এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
রবিবার, 12 জুলাই 2015 15:35

রমজান: খোদা-প্রেমের অসীম সাগর-২৫

রমজান: খোদা-প্রেমের অসীম সাগর-২৫

রমজান খোদাপ্রেমের অশেষ সাগরে অবগাহনের মাস। আমরা যদি খোদাপ্রেমিক হতে পরি তাহলে আল্লাহও হবেন আমাদের প্রেমিক। যখন প্রেমিক ও প্রেমাস্পদ দুজনে দুজনার হয়ে যায় তখনই প্রেম হয় সার্থক। আল্লাহ মানুষকে খুব ভালবেসে সৃষ্টি করেছিলেন তাঁর প্রেমিক হওয়ার জন্য ও তাঁকে ভালভাবে চেনার জন্যই যাতে আমরা তাঁর যোগ্য প্রতিনিধি হতে পারি। ফানাফিল্লাহ বা আল্লাহতে চিন্তাগতভাবে বিলীন হয়ে যাওয়ার জন্য খোদার রঙ্গে রঙ্গিন করতে হবে আমাদের জীবনকে।

 

লোহাকে যখন আগুনে অতি তপ্ত করা হয় তখন আগুন আর লোহার রঙ একই রকম দেখায়। বলা হয় আল্লাহর রঙে রঙ্গিন হতে পারার আনন্দেই মনসুর হাল্লাজের মত সাধক বলতেন: আনাল হক বা আমিই খোদা। রমজানে সংযম বা খোদাভীতি অর্জনের সাধনা হচ্ছে ফানাফিল্লাহর পথে অগ্রযাত্রারই এক মাধ্যম। আমাদের জীবনকে এমনভাবে গড়ে তোলা উচিত যাতে আল্লাহ ফেরেশতাকুলের কাছে মানুষের জন্য গর্ব প্রকাশ করে বলতে পারেন যে দেখো, তোমরা বলেছিলে এই মানুষ হয়তো হানাহানি করা ও অকৃতজ্ঞতা দেখানো ছাড়া আর কিছুই করবে না!-অথচ এখন দেখ এই মানুষ নিজের কাম, ক্রোধ ও লোভ-লালসাকে এবং এমনকি বৈধ সব প্রবৃত্তিকেও দমিয়ে রাখছে শুধু আমার সন্তুষ্টির জন্য যদিও তারা জানে যে গোপনে অসংযমী হলেও অন্য কোনো মানুষ তাকে দেখবে না!!


বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইত হচ্ছেন খোদাপ্রেমের সর্বোচ্চ আদর্শ। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনেই বলেছেন, মুহাম্মাদ (সা.) সর্বোত্তম বা অনুপম চরিত্রের অধিকারী। হাদিসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহ যদি মহানবী (সা.)-কে সৃষ্টি না করতেন তাহলে জগতকে সৃষ্টি করতেন না। আর মহানবী বলেছেন, তিনি ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইত একই নুরে সৃষ্ট হয়েছেন। মহানবী (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের মর্যাদা এত বেশি যে অন্য নবী-রাসূলরা শেষ নবীর উম্মত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে বলতেন, ইস্, যদি নবী না হয়ে শেষ নবীর উম্মত হতাম! বলা হয় শেষ নবীর খাঁটি আলেমদের মর্যাদা বনি ইসরাইলের নবীদের চেয়েও বেশি। হযরত ঈসা (আ.) দুনিয়াতে আবার ফিরে এসে শেষ নবীর উম্মত হবেন। তাই মুসলমানদের বোঝা উচিত আল্লাহ তাদের কত বেশি মর্যাদা দিয়েছেন। আর এই মর্যাদা ধরে রাখার জন্য তাদের উচিত নবুওতি চরিত্র অর্জন করা। মহান আল্লাহর সত্যিকারের প্রেমাস্পদরা ছিলেন এমন যে বেহেশত ও দোযখ না থাকলেও তারা আল্লাহর ইবাদত বা দাসত্ব করতেন পরমানন্দে! আজ যদি আল্লাহ ঘোষণা করেন যে মানুষকে সব দায়িত্ব থেকে মুক্ত করা হল, নামাজ রোজা না করলেও কোনো গোনাহ হবে না, জাহান্নামকে ধ্বংস করা হয়েছে এবং বেহেশত বলেও আর কিছু নেই- এ অবস্থায় আমরা ক'জন নামাজ-রোজা করব? 


নবী-রাসূল ও ইমামরা বলতেন, বেহেশত ও দোযখ না থাকলেও কেবল স্রস্টা হিসেবেই আল্লাহ আমাদের ইবাদত পাওয়ার যোগ্য। বেহেশতের আশায় ইবাদত করা হচ্ছে লোভী শ্রমিকের বা মুনাফালোভীর ইবাদতের মত। শাস্তির ভয়ে ইবাদত করা হচ্ছে ভীত ছাত্রের অনিচ্ছাকৃত পড়াশুনার মত। আর মুক্ত, স্বাধীন ও উদারমনা ব্যক্তির ইবাদত হচ্ছে কেবলই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য।

 

সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করা নবীদের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য। কিন্তু আমরা যদি নিজেরাই সৎ না হই তাহলে অন্যদের সৎ কাজের দিকে ডাকার কোনো নৈতিক অধিকার কী আমাদের থাকবে? আর অসৎ ব্যক্তির পক্ষ থেকে সৎ কাজের আহ্বান যে কোনো প্রভাব ফেলে না তা খুবই স্পষ্ট। রমজানের পবিত্রতা রক্ষা বলতে কেবল বাহ্যিক ইসলামী অনুশাসনগুলো মেনে চলাকেই বোঝায় না। আল্লাহ ছাড়া অন্য যে কোনো কিছুর আসক্তিকে দূর করাই হচ্ছে প্রকৃত আত্মিক পবিত্রতা।


আমরা যে নামাজ রোজা করছি, হজ করছি, দান-খয়রাত করছি এসবই কি একান্তই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করছি কী? অনেক সময় এমন হয় যে আমাদের নামাজ রোজ হজ জাকাত – এসবই এক ধরনের নেশা বা বাতিক মাত্র। কেবল অভ্যাসের বশেই সবার আগে মসজিদের দিকে ছুটছি! নিজের অহংকারকে ধরে রাখার জন্যই বা গর্ব করার জন্যই ইসলামী জ্ঞান চর্চা করছি ও তা জাহির করছি কি? যদি এমন হয় তাহলে এসবই হচ্ছে শির্ক। আর এইসব কিছুই জাহান্নাম ছাড়া অন্য কিছুই বয়ে আনবে না।


একজন প্রকৃত মু'মিনের বৈশিষ্ট্য হল বহু সৎকর্ম ও ইবাদতের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তিনি সেসবকে খুবই কম এবং তুচ্ছ বলে মনে করেন। অন্যদিকে পাপ কাজ খুব কম করা সত্ত্বেও তিনি মনে করেন যে তার চেয়ে বড় কোনো পাপী নেই।


বিশ্বনবী (সা.)'র পবিত্র আহলে বাইতের বর্ণিত প্রসিদ্ধ দোয়া মুনাজাতে শাবানিয়ার একাংশে এসেছে:


'হে আমার ইলাহ্! আপনি যদি আমাকে আমার অপরাধের জন্য পাকড়াও করেন তাহলে আমি আপনার ক্ষমাকে আঁকড়ে ধরব। আপনি যদি আমাকে আমার পাপের কারণে পাকড়াও করেন তাহলে আমি আপনার ক্ষমার উসিলায় আপনাকে আঁকড়ে ধরব। আর আপনি যদি আমাকে জাহান্নামে প্রবেশ করান তাহলে আমি জাহান্নামের অধিবাসীদের কাছে ঘোষণা করছি যে, নিশ্চয়ই আমি আপনাকেই ভালোবাসি। হে আমার ইলাহ্! আপনার আনুগত্যের ক্ষেত্রে আমার আমল যদি ক্ষুদ্র হয় তাহলে আপনাকে পাওয়ার ক্ষেত্রে আমার আশা বড় হবে। হে আমার ইলাহ্! কিভাবে আমি আপনার কাছে বঞ্চিত হব অথচ দয়া ও মুক্তিপ্রাপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আপনার মহানুভবতা সম্বন্ধে আমার সুধারণা জন্মেছে?' 


এবারে পড়া যাক অর্থসহ ২৫ রোজার দোয়া: 


اليوم الخامس والعشرون : اَللّـهُمَّ اجْعَلْني فيهِ مُحِبَّاً لاَِوْلِيائِكَ، وَمُعادِياً لاَِعْدائِكَ، مُسْتَنّاً بِسُنَّةِ خاتَمِ اَنْبِيائِكَ، يا عاصِمَ قُلُوبِ النَّبِيّينَ .
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমাকে তোমার বন্ধুদের বন্ধু এবং তোমার শত্রুদের শত্রু করে দাও। তোমার আখেরী নবীর সুন্নত ও পথ অনুযায়ী চলার তৌফিক আমাকে দান কর। হে নবীদের অন্তরের পবিত্রতা রক্ষাকারী।# 

 

রেডিও তেহরান

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন