এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
মঙ্গলবার, 23 জুন 2015 18:25

খোদাপ্রেমিক বলেই দামী পাথর ভিক্ষুককে দিয়ে দিলেন মহিলা!

পবিত্র রমজানে পাপ ও ভুল পথ আর ভুল চিন্তা থেকে দূরে থাকার জন্য জ্ঞান চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাবেই বর্তমান যুগেও ইসলামের শত্রুদের কারসাজিতে গড়ে উঠেছে সেই অতীতের খারিজি এবং ইয়াজিদি গোষ্ঠীর মতই চরম বিভ্রান্ত, ধর্মান্ধ ও চরম হিংস্র বা মনুষ্যত্বহীন নানা গোষ্ঠী। একদল সরলমনা মুসলমান এইসব জঙ্গি গোষ্ঠীকে সমর্থন করে ভাবছেন যে তারা ইসলামেরই সেবা করছেন! ইসলামের এ জাতীয় বোকা বন্ধুরা ইসলাম ও মুসলমানদের যত ক্ষতি করেছে, ইসলামের প্রকাশ্য শত্রুরাও ততটা ক্ষতি করতে পারেনি।

 


যুগে যুগে মহান নবী-রাসূল এবং তাঁদের যোগ্য উত্তরসূরির মিশনই ছিল মানুষকে প্রকৃত মানুষে পরিণত করা ও মহান আল্লাহর যোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে তাদেরকে গড়ে তোলা। বিবেক আর জ্ঞানের বাতি জ্বালিয়ে তারা মানুষকে দেখাতে চেয়েছেন সুপথ। মানুষ যখন পুরোপুরি বিবেকের দাস হতে পারে কেবল তখনই হতে পারে সে প্রকৃত মানুষ এবং পাশবিক নানা আমিত্বের দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে সে কেবল তখনই হতে পারে মহান আল্লাহর খলিফা যে জন্য আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন। রোজা মানুষকে আল্লাহর পরিপূর্ণ দাস ও খলিফা বা প্রতিনিধি হওয়ার শিক্ষা দেয়।


একজন পরিপূর্ণ দাস মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং আল্লাহর বিধানকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিজের সব কিছুকে কুরবানি করতে পারেন। আর রোজা হচ্ছে সেই কুরবানির প্রশিক্ষণ নেয়ার অন্যতম মাধ্যম। প্রকৃত নামাজ ও প্রকৃত রোজার প্রভাব প্রমাণিত হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের সময়। ইব্রাহিম (আ.) হাসিমুখে নমরুদের জ্বালানো বিশাল অগ্নিকুণ্ডে প্রবেশ করতে দ্বিধা বোধ করেননি নামাজ ও রোজার প্রভাবের কারণেই। সর্বোত্তম রোজাদার ও সর্বোত্তম নামাজি ছিলেন বলেই বিশ্বনবী (সা.) বলেছিলেন, আমার এক হাতে যদি সূর্য আর অন্য হাতে যদি চাঁদ এনে দাও তবুও আমি সত্য প্রচার করা থেকে বিরত হব না। তাঁরা মহান আল্লাহকেই প্রকৃত অর্থেই সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশক্তিমান মনে করতেন এবং আল্লাহর নির্দেশকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন। তাই তাঁদের কোনো ভয় ও দুঃখ ছিল না। একই কারণে আমিরুল মু'মিনিন আলী (আ.) বলেছিলেন, শিশুর কাছে মাতৃস্তন যতটা প্রিয় শাহাদত আমার কাছে তার চেয়েও বেশি প্রিয়।

 

একইভাবে যারা কারবালায় ইসলামের জন্য হাসিমুখে জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন তারা ছিলেন মানব-ইতিহাসের শীর্ষস্থানীয় রোজাদার ও নামাজি। কারবালায় শহীদ হওয়ার জন্য তাঁরা প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন এবং এ জন্য ইমামের একদল অনুসারী এতটাই ব্যাকুল ও আত্মহারা হয়েছিলেন যে তারা ইমামের দেখানো পথে হাজার বার নিহত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন! অন্যদিকে আলী (আ.)' বিরোধী খারিজিরাও রাত জেগে নফল নামাজ পড়তো, কুরআন পাঠ করতো এবং রোজাও রাখত! ইয়াজিদ বাহিনীর বেশিরভাগ সেনাও ছিল নামাজি ও রোজাদার! অথচ তাদের কুরআন-পাঠ এবং নামাজ-রোজায় প্রকৃত ইসলামের প্রাণ-সত্তার সামান্য ছোঁয়াও ছিল না! কারণ, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোভাবে চিনতে পারেনি। ফলে তারা প্রকৃত শিক্ষকদেরকে শিক্ষক হিসেবে মেনে নেয়নি। পরিণতিতে আল্লাহ ও বিশ্বনবী (সা.) এবং তাঁর পবিত্র আহলে বাইত তাদের কাছে গুরুত্ব পায়নি। তারা নামাজ ও রোজার মাধ্যমে হয় কেবলই অভিনয় করেছে অথবা মুর্খতার কারণে কাঁচকে হিরা মনে করেছে, আর আসল হিরাকে ভেবেছে কাঁচ। মোট কথা আল্লাহু আকবার বা আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ- এ কথা কেবল মুখে মুখে বললেই হবে না, প্রতিটি মুহূর্তে নানা পরীক্ষায় তা প্রমাণ করতে হবে। 

 

আমরা মহান আল্লাহকে সব কিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেই না বলেই পাপের শিকার হই। এ প্রসঙ্গে একটি কাহিনী রয়েছে। একবার এক ভিক্ষুক পথে এক মহিলার কাছে ভিক্ষা চাইতে গেলো। মহিলার ব্যাগে ছিল টাকা-পয়সা ও দামী হীরা-জহরত । ভিক্ষুক সেসব দেখে বললো: ওই যে পাথরটা দেখা যাচ্ছে, আমাকে কি সেটা দেবেন? মহিলা বললেন: কেনো দেয়া যাবে না?! নিন এই পাথরটাই নিন।

 


বিস্মিত ভিক্ষুক পাথরটা হাতে পেয়েই দৌড় দিয়ে বহু দূরে চলে যায়। কারণ, সে ভাবছিল যে মহিলা হয়তো ভুল করে এতো দামী পাথরটা দিয়েছেন, তাই হয়তো আফসোস করবেন এবং আবার পাথরটা ফেরত চাইবেন। ভিক্ষুক ওই মহামূল্যবান পাথরটা নিয়ে গেলো জহুরির দোকানে। জহুরি বলল: এতো দেখছি খুবই দামী পাথর। ওটার যে দাম তা দিয়ে তোমার পরবর্তী ১৪ পুরুষের আর কিছুই করা লাগবে না।

 

জহুরি বেশ চড়া দামে পাথরটি কিনতে চাইলেও ভিক্ষুক কি যেন ভেবে তা ফেরত নিয়ে সেই দানশীলা মহিলাকে খুঁজে বের করে। ভিক্ষুক তাকে প্রশ্ন করে: আপনি এই মহামূল্যবান পাথরটা আমায় দান করে কি দুঃখিত নন? মহিলা হেসে বললেন: না, মোটেই দুঃখিত নই।

 


ভিক্ষুক বলল: আপনি কিভাবে এমন উদার মনের অধিকারী হয়েছেন- তা জানতে চাই? আপনার এই মনটাইতো অনেক বেশি দামী। আমিও এমন মনই অর্জন করতে চাই। এই পাথর আর চাই না। নিন, আপনার পাথর ফেরত নিন। মহিলা পাথর ফেরত না নিয়েই অশ্রুসজল চোখে বললেন: দেখুন, আমি এ বিশ্ব-জগতে আল্লাহকেই সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে দামী মনে করি। তাই অন্য কোনো কিছু পেয়ে বা হারিয়ে আমি কখনও দুঃখিত বা আনন্দিত হই না। সবকিছুর মালিক তো তিনিই। তিনি ছাড়া অন্য সব কিছুই আমার কাছে খুবই তুচ্ছ বা মূল্যহীন।

 

এবারে পড়া যাক অর্থসহ পঞ্চম রোজার দোয়া: 

 


اليوم الخامس : اَللّـهُمَّ اجْعَلْني فيهِ مِنْ الْمُسْتَغْفِرينَ، وَاجْعَلْني فيهِ مِنْ عِبادِكَ الصّالِحينَ اْلقانِتينَ، وَاجْعَلني فيهِ مِنْ اَوْلِيائِكَ الْمُقَرَّبينَ، بِرَأْفَتِكَ يا اَرْحَمَ الرّاحِمينَ .
হে আল্লাহ ! এই দিনে আমাকে ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের অন্তর্ভূক্ত কর। আমাকে শামিল কর তোমার সৎ ও অনুগত বান্দাদের কাতারে । হে আল্লাহ ! মেহেরবানী করে আমাকে তোমার নৈকট্যলাভকারী বন্ধু হিসেবে গ্রহণ কর। হে দয়াবানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়াবান । # 

 

রেডিও তেহরান

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন