এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সোমবার, 06 জুলাই 2015 17:28

রমজান: খোদা-প্রেমের অসীম সাগর-১৯

মহান আল্লাহর অশেষ প্রশংসা এবং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইত ও ন্যায়পরায়ণ সাহাবিদের শানে অশেষ দরুদ আর সালাম পেশের মাধ্যমে শুরু করছি আজকের আলোচনা। 


আজ ১৯ রমজান। অনেকেই মনে করেন আজকের রাত তথা ১৮ রমজানের দিবাগত রাতটি পবিত্র শবে ক্বদর। বিশেষ করে, আমিরুল মু'মিনিন হযরত আলী (আ.) ১৯ রমজানের রাতে মহাপাপিষ্ঠ ইবনে মুলজেমের তরবারির আঘাতে আহত হন এবং ২১ রমজান শাহাদত বরণ করেন বলে এ দুই রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে অনেকেই মনে করেন। অনেকে ২৩ রমজানের রাতকেই শবে কদর বলে মনে করেন। আবার অনেকে ২৭ রমজানকে শবে কদর বলে মনে করেন। রমজানের শেষ দশ দিনের যে কোনো বেজোড় রাতই কদরের রাত হতে পারে বলে অনেকে মনে করেন এবং তারা এইসব রাতেই বেশি বেশি ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত ও ইসলামী জ্ঞান চর্চা করেন।

 

ঠিক কোন্ রাতটি শবে কদর তা আল্লাহর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের জন্য গোপন রাখার রহস্য হল মানুষ যেন রমজানের এই রাতগুলোতে বেশি বেশি খোদামুখি হয় এবং আল্লাহর ইবাদত করে। বলা হয় যে মানুষ সারা বছর কতটা সৌভাগ্য অর্জন করবে তা নির্ধারণ করা হয় কদরের রাতে। এই রাতের ইবাদত এক হাজার মাসের ইবাদতের সমান। পাপীদের জন্য কদরের রাত তওবা করার ও গোনাহ মাফ করিয়ে নেয়ার অতি মোক্ষম সময়। আর যারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারা এই রাতে তাঁর আরও প্রিয় হওয়ার এবং আল্লাহর আরও বেশি সন্তুষ্টি অর্জনের একনিষ্ঠ সাধনার পুরস্কার পান। যারা আল্লাহর অতি-নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা বা আল্লাহর ওলি তারা এই রাতে ফেরেশতাদের অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়টি দেখতে পান। এমন পবিত্র রাত যেন বৃথা না যায় সেজন্য সবারই সচেষ্ট হওয়া উচিত। সারা বছর জুড়ে এমন পাপ ও মহাপাপে জড়িত হওয়া উচিত নয় যাতে এমন রাতেও সেই পাপের কলঙ্ক মোচন করা না যায়। রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করা ও বাবা-মায়ের মনে কষ্ট দেয়া হচ্ছে এমনই এক মহাপাপ যার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না দিয়ে কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টি বা ক্ষমা শবে কদরের মত রাতেও অর্জন করতে পারে না।  


পবিত্র রমজান ও বিশেষ করে শবে কদর বা কদরের রাত মহান আল্লাহর প্রেমে আত্মহারা হওয়ার লগ্ন। তবে যারা অতি উচ্চ স্তরের খোদাপ্রেমিক তাদের জন্য জীবনের প্রতিটি রাতই যেন শবে কদর। খোদা-প্রেমের মধুর শরাব পিয়ে তারা মহান আল্লাহর দরবারে বেহুঁশ হয়ে থাকেন প্রত্যেক রাতেই। তাঁদের মুনাজাতে ফুটে উঠে আল্লাহর সামনে সর্বোচ্চ বিনয় ও ত্যাগের আকুতি। এমন কোনো মুহূর্ত নেই যখন তাঁদের মন আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে থাকে। এমন কোনো ঘটনা বা দৃশ্য নেই যাতে তারা আল্লাহর উপস্থিতি বা নিদর্শনকে অনুভব করেন না।


এমন পবিত্র দিন ও রাতগুলোতে আমরা যদি একটু ভেবে দেখি বা চিন্তা করি তাহলে আমরা দেখতে পাব যে, মহান আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর প্রেমিক হওয়ার সুযোগ সারা বছরই খুলে রেখেছেন। তিনি আমাদের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক উন্নয়নের জন্য দিয়েছেন পবিত্র রমজান, শবে কদর, পবিত্র কুরআন, বিশ্বনবী ও তাঁর আহলে বাইতের শিক্ষা আর আদর্শ। (তাবাশি)


খোদাদত্ত আদর্শের আলোকে তথা ইসলামী শিক্ষার আলোকে আমরা ইয়াতিমের সেবা করে, অনাথ ও নিরাশ্রয়কে আশ্রয় দিয়ে, অশিক্ষিতকে শিক্ষিত করে বা পথহারাকে পথ দেখিয়ে, দরিদ্র আত্মীয়-স্বজনকে সাহায্য দিয়ে, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সেবা করে, ইসলামের নানা শিক্ষা ও মূল্যবোধকে ছড়িয়ে দিয়ে কিংবা জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাসহ ইসলামী নানা দায়িত্ব পালন করে মহান আল্লাহর প্রিয়পাত্র হতে পারি। অথচ আমরা অনেকেই এইসব পথে চলার ব্যাপারে মহান আল্লাহর আহবানকে প্রত্যাখ্যান করছি। মহান আল্লাহর আদেশ-নিষেধ অমান্য করে আল্লাহর বন্ধুত্বের আহ্বানকে পদদলিত করছি! মহান আল্লাহ আমাদেরকে দিয়েছেন জ্ঞান, রুজি-রিজিক, দৈহিক শক্তি ও সুস্থ অঙ্গ-প্রতঙ্গসহ অসংখ্য নেয়ামত। অথচ আমরা আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহের জবাবে মৌখিক কৃতজ্ঞতাটুকুও প্রকাশ করছি না। বরং আল্লাহর ইচ্ছা ও নির্দেশের বিরোধী পথে চলছি! নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত থেকে দূরে রয়েছি এবং আল্লাহর অসহায় বান্দাহদের সাহায্যেও এগিয়ে আসছি না। আর এতসব অকৃতজ্ঞা সত্ত্বেও আল্লাহ কিন্তু আমাদের শাস্তি দিচ্ছেন না, বরং আগের মতই রুজি-রোজগার দিয়ে যাচ্ছেন! 

 

ভেবে দেখুন মহান আল্লাহর অশেষ দয়া ও অনুগ্রহের বিপরীতে এ ধরনের আচরণ কত বেশি অজ্ঞতাপূর্ণ ও কত বেশি নিকৃষ্ট! মহান আল্লাহ আমাদের জন্য বেহেশতের দরজা খুলে রেখেছেন ও তিনি চাচ্ছেন যেন আমরা বেহেশতের দিকে যাই। অথচ আমরা যাচ্ছি দোযখের দিকে!


মহান আল্লাহ কুরআনে আমাদের কাছে কর্জে হাসানা বা উত্তম ঋণ চেয়েছেন। এর অর্থ কী এটা যে আল্লাহ অভাবগ্রস্ত?-নাউজুবিল্লাহ। না, বরং আল্লাহ চান যে তার দেয়া রিজিক বা অর্থ থেকে আমরা যদি দরিদ্রদের সাহায্য দেই তাহলে তা যেন আল্লাহকেই ঋণ দেয়া হল! আর তা আল্লাহর রিজিক বা অর্থ হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ এর বিনিময়ে আমাদের বহুগুণ পুরস্কার দেবেন বলে কুরআন ওয়াদা দিয়েছেন। অথচ এমন দয়াময় আল্লাহ'র আহ্বান ও তাঁর প্রেমিক হওয়ার নানা সুযোগকে আমরা হেলায়-ফেলায় নষ্ট করছি। অথচ আল্লাহই হচ্ছেন সবচেয়ে ধনী ও সর্বশক্তিমান এবং সর্বোত্তম সহায় ও বন্ধু।

 

হাদিসে এসেছে, যদি মানুষ একটা মিথ্যা বলে তবে তার মুখের দুর্গন্ধে সাত আসমান পর্যন্ত ফেরেশতারা কষ্ট পান। যেমন বলা হয় যখন মানুষ জাহান্নামে থাকবে তখন জাহান্নাম প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়াবে। এ দুর্গন্ধ প্রকৃতপক্ষে এ দুনিয়াতেই আমরা সৃষ্টি করেছি মিথ্যা কথা বলা, গালি দেয়া, অপবাদ ও পরনিন্দা চর্চার মাধ্যমে। 


পরনিন্দা ও অপবাদ আরোপ গীবত থেকেও খারাপ, যেহেতু পরনিন্দার মাধ্যমে যেমন মিথ্যাও বলা হয় তেমন গীবতও করা হয়। কিন্তু যে মিথ্যা বলে সে শুধু মিথ্যাই বলে, গীবত করে না। তাই পরনিন্দায় দু’টি কবীরা গুনাহ এক সঙ্গে করা হয়। গিবত, চোগলখুরি, অপবাদ ও গুজবকে বিশ্বাস করার মত পাপও মানুষের সব সৎকর্মকে মূল্যহীন করে দেয়। আর রমজান মাসে যে কোনো পাপের শাস্তি অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে।


এবারে পড়া যাক, অর্থসহ ১৯ তম রোজার দোয়া:


اليوم التّاسع عشر : اَللّـهُمَّ وَفِّرْ فيهِ حَظّي مِنْ بَرَكاتِهِ، وَسَهِّلْ سَبيلي اِلى خَيْراتِهِ، وَلا تَحْرِمْني قَبُولَ حَسَناتِهِ، يا هادِياً اِلَى الْحَقِّ الْمُبينِ .
হে আল্লাহ ! আমাকে এ মাসের বরকতের অধিকারী কর। এর কল্যাণ অজর্নের পথ আমার জন্য সহজ করে দাও। এ মাসের কল্যাণ লাভ থেকে আমাকে বঞ্চিত করো না। হে স্পষ্ট সত্যের দিকে পথো নির্দেশকারী।# 

 

রেডিও তেহরান/এএইচ

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন