এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বুধবার, 24 ফেব্রুয়ারী 2016 11:16

সুরা ইউনুসের কয়েকটি আয়াতের ব্যাখ্যা

সুরা ইউনুসের কয়েকটি আয়াতের ব্যাখ্যা
সুরা ইউনুসের ৭ ও ৮ নম্বর আয়াতে পারলৌকিক জীবন ও মানুষের পরিণতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। যারা পুনরুত্থানে বিশ্বাসী নয় এবং কেবল পৃথিবীর জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট ও কেবল এর ওপরই ভরসা রেখে সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষাকে লালন করে

এবং যারা আমাদের নিদর্শনগুলোর ব্যাপারে অসচেতন তাদের স্থান হবে জাহান্নামে। পরকালের প্রতি অবিশ্বাস নানা ধরনের পাপ ও পংকিলতার উৎস।

আর অন্যদিকে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে মহান আল্লাহ তাদেরকে ঈমানের ছায়াতলে সৎপথ দেখান বলে পরের দুই আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে:

" অবশ্য যেসব লোক ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদেরকে হেদায়েত দান করবেন তাদের পালনকর্তা, তাদের ঈমানের কারণে। তিনি তাদেরকে পরিচালিত করবেন বেহেশতের এমন কানন-কুঞ্জের প্রতি যার (প্রাসাদগুলোর) নীচ দিয়ে বয়ে যাবে নহর বা ঝর্ণাধারা। সেখানে তাদের প্রার্থনা হল‘পবিত্র তোমার সত্তা হে আল্লাহ’। আর শুভেচ্ছা বা প্রশংসা হল সালাম, আর তাদের প্রার্থনার সমাপ্তি হয়, ‘সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপালক আল্লাহর জন্য’ বলে।"

যারা ঈমান রাখে ও ভালো কাজ করে আল্লাহ তাদের অন্তরকে ঈমানের আলোয় এমনভাবে আলোকিত করেন যে দুনিয়ার জীবনের চাকচিক্য ও শয়তানের কুমন্ত্রণা তাদেরকে প্রতারিত করতে পারে না। ফলে তারা বিপথে যায় না। পরকালে তাদের দেয়া হয় এমন বেহেশত যার প্রাসাদগুলোর নীচে থাকবে পানির নহর বা খাল। তারা পবিত্র ও আন্তরিক পরিবেশে বসবাস করবে এবং বিচিত্রময় ও অশেষ নেয়ামতের অধিকারী হবে। ফলে তারা সেখানে বলবেন: হে প্রতিপালক! তুমি সব ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত এবং সব প্রশংসা কেবল তোমারই জন্য।

সুরা ইউনুসের ৩৭ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলছেন:

'আর কোরআন সে জিনিস নয় যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ তা বানিয়ে নেবে (যা মোটেই সম্ভব নয়)। অবশ্য এটি পূর্ববর্তী খোদায়ী বই বা কালামের সত্যায়ন করে এবং সে সমস্ত বিষয়ের বিশ্লেষণ দান করে যা তোমার প্রতি দেয়া হয়েছে, যাতে কোন সন্দেহ নেই যে তা তোমার বিশ্বপালনকর্তার পক্ষ থেকে।'

মুশরিকরা দাবি করতো মহানবী (সা.) নিজেই কুরআন রচনা করে তাকে আল্লাহর কিতাব বলে দাবি করছেন! এই আয়াতে মুশরিকদের এই অপবাদের জবাবে মহান আল্লাহ বলছেন যে, কুরআন এমন এক বই যা অতীতের খোদায়ী বইগুলোকে সত্যায়ন করছে এবং কুরআন ও শেষ নবী (সা.)সহ নানা বিষয়ে যেসব নিদর্শন ও সুসংবাদের কথা অতীতের অসমানি কিতাবগুলোতে এসেছে মহানবী (সা.) ও কুরআনের ক্ষেত্রে তা হুবহু মিলে যায়। তাই কুরআন যে আল্লাহর পক্ষ থেকেই নাজিল হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। পবিত্র কুরআন এ ব্যাপারে সব বিরোধীদেরই চ্যালেঞ্জ দিয়ে রেখেছে।

পরের আয়াতে অর্থাৎ সুরা ইউনুসের ৩৮ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলছেন:

'মানুষ কি বলে যে, সে (রাসুল-সা.) এটি বানিয়ে এনেছ? বলে দাও, তোমরা নিয়ে এসো এই (কুরআনের) সুরার মত একটিই সূরা, আর ডেকে নাও, যাদেরকে নিতে সক্ষম হও আল্লাহ ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।'

এ আয়াত হচ্ছে এমন এক আয়াত যেখানে পবিত্র কুরআনের অলৌকিকতা তুলে ধরে বলা হয়েছে, পুরো কুরআন তো দূরে থাক কুরআনের সুরাগুলোর মত কেবল একটি সুরাও রচনা করা মানবজাতির পক্ষে সম্ভব নয়। তাই যারা মনে করে যে কুরআন আল্লাহর বাণী নয়, তাদের উচিত এই কুরআনের সুরার মতো অন্তত একটি সুরা রচনা করা।

কুরআনের অপূর্ব বাগ্মীতা ও অলংকারিক কারুকাজ, ছন্দময়তা, শৈল্পিক শব্দবিন্যাস ও সংযোজন, সুনিপুণ বক্তব্য, জাদুময় উপস্থাপনা, নান্দনিকতা এবং চমৎকার লালিত্য ও শ্রুতিমধুরতা-ইত্যাদি বাহ্যিক দিক এই মহাগ্রন্থের একমাত্র মু'জিজা বা অলৌকিকতা নয়। নানা বৈজ্ঞানিক সত্য তুলে ধরা- যা সেই যুগে কোনো মানুষের পক্ষে জানা ছিল কল্পনাতীত বিষয়-, অতীতের জাতিগুলোর সঠিক ও না-বলা ইতিহাস, নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী এবং এ মহাগ্রন্থের মধ্যে কোনো ভুল-ত্রুটি ও পরস্পরবিরোধীতা না থাকা-এসবও কুরআনের অন্যতম মু'জিজা বা অলৌকিকতার রহস্য।

আর এইসব বাস্তবতার আলোকে পবিত্র কুরআনের একটি সুরার অংশবিশেষ বা একটি আয়াত রচনা করাও কোনো মানুষের পক্ষে অসম্ভব। এ জন্যই মহান আল্লাহ মানুষকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলে রেখেছেন যে, গোটা মানবজাতির সবাই মিলে চেষ্টা করলেও কুরআনের মত বাণী রচনা করতে তারা সক্ষম হবে না কখনও।

সুরা ইউনুসের ৫৭ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ মানুষের সামাজিক ও নৈতিক রোগগুলো নিরাময়ে কুরআনের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলছেন:

হে মানবকুল, তোমাদের কাছে উপদেশ বা সাবধানবাণী এসেছে তোমাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে এবং এতে রয়েছে অন্তরের রোগের নিরাময়, সুপথ ও রহমত মু'মিন মুসলমানদের জন্য।

অন্তরের রোগ বলতে এখানে কৃপণতা, হিংসা, প্রতিশোধপরায়নতা, শির্ক, কপটতা ও অহংকারের মত নানা মানসিক রোগ এবং চিন্তাগত দূষণের কথা বলা হয়েছে। কুরআন পাপের কালিমা ও বদ-স্বভাবগুলোর প্রভাবকে হৃদয় থেকে নির্মূল করে। আমিরুল মু'মিনিন হযরত আলী (আ.) এ প্রসঙ্গে বলেছেন: তোমরা তোমাদের রোগমুক্তির জন্য কুরআনের শরণাপন্ন হও। মানুষের সবচেয়ে বড় ধরনের ব্যাথা বা রোগ হলো কুফর, নিফাক বা কপটতা ও বিচ্যুতি এবং বিভ্রান্তি।#

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন