এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বৃহস্পতিবার, 07 মে 2015 17:21

'উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ ও পণ্যের মান বৃদ্ধির চেষ্টা ইবাদত'

'উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ ও পণ্যের মান বৃদ্ধির চেষ্টা ইবাদত'

 শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকের অধিকার এবং ইরানের অর্থনৈতিক বিষয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু বক্তব্য রেখেছেন। আজ তার ওই বক্তব্যের কিছু অংশের ওপর আলোকপাত করবো এই বিশেষ প্রবন্ধে। 

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার বক্তব্যে শ্রম ও শ্রমিকের মর্যাদা প্রসঙ্গে বিশ্বনবী (সা.)'র জীবনের একটি বিখ্যাত ঘটনা উল্লেখ করেছেন। ওই ঘটনায় দেখা গেছে মহান আল্লাহর সর্বশেষ রাসূল শ্রমিক ও শ্রমের মর্যাদা তুলে ধরার জন্য শ্রমিকের হাতে চুমু দিয়েছিলেন।

 

ইসলামী ইরানের ওপর পাশ্চাত্যের অব্যাহত অন্যায় নিষেধাজ্ঞাগুলোর প্রেক্ষাপটে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা প্রতিরোধমূলক অর্থনীতির কথা বলে এসেছেন। এই প্রতিরোধমূলক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি বা প্রাণ হল জাতীয় ও ঘরোয়া উৎপাদন বৃদ্ধি। বাইরের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের ঘরোয়া উৎপাদনে অগ্রগতি অর্জন সম্ভব নয় – এমন ধারণাকে নাকচ করে দিয়েছেন হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী। তার মতে সুনিপুণ ও সার্বজনীন কর্মপরিকল্পনা নেয়া হলে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এর প্রমাণ হল, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিজ্ঞানের নানা শাখায়, সামরিক শিল্পে, পরমাণু ও ন্যানো প্রযুক্তিতে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এ প্রসঙ্গে বলেছেন,

 

'বিজ্ঞানের কোনো কোনো শাখায় যেমন, ন্যানো প্রযুক্তিতে- যা বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগুলোর অন্যতম- বিশ্বের কেউই আমাদের সহায়তা দেয়নি ও ভবিষ্যতেও এক্ষেত্রে সাহায্য করবে না। কিন্তু ইরান এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে। এতো নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরান বাঁধ নির্মাণ শিল্পে অগ্রগতি অর্জন করে এক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর তালিকায় স্থান পেয়েছে। বিশ্বের বহু দেশে বাঁধ নির্মাণ করে পশ্চিমা কোম্পানি। এতে বহু অর্থ খরচ হয়। আর ইরানি বিশেষজ্ঞরা এইসব কোম্পানির মতই কিংবা কখনও তাদের চেয়েও উন্নত মানের বাঁধ খুব কম খরচে নির্মাণ করছে।'


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা উৎপাদনের ক্ষেত্রে পণ্যের মান উন্নত করার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, "হাদিসে এসেছে, 'যে যত্ন বা দৃঢ়তা নিয়ে কাজ করে তার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়।' যত্ন ও সতর্কতা বজায় রেখে কাজ করলে পণ্যের মান হয় উন্নত। আর এক্ষেত্রে পরিশ্রম ও চেষ্টা হচ্ছে ইবাদত।'
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা জাতীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে পুঁজি-বিনিয়োগকারীর ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, 

 

'আমি এমন কয়েকজন ব্যক্তির কথা জানি যারা ইচ্ছে করলেই তাদের অর্থকে অনুৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করে বেশি অর্থ আয় করতে পারতেন। কিন্তু তারা তা না করে দেশের সেবার জন্য বা দেশের প্রয়োজনের স্বার্থে কম লাভের অথচ উৎপাদনশীল খাতেই নিজের অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। কারণ, তারা বুঝেছিলেন যে এতেই দেশ ও জনগণের বেশি কল্যাণ রয়েছে। তাদের এই পদক্ষেপ ছিল ইবাদত।'


অন্য যে শ্রেণী জাতীয় উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তারা হলেন ভোক্তা। দেশীয় পণ্য কেনার ওপর সব সময়ই জোর দিয়ে আসছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘বিবেকবান ও ন্যায়পরায়ণ ভোক্তারা দেশের উৎপাদন খাতকে সহায়তা করতে পারেন। দেশীয় পণ্য কেনাই দেশের জন্য কল্যাণকর। আর এতেই ইরানি শ্রমিকরা সহায়তা পাবেন।’ 

 


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সরকারি যে কোনো কাজে তথা টেবিলের কাগজ-কলম থেকে শুরু করে ভবন নির্মাণ পর্যন্ত সব ধরনের কাজে দেশীয় পণ্য ব্যবহারকে বাধ্যতামূলক ও (যতোটা সম্ভব) বিদেশী পণ্য বা সরঞ্জাম ব্যবহারকে হারাম হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জানান। তিনি জাতীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে মুনাফালোভী ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, যারা দেশের ভেতরে বিদেশী পণ্যের চোরাচালান বা অনুপ্রবেশ রোধের জন্য সংগ্রাম করছেন তারা ইবাদত করছেন; কারণ, এ কাজ পরোক্ষভাবে জাতীয় উৎপাদনকেই সাহায্য করছে। 

 


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী জাতীয় উৎপাদন বাড়াতে গণমাধ্যম ও প্রচারমাধ্যমসহ সাংস্কৃতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন। তার মতে, দেশীয় পণ্য কিনতে উৎসাহ দেয়া এবং নিষেধাজ্ঞার সময় কঠিন বা ভারি পরিশ্রমের কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরা জরুরি। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন,‘ বেকার থাকা, কম কাজ করা ও কঠিন কাজ এড়িয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে সাংস্কৃতিক কর্মকর্তাদেরকে। কঠিন পরিশ্রম ছাড়া শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে কেউ সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। আর এ জন্য যথাযথ পরিকল্পনা ও সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।’

 

ইরানের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানের চাবি লোজান, জেনেভা ও নিউ ইয়র্কে নেই বরং তা দেশের ভেতরেই রয়েছে বলে মনে করেন ইসলামী এই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা। ৬ বৃহৎ শক্তির সঙ্গে পরমাণু আলোচনা ও বিদেশী নিষেধাজ্ঞা অবসানের দিকে নজর না দিয়ে বা এইসব বিষয়ের অপেক্ষায় না থেকে দেশের সমস্ত কাঠামো ও বিশেষ করে অর্থনৈতিক কাঠামোকে জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। আলোচনার সাফল্যও এরই ওপর নির্ভর করছেন বলে তিনি মনে করেন। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘অর্থনীতিসহ দেশের সমস্ত কাঠামো শক্তিশালী করা হলে সব বিষয়ে নানা পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা যায়। মানুষের উচিত শক্তিশালী অবস্থানে থেকে সংলাপে বসা। প্রয়োজন বা মুখাপেক্ষীতার অবস্থান থেকে নয়। কারণ, মুখাপেক্ষীতার অবস্থানে থাকলে শত্রু র জিহ্বা বা গলা লম্বা হয়ে যায় এবং সে নানা শর্ত আরোপ করতে থাকে।’

 


ঈমান, ধৈর্য ও দৃঢ়-প্রতিজ্ঞা থাকলে এবং আল্লাহর সহায়তা নিয়ে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে পরিশ্রম অব্যাহত রাখলে ইরান বিদেশী নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কাটিয়ে অর্থনৈতিক সব সমস্যার সমাধান করতে পারবে বলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মনে করেন। ইরানের মুসলিম জাতি কঠিন নানা বিপদ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে অতীতেও অনেক অসাধ্য সাধন করেছে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। #

 

রেডিও তেহরান/এএইচ

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন