এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বৃহস্পতিবার, 09 জুলাই 2015 15:47

রমজান: খোদা-প্রেমের অসীম সাগর-২৪

মহান আল্লাহর অশেষ প্রশংসা করছি এবং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইত ও ন্যায়পরায়ণ সাহাবিদের শানে অশেষ দরুদ আর সালাম জানাচ্ছি।


গত পর্বের আলোচনায় আমরা পবিত্র কুরআনের কয়েকটি আয়াত থেকে বিচার দিবসের কঠোরতার চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। পবিত্র কুরআনে কিয়ামত দিবসের কঠোরতা সম্পর্কে এও বলা হয়েছে যে সেদিন মা তার নবজাতক শিশুর কথা ভুলে যাবে আতঙ্ক ও ত্রাসের কারণে। বিচার বা পুনরুত্থান দিবসে কাফির পাপীরা তীব্র দাবদাহ ও তৃষ্ণার কারণে এটা বলতে থাকবে যে, তাড়াতাড়ি বিচার শেষ করে আমাদের জাহান্নামে পাঠিয়ে দিন, কিন্তু বিচারের পূর্বে কষ্টকর এই অপেক্ষা ও ভোগান্তি আর সহ্য হচ্ছে না। অন্যদিকে সেদিন পুণ্যবানরা থাকবে সুশীতল ছায়ার নীচে এবং তাদের থাকবে না ভয়, তৃষ্ণা ও ক্ষুধার যন্ত্রণা।


মৃত্যুর সময় যদি আমরা ঈমান নিয়ে মরতে না পারি তাহলে আমাদের পুরো জীবনটাই ব্যর্থ হয়ে যাবে। বলা হয় যাদের মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্য ছাড়া অন্য কোনো কারণে দুনিয়ার নানা বিষয়ের প্রতি আসক্তি রয়েছে সেসব বিষয়কে হাতছাড়া করার ভয় দেখিয়ে শয়তান মৃত্যুর সময় মানুষের ঈমান কেড়ে নেয়। মহান আল্লাহ আমাদেরকে এমনসব আসক্তি থেকে মুক্ত থাকার তৌফিক দিন। মোট কথা আমাদেরকে এ দুনিয়াতেই সর্বাত্মক ও যথাসাধ্য চেষ্টা চালাতে হবে জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য। যারা মনে করেন যে তারা কখনও কোনো পাপ করেননি বা ভুল করেননি তাদেরকেও সদা-সর্বদা বিনয়ী থাকতে হবে। কারণ, তাদের সৎকর্মগুলো আল্লাহ কবুল করেছেন কিনা তা তো তিনি জানেন না। বলা হয় আল্লাহ তওবাকারী বিনয়ী পাপীকে অহংকারী পুণ্যবানের চেয়ে বেশি ভালবাসেন।


অহংকারের কারণে বহু বছরের সৎকর্ম, নামাজ-রোজা ও অন্য ইবাদত বরবাদ হয়ে যায়। আর বহু বছর পাপ করার পরও একনিষ্ঠ তওবা ও বিনয়ের কারণে একজন পাপী আল্লাহর কাছে অহংকারী ও আত্মতুষ্ট ইবাদতকারীর চেয়ে অনেক বেশি নৈকট্য অর্জন করেন।

 

রমজানের শেষ রাতগুলোতে আমরা রাত জেগে ইসলামী জ্ঞান চর্চা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য কুরআন পাঠের পাশাপাশি মহাপুরুষদের দোয়াগুলোও অধ্যয়ন করতে পারি। কুফার মসজিদে আমিরুল মু'মিনিন হযরত আলী (আ.)'র উচ্চারিত কান্নাসিক্ত দোয়াটি তাঁর খোদাপ্রেম ও বিনয়াবনত হৃদয়ের অনুভূতিকে তুলে ধরে চমৎকারভাবে। এ দোয়ায় তিনি বলতেন:

 

'প্রভু! হে প্রভু! আপনি প্রভু, আমি দাস। দাসের উপর প্রভু ছাড়া আর কে দয়া করবে? প্রভু! হে প্রভু! আপনি অধিপতি, আমি অধীন। অধীনের উপর অধিপতি ছাড়া আর কে দয়া করবে? প্রভু! হে প্রভু! আপনি পরাক্রমশালী, আমি হীন-নীচ। হীন-নীচের উপর পরাক্রমশালী ছাড়া আর কে দয়া করবে? প্রভু! হে প্রভু! আপনি স্রষ্টা, আমি সৃষ্ট। সৃষ্টের উপর স্রষ্টা ছাড়া আর কে দয়া করবে? প্রভু! হে প্রভু! আপনি মহামহিম বা সর্বশক্তিমান, আমি তুচ্ছ বা অপাংক্তেয়, মূল্যহীন। তুচ্ছ ও মূল্যহীনের উপর মহামহিম ছাড়া আর কে দয়া করবে? প্রভু! হে প্রভু! আপনি সবল, আমি দুর্বল। দুর্বলের উপর সবল ছাড়া আর কে দয়া করবে? প্রভু! হে প্রভু! আপনি ধনী, আমি দরিদ্র। দরিদ্রের উপর ধনী ছাড়া আর কে দয়া করবে? প্রভু! হে প্রভু! আপনি দাতা, আমি প্রার্থনাকারী বা ভিক্ষুক। ভিক্ষুকের উপর দাতা ছাড়া আর কে দয়া করবে? প্রভু! হে প্রভু! আপনি চিরঞ্জীব, আমি মৃত্যুর আওতাধীন। মৃত্যু-পথযাত্রীর উপর চিরঞ্জীব ছাড়া আর কে দয়া করবে? প্রভু! হে প্রভু! আপনি স্থায়ী, আমি ধ্বংসশীল। ধ্বংসশীলের উপর স্থায়ী ছাড়া আর কে দয়া করবে?' 

 

এ মুনাজাতে আলী (আ.) আরও বলছেন: 

 

'প্রভু! হে প্রভু! আপনি চিরস্থায়ী, আমি ক্ষণস্থায়ী। ক্ষণস্থায়ীর উপর চিরস্থায়ী ছাড়া আর কে দয়া করবে? প্রভু! হে প্রভু! আপনি রিজিকদাতা, আমি হচ্ছি সেই যাকে রিজিক দেয়া হয়। রিজিকগ্রহীতার উপর রিজিকদাতা ছাড়া আর কে দয়া করবে? আপনি দানশীল, আমি কৃপণ। কৃপণের উপর দানশীল ছাড়া আর কে দয়া করবে?  


প্রভু! হে প্রভু! আপনি আরোগ্যদানকারী, আমি রোগগ্রস্ত। রোগগ্রস্তের উপর আরোগ্যদানকারী ছাড়া আর কে দয়া করবে? আপনি বৃহৎ, আমি ক্ষুদ্র। ক্ষুদ্রের উপর বৃহৎ ছাড়া আর কে দয়া করবে? প্রভু! হে প্রভু! আপনি সুপথ প্রদর্শনকারী, আমি পথভ্রষ্ট। পথভ্রষ্টের উপর সুপথ প্রদর্শনকারী ছাড়া আর কে দয়া করবে? প্রভু! হে প্রভু! আপনি দয়ালু, আমি হচ্ছি সেই যাকে দয়া করা হয়। দয়াপ্রাপ্তের উপর দয়ালু ছাড়া আর কে দয়া করবে?.....' প্রভু! হে প্রভু! আপনি গৌরবান্বিত, আমি নতজানু। নতজানুর উপর গৌরবান্বিত ছাড়া আর কে দয়া করবে? প্রভু! হে প্রভু! আপনার রহমতের মাধ্যমে এবং আপনার দান, মহানুভবতা এবং কৃপার মাধ্যমে আমার উপর দয়া করুন। আমার উপর সন্তুষ্ট হোন, হে দাতা, দয়ালু এবং অবারিত দানশীল ও অনুগ্রহকারী সত্তা! আপনার রহমতের মাধ্যমে, হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু!' 

 

কৃপণতা খুবই মন্দ স্বভাব। কৃপণতা শুধু অর্থ-সম্পদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য তা নয়। আল্লাহর প্রতি মনোযোগহীনতা ও কৃতজ্ঞতার অভাবও নিকৃষ্ট শ্রেণীর কৃপণতা। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি (বিনা ওজরে) নামাজকে সংক্ষিপ্ত করে সে হচ্ছে সবচেয়ে বড় কৃপণ।


ভেবে দেখুন আমরা হাসি-খেলায় ও টেলিভিশনের নানা তামাশা দেখার পেছনে কত সময় নষ্ট করছি। অথচ নামাজ পড়ার বেলায় এত দ্রুত রুকু-সিজদা করছি যেন এখনই আমার বাস বা ট্রেন মিস হয়ে যাবে!


মহান আল্লাহ আমাদেরকে প্রতিটি ফরজ কাজ, দায়িত্ব ও অধিকার যথাযথভাবে পালনের সুযোগ দিন এবং সেজন্য যথেষ্ট মাত্রায় জ্ঞান অর্জনের তৌফিক দিন এই হোক শবে কদরের অন্যতম প্রধান প্রার্থনা। 

 

 

এবারে পড়া যাক অর্থসহ ২৪ রোজার দোয়া:


اليوم الرّابع والعشرون : اَللّـهُمَّ اِنّي اَسْأَلُكَ فيهِ ما يُرْضيكَ، وَاَعُوذُبِكَ مِمّا يُؤْذيكَ، وَاَسْأَلُكَ التَّوْفيقَ فيهِ لاَِنْ اُطيعَكَ وَلا اَعْصيْكَ، يا جَوادَ السّائِلينَ .
হে আল্লাহ ! আজ তোমার কাছে ঐসব আবেদন করছি যার মধ্যে তোমার সন্তুষ্টি রয়েছে। যা কিছু তোমার কাছে অপছন্দনীয় তা থেকে তোমার আশ্রয় চাই। তোমারই আনুগত্য করার এবং তোমার নাফরমানী থেকে বিরত থাকার তৌফিক দাও। হে প্রার্থীদের প্রতি দানশীল। # 

 

রেডিও তেহরান

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন