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরান ইস্যুতে মাঝেমধ্যেই ভুল করে ফেলছেন। তিনি ইরান সম্পর্কিত নীতি পরিবর্তন করতে মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।#

 

রেডিও তেহরান/এসআই/২৬

২৪ জুলাই (রেডিও তেহরান): ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, তেহরান ও প্যারিসের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদার করার উপযুক্ত সময় এসেছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে এ সম্পর্ক জোরদারের সুযোগ রয়েছে।

 

গতকাল (বৃহস্পতিবার) ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের সঙ্গে এক টেলিফোন সংলাপে সম্পর্ক জোরদারের কথা বলেন ড. রুহানি। এ সময় তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক জোরদারের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।

 

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, “গত ১০ বছর ধরে দু দেশ বহু ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করার সুযোগ নষ্ট করেছে; এখন সময় এসেছে অতীতের সে ভুল সংশোধন করার।”

 

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পরমাণু ইস্যুতে চূড়ান্ত সমঝোতা হওয়ার এক সপ্তাহ পর ড. হাসান রুহানি ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন। এ সময় তিনি সমঝোতা বাস্তবায়নের বিষয়ে দু পক্ষের প্রতিশ্রুতি রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

টেলি সংলাপে ওলাঁদ পরমাণু সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টের প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি জানান, শিগগিরি ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরা ফ্যাবিয়াস তেহরান সফর করবেন। তিনি আরো বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার বিশেষ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল এবং বিমান পরিবহন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ফ্রান্স প্রস্তুত রয়েছে।#

 

রেডিও তেহরান/এসআই/২৪ 

২৩ জুলাই (রেডিও তেহরান): ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পরমাণু ইস্যুতে চূড়ান্ত সমঝোতার পর সারা বিশ্বের জন্য বার্তা পরিষ্কার হয়েছে যে, তেহরানের বিরুদ্ধে হুমকি দেয়ার যুগ শেষ হয়ে গেছে। এ কথা বলেছেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি।

 

 তিনি বলেছেন, ইরান সমঝোতা এ বার্তাই দিচ্ছে যে, চিরদিনের জন্য অস্ত্র ও হুমকি ছুঁড়ে ফেলুন। এছাড়া, বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন ও জটিল ইস্যুও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলে এ সমঝোতা বার্তা দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সমঝোতার মধ্যদিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে এ বার্তা পৌছে গেছে যে, ইরানি জাতিকে অবশ্যই কখনো হুমকি দেয়া যাবে না। রাজধানী তেহরানে আজ (বৃহস্পতিবার) এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট রুহানি এসব কথা বলেছেন।

 

পরমাণু ইস্যুতে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ছয় জাতিগেষ্ঠার সঙ্গে দীর্ঘ ও ক্লান্তিহীন আলোচনা চালিয়ে যাওয়ায় তিনি ইরানি আলোচক দলের প্রশংসা করেন। এর পাশাপাশি তিনি মহান ইরানি জাতিকে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ধৈর্য ধরার জন্য প্রশংসা করেন এবং ধন্যবাদ জানান।#

 

রেডিও তেহরান/এসআই/২৩