এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শনিবার, 04 জুলাই 2015 12:12

রমজান: খোদা-প্রেমের অসীম সাগর-১৭

আল্লাহর প্রতি ইয়াকিন বা দৃঢ়-বিশ্বাস ও ভরসা করা হচ্ছে খাঁটি মু'মিনের বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, তোমরা মন-ভাঙ্গা হয়ো না, হীনবল হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও। মহান আল্লাহ সুরা ইব্রাহিমে বলেছেন, যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে তোমাদেরকে আরও দেব এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর। (৭ নম্বর আয়াত)  


রমজান মাস হচ্ছে মহান আল্লাহর প্রতি হৃদয়ে ইয়াকিন বা দৃঢ় বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠিত করার মাস। আমাদের প্রচেষ্টা যদি আন্তরিক তথা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে তাহলে আল্লাহ আমাদের সমস্ত বৈধ দোয়া কবুল করবেন- এ ব্যাপারে আমাদের নিশ্চিত হওয়া উচিত।


মহান আল্লাহ আমাদের সব সমস্যার সমাধান দিতে পারেন এই দৃঢ়-বিশ্বাস আমাদের রাখা উচিত। আমাদের সমস্ত সমস্যার মূল কারণই এটা যে, আমরা এসব বিষয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি না। আন্তরিক-চিত্তে খোদায়ী পথ-নির্দেশনা চাইলে ও সাহায্য চাইলে আল্লাহ অবশ্যই তা কবুল করবেন-এই দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের রাখা উচিত। যা ঘটা আপাত দৃষ্টিতে অসাধ্য বলে মনে হয় তাও আল্লাহর সহায়তায় সাধন করা সম্ভব।


ইরানের তাব্রিজ শহরের বড় বাজারে একজন দিন-মজুর শ্রেণীর খোদাভীরু বৃদ্ধ ব্যক্তি কাজ করতেন। একদিন তিনি দেখছিলেন যে এক বালক বাজারের ছাদের আলো প্রবেশের পথ দিয়ে পড়ে যাচ্ছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন: হে আল্লাহ! এই বালককে রক্ষা করুন। ফলে বালকটি শূন্যের মধ্যেই স্থির হয়ে থাকে। আর এ অবস্থায় তাকে মাটিতে নামান ওই শ্রমিক! ঘটনা দেখে বাজারের জনতার ভিড় জমে যায়। সবাই তাকে প্রশ্ন করছিলেন, আপনি কী এমন আমল করেছেন যে এভাবে বালকটিকে রক্ষা করতে পারলেন? আপনি কি একজন দরবেশ? ওই শ্রমিক বললেন, আমি বিগত ৬০ বছর ধরে আমার জানামতে কোনো পাপ করিনি এবং আল্লাহর নির্দেশ বা ফরজ কাজগুলো মেনে চলার চেষ্টা করেছি, তাই আল্লাহ আমার এই একটি প্রার্থনা কেনো কবুল করবেন না?

 


অনেক খোদাভীরু ব্যক্তির কথা জানা যায় যারা 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' বলে নদীর পানির ওপর দিয়ে এমনভাবে হেঁটে নদী পার হয়েছেন যেভাবে আমরা পার হই মাটির প্রান্তর বা রাস্তা। তাই যারা আল্লাহর ওলি তারা মুহূর্তেই পার হয়ে যান সমুদ্র এবং মুহুর্তের মধ্যে তারা চলে যেতে পারেন এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে! আর আমরা এসব অলৌকিক ঘটনা শুনে বলি: এসব কী করে সম্ভব!!? অন্যদিকে আল্লাহর প্রিয়পাত্রদের জন্য এসব খুবই সাধারণ ঘটনা।

 

আজ ১৭ রমজান। ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ-দিবস। দ্বিতীয় হিজরির এই দিনে মুসলমানরা অসম এক যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছিল কাফিরদের ওপর। এটি ছিল ইসলামের ইতিহাসের প্রথম সুসংগঠিত বা বড় ধরনের যুদ্ধ। অবশ্য কুরাইশ কাফিরদের বাণিজ্য কাফিলাকে বাধা দেয়ার লক্ষ্যে ও তাদের সম্পদ আটকের জন্যই একদল মুসলিম মুজাহিদ বিশ্বনবীর (সা.) নেতৃত্বে মদীনা থেকে বেরিয়ে আসেন। কাফিররা মক্কায় মুসলমানদের অনেক সম্পদ আটক করে রেখেছিল। তাই এ ধরনের হামলার অধিকার মুসলমানদের ছিল। তবে বড় ধরনের কোনো যুদ্ধ হবে বলে মুসলমানদের কেউই ভাবেননি এবং সে জন্য প্রস্তুতিও ছিল না। কিন্তু কুরাইশ কাফিরদের শীর্ষস্থানীয় নেতা আবু সুফিয়ান তার বাণিজ্য কাফিলার ওপর মুসলমানদের হামলার প্রস্তুতির খবর জানতে পেরে সেই খবর মক্কার কাফিরদের জানালে অনেক কাফির নেতা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। ফলে তারা একটি সুসংগঠিত যুদ্ধের আয়োজন করে এবং মুসলমানরাও মহানবীর (সা.) নেতৃত্বে কাফিরদের মোকাবেলা করতে বাধ্য হন।


এ যুদ্ধে মুসলিম মুজাহিদদের সংখ্যা মাত্র ৩১৩ জন হওয়া সত্ত্বেও তারা মক্কার সুসজ্জিত প্রায় এক হাজার কাফিরের ওপর বিজয়ী হয়েছিলেন। মহান আল্লাহর অদৃশ্য সাহায্য থাকাতেই তা সম্ভব হয়েছে। এ যুদ্ধে কাফির বাহিনীর ৭০ জন মুজাহিদদের হাতে নিহত এবং তাদের ৭০ জন মুসলিম বাহিনীর হাতে বন্দী হয়। 
অন্যদিকে মুসলিম বাহিনীর ১৪ জন শাহাদত বরণ করেন। মুসলমানদের পক্ষে এই যুদ্ধের প্রধান বীর ছিলেন আমিরুল মু'মিনিন হযরত আলী (আ.)। তিনি একাই ৩৬ জন কাফিরকে হত্যা করেছিলেন যাদের মধ্যে অনেকেই ছিল নেতৃস্থানীয় কাফির সর্দার ও তৎকালীন আরব বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় খ্যাতিমান যোদ্ধা ।


বহু বছর পরে মুয়াবিয়া হযরত আলী (আ.)'র খেলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে এক চিঠিতে আমিরুল মু'মিনিন তাকে সতর্ক করে দিয়ে লিখেছিলেন, “যে তরবারি দিয়ে আমি তোমার নানা (উৎবা), তোমার মামা (ওয়ালিদ) ও ভাই হানজালার ওপর আঘাত হেনেছিলাম (তথা তাদের হত্যা করেছিলাম) সে তরবারি এখনও আমার কাছে আছে।” 


বদর যুদ্ধে মুসলিম সেনাদলে ছিলেন বিরাশি জন মুহাজির। এ ছাড়াও মদিনার খাজরাজ গোত্রের একশ’ সতের জন এবং আওস গোত্রের একষট্টি জন লোক ছিলেন। এই সেনাদলে মাত্র তিনটি ঘোড়া ও সত্তরটি উট ছিল। 


ইসলামের সে যুগে মুসলিম সমাজে আত্মত্যাগ ও শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা এতটা তীব্র ছিল যে, অনেক অপ্রাপ্তবয়স্ক বালকও সে যুদ্ধে অংশগ্রহণের আগ্রহ ব্যক্ত করেছিল; কিন্তু রাসূল (সা.) তাদেরকে মদীনায় ফিরিয়ে দেন। 


প্রকৃতপক্ষে কুরাইশদের কাফেলাগুলোর ওপর মুসলমানদের আক্রমণের কারণ ছিল মুসলমানদের প্রতি তাদের নির্যাতনমূলক আচরণ যা কোরআনও উল্লেখ করেছে এবং মুসলমানদের এ আক্রমণের অনুমতি দিয়ে বলেছে : 


'' যাদের প্রতি আক্রমণ করা হয়েছে তাদের প্রতিরোধের অনুমতি দেয়া হলো। কারণ তারা নির্যাতিত হয়েছে এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাদের সাহায্য করতে পূর্ণ ক্ষমতাবান।'' (সুরা হজ, ৩৯)


এবারে পড়া যাক অর্থসহ ১৭ রমজানের দোয়া: 

 


اليوم السّابع عشر : اَللّـهُمَّ اهْدِني فيهِ لِصالِحِ الاَْعْمالِ، وَاقْضِ لي فيهِ الْحَوائِجَ وَالاْمالَ، يا مَنْ لا يَحْتاجُ اِلَى التَّفْسيرِ وَالسُّؤالِ، يا عالِماً بِما في صُدُورِ الْعالَمينَ، صَلِّ عَلى مُحَمَّد وَآلِهِ الطّاهِرينَ .
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমাকে সৎকাজের দিকে পরিচালিত কর। হে মহান সত্ত্বা যার কাছে প্রয়োজনের কথা বলার ও ব্যাখ্যা দেয়ার দরকার হয় না । আমার সব প্রয়োজন ও আশা-আকাঙ্খা পূরণ করে দাও। হে তাবত দুনিয়ার রহস্যজ্ঞানী ! হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এবং তাঁর পবিত্র বংশধরদের ওপর রহমত বষর্ণ কর। #

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন