এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বৃহস্পতিবার, 16 জুলাই 2015 16:41

রমজান: খোদা-প্রেমের অসীম সাগর-২৯

পবিত্র রমজানের বরকতময় ঘণ্টা ও মুহূর্তগুলোর আর খুব কম সময়ই অবশিষ্ট রয়েছে। রমজানকে ঘিরে একজন মুমিন মুসলমানের উচিত সার্বিক আত্ম- উন্নয়নের পরিকল্পনা নেয়া। পার্থিব ও পরকালীন বিষয়গুলোকে সংশোধনের জন্য প্রার্থনা করা উচিত সবারই এই পবিত্র মাসে। আর সে জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নেয়া উচিত। এখন সময় এসেছে আত্ম-সমালোচনার। রমজানের আগেও আমাদের মধ্যে পার্থিব বিষয়ে যতটা লোভ-লালসা ও আসক্তি ছিল সেসবকে কী দমাতে বা অন্তত কমাতে পেরেছি? পরনিন্দা, গিবত, চোগলখোরি বা এখানের কথা সেখানে লাগিয়ে বেড়ানো, অন্যের দোষ-ত্রুটির চর্চা-এসবকে কী কমাতে পেরেছি? যদি উত্তর হয় নেতিবাচক তাহলে এইসব নামাজ-রোজা ও ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্ট সহ্য করা বৃথাই গেল! অথচ আমাদের উচিত এইসব পাপ বা আত্মিক রোগগুলোকে পুরোপুরি নির্মূল করা। তা না হলে পরকালে মুক্তির আশা করা ঠিক হবে না এবং ঈদুল ফিতর বা খোদাদত্ত প্রকৃতিতে ফিরে আসার উৎসবে অংশ নেয়ার পরিহাস করাও হবে অর্থহীন।

 

শয়তান মৃত্যুর সময় আমাদের সবচেয়ে প্রিয় বিষয়টিকে পণবন্দী করে বলবে: যদি এটা চাও তাহলে বল, আল্লাহ-রাসূল-পরকাল-বিচার, বেহেশত-দোযখ-এসবই মিথ্যা! মানুষের ঈমানের জোর যদি কম হয় ও সৎকর্ম যদি কম হয় এবং খোদাপ্রেম ও মহানবী আর তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি ভালবাসা কম হয় তাহলে এখানে সে কাবু হবে শয়তানের কাছে। মৃত্যুর সময় প্রবল তৃষ্ণার মুহূর্তে একটু ঠাণ্ডা পানি শয়তানের হাত থেকে পাওয়ার লোভে মানুষ আল্লাহকে অস্বীকার করে বসতে পারে। তাই এই মহাপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য সব-সময়ই আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য বেশি বেশি কান্নাকাটি করতে হবে রমজানের শেষের রাতগুলোতে। নিয়মিত বেশি বেশি দরুদ পড়ে, নানা নফল ইবাদতে মশগুল হয়ে ও তাহাজ্জতের নামাজ পড়ে এবং মহানবী (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের উসিলা দিয়ে আমাদের শেষ-অবস্থায় ঈমান বজায় রাখার জন্য নিয়মিত দোয়া করে যেতে হবে।

 

মহান আল্লাহর রঙ্গে নিজেকে রঙ্গিন করা রমজানের অন্যতম শিক্ষা। মহান আল্লাহ দয়ালু তাই আমাদেরও হতে হবে অন্যদের প্রতি দয়া-প্রবণ। অসহায় ইয়াতিম, দরিদ্র, নিঃস্ব ও মজলুমদের প্রতি দয়া করা আল্লাহর পছন্দনীয় একটি গুণ। পশুর প্রতি নির্দয় হওয়ার জন্য জাহান্নামী হওয়ার নজির রয়েছে। অন্যদিকে ক্ষুধার্ত কুকুরকে নিজের ক্ষুধার অন্ন ও বা খাদ্য দিয়ে মহান আল্লাহর প্রিয়পাত্র এবং দরিদ্র থেকে বিপুল ধন-সম্পদের অধিকারী হয়েছেন এমন নজিরও রয়েছে।


এই পবিত্র রমজান মাসেই ইয়েমেনের বেসামরিক ও দরিদ্র নারী-পুরুষ এবং শিশুদেরকে হত্যা করছে সৌদি রাজকীয় বাহিনী! মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ মানবাধিকারের ধ্বজাধারী ও সভ্যতার শীর্ষস্থানে থাকার দাবিদার পশ্চিমা নেতারা যেন নীরবে উপভোগ করছেন এইসব গণহত্যা। জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও যখন বলা হচ্ছে যে ইয়েমেনে মানবীয় বিপর্যয়ের ফলে ত্রাণ-সরবরাহ করার জন্য সৌদি হামলা কয়েক দিনের জন্য বন্ধ করা দরকার! কিন্তু সৌদি রাজ-সরকারের বিবেক তাও খুলছে না। ইয়েমেনের বাড়ি-ঘর ও এমনকি মসজিদও রক্ষা পাচ্ছে না সৌদি হামলার বর্বরতা থেকে! অথচ এই সৌদি রাজারা বলছেন, তারা নাকি পবিত্র মক্কা ও মদীনার ইসলামী স্থাপনাগুলোর সেবক! 

 

ইয়েমেনে ও মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর গণহত্যা ঠেকানোর জন্য কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না পাশ্চাত্যপন্থী মুসলিম শাসকরা। অন্যদিকে ফিলিস্তিনে ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের হোতা নেতানিয়াহু এবং এইসব অপরাধের শরিক ওবামার মত শাসকরা ইফতার মাহফিল দিয়ে এবং ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পরিহাস করছেন মুসলিম উম্মাহকে!

 


ইসলাম হচ্ছে ভারসাম্যপূর্ণ ধর্ম। এ ধর্ম জীবনের সবক্ষেত্রে অযৌক্তিক আচরণের বিরোধী। যখন ও যে সময়ে যে কাজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইসলাম ঠিক তা-ই করতে বলে। একজন নারী যখন কোনো মু'মিন মুসলমানের সামনে ডুবে মারা যেতে থাকে তখন তিনি এটা বলতে পারেন না যে এই মহিলা ডুবে যাক্, আমি তো বেগানা মহিলাকে স্পর্শ করতে পারি না! না, বরং এক্ষেত্রে ওই নারীকে উদ্ধার করা একটি মানবিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। তদ্রূপ এটাও বলা যাবে না যে, কাফিরের সঙ্গে অন্যায় আচরণে সমস্যা নেই। বরং সব ক্ষেত্রেই ন্যায়-বিচার বজায় রাখা মুসলমানের জন্য ফরজ।

 


রমজানের রোজা বা সংযম সাধনার উদ্দেশ্য হল খোদাভীতি অর্জন। আর এ জন্য 'যুহ্ দ্' বা পরকালের জন্য দুনিয়াদারি ও বস্তুবাদীতা পরিহার জরুরি। যে ব্যক্তি অতীতের ব্যাপারে দুঃখ করে না এবং ভবিষ্যতের ব্যাপারে আনন্দিত হয় না আসলে সেই যুহদের দুই প্রান্ত নিজ হাতের মুঠোয় আনতে সক্ষম হয়েছে।


আলী (আ.) বলেছেন: "যুহ্দ্ হচ্ছে সংক্ষিপ্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা পোষণ, নেয়ামতগুলোর ক্ষেত্রে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং হারামগুলোর ক্ষেত্রে সংযম প্রদর্শন।"
তবে মহানবী (সা.) স্পষ্টভাষায় বলেছেন, “ইসলাম ধর্মে বৈরাগ্যবাদের কোন স্থান নেই।”যখন মহানবী (সা.)-কে জানান হলো একদল সাহাবী জগৎ-জীবন ও সংসার ত্যাগ করে কেবলই নির্জন-বাস ও ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত হয়েছে তখন তিনি তাদের কঠোর ভাষায় তিরস্কার করে বলেছিলেন,

 


“আমি যে তোমাদের নবী আমিও তো এমন নই।” মহানবী (সা.) তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছিলেন যে, ইসলাম একটি সামাজিক ধর্ম। এ ধর্ম জীবন ও সমাজমুখী। এ ধর্ম জগৎ-জীবন-সংসার ত্যাগের আহ্বান জানায় না। ইসলামের দৃষ্টিতে সমাজবিমুখ ইবাদত ও ইবাদতবিমুখ সমাজ-মুখিতা উভয়ই নিন্দনীয়।


তবে ইসলাম যে 'যুহ্ দ্'-এর কথা বলে তার দর্শন হচ্ছে আত্মত্যাগ বা কুরবানি, মানবিকতা ও মানবসেবা। 

 

এবারে পড়া যাক অর্থসহ ২৯ রোজার দোয়া: 

 



اليوم التّاسع والعشرون : اَللّـهُمَّ غَشِّني فيهِ بِالرَّحْمَةِ، وَارْزُقْني فيهِ التَّوْفيقَ وَالْعِصْمَةَ، وَطَهِّرْ قَلْبي مِنْ غَياهِبِ التُّهْمَةِ، يا رَحيماً بِعِبادِهِ الْمُؤْمِنينَ .
হে আল্লাহ ! আজ আমাকে তোমার রহমত দিয়ে ঢেকে দাও। গুনাহ থেকে মুক্তিসহ আমাকে সাফল্য দান কর। আমার অন্তরকে মুক্ত কর অভিযোগ ও সন্দেহের কালিমা থেকে । হে ঈমানদার বান্দাদের প্রতি দয়াবান।

 

রেডিও তেহরান

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন