এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সোমবার, 13 জুলাই 2015 15:01

ধর্মের পথে একনিষ্ঠতা ও কপটতার এক শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত

মহান আল্লাহর অশেষ প্রশংসা করছি এবং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইত ও ন্যায়পরায়ণ সাহাবিদের শানে অশেষ দরুদ আর সালাম জানাচ্ছি।

 

রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস রমজান শেষ হয়ে আসছে। পবিত্র শবে কদর বা তথা ভাগ্য-নির্ধারণের রাতগুলো অতিক্রম করছি আমরা। আত্ম-সংশোধন ও পাপ বর্জনের অনুশীলনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত এই দিন ও রাতগুলোকে আবারও ফিরে পেতে এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আজ আমাদের সঙ্গে এমন অনেক আপনজন বা পরিচিত মানুষেরা নেই যারা গত বছরের এমন দিনেও উপস্থিত ছিলেন! তাই আমাদের এমন পরিকল্পনা নেয়া উচিত যাতে রমজানের মধ্যেই আত্মাকে পুরোপুরি বিশুদ্ধ ও পাপের প্রভাব থেকে মুক্ত করা যায়। অপ্রস্তুত অবস্থায় যেন মৃত্যু বরণ করতে না হয়। আমরা পাপ থেকে দূরে থাকতে কতটা বাস্তব উদ্যোগ নিয়েছি? বড় বড় পাপের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে কতটা নিজেকে ও নিজের পরিবারকে সচেতন করেছি? যেসব বই পড়লে বা যেসব আলোচনা শুনলে ধর্মের জরুরি বিষয়গুলো জানা যায় ও পাপ পরিহার সহজ হয় -এমনসব কাজে কতটা সক্রিয় হয়েছি?


উন্নত চরিত্র গঠনের জন্য মহাপুরুষ বা আল্লাহর প্রিয়পাত্রদের জীবনী ও তাঁদের দোয়া থেকে কতটা শিক্ষা নিচ্ছি আমরা? পবিত্র কুরআন পড়ে ও মহাপুরুষদের শেখানো দোয়া পড়ে আমাদের চোখে কি পানি আসছে? যদি না আসে তাহলে বুঝতে হবে যে অন্তর বা আত্মা মরে আছে। অতিরিক্ত পাপের ফলে কলুষিত আত্মা পাষাণ হয়ে পড়েছে। তাই এই মৃত আত্মাকে জাগাতে হবে।


মহান আল্লাহ সুরা ফাতিরে বলেছেন,

 'কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কেউ যদি তার গুরুতর ভার বহন করতে অন্যকে আহবান করে কেউ তা বহন করবে না-যদি সে নিকট- আত্নীয়ও হয়। আপনি কেবল তাদেরকে সতর্ক করেন, যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখেও ভয় করে এবং নামায কায়েম করে। যে কেউ নিজের সংশোধন করে, সে সংশোধন করে, নিজ কল্যাণের জন্যেই। আর আল্লাহর কাছেই সবাইকে ফিরতে হবে। দৃষ্টিমান ও দৃষ্টিহীন সমান নয়। সমান নয় অন্ধকার ও আলো। সমান নয় ছায়া ও তপ্তরোদ। আরও সমান নয় জীবিত ও মৃত। আল্লাহ শ্রবণ করান যাকে ইচ্ছা। আপনি কবরে শায়িতদেরকে শুনাতে সক্ষম নন। আপনি তো কেবল একজন সতর্ককারী।.....


আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই কেবল তাঁকে ভয় করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাময়। যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, নামায কায়েম করে, এবং আমি যা দিয়েছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন ব্যবসা আশা করে যাতে কখনও লোকসান হবে না। পরিণামে তাদেরকে আল্লাহ তাদের সওয়াব পুরোপুরি দেবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বেশী দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী।' 

 

পবিত্র কুরআনের হৃদয়-নিংড়ানো এইসব বাণী থেকে এটা স্পষ্ট যে, কিয়ামতের দিন সৎকর্ম ও ঈমান ছাড়া আর অন্য কিছুই কোনো কাজে আসবে না। আপনার ধন-সম্পদ, পদ-মর্যাদা, সন্তান-সন্ততি, দল-বল –এসব কিছুই কাজে আসবে না কবরে চলে যাওয়ার পর থেকে। তাই সেই মহাবিপদের দিনের জন্য এখন থেকেই পাথেয় সংগ্রহ করতে হবে।  


আমরা আরও জানলাম কুরআন থেকে যে, কেবল জ্ঞানীরাই আল্লাহকে ভয় করেন। তাই জ্ঞান অর্জন সবচেয়ে বেশি জরুরি পাপ বর্জনের জন্য। আত্মগঠন ও আত্ম-সংশোধনের ক্ষেত্রে এটাই হওয়া উচিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ। হাদিসেও এসেছে, আল্লাহ যাকে ভালবাসেন তাকে ধর্মের জ্ঞান দান করেন। 


বড় বড় পাপগুলো কী কী এবং সেসব এড়ানোর উপায় সম্পর্কে ধারণা অর্জন করার পর আমাদেরকে উন্নত চরিত্র গঠনের জন্য মনোযোগী হতে হবে। কদরের রাতে নফল ইবাদতের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল ওয়াজিব বা ফরজ দায়িত্বগুলো পালন ও হারাম বর্জন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা। 

 

ইবাদতকে একনিষ্ঠ করার জন্য ব্যাপক জ্ঞান চর্চা জরুরি। আল্লাহর কাছে আমাদের এটাই চাইতে হবে যাতে তিনি আমাদেরকে সবচেয়ে জরুরি জ্ঞান তথা ধর্মের জ্ঞান দান করেন যার সুবাদে আমরা আমাদের দায়িত্বগুলো ভালোভাবে পালন করতে পারি এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলসহ আল্লাহর প্রিয় ব্যক্তিদের ভালোভাবে জেনে তাঁদের অনুসরণ করতে পারি।


প্রাচীন যুগের ধর্মমনা এক লোক দেখল যে এক জায়গায় লোকজন বিভ্রান্ত হয়ে একটি গাছের পূজা করছে! তাই সে ওই গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু শয়তান বৃদ্ধ জ্ঞানীর বেশ ধরে তাকে বলল, যে এ কাজ করো না। এ কাজ জরুরি হলে নবীদের পাঠিয়ে আল্লাহ তা করতেন! কিন্তু ওই লোক শয়তানের কথায় কান না দিয়ে তার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। লোকটি খুব সহজেই শয়তানকে পরাস্ত করে। এবার শয়তান বলল, তুমি গাছটি না কাটলে তোমাকে প্রতিদিন ২ দিনার দেব। লোকটি লোভের ফাঁদে পড়ে ভাবল, তা মন্দ কি! এক দিনার নিজের জন্য রাখব আর এক দিনার আল্লাহর পথে দান করব! সে গাছ না কাটায় কয়েক দিন ধরে বালিশের নীচে ২ দিনার পেল।

 

কিন্তু একদিন ওই ধার্মিক দেখে দিনার আর আসছে না। ফলে সে আবারও গাছটি কাটতে যায়। এবারও সংঘর্ষ হল। কিন্তু এবার শয়তান খুব সহজেই তাকে হারিয়ে দিল। সে প্রশ্ন করল শয়তানকে: এত সহজেই এবার হেরে গেলাম!? অথচ সেবার তুমি হেরেছিলে! শয়তান বলল, সেবার তুমি ছিলে আল্লাহর পথে একনিষ্ঠ তাই আল্লাহ তোমাকে জয়ী করেছিলেন। কিন্তু এবার তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গাছ কাটতে আসনি, বরং দিনার না পাওয়ার রাগে গাছ কাটতে এসেছ, তাই সহজেই কুস্তিতে পরাজিত হলে। # 

 

রেডিও তেহরান

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন