এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
মঙ্গলবার, 23 ফেব্রুয়ারী 2016 19:02

সুরা তওবার নানা আলোচ্য বিষয় (২)

সুরা তওবার নানা আলোচ্য বিষয় (২)
মক্কা ও তায়েফের মধ্যবর্তী একটি স্থানের নাম হুনাইন। এখানেই সংঘটিত হয়েছিল ঐতিহাসিক হুনাইন যুদ্ধ।

ইসলামের দ্রুত অগ্রগতি দেখে এ অঞ্চলের জনগণ, বিশেষ করে হাওয়াজিন ও সাকিফ নামের দু'টি বিখ্যাত গোত্র আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাদের সর্দাররা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে যে মুহাম্মাদের (সা.) বাহিনী তাদের ওপর হামলা চালানোর আগে তারা নিজেরাই মুসলমানদের ওপর আগাম হামলা চালাবে। তাই তারা বহু যোদ্ধা নিয়ে মক্কার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এই খবর পেয়ে বিশ্বনবী (সা.) মুসলিম বাহিনীকে তায়েফের দিকে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রায় ১২ হাজার মুসলিম যোদ্ধা বিশ্বনবী (সা.)'র সহযোগী হয়ে তায়েফের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। মুসলমানদের বিপুল সেনাসংখ্যা দেখে মুসলিম বাহিনীর অনেকের মধ্যেই অহংকার জেগে ওঠে।

সকাল বেলা মহানবী (সা.) হুনাইনের দিকে এগিয়ে যেতে মুসলিম বাহিনীকে নির্দেশ দেন। কিন্তু এ সময় হঠাৎ করে তারা চারদিক থেকে হাওয়াজিন গোত্রের যোদ্ধাদের তির-বৃষ্টির শিকার হন। ফলে মুসলমানদের অল্প একদল ছাড়া সবাই পালিয়ে যেতে থাকে। এক পর্যায়ে মহানবী (সা.)-এর কাছে মাত্র দশ জন অবশিষ্ট রইলেন। তাঁরা হলেন হযরত আলী (আ.), রাসূলের চাচাত ভাই আবু সুফিয়ান ইবনে হারিস ইবনে আবদুল মুত্তালিব, চাচা আব্বাস (আ.), নওফিল, ফযল ইবনে আব্বাস, রবীয়া, যুবায়ের, আবু লাহাবের দুই পুত্র উতবা ও মাতয়াব এবং ইয়ামান। হযরত আলী মহানবী (সা.)-এর সামনে পতাকা ধারণ করে যুদ্ধ করছিলেন, ফযল ও আব্বাস ডান ও বামে ছিলেন। মহানবী (সা.) সাহাবীদের ডেকেই চলছিলেন, কিন্তু কোন সাড়া পাচ্ছিলেন না। অবশেষে হযরত আব্বাস এক উঁচু ঢিবিতে দাঁড়িয়ে সাহাবীদের পূর্বেকৃত বাইয়াত ও শপথের কথা বার বার স্মরণ করাতে থাকলেন। ফলে তাঁরা সবাই ফিরে এসে প্রত্যাঘাত করলেন।

মহানবী (সা.) এক মুঠো মাটি কাফিরদের দিকে ছুঁড়ে দিলেন ও তাদের অভিসম্পাত করলেন। ইতোমধ্যে ঐশী সাহায্যও এসে যায়। পরিশেষে মুসলমানরা বিজয়ী হলেন। আর কাফিরদের প্রায় ১০০ জন নিহত হয়। এ ছাড়াও তাদের ছয় হাজার ব্যক্তি বন্দি হয় এবং ২৪ হাজার উট, ৪ হাজার গরু, ৩ লাখ ৪০ হাজার ছাগল ও দুম্বা গনীমত হিসেবে পান মুসলমানরা।

যুদ্ধের পর তায়েফের গণ-প্রতিনিধিরা বিশ্বনবী (সা.)'র কাছে আসেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। মহানবী (সা.)ও তাদের বেশ সমাদর করেন। সুরা তওবার ২৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলছেন:

"(২৫) আল্লাহ তোমাদের বহু স্থানে সাহায্য করেছেন (বলে তোমরা বিজয়ী হয়েছো) এবং হুনায়নের দিন(ও তিনি তোমাদের সাহায্য করেছেন) যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য তোমাদের দাম্ভিক করে দিয়েছিল। কিন্তু সেটা (সংখ্যাধিক্য) তোমাদের কোন কাজে আসেনি; এবং পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তোমাদের জন্য তা সঙ্কুচিত হয়ে গিয়েছিল; ফলে তোমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালিয়ে গিয়েছিলে।"

বদর যুদ্ধে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল কম, কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করেন। আর হুনাইনের যুদ্ধে মুসলমানদের সংখ্যা শত্রুর চেয়ে অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও সংখ্যাধিক্য তাদের কোনো কাজে আসেনি। এখানেও আল্লাহর সাহায্য পাওয়ায় মুসলমানরা নিশ্চিত পরাজয় এড়িয়ে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়। এভাবে আল্লাহ অনেক যুদ্ধেই চরম সংকটের সময় মুসলমানদের সাহায্য করেছেন।

সুরা তওবার ২৬ নম্বর আয়াতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে: (ইকো) "(২৬) অতঃপর আল্লাহ তাঁর রাসূলের ওপর এবং বিশ্বাসীদের ওপর তাঁর (পক্ষ থেকে) প্রশান্তি নাজিল করলেন এবং এমন সেনাদল (ফেরেশতাদের) পাঠালেন যাদের তোমরা দেখোনি এবং অবিশ্বাসীদের ওপর শাস্তি নাজিল করলেন, আর এটাই অবিশ্বাসীদের প্রতিফল।"

প্রশান্তি নাজিল করা হচ্ছে মহান আল্লাহর এমন একটি বড় অনুগ্রহ যে এর ছায়ায় মানুষ কঠিনতম বিপদ বা কষ্টের মধ্যেও প্রশান্তি ও আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান থাকে। মু'মিন মুসলমানদের এটা জানা উচিত যে সংখ্যাধিক্যের কারণে কখনও গর্ব করা উচিত নয়, বরং ঈমান ও মনোবলকেই জোরদার করা উচিত। দৃঢ়-চিত্ত ও দৃঢ় ঈমানের অধিকারীরা সংখ্যায় অল্প হলেও তারাই যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে যেমনটি ঘটেছে বদর ও হুনাইনে। তাই প্রকৃত মুমিন মুসলমানদের এমন হওয়া উচিত যে ঈমানের দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস ও আত্মত্যাগের চেতনা নিয়ে তারা কঠিনতম ঝড়-তুফানের মধ্যেও পাহাড়ের মত অবিচল থাকতে সক্ষম হবে।

এবারে সুরা তওবার ৩৩ নম্বর আয়াতের অর্থ ও ব্যাখ্যার দিকে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো।

"তিনি তো সেই সত্তা যিনি তাঁর রাসূলকে (মুহাম্মদ সা.-কে) পথনির্দেশ ও সত্যধর্মসহ পাঠিয়েছেন, যাতে নিজ ধর্মকে অন্য সব ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন; যদিও মুশরিক বা অংশীবাদীরা তা অপছন্দ করে।" সুরা তওবা (৩৩)

প্রশ্ন হলো ইসলাম ধর্ম কী অন্য সব ধর্মগুলোর ওপর বিজয়ী হয়েছে? যদি না হয়ে থাকে তাহলে কখন মহান আল্লাহর এই ওয়াদা বাস্তবায়িত হবে?

কারণ, বর্তমান বিশ্বে বা সব সময় মুসলমানদের চেয়েও অমুসলমানদের মোট সংখ্যা বেশি বলে মনে করা হয়। মুসলমানরা বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার বড় জোর চার ভাগের এক ভাগ বা পাঁচ ভাগের এক ভাগ।

উল্লেখ্য এ আয়াতটি কুরআন মাজীদের কয়েকটি স্থানে রয়েছে।

এর উত্তরে তাফসিরকারকরা কি বলেছেন তা দেখা যাক। ফুসুলুল মুহিম্মা গ্রন্থে এ আয়াতের তাফসীরে সাঈদ ইবনে যুবাইর হতে বর্ণিত হয়েছে যে, এর উদ্দিষ্ট হযরত ইমাম মাহদী (আ.) যিনি হযরত ফাতিমা (আ.)-এর সন্তানগণের মধ্য থেকে হবেন।

ফখরুদ্দীন রাজী তাফসীরে কাবীর গ্রন্থে ও আল্লামা সুয়ূতী তাফসীরে দুররে মানসুর গ্রন্থে এবং সাঈদ ইবনে মানসুর ও বায়হাকী নিজ নিজ সুনানে হযরত জাবির এবং আবু হোরায়রা হতে বর্ণনা করেছেন যে, এটা তখনই হবে যখন ইসলাম ভিন্ন না ইহুদী থাকবে, না খ্রিস্টান, আর না অন্য কোন ধর্মের অনুসারী। তখন ছাগল নেকড়েকে ভয় করবে না, গরু বাঘের থেকে এবং মানুষ সাপের অনিষ্ট হতে নিরাপদ থাকবে, এমনকি কোন ইঁদুরের বস্তা কাটার সাহস হবে না।

এ ছাড়াও সে সময় কোনো অমুসলিম থাকবে না বলে তাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কর বা জিজিয়ার কোন প্রচলন থাকবে না, ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলা হবে, শুকর মেরে ফেলা হবে। এসব সেই সময়ে ঘটবে যখন হযরত ঈসা (আ.) আসমান হতে অবতরণ করবেন। এ বিষয়টি স্পষ্ট যে, হযরত ঈসা (আ.) তখনই আসবেন যখন হযরত ইমাম মাহদী (আ.) আবির্ভূত হবেন। (মহান আল্লাহ তাঁর পুনরাবির্ভাব ত্বরান্বিত করুন)#

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন